Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
আইনের চোখে সম বিচার Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

ওয়াশিংটনের জানালা

আইনের চোখে সম বিচার

ওয়াহেদ হোসেনী

পড়শী সম্পাদকের অগ্রীম তাগাদানুযায়ী একটা কলাম লিখে আবার পড়ছিলাম। কলামটা ছিল প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনীর ইদানিংকালের লম্ফ ঝম্ফ। তিনি রায় দিয়ে বসেছেন দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ওবামা ‘অর্বাচীন’। সম্ভবতঃ নিজের চামড়া বাঁচাতেই তার এই বিষোদ্গার। পড়ে লেখাটা মনঃপুত হোল না,  ডিক চেনীর মত কটু ভাষার অভাব অনুভব করছিলাম। আবার নতুন করে লিখব ভেবে জানালার বাইরে চেয়ে রইলাম। নতুন কোন ভাবনার আশায়। ঘরের ভেতরে অনেকগুলো পত্র পত্রিকার একটা তুলে দেখি গতকাল ঘোষিত সুপ্রীম কোর্টের একটি রায়। সংগে সংগে ভেসে উঠলো বড় বড় থামওয়ালা বিশাল এক ভবন। ক্যাপিটল ভবনের পূর্ব পাশে সুপ্রীম কোর্ট এই ভবন যেন আমেরিকা প্রতিষ্ঠাতাদের অংগীকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির ওপরে বড় বড় অক্ষরে লেখা EQUAL JUSTICE UNDER LAW.

সুপ্রীম কোর্টের রায়ের ওপরে প্রকাশিত খবরটির ওপর আবার নজর দিলাম। গতকাল দেওয়া এই রায়ে বলা হয় যে, ১৯৮৬ সনে সুপ্রীম কোর্টের দেওয়া রায় এ “সত্যিকারের কোন উপকারীয় উদ্দেশ্য সাধিত হয় না”। রায়-এ আরো বলা হয় - ঐ রায় এ “উপকার নুন্যতম”। প্রায় ২৫ বছর আগে সুপ্রীম কোর্টের দেওয়া রায় আজকের সুপ্রীম কোর্ট বদলে দিল। নিজে নিজেই তর্ক করতে বসলাম। রাজনীতিবিদদের  “কাজিয়া” নিয়ে লেখার চাইতে সুপ্রীম কোর্টের রায় এর ওপর লেখা বরং ভালো। সেখানে এতো কাদা নেই, আছে বুদ্ধি ও বিশ্লেষণশক্তির দন্দ্ব।

১৯৮৬ সনে মিশিগান বনাম জ্যাকসন নামে খ্যাত মামলায় সুপ্রীম কোর্ট ৫-৪ ভোটে এই রায় দেয় যে অভিযুক্তের আইনজীবির অনুপস্থিতিতে আইন বলবৎকারী কোন ব্যাক্তি, অভিযুক্তকে কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। এই রায় এর বলে জ্যাকসন খালাস পেয়ে যান। ২০০২ সনের ৫ই সেপ্টেম্বর জেসী মন্টেহো লুইস ফেরারী নামে এক ব্যক্তিকে তারই বাড়ীতে খুন করে। এবং পুলিশের কাছে, আইনজীবির অনুপস্থিতিতে তা স্বীকারও করে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র কোথায় আছে তাও বলে দেয়। সব কিছু মন্টেহোর বিপক্ষে গেলেও মন্টেহোর আইনজীবি এই দাবী করেন যে তার অনুপস্থিতি দেওয়া জবানবন্দী আইনত গ্রহণীয় নয়, অতএব তার মোয়াক্কেলকে বেকসুর খালাস করা হোক। সেই মামলা সুপ্রীম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রীম কোর্ট রায় দেয় যে স্বেচ্ছায় দেওয়া জবানবন্দী অবশ্যই গ্রহণীয়, এবং সুপ্রীম কোর্ট মামলাটি পুনরায় বিচারের জন্য আবার নিম্ন আদালতে পাঠিয়ে দেয়। রায়-এ বলা হয় আইনজীবির অনুপস্থিতিতে জোরজার করে, অত্যাচার করে জবানবন্দী নেওয়া যাবে না, তবে স্বেচ্ছায় দেওয়া জবানবন্দী নেওয়ায় কোন বাধা নেই। আর তাছাড়া জোরজবরদস্তী করার বিরুদ্ধে এতসব আইন আছে যে আইনজীবির অনুপস্থিতি তেমন কোন বড় রকমের উপকার করে না। নজন বিচারকের পাঁচজন এই নতুন রায় এর পক্ষে ভোট দেন। চারজন দেন বিপক্ষে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে মত দিয়ে বিচারক এন্টোনিও স্ক্যালিয়া লেখেন, এই নতুন রায়ের ফলে অভিযুক্তের কোন স্বার্থ ক্ষুন্ন হোলে তা হবে অতিনুন্য এবং অন্যান্য আইনের বলে তাও রক্ষা পাবে। ১৯৮৬ সনে যখন রায় দেওয়া হয় যে, প্রশ্নের সময় আইনজীবির উপস্থিত প্রয়োজন তখনকার ন’জন বিচারকের মধ্যে এখন মাত্র একজনই এখনও বেঞ্চে বসেন। তিনি হলেন জন পল স্টীভেন্স। জন পল তখন সংখ্যাগরিষ্ঠদের হয়ে মত প্রকাশ করেন। এবারও তিনিই সংখ্যালঘুদের হয়ে মত প্রকাশ করেন।

বসে বসে ভাবছিলাম বিচারালয় ও বিচারপতিদের কর্মকান্ড ও দায়িত্বভার। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তিনটি শাখা নিয়ে গঠিত। জনগণ নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের অধীনে প্রশাসন ব্যবস্থা, দ্বিতীয় জনগণ নির্বাচিত কংগ্রেস। কংগ্রেস আবার দুকক্ষে বিভক্ত - হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস এবং সেনেট। এবং তৃতীয়টি বিচার ব্যবস্থা। বিচারালয়ের বিচারকরা জনগণ নির্বচিত নন। প্রেসিডেন্ট বিচারক মনোনয়ন করেন, সেই মনোনীত ব্যক্তিকে সেনেট অনুমোদন দিলে তবেই সে ব্যক্তি বিচারকের পদে বসতে পারেন। এই মনোনিত ও অনুমোদিত বিচারকই আমেরিকার সংবিধান বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করেন যে সংবিধান কোন বিশেষ একটি বিষয়ের ওপর কি বলতে চেয়েছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, আমেরিকার প্রথমদিকের সাংবিধানিক আইনজীবি, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন লেখেন, আমেরিকান বিচারালয় স্থায়ী সংবিধানের মাধ্যমে প্রস্ফুটিত সমগ্র জনগনের ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। আর প্রশাসন ও কংগ্রেস তাৎক্ষনিক ও আংশিক জনগণের মতপ্রকাশ ঘটাবে। অর্থাৎ বিচারলয় হবে সমগ্রজাতীর স্থায়ী ইচ্ছার মুখপাত্র। সুপ্রীম কোর্টের ন’জন বিজ্ঞ ব্যক্তির বিবেচনাই হবে সমগ্র জাতির ইচ্ছা। বিচারক পদে মনোনয়ন লাভের জন্য আইনগত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হতে হবে অঢেল, থাকতে হবে সংবিধান বিশ্লেষণ ক্ষমতা। এর সংগে তো থাকবেই ব্যক্তিগত ব্যক্তিত্ব। তাকে হতে হবে পূর্ণ নিরপেক্ষ। প্রেসিডেন্টের মতে যে ব্যক্তি এই সমস্ত গুনের অধিকারী, তিনিই পান প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন। সেনেট অবশ্যই এই মনোনীত ব্যক্তির খুৎ বার করতে চায়। যদি সেই মনোনীত ব্যক্তির এমন কোন খুত বার হয় যে সে ব্যক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবে না তখন তার মানোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর যদি মনোনীত ব্যক্তি সেনেটের অনুমোদন লাভ করে তখন তিনি বিচারকের পদে আসীন হতে পারেন। একবার বিচারকের পদে আসীন হওয়ার পর বিচারককে কেউ কোন কারণে অবসর নিতে বাধ্য করতে পারবে না। যদি না তার বিরুদ্ধে কোন অসততা প্রমাণিত হয়। বিচারক নিজেই একমাত্র স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে পারেন। অতএব যখন কোন প্রেসিডেন্টের বিচারক পদে মনোনয়ন দানের সুযোগ আসে তখন সব দিক দিয়ে বিবেচনা করেই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

১৯৮৬ সনে সুপ্রীম কোর্টের ন’জন বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক রায় দেন যে অভিযুক্তের জবানবন্দী নিতে আইনজীবির উপস্থিত প্রয়োজন, আবার ২০০৯ সনে সুপ্রীম কোর্টের ন’জন বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক মনে করেন, তার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ বিচারকরা যে দৃষ্টি ভংগি দিয়ে সংবিধানের বিশ্লেষণ করেন, সে দৃষ্টিভংগিতে এসেছে পরিবর্তন।

জানালা দিয়ে সুপ্রীম কোর্টের দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবছিলাম বিচারকরা যদি কোন বিশেষ আদর্শের অনুসারী হন তবে তাদের বিশ্লেষণে সেই আদর্শের রশ্মি প্রভাব বিস্তার করবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সোনিয়া সোতোমাইওরকে সুপ্রীম কোর্টের বিচারকের পদের মনোনয়ন দিয়ে সেনেট অনুমোদন অনুরোধ করেছেন। ওবামা তার মনোনয়নের স্বপক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তি তুলে ধরেছেন তা হল সোনিয়া সোতামাইওর সত্যিকারের একজন বিচারক। সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক, বারাক ওবামা, সোতামাইওরকে মনোনয়ন দিতে যে জিনিষটা সব চাইতে বেশী গুরুত্ব দেন সম্ভবত তা হোল সুপ্রীম কোর্টের ওপর লেখাটি - “EQUAL JUSTICE UNDER LAW” আইনের চোখে সবার জন্য সমবিচার। জানালা দিয়ে ১৬ মাইল দূরের সুপ্রীম কোর্ট ভবনের ওপর লেখাটা পড়তে পারছি না বটে, তবে তার প্রভাব খুব ভালো ভাবেই উপলব্ধি করছি।

ElderHossaini@gmail.com

ওয়াশিংটন ডিসি

২৬ মে, ২০০৯।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.