Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (২) Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

বিশ্বজোড়া পাঠশালা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও প্রাসঙ্গিক কথা (২)

জাকিয়া আফরিন

সমসাময়িক ও সমমনস্ক অন্যান্য শান্তি চুক্তি বা সমঝোতার সঙ্গে তুলনা করার আগে দেখে নেয়া যাক পার্বত্য চুক্তি যা গবেষকদের কাছে THE ACCORD বলে পরিচিত তার বিভিন্ন ধারাগুলি। চুক্তির প্রস্তাবনা (PREAMBLE) শুরু হয়েছে অনেকটা একঘেয়ে সুরে। সম অধিকারের দাবীতে পাহাড়ী মানুষের একতাবদ্ধ আন্দোলন, এ অঞ্চলের ইতিহাস কিংবা সশস্ত্র আন্দোলনের কোন উল্লেখ নেই। অর্থাৎ অতীতের ভুলভ্রান্তি শুধরে নিয়ে পূনমিত্রতার যে সম্ভাবনা ছিল, তা অংকুরে বিনষ্ট। মোট চারভাগে বিভক্ত এই চুক্তিতে বার বার চোখে পড়ে এমনি আন্তরিকতার অভাব।

প্রথম ভাগের উল্লেখযোগ্য দিক হল পার্বত্য চট্টগ্রামকে TRIBAL POPULATED REGION অর্থাৎ পাহাড়ী অধিবাসরত এলাকা বলে স্বীকৃত দেয়া। এ পর্যায়ে পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাগুলোর পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ করা সম্ভব ছিল।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে ১৯৮৯ সালে আরোপিত রাঙামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার আইনের কিছু পরিবধর্ন ও পরিমার্জন। এ পর্বে চোখে পড়ে দুটি অসঙ্গতি। প্রথমত, চুক্তির বাংলা অংশে ব্যবহৃত হয়েছে উপজাতি শব্দটি। প্রগতিমনস্ক গবেষক ও পাঠক উভয়েই যখন এই উপজাতি (জাতির ভগ্নাংশ অর্থাৎ পূর্নাঙ্গ জাতির চেয়ে কম কিছু) ব্যবহারের বিপক্ষে এবং আপন করে নিয়েছেন ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা শব্দটি সরকারীভাবে এই অসম্মানজনক ভাষায় সমঝোতা রুচির অভাবকেই প্রকাশ করে। আরো বলা যায় স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণের অনুবিধিটির কথা। এই ধারা অনুযায়ী, পাহাড়ী ছাড়াও অন্যান্যরা জমির মালিকানা ও একটি নির্দিষ্ট ঠিকানার সুবাদে পাহাড়ের স্থায়ী বাসিন্দা বলে বিবেচিত হবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটার পেছনে যে কটি কারণকে দায়ী করা যায়, তাদের অন্যতম বাঙালি বসতি। পাকিস্তানের সামরিক শাসক ১৯৬২ সালে পাহাড়ে বাঙালি অভিবাসনের যে সূত্রপাত ঘটায়, স্বাধীন বাংলাদেশে সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতার দরুন পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ পাহাড়ী-বাঙালি প্রায় সমান সংখ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। কুটনৈতিক দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা না করে সরাসরি বাঙালির বসবাসকে স্বীকৃতি দেয়া এবং ভবিষ্যতেও এর অন্যথা করার কোন ধারনাও দেয়া হয়নি শান্তিচুক্তিতে। এই চুক্তি শান্তি আনতে সফল হবে এমনটা ভাবা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কি!

তৃতীয় ভাগে রয়েছে ২২ সদস্য বিশিষ্ট নতুন একটি প্রশাসনিক দপ্তর গঠন এর পরিকল্পনা। চতুর্থ ভাগে রয়েছে বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবিধি। বাস্তুহারা পাহাড়ীদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসন, শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র যোদ্ধাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা, ভুমিহীন পাহাড়ীদের আবাদি জমি দান করা, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তি করার জন্য LAND COMMISSION গঠন, পাহাড়কে মিলিটারী মুক্ত করা ইত্যাদি নানা অঙ্গীকারে ভরপুর শান্তিচুক্তির শেষ অংশ। দুর্ভাগ্যজনক এবং বাস্তবতা হলো, এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের কোন সময়সীমার উল্লেখ নেই। তাই চুক্তির দশ বছর পরও এই অংশের প্রায় সবকটি অনুবিধি বাস্তবায়িত হওয়ার অপেক্ষায়।

তবে বাস্তবায়ন ভিন্ন বিষয়। কাগজে কলমেও শান্তিচুক্তিটির রয়েছে দুর্বলতা। কয়েকটি চুক্তির সঙ্গে তুলনা করলেই স্পষ্ট হবে সেই যুক্তি। বিভিন্ন দেশের কয়েকটি চুক্তি ( সরকার ও সংখ্যালঘু বিপ্লবীদের মধ্যে সম্পাদিত) এবং গবেষকদের আলোচনা ঘেটে দেখা গেল, যে কোন চুক্তি গঠনের সফলতা নির্ধারণ করতে তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রথমত, চুক্তিটির নিশ্চয়তা রয়েছে কিনা (ENTRENCHMENT); দ্বিতীয়ত, স্বায়ত্ত্বশাসন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দাবীর মধ্যে থাকলে তা কতটুকু চুক্তির অংশ (AUTONOMY), তৃতীয়ত, দুই পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি অবসানের মাধ্যম (DISPUTE RESOLUTION), এবং চতুর্থত, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বরূপ স্বীকৃতি পেয়েছে কিনা (IDENTITY)

যত সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি গড়ে উঠুক না কেন, নিশ্চয়তা ছাড়া এ মূল্যহীন। তাই বিভিন্ন উপায় চুক্তির নিশ্চয়তা দানের নজির রয়েছে পৃথিবীতে। চীনের সঙ্গে ম্যাকাও-এর যে চুক্তি এদের শাসনব্যবস্থাকে বেঁধে রেখেছে, তা জমা রয়েছে জাতিসংঘে। জাতিসংঘে সংরক্ষিত ম্যাকাও-এ চুক্তি মর্যাদা পেয়েছে আন্তর্জাতিক চুক্তির এবং নিশ্চয়তাও তাই আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সমস্যা সংকুল কাশ্মীর রাজ্যও এর ব্যতিক্রম নয়। জম্বু-কাশ্মীর এর সঙ্গে ভারত সরকারের স্বায়ত্ত্বশাসন সংক্রান্ত বোঝাপড়াকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের মাধ্যমে। এই চুক্তি পরিবর্তন করা সম্ভব একমাত্র ভারতীয় সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটে এবং কাশ্মীর রাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মতিতে। এই দুটি উদাহরণের দিকে তাকালেই পার্বত্য শান্তিচুক্তির অন্যতম দুর্বলতা চোখে পড়ে। বাংলাদেশ সংবিধানে এর কোন স্বীকৃতি নেই। জাতি সংঘে সংরক্ষণ করার চিন্তাও সরকার করেছিলেন কিনা, তা ভাবার বিষয়। এ দিক থেকে দেখতে গেলে চুক্তিটি অভিভাবকহীন বলেই মনে হয়।

এপ্রিল ২০, ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

`Bangladesh in the 21st Century’ – ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত সম্মেলনে পঠিত গবেষণার সংক্ষিপ্ত রূপ এই লেখা।

[আগামী সংখ্যায় সমাপ্য]

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.