Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  স্বাস্থ্য  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
টনসিলাইটিস Download PDF version
 

স্বাস্থ্য

 

টনসিলাইটিস

ডঃ রুমানা

যাদের ঘরে ১০ বছরের কম বয়সের বচ্চা আছে এবং প্রচন্ড জ্বরসহ গলায় ব্যথা, সাথে ঢোক গিলতে পারছে না এমন দুর্বিষহ অবস্থার- এক বা দুইবার মুখোমুখি হননি, তা হয়তো হলফ করে বলা যাবে না। আমরা কম বেশী সবাই এই অবস্থার সাথে পরিচিত। শুধু যে বাচ্চারা এই রোগের একমাত্র ভাগীদার তা কিন্তু নয়। যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বেড়ে যাবার কারনণ বাচ্চাদের তুলনায় বড়দের আক্রান্ত হবার প্রবণতা কিছুটা লাঘব পায়। তবে এক বছরের নীচের বয়সের শিশুদের টনসিল সংকুচিত অবস্থায় থাকার কারনণ এদের টনসিলাইটিস হবার সম্ভাবনা একে বারেই ক্ষীণ।

জিহ্বার শেষপ্রান্তে, আলজিহ্বার নীচে বাম ও ডানপাশে বাদামের মতন ১.৫ সেন্টিমিটারের মত আকারে লালবর্ণের মাংসপিন্ডকে টনসিল (Tonsil) বলা হয়ে থাকে। মুখের হা বড় করে টর্চের আলো ফেলে যে কেউ এর অবস্থান অবলোকন করতে পারবেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় এদের ভূমিকা অনন্য। নাক ও মুখের দ্বারা ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস জাতীয় যে কোন জীবানু যাতে সাইনাস, শ্বাসতন্ত্রের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে, যেদিকে এরা পাহাড়াদারের মত কাজ করে। গঠনগতভাবে লিম্ফোসাইট দ্বারা গঠিত বলে এরা শরীরের ভেতরের এ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। কিন্তু যখন এই যুদ্ধে এরা পরাজিত হয় তখন জীবানু এদেরকেই আক্রমণ করে, এবং স্বাভাবিকভাবেই টনসিলওলো ফুলে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত লালবর্ণ ধারন করে, ঢোক গিলতে গেলেই ব্যথা অনুভূত হওয়ার, এমনকি অনেকসময় অতিরিক্ত ফুলে গিয়ে শ্বাসকষ্টের কারণ ঘটায়। এই অবস্থার নামই টনসিলাইটিস (Tonsillitis)।

নাক ও মুখের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রবেশ করার দ্বারা টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী হয় A-beta hemolytic streptococcus দ্বারা। আর ভাইরাসের মধ্যে Adenovirus, Influenza virus, Para influenza virus, Epstein Barr virus , Enterovirus  অন্যতম। তবে ছত্রাক দ্বারাও টনসিলাইটিস হতে পারে, HIV বহনকারী রোগীর ক্ষেত্রে এর প্রবণতা বেশী।

স্কুলগামী ও প্রি-স্কুল গামী বাচ্চাদের টনসিলাইটিস হবার শতকরা হার সবচেয়ে বেশী। যাদের বছরে পাঁচ হতে সাত বার এই রোগের শরনাপন্ন হতে হয়, তাদেরকে ক্রনিক টনসিলাইটিসের (Chronic tonsilitis) রোগী বলা হয়ে থাকে।

উপসর্গঃ এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে ঢোক গিলতে ব্যথা অনুভূত হওয়া। সাথে জ্বর থাকে। জ্বরের মাত্রা ৩৯ সেলসিয়াস (১০৩ ফারেনহাইট) অথবা এর বেশীও হতে পারে। অনেকসময় গলার স্বরের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া বমি, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথাও থাকতে পারে। ৫ বছরের কম বয়েসীদের বেলায় ডাইরিয়া সহ খাওয়া দাওয়ায় অরুচির লক্ষণ পাওয়া যায়। কাশিও হতে পারে।

নাক -কান- গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা সাধারণত এদের চিকিৎসা করে থাকেন। ডাক্তাররা গলায় আলো ফেলে টনসিলের আকার-আয়তন দেখেই রোগ নির্ধারণ করতে পারেন। ১০০ ভাগ সঠিক নির্ধারণের জন্য  throat swab পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। ২৪ ঘন্টার আগে  throat swab পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া যায় না।

লক্ষণ- টনসিলাইটিস হলে এরা স্বাভাবিকের চেয়ে আয়তনে বড় হয়, মাত্রাতিরিক্ত লালবর্ণ ধারন করে। অনেকসময় এদের গায়ের চারিদিকে সাদা patch  দেখা যায়। পূঁজ (pus) জমা হতে পারে। সাধারণত সময় মত ওষুধ সেবন না হলে  pus হবার সম্ভাবনা থাকে। বাহির হতে চোয়ালের নীচে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে টনসিলাইটিসের সময় এরা অনুভূত হয়।

প্রতিরোধঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বেড়ে যাবার কারণে এর প্রবণতাও আস্তে আস্তে লাঘব পায়। বাচ্চাদের বেলায় যত তাড়াতাড়ি রোগের বিস্তার ঘটে, বড়দের বেলায় তা ঘটে অনেক দেরীতে। তারপরও বাড়ীতে কোন টনসিলাইটিসের রোগী থাকলে, রোগীর ব্যবহৃত পানি, থালা-বাসন, গ্লাস, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহারের পরপরই গরম সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা ভালো। শুধু রোগী নিজে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে চলবে না, বাড়ীর সকলের উচিত এই সময় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। পরিষ্কার পরিছন্নতাই এ রোগের বিস্তার ঘটাতে বাধা হয়ে দাড়ায়।

নিজের যত্নঃ সাধারণভাবে টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হবার কয়েক দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। তারপরও কিছু সতর্কতা বিশেষতঃ খাদ্যাভাসের কিছুটা পরিবর্তন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই অবস্থায় শরীরে পানি শূন্যতা (Dehydration) দেখা দেয়- প্রকটভাবে। সেজন্য প্রচুর পরিমাণে পানি সহ যে কোন পানীয় খাওয়া যেতে পারে। গরম যে কোন পানীয় (অত্যাধিক গরম নয়) যেমন : হালকা গরম চা, চকোলেট পানীয়, কুসুম গরম পানি সাথে মধু, এমন কি ঠান্ডা পানীয় যথা মিল্কসেক (Milk shake) খাওয়া যায়। কোমল পানীয়র মধ্যে আদা পানি (Ginger ale) এসময় উপকারে লাগে। তবে কোন অবস্থাতেই এসিড জাতীয় পানি যথা: কমলার জুস, লেবুর পানি, কোক, স্প্রাইট খাওয়া যাবে না। এসিড জাতীয় পানি গলায়- ইনফেকশনে উত্তেজক হিসাবে কাজ করে। এর পাশাপাশি নরম খাবার যথা জাউ ভাত, যে কোন স্যুপ এসময় অনেক উপকার দেয়।

খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি ৪ কাপ কুসুম গরম পানির সাথে ১/৪ চা চামচ লবন মিশিয়ে গার্গল করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। দিনে অন্ততপক্ষে ৩/৪ বার করা উচিত। সাথে প্রচুর বিশ্রাম নিতে হবে।

এসব কাজের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শানুযায়ী এ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথা ও জ্বর কমার ওষুধ সেবন করলে ৭-১০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি স্যুস্থ হওয়া যায়।

অপারেশনঃ অনেকসময় বিশেষ করে বাচ্চারা বছরে ৫-৭ বার টনসিলাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়। অনেকদিন পর্যন্ত ধারনা ছিল, যারা ক্রনিকভাবে আক্রান্ত হয়, তাদের ক্ষেত্রে শরীর হতে টনসিল অপসারণ (যাকে বলে Tonsillectomy) করলে সবচেয়ে ভালো। তবে বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে, এখন Tonsillectomy operation এখন করা হয় না বললেই চলে। নতুন নতুন এ্যান্টিবায়োটিক এই অপারেশনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তারপরও অনেক সময় chronic টনসিলাইটিসের কারণে ঘন ঘন বাচ্চা স্কুল হতে ছুটি নিতে হয়, এছাড়া  peritonsillar abscess সহ টনসিল ফুলে গিয়ে তীব্রভাবে শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাড়ায় তখন অপারেশনই এর একমাত্র সহায়। আমেরিকায় এক জরিপে দেখা গেছে, সব Tonsillectomy অপারেশনের রোগীর মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ রোগী পরোক্ষভাবে সিগারেটের ধোঁয়া হতে আক্রান্ত হয়। তাই ঘরের মধ্যে বাচ্চার সামনে সিগারেট খাওয়া হতে দূরে থাকুন তাহলেই আপনি ও আপনার বাচ্চা দু’জনেই এই রোগের হাত হতে দূরে থাকতে পারবেন।

জাপান

rumanasums@yahoo.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.