Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
মানব বিবর্তন কি আজ হাতের মুঠোয়? Download PDF version
 

প্রযুক্তি বন্ধন

 

মানব বিবর্তন

কি আজ হাতের মুঠোয়?

ড. প্রদীপ ঘোষ

জীন প্রকৌশলঘটিত মানব ভ্রূন! এ ধরনের ভ্রূনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানেরা এমনকি সন্তানদের সন্তানেরা এমনভাবে বদলে যাবে যে, যা আর পরিবর্তন করা যাবে না। বিজ্ঞানীরা বেশ সহজ সরলভাবেই বলে যাচ্ছেন এক্ষেত্রে তারা জার্ম-লাইন প্রকৌশল (Germ-Line Engineering) খাটাবেন। যার বদৌলতে আরোগ্য হবে মারাত্মক রোগসমুহ। শুধু তাই নয়, তারা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব ডিজাইনে এমন মানব শিশু সৃষ্টির প্রয়াস নেবেন যারা হবে একই রকম অধিক শক্তিশালী, অধিক চঁটপটে আর রোগ সংক্রমণের প্রতি অধিক প্রতিরোধী, ইত্যাদি ইত্যাদি। সত্যিই এসব ভাবতে অবাক লাগে।

ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা জীন চিকিৎসা (Gene therapy) নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলতাও পেয়েছেন। দেহের সামান্য কয়েকটা কোষ বদলিয়ে দুর করা যাবে মারাত্মক রোগ। জার্ম লাইন প্রযুক্তি অবশ্য দেহের প্রতিটি কোষকে বদলে দেবে। মানুষকে তাদের পিতৃপুরুষদের বিভিন্ন ধাঁচের জীন নিয়ে হিমশিম খেতে হবে না। এর পরিবর্তে জীন প্রযুক্তিবিদেরা দুরে সরিয়ে দেবেন “ক্রটিপূর্ণ জীন” এবং চলতি জীনগুলোতে পরিবর্তন আনবেন আর প্রয়োজন হলে দু’একটা বাড়াতেও পারবেন। তাহলে কি অদূর-ভবিষ্যতে মানুষ নিজেই নিজের বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রন করবে? ধারণাটা এতটাই বিস্ময়কর যে মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবদেহে জার্ম-লাইন প্রযুক্তি ছিল রীতিমত নিষিদ্ধ বিষয়। তবে একটি বিষয়ে তারা একমত যে, জার্ম-লাইন প্রযুক্তিতে বদলানো মানবজীবন আজ প্রায় এক বাস্তবতা। আগামী ১০-২০ বছরের মধ্যে জীন প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট বাচ্চাদেরকে হাঁটাহাটি করতে না দেখলে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। মানব জীন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সাধারন মানুষের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই। মা বাবার মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই। মা বাবার মধ্যে শতকরা প্রায় ২০-৩০ ভাগ মনে করেন তাদের সন্তানদের উন্নততর স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা বিধান, অধিক বুদ্ধিমত্তার অধিকারী করা অথবা তাদেরকে কু-পথে যেতে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে যদি ওদেরকে জেনেটিকভাবে বদলে ফেলা যায়, তাতে দোষের কিছু নেই। বিজ্ঞানীরা আমাদের জীনগুলো কী করছে শুধু সেটুকুই খুঁজে বের করছে তাই নয়, কীভাবে এ জীনগুলোকে সুক্ষ্মভাবে বদলে দেয়া যায়, সেই গবেষনাও করছেন।

এখনো মানব জীনের পর্যায়ক্রমিক পাশাপাশি স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে কীভাবে হাজার হাজার জীন এবং এদের অজস্র বিভিন্নতা শারীরিক ও আবেগীয় পরিবর্তন ঘঁটাচ্ছে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত উপাত্ত ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীদের হাতে এসেছে। বর্তমানে সিসটিক ফাইব্রোসিস (Cystic fibrosis), সিকল-সেল রক্তশুন্যতা (Sikle-cell anaemia) কিংবা ক্যানসারের মত সাধারণ রোগ চিকিৎসায় জীন থেরাপী কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করেছেন। তবে পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার উপকৃত হয়েছেন খুব কম সংখ্যক মানুষ। এতে সমস্যা হল পর্যাপ্ত কোষের মধ্যে নতুন জীন প্রবিষ্ঠ করানো এবং সেখানে যদি এদেরকে দীর্ঘকাল ধরে রাখতে পারা যায়, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিজ্ঞানীরা থেমে নেই। জার্ম লাইন প্রযুক্তির, ক্ষেত্রে কেবলমাত্র একটি কোষকেই একটি নিষিক্ত মানব-ডিম্বকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারে। সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী লিউরী হুড এর মতে কাজটি খুব সহজ। একজন জীন প্রযুক্তিবিদ যখন ল্যাব ডিশে একটি নিষিক্ত ডিম্বকে বদলাবেন, ডিম্বটি বিভাজিত হতে থাকবে এবং এভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতে দেহের সমস্ত কোষ তৈরি করে ফেলবে। পরিবর্তিত ডিম্বের যে জেনিটিক গঠন, প্রতিটি কোষেরই অবয়ব অবিকল তা-ই হবে। বিশ্বের বিজ্ঞানীরা প্রাণীর মানবীকৃত (Humanised) অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মানব দেহে প্রতিস্থাপনের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, হয়ত অদুর ভবিষ্যতে আমরা জানতে পারবো এ অসম্ভব কাজটি সম্ভবপর হয়েছে। প্রযুক্তির সাথে রয়েছে নতুন আবিস্কারের প্রবণতা। অনেক বিজ্ঞানীর  ধারণা, আবিস্কারের মনোবৃত্তিই হচ্ছে পাগলামীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী লি সিলভার তার বই রিমেকিং ইডেন (Remaking Eden)

নিউইর্য়ক ষ্টেট ইউনিভার্সিটির অনুজীববিজ্ঞানী লিয়েভ ক্যাভালিয়ারী বললেন জীন প্রযুক্তি নিয়ে তিনি কাজ করেছেন একটানা ত্রিশ বৎসর, তাঁর মতে এই প্রযুক্তির সুপ্ত ক্ষমতা পরমাণুকে ভেঙ্গে ফেলার ক্ষমতার চেয়েও বেশি। যা মানবসমাজের জন্য হবে সাংঘাতিক মারাত্মক। এই প্রযুক্তির মন্দ দিকটি এর উন্নয়ন প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ চলবেই-এটা অনিবার্য্য। জার্ম-লাইন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অভাবনীয় এবং সাংঘাতিক ধরনের রদবদল করাও সম্ভবপর। উদাহরণস্বরূপ, তথাকথিত “বেল্টসভিল শুকরের” কথা ধরা যায়। শুকরটি উচ্চ প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে কন্টক স্বরূপ এবং প্রাণী অধিকার কর্মীদের নিকট অত্যন্ত পুজনীয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বিজ্ঞানীরা এটির স্রষ্টা। তাদের উদ্দেশ্য এমন একটি গ্রোথ হরমোন উৎপন্ন করা যা যে কোন প্রানীকে মানবকে অধিক দ্রুতবেগে বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করবে। প্রকৌশলীরা এই হরমোনে সংযুক্ত করেছিলেন একটি জেনেটিক সুইচ। শুকর যখন দস্তাঘঠিত খাবার খাবে কেবলমাত্র তখনই এই সুইচ গ্রোথহরমোন চালু হবে। পরে এই সুইচ অবশ্য ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন শুকরটিকে দ্রুত বাড়তে সাহায্য করে বটে, কিন্তু প্রাণীটির হাড়গোড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এর সন্ধিতেও দেখা যায় বিভিন্ন সমস্যা।

মানব জীন প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ নেবার আগে প্রতিটি জীন এবং তার সুইচগুলো প্রথমে প্রাণীদেহে ভালো করে পরীক্ষা করে নিতে হবে। এমনকি যে কোন পরিবর্তন এমন সুক্ষ্ম শল্য যথার্থের মাধ্যমে করতে হবে যাতে করে একটি বৈল্টসভিল মানব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। বিগত কয়েক বছর ধরে জেনেটিক বিজ্ঞানীরা এ ধরনের জীন শল্যচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে চলেছেন। জীনপ্রকৌশলীরা যে উপায়ে পশুকে বদলে ফেলেছেন তা হলো নিষিক্ত ডিম্বে জীন প্রবিষ্ঠ করে প্রাণীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা। তবে মানবদেহে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো নির্ভরযোগ্য নয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুবিজ্ঞানী গ্রুয়েনার্ট বলেন কতিপয় গবেষণাগারের পক্ষে সরাসরি ইঁদুরের নিষিক্ত ডিম্বের উপর জীন শল্যচিকিৎসা প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। গবেষক ডায়েটার এ ধরনের একটি চিকিৎসা উদ্ভাবনের চেষ্টায় নিয়োজিত আছেন। হয়তো এমন একদিন আসবে যেদিন জীন প্রযুক্তিঘটিত মানব ডিম্ব উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আমাদের জন্য তখন জীন প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দেখার সুযোগ ঘটবে।

ড. প্রদীপ ঘোষ The Methodist Hospital Research Institute, Houston, TX-এ কমর্রত।

Email: pshosh38@yahoo.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.