Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
রম্যকথার এক ঝাঁপি: উনি ছিলেন আমাদের বাড়ির তিনি Download PDF version
 

সাহিত্য

রম্যকথার এক ঝাঁপি:

উনি ছিলেন আমাদের বাড়ির তিনি

রণজিৎ বিশ্বাস

 

ঘটনাটি আমার স্মৃতিছুট হলোই নাকুড়ি বছরেও নাপ্রথমবার ভারত যাচ্ছিলামহরিদাসপুর থেকে কলকাতাবেনাপোল থেকে ওপারে গিয়ে খবরটা ভালো পেলাম নাপশ্চিমবঙ্গে তখন রেল রুখো আন্দোলন চলছেঅর্থাৎ,ট্রেন যাবে নাআমার পরিকল্পনা ছিল,ট্রেনে গিয়ে শেয়ালদার দুতিন চার স্টেশন আগে,বিরাটিতে নামবোআত্মীয়স্বজনেরা স্টেশনের ধারে কাছেই থাকেনসেটি আর হওয়ার নয় তখন যেতে হবে বাসেবাস-স্টেশনে গিয়ে প্রথমে খেয়ে নিলাম ছোট এক হোটেলে বসেক্ষিধের জ্বালা আগে তাড়ানো দরকারজ্বালাটি আমি সইতেই পারি নাকেউ কেউ কিছুক্ষণের জন্য হলেও মানিয়ে রাখতে পারে, আমি তাদের দলে পড়তেই পারলাম না

            ছোট হোটেল, কিন্তু খুব খারাপ খাওয়ালো নাডাল, মচমচে আলুভাজা আর নলামাছের ঝোলঅমৃত মনে হলোঅবদান রান্নার যত, ক্ষিধেরও তত

            তারপর মুড়ির টিনের মত বাস-এ উঠলামস্টেশনে স্টেশনে থেকে মানুষজন যখন তখন ইচ্ছেমতন তুলে আর নামিয়ে বাস এগুলো ধুলো তাড়িয়েগোঙাতে গোঙাতেসোদপুর নামের ছোট এক শহরের অলিগলি ভেঙে পথ কেটে কেটে প্রায় চার-সাড়ে চার ঘণ্টা পর সন্ধেয় সন্ধেয় আমাদের নামিয়ে দিল বিরাটির মহাজাতি মোড়েমানুষের জীবনে মুক্তির আনন্দ অনেক রকম, সেবার পেয়েছিলাম এক ভিন্ন রকম ও বিশেষ রকমতার আগে ঐ দুরবস্থার মধ্যেও আমি এক নন্দ নন্দ ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিলাম

            আমার সঙ্গে তখন ছোট দুসন্তানপুত্র ও কন্যা এবং তাদের জননী, যিনি তখন তরুণী, হঠাৎ হঠাৎ যার হাত দেখে আঙুল দেখে, প্রগণ্ড দেখে, পিঠের পরে মুক্তাঞ্চল দেখে কিংবা তনুকামড়ানো কার্পাস দেখে আমিই ভ্রমে জড়াই-সত্যি সত্যিই এ জন কী সে জন, যাকে আমি রোজ দেখি! এ মানুষ কী সে মানুষ, যার সঙ্গে একই বাড়িতে আমি থাকি!

            একবার আমার এক বন্ধুর বেলায় হয়েছিল এমনস্ত্রীকে নিয়ে সে গিয়েছিল এক বিয়ের নিমন্ত্রণেখাওয়ার সময় ইয়ারদোস্তদের  জোরাজুরিতে ও শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর বাধ্যতামূলক সম্মতিতে তাকে বসতে হয়েছিল অন্য জায়গায়, ভিন্ন টেবিলেতার নিজের কথা, খাওয়ার পর যখন সে হাত ধোয়ার জন্য গেল এবং যে বেসিনটির সামনে এক ভদ্রমহিলাকে নিজের হাত ধোয়ায় ব্যস্ত পেলো, তাকে পেছন থেকে দেখে তার মনে ইচ্ছে জাগলো- যেন সারাজীবন এই মহিলা হাত ধোয় ও হাতই ধোয়, যেভাবে হাত ধুচ্ছে, সেভাবেই যেন ধোয়; যেন তার হাত ধোয়া কোনো কালেই শেষ না হয়ধোয়ার সময় রহস্যময়তার মাঝে সুগোল ও সুছাঁদ মনিবন্ধে সমৃদ্ধ হাতটির যেটুকু প্রকাশ পাচ্ছে, তার চেয়ে যদি আরও একটু বেশি প্রকাশ পেতো, খুব ভালো হতোমনে মনে সে বলছিল ক্ষতি নেই যদি আমার হাতের এঁটো হাতেই শুকিয়ে খড়খড়ে হয়ে যায়কিন্তু বিধাতাতো আমার জন্য তত উদার হবেন নাতাঁর তো আরও এজেণ্ডা আছে বাস্তবায়নের জন্যতাঁর হাতেতো কাজের ভিন্নরকম প্রায়রিটি-লিস্ট আছে

তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- কেনো তুই ওরকম করছিলি?!

 : আমাকে করতে হচ্ছিলনা করে আমার উপায় ছিল না

 : এমন উপায় হারাবার কারণ কী?!

 : আমি তার আগে এমন সুন্দর হাত, অমন খুনে হাত কখনও দেখিনিআমার মনে হচ্ছিল অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত-বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মোহন, সবচেয়ে খুনে, সবচেয়ে সর্বনাশা হাতের অধিকারিণী আমার সামনে নড়ছে চড়ছে, তার সুন্দর প্রত্যঙ্গটিকে পরিস্করণদ্রব্য ধুয়েধুয়ে আরও পরিস্কার আর সুন্দর আরও মসৃণ আরও পেলব এবং আরও টানটান করে নিচ্ছেঅনুগত নান্দনিকতায় ঈশ্বর যে কেনো কারও কারও বেলায় এমন পক্ষপাত করেরূপের ভাণ্ড কারও কারও ওপর কেনো যে এমন ঢালা ঢেলে দেয়!

 : তারপর?!

 : তারপর আর শুনতে চাসনেতারপর আমি আকাশ থেকে পড়লাম, এবং এত জোরে পড়লাম, আমার ফুল্লপ্রফুল্ল মনের সবগুলো হাত পা একসঙ্গে ভেঙে গেলো, ভেঙে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে গেলো, গুঁড়োগুঁড়ো হতে হতে ট্যালকাম পাউডারের মত আকৃতিহীন এক অদানাদার পদার্থে পরিণত হলাম

 : এই দুরবস্থার কারণ কী?!

 : দুরবস্থার কারণ, যিনি হাত ধোয়ার কাজ সেরে মুখ ঘোরালেন, মুখ ঘুরিয়ে আমার মুখের ওপরে প্রচণ্ড এক মুখ ঝাপটা দিয়ে বললেন- তুমি?! তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আমার ঘাড়ের পরে শ্বাস ফেলছো(?!), তিনি আমাদের বাড়ির উনিপ্রকাশ করলাম না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বড় লজ্জা পেলাম- কেনো কোনদিন তাকে অমন করে দেখিনি, কেনো তার হাতের কান্তি অমন করে আবিষ্কার করিনি!

 : ফ্যানটাসটিক!

 : ফ্যানটাসটিক না হলেও জীবনে ফ্যানটাসি ও ফ্যানটাসাজিঙের প্রয়োজন জীবনে আছেজীবনকে কখনও কখনও আনন্দদায়কভাবে যাপনের জন্য অথবা জীবনের সঙ্গে জড়ানো কারও প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে এই কাজগুলো করতে হয়পরেরটাই যেহেতু আমাদের ভালো মনে হয়, অভ্যস্ততা ও ক্লান্তির নিরানন্দ তাড়াবার জন্য- তাতেই যখন আমরা লুব্ধ হই, নিজের অধিকারের যিনি তাকেও কখনও কখনও পর পর ভাবলে মন্দ হয় নাজীবন বড় বিচিত্র

ঢাকা।

 

 

মন্তব্য:
জানিনা   May 20, 2009
শালা লুইচ্চা
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.