Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  শিল্প সংস্কৃতি  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
কৃষ্ণকলি সবাই বলে তারে Download PDF version
 

শিল্প-সংস্কৃতি

কৃষ্ণকলি সবাই বলে তারে

 

মাসুম-ডেইজি

 

 

মনপুরা ছবির গানের সিডি যখন বের হলো, তখনই ‌সোনার পালঙ্কের ঘরে গানটি মানুষের মনে জায়গা করে নিল কিন্তু সেটা শুরু নয় তাহলে সূর্যে বাঁধি বাসা গানগুলো? সে গানগুলোই তো প্রথমে চমকে দিয়েছিল মন! আরে! গানের কথায় যে বৈচিত্র্য, সুরের যে মূর্ছনা, তা যেন দিচ্ছিল নতুন কিছুর ইঙ্গিত তখনই আমরা চিনতে শুরু করি কৃষ্ণকলিকে তাঁকে নিয়ে জানার আগ্রহ বেড়ে যায়

শুনি শুরুর কথা সেই ছোট্টবেলা হারমোনিয়ামটা এত বড় ছিল যে সেটা বাজাবার জন্য আমাকে ওর ওপর চড়ে বসতে হত গান শেখার শুরুটা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রথমেই কথা বললেন শিল্পী কৃষ্ণকলি না, তার জন্য ¯^vfvweK আকার-আকৃতির চেয়ে বড়ো কোনো হারমোনিয়াম তৈরি করা হয়নি তবে তিনি তখন এত ছোট ছিলেন যে ¯^vfvweK আকৃতির হারমোনিয়ামই তার কাছে এমন বিশাল মনে হত আর সেই ছোটবেলায় গান শেখা শুরু করার ক্ষেত্রে ছোট্ট মেয়েটির কোনো ভূমিকাই ছিল না মায়ের ইচ্ছেতেই হয় তার গানের হাতেখড়ি মা নিজেই শেখাতেন শুরুতে

আর পাঁচটা আটপৌরে বাঙালি মায়ের মতো ছিলেন না কৃষ্ণকলির মা মেহেরুন নেসাকৃষ্ণকলি জানালেন, আমার নাম রাখা নিয়েও মায়ের সামাজিক যুদ্ধ ছিল ঘটনাবহুলমা বিশ্বাস করতেন মাতৃভাষাতেই মানুষের নাম হওয়া উচিতকাজেই তার কালো মেয়ের নাম কৃষ্ণকলি হবে- এটাই সবচেয়ে ¯^vfvweK ঘটনাতাছাড়া মাতো সর্বদাই ছিলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে সমর্পিত

কেমন ছিলেন তার মা? কৃষ্ণকলি জানালেন, খুব বাঙালি ছিলেন মাতিনি বামপন্থী রাজনীতি করতেন, ছাত্রজীবনে জাতীয় অ্যাথলেট হিসেবে দাপিয়ে খেলতেনপরবর্তীকালে কলেজে বাংলা সাহিত্য পড়াতেনমৃত্যুর পরও তাঁর চোখ ও হাড় দিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণের জন্যঅসম্ভব নরম মনের মানুষ ছিলেন, আর খুব রোমান্টিকওছোটবেলায় খুব বাড়ি পালানো মেয়ে ছিলেন, মা হবার পরও তিনি আমাদের হাতে ধরে বাউন্ডেলেপনা শিখিয়েছিলেননৌকা ভাড়া করে সারা রাত তারা দেখা, অচেনা অজানা গ্রামে, অচেনা কারো ছাপরা ঘরে গিয়ে, ওদের সাথে মাছ ধরে, রান্না করে খেয়ে, সারাটা দিন কাটিয়ে আসাকৃষ্ণকলি জানালেন, তখন তারা থাকতেন খুলনায়ওখানেই রয়েছে তার শৈশব-কৈশোরের সোনালি সব দিনের স্মৃতিকৃষ্ণকলি জানান, ফাঁকা মাঠ, বিশাল আকাশ, অজস্র তারা-জোনাকি, কাঁদা পিছল পথ, ঘুটঘুটি অন্ধকার, ঝাঁ ঝলমলে রোদ, ঝোঁপানো জঙ্গল, কচি পাতা-শুকনো পাতার এই পুরো প্রকৃতি আমা মায়ের মতনই আমারও প্রথম প্রেমিক কিংবা আমি একমাত্র তার প্রেমিকা আমার জীবনে সতেরটা বছর আমি খুলনাতে কাটিয়েছি ওটা gd¯^j শহর, আমার গ্রামে থাকার অভিজ্ঞতা নেই বটে, তবু যখন তখন হারিয়ে যাওয়া চলত

ওই শহরে গান শিখেছেন তিনিতবে মেয়ের জন্য গানের শিক্ষক ঠিক করা নিয়ে মায়ের ছিলো ব্যাপক অসন্তুষ্টিফলে প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরুবার আগেই কৃষ্ণকলি খুলনা শহরের বেশ কয়েকজন গানের শিক্ষকের মুখোমুখি হনওই শিক্ষকদের সবাই চাইতেন শর্টকাটে ছাত্রীর গলায় গান তুলে দিতে, যা ছিল তার মায়ের একেবারে অপছন্দতবে সবকিছু ছাড়িয়ে মেহেরুন নেসা চাইতেন, তার মেয়ে গানটা শিখুক মনপ্রাণ দিয়ে।

খুলনার বিএল কলেজের বাড়িতে জোনাকি পোকা ঢুকে যেত ঘরেকৃষ্ণকলি শুয়ে থাকতেন বিছানায় আর ঘর জুড়ে জোনাকির ওড়াওড়িএকটা ধ্যানের মধ্যে তখন ওর বসবাসএকদিন দুপুরে কিছুই ভালো লাগছিল নাবয়স তখন চৌদ্দবন্ধুবান্ধবও পাওয়া গেল নাদুপুর দেড়টায় মা এসে বললেন, খেতে এসো কৃষ্ণকলি খেতে না গিয়ে হারমোনিয়াম টেনে নিয়ে গাইলেন, বোশেখেতে রং মাখিবি কে কে আয়... জোনাক জ্বলে, ঝিকমিক ঝিকমিক করে এভাবেই গান আসেতবে একবারে গান আসে নানতুন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, চিন্তার প্রক্রিয়া চলতেই থাকে গানের কথাগুলো আমাকে একা পেয়ে জাপটে ধরেনিজের মতো করেই শব্দগুলো গুছিয়ে নেয় ওআমাকে বলে, এসো, আমরা গান গাইএভাবেই গানগুলো আসে-বললেন কৃষ্ণকলি

            আজ ঝড় ভালোবাসা গানটি ছিল ২০০০ সালে লেখাসে সময় পরপর কিছু ঘটনা ঘটে যায়বিয়ে, গর্ভে সন্তান আসা, বিয়ে ভেঙে যাওয়াবাচ্চা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে লড়াইসে সময় প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলতেন কৃষ্ণকলি, কথা বলতেন একটি বিন্দুর সঙ্গেবানিয়ে বানিয়েই বিতর্ক করতেনতখন আমি খুঁজে পেলাম আমার মনে আনন্দ, আমি কিছু একটা সৃষ্টি করতে যাচ্ছিদেখলাম, বাতাস, আলো, ঢেউ, মানুষ, ভালোবাসা, কান্না...এভাবেই গানটা এল মনে-বললেন কৃষ্ণকলি

১২-১৩ বছর বয়স থেকেই দুরন্তপনা, বাউণ্ডুলে জীবনের সঙ্গে সখ্যরবীন্দ্রনাথ-লালনের কাছে নিজেকে খোঁজাযার Ávb-A‡š^l‡Yi খিদে আছে, তাকে হাজার জন মানুষের মধ্যেও খুঁজে নেওয়ার চেষ্টাভাবেন, নিজের ঘর যে ভালোবাসে না, সে পৃথিবীকে ভালোবাসতে পারে না; ব্যক্তিগত myL-¯^v”Q›`¨ নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় myL-¯^v”Q‡›`¨i ওপরদারুণভাবে রাজনীতিসচেতন তিনি এইটুকু একটা দেশ আমাদের, ছোট্ট ঘর, হাত-পা নাড়ালেই তা গুছিয়ে ফেলা যায়-এ কথা বিশ্বাস করেন কৃষ্ণকলি

            অষ্টম নাকি নবম, কোন ক্লাসে পড়ার সময় তা মনে নেই কৃষ্ণকলির, তবে তখনই তিনি একসঙ্গে দুজন শিক্ষক পেলেন, যাদের একজন সাধন ঘোষ, অন্যজন বাসুদেব বিশ্বাস বাবলাসাধন ঘোষ শেখাতেন রবীন্দ্রসঙ্গীত আর বাসুদেব বিশ্বাস বাবলা উচ্চাঙ্গসঙ্গীতপরে ঢাকায় এসে ছায়ানটে বছর তিনেক রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন তিনিতবে খুলনায় থাকাকালে শুরু হয় তার নিজের গান লেখার চেষ্টা

কৃষ্ণকলি জানালেন, শুরুটা ছিল নিতান্তই ছেলেমানুষিতে ভরাতিনি বললেন, বলা যায় তখন আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত বানাতামবিষয়টাকে আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই জানালেন, আসলে রবীন্দ্রনাথের সুরের ভেতর নিজের ইচ্ছে মতোন কথা জুড়েই দেওয়াটাই ছিল তার কাজকাজেই আমার লেখা রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলো গীতবিতানে নেইবোধ হয় কাজটা অসচেতন অবস্থায় করতামমা একদিন বললেন, তুই যে গুন গুন করে গান তৈরি করিস সেগুলোর কথা কিন্তু চমৎকার, চাইলে তুই ওগুলো লিখে রাখতে পারিস

¯^PwiZ রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাঠ চুকিয়ে নিজের গানে আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি কৃষ্ণকলিরতিনি জানালেন, তার নিজের লেখা প্রথম গানটি হল চাঁদের মা বুড়ি তবে তাও আমি গান লিখব এমন কোনো সচেতন প্রয়াস থেকে আসেনি ওই গানটিতিনি বলেন, একাকীত্বের অভিমানে ভরা নিসঙ্গ এক কিশোরীর কথা আছে ওই গানে, যে কিশোরী চাঁদের মা বুড়ির কাছে গল্প শুনতে চায়আসলে ওই গানটি যখন তৈরি হচ্ছে তখন আমি কাঁদছিলাম আর কেঁদে গাইছিলাম গানগানটিতে ব্রোকেন ফ্যামিলির একটি মেয়ের বেদনার নির্যাসটুকু মূর্ত হয়েছেএর পরের গানটি হচ্ছে বোশেখেতে রং মাখিবি কে কে আয়, যা কৃষ্ণকলির সদ্যপ্রকাশিত অ্যালবামে স্থান পেয়েছে

কৃষ্ণকলি জানালেন, তিনি গান লিখেন না, গান তার কাছে আসে নিজের গান কৃষ্ণকলির এমনই ধারণা তার গানের গীতিময় মগ্নতায় কথা বিশ্বাস করতে দ্বিধা হয় না  সত্যিকার অর্থেই দীর্ঘদিন ধরে রচিত হয় তার একেকটি গান আর গান রচনার এই দীর্ঘপ্রক্রিয়ায় গানটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে কখনোই খাতা-কলমের আশ্রয় নেন না তিনি কৃষ্ণকলির নিজের লেখা সুর করা অনেক গানের কয়েকটি নিয়ে গেল পহেলা বৈশাখে বেঙ্গল মিউজিক প্রকাশ করেছে তার প্রথম অ্যালবাম সূর্যে বাঁধি বাসা কৃষ্ণকলির অ্যালবামে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন নতুন প্রজন্মের দারুণ শক্তিমান শিল্পী পরিচালক অর্ণব

কৃষ্ণকলি জানালেন, সূর্যে বাঁধি বাসা প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে অনেক ঘটনা অনেক তিক্ততা তিনি জানালেন, কয়েক জন বন্ধুর কথা, যারা না থাকলে তথাকথিত সঙ্গীত পরিচালকদের ঘেরাটোপ ডিঙ্গিয়ে অর্ণবের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানো হত না তার  কৃষ্ণকলি তার মা মেহেরুন নেসাকে উৎসর্গ করেছেন সূর্যে বাঁধি বাসা অ্যালবামটি আর অ্যালবামের প্রচ্ছদ করেছে তার ছয় বছরের মেয়ে অমৃতাঞ্জলি শ্রেষ্ঠশ্বরী

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জিজ্ঞেস করলে কৃষ্ণকলি জানালেন, গানের চর্চাটাকে অনেক ফাঁকি দিয়েছি, এখন আবার রেওয়াজ করে তা পুষিয়ে নিতে চাই তবে গাইছি নিজের গান, ভবিষ্যতেও নিজের গানই গাইব বেঙ্গল মিউজিকের সঙ্গেই আরো তিনটি অ্যালবাম প্রকাশের চুক্তি রয়েছে তার অবশ্য এখনই নতুন কোনো অ্যালবামের কাজে হাত দিচ্ছেন না তিনি
 

মন্তব্য:
monju   May 19, 2009
amar prio shilpi- dirhgau hon. camden.london
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.