Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  কৌতুক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
কৌতুক Download PDF version
 

কৌতুক

১.

এক ভিক্ষুক প্রতিদিন সকালে এসে সারাদিন শহরের এক মসজিদের সামনে বসে থাকে। নামাজিরা নামাজ শেষে যখন যা পারে তাকে দিয়ে যায়। এতে করে ভিক্ষুকটির মোটামুটি ভালই আয় হয়। তবে ইদানিং তার আয় কমে যাচ্ছে কারণ নামাজিরা আর পয়সা দেয় না, আর দিলেও তা অতি সামান্য। সেজন্য সে ঠিক করলো এখন থেকে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এখানে ভিক্ষা করবে। কিন্তু দেখা গেল রাতেও তার আয় বাড়ছেনা। কয়েকদিন বসে থেকে থেকে মনঃক্ষুন্ন হয়ে ফিরে যায় তার ডেড়ায়। একদিন সে ঠিক করলো, আজ মসজিদ থেকে অন্য পথে শহরের ভিতর দিয়ে ফিরবে। করলোও তাই। শহরের ভিতর দিয়ে খানিকটা যাওয়ার পর সে খেয়াল করলো যে একটা বড় দালান বাড়ী বেশ আলো দিয়ে সাজানো। ভাবলো বিয়ে বাড়ী বোধ হয়। গেটের পাশে বসে পড়লো। না, বিয়ে বাড়ী হলে তো অনেক লোকজন আসবে, গান বাজনা হতো। ব্যাপার কি? খামোখাই বা দালানটা সাজানো থাকবে কেন? তবে সে খেয়াল করলো যে মাঝে মাঝে বড় বড় গাড়ী আসছে এবং গেট দিয়ে ভিতরে চলে যাচ্ছে। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে খানিক পর ভিক্ষুকটা ঘুমিয়ে পড়লো। অনেক রাতও হয়েছে। হঠাৎ অনেক গাড়ী চলার শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলে দেখে সব সাহেবরা গাড়ীর কাঁচ নামিয়ে CD তে ইংরেজি গান শুনতে শুনতে গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। দু’একটি গাড়ী বেরিয়ে যাবার পর সে অভ্যাস মত হাত বাড়িয়ে দাড়িয়ে গেল। প্রায় প্রতি গাড়ী থেকেই সে ৫০/১০০ টাকা পেতে থাকলো। সেদিন কল্পনার বাইরে অনেক টাকা হয়ে গেল তার। সব শেষে দারওয়ান এসে গেট বন্ধ করে যখন ভিতরে চলে যাচ্ছে তখন ভিক্ষুকটি দারওয়ানকে জিজ্ঞেস করলো – বাবা এটা কিসের বাড়ী, কার বাড়ী? দারওয়ান বললো – তুমি জাননা এটাই তো শহরের সবচাইতে বড় নাইট ক্লাব। ভিক্ষুকটি তখন মোনাজাতের ভঙ্গিতে হাত তুলে বললো – হায় খোদা তোমার খেলা বোঝা ভার। ঠিকানা দাও এক জায়গার আর থাকো আর এক জায়গায়।

২.

দুই বন্ধু, একটা ঘর ভাড়া করে থাকে শহরে। সারাদিন চাকুরী করে। ঘরে ফিরে কেবল ঘুমানোর জন্য। সকালের নাস্তা, দুপুরের এবং রাতের খাবার সবই বাইরে হয়। তাদের ঘরের আসবাব বলতে দুটো খাট, একটা টেবিল আর একটা আলনা। দেয়াল সাজানোর জন্য কেবল সুন্দর ছবিওয়ালা একটা ক্যালেন্ডার। রাতে ঘরে ফেরে তারা একটু দেরি করেই। নৈশ ভোজের পর একটু পান্ টান্ করে টাল হয়ে তবে ঘরে ফেরে। কোনদিন জামা কাপড় বদলিয়ে আবার কোন দিন না বদলিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। একদিন রাতে ঘরে ফিরে দেখে দেয়ালে টাঙ্গানো সে ক্যালেন্ডারটা মেঝেতে পড়ে আছে। একটু ভেবে নিয়ে একজন বললো– ঘরে তো তালা দেওয়াই ছিল, আমিই তো তালা খুলে ঘরে ঢুকলাম। তাহলে এটা নামালো কে? অন্যজন বললো– দুর বোকা। তালা খুলবে কেন? খুলেছে পেরেকটা। প্রথম জন বললে- তাইতো, পেরেক খুললেই তো কাজ হয়ে যায় খামোখা তালা খুলতে যাবে কেন? যাই হোক সে তখন একটা হাতুড়ী নিয়ে এসে পেরেকটা আবার দেয়ালে ঢুকাতে লাগলো। হাতুড়ী দিয়ে পেরেকটাকে বারবার পেটানো দেওয়ার পরও সেটা ঢুকছেনা দেওয়ালে। একটু চিন্তা করে নিয়ে সে বললো– জানিস পেরেকটা না নরম হয়ে গেছে সে জন্যই দেয়ালে ঢুকছেনা। আসলে সে পেরেকটাকে উল্টো করে ধরেছে। যার ফলে পেরেকের মাথাটা লেগেছে দেওয়ালের সাথে আর সে পেটাচ্ছে ছুচালো দিকটায়। এ অবস্থা দেখে দ্বিতীয় জন এগিয়ে গিয়ে বললো– দেখি কি হয়েছে, পেরেক কেন ঢুকবেনা? তারপর পেরেকের অবস্থানটা দেখে বিজ্ঞের মত বললো সে – “দূর বোকা, এ পেরেকটা তো ঐ উল্টো দিকের দেওয়ালের, এ দেওয়ালে ঢুকবে কেন?

ওয়ালিউল ইসলাম,

লিভারেমার, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

মন্তব্য:
Khalid   July 14, 2009
not up to the mark. Thanks. Abudhabi
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.