Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
গণতন্ত্র : যাচ্ছে কোথায় বাংলাদেশ? Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

গণতন্ত্র : যাচ্ছে কোথায় বাংলাদেশ?

শুভ কিবরিয়া

ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কংগ্রেসের বিজয়ের পর দেখা যাচ্ছে, তাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন রাহুল গান্ধীমা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রাহুল গান্ধী এবার নির্বাচনে প্রচারাভিযানে নেমেছিলেনপ্রধানমন্ত্রী পদে আসীন না হওয়ার গোঁ সোনিয়া গান্ধীকে ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটা সুউচ্চ মিনারে দাঁড় করেছেইতোমধ্যে রাহুল গান্ধীও তার পথ অনুসরণ করেছেনমন্ত্রিত্বের চাইতে দলের বিজয়ের জন্য ভূমিকা রাখাই যে রাজনীতিতে বড় বিনিয়োগ তা তাত্ত্বিক এবং আক্ষরিক অর্থে প্রমাণ করে দিলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের এবারের নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে এককভাবে নির্বাচনের বিষয়ে কংগ্রেসকে প্রভাবিত করেন রাহুল গান্ধীএ এলাকায় স্থানীয় বড় আঞ্চলিক দলগুলোর প্রভাবকে ক্ষুণ্ন করতে, নিজেই নেমে যান মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রচারণায়শখানেকের ওপর জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন তিনিবলেছেন পরিবর্তনের কথাসেই পরিবর্তনের রূপ কী? গ্রামীণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নকারা করবে? করবে কংগ্রেসকার নেতৃত্বে? বলেছেন, সরকারে ড. মনমোহন সিং এবং দলে সোনিয়া গান্ধী

তিনি নিজে কি নেতৃত্বে আসবেন? উত্তর অবশ্যইতবে সরকারে নয়তিনি কাজ করবেন দলের জন্যদেশের মেধাবী তরুণদের একটা বড় অংশকে রাজনীতিতে আনতে চান তিনিকংগ্রেস নির্বাচিত হলে সেই কাজটিতেই জড়াবেন তিনি

রাহুলের কথা ও প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলমান ভোটাররা, আকৃষ্ট হয়েছে তরুণ ভোটাররাএই দুই বড় অংশের ভোটে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে কংগ্রেসভোটে জেতার পর দলের নেতা ও কর্মীদের সকল চাপকে উপেক্ষা করেই সরকারের মন্ত্রিত্বে অংশ নেননি মা ও পুত্রভারতীয় রাজনীতির অত্যন্ত ক্ষমতাধর সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী প্রমাণ করেছেন মন্ত্রিত্ব বড় কথা নয়, দল ও দেশের জন্য কাজ করলে, দলকে শক্তিমান করলে তারা নিজেরাও শক্তিমান থাকবেন

রাহুল গান্ধীর দৃষ্টি এখন ২০১১ সালের রাজ্য সরকারের নির্বাচনের দিকেস্থানীয় রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে সাফল্য এনে দিতে কাজ শুরু করেছেন তিনিমা ও পুত্র দলের হাল ধরে রাখতে চান, দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চানঅন্যদিকে সরকারকে গণমুখী রাখতে পরামর্শকের ভূমিকায় থাকতে চানএতে লাভ দুপক্ষেরইদলের হয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা মাঠপর্যায়ের মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারছেনসরকার যে কাজ করছে তাতে জনগণের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির বিষয়টি অবহিত হতে পারছেনমাঠপর্যায়ের জনগণের অভিমতকে দলের মাধ্যমে জেনে সরকারকেও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে তারা ভূমিকা রাখছেনঅন্যদিকে এই জনসম্পৃক্ততা রাহুল গান্ধীকে রাজনীতিতে অভিজ্ঞ করে তুলছেদল ও জনগণের কাছে জনপ্রিয়ও করছেভবিষ্যতে কংগ্রেস ও ভারতের নেতৃত্বে যাওয়ার পথটিও সুগম হচ্ছেরাহুল গান্ধীর এই নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই একজন শক্তিমান নেতার ভিত্তিভূমি রচিত হচ্ছেসংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে যেমন তার যোগ্যতা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন, দলের কাজেও তার অভিজ্ঞতা বাড়ছেসংসদ ও দল দুই যাত্রায় ভারতের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে তৈরি করছেন রাহুল গান্ধী

২.

রাহুল গান্ধীর মতোই রাজনীতিতে সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশে তারেক জিয়াবিএনপির মতো দলে জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তির পথ ধরে তারেক জিয়া ছিলেন সম্ভাবনাময়ীএক সময় মনেও হয়েছিল দলের মধ্যে, জনগণের মধ্যে একটা অন্য রকম ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারবেন তিনিদল ও জনগণ তাকে সে সুযোগও দিয়েছিলকিন্তু ক্ষমতার লোভ তাকে বিপথে ঠেলেছেহাওয়া ভবন তার সমস্ত রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নেতিবাচকতার দিকেই নিয়ে গেছে

যে তারেক জিয়া বিএনপির সাংগঠনিক ক্ষমতার মূল সূত্র হতে পারতেন, তিনিই বিএনপির জন্য কাল হয়েছেনআজ বিএনপির যে দুরবস্থা তার জন্য অনেকাংশেই দায়ী তারেক জিয়াক্ষমতা, টাকা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন যে দুর্বিপাক ডাকতে পারে তার বড় উদাহরণ হয়ে আছেন তারেকআজ তার নিজের যে পরিণতি, পরিবারের যে কষ্টদশা, দলের যে দুর্দিন তার অনেকটাই এসেছে তার হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক পাওয়ার হাউস তৈরির প্রতিক্রিয়া হিসেবেনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতিতে না এগিয়ে একলাফে ক্ষমতার কেন্দ্রে যেতে গিয়ে দলকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন তারেক জিয়া তার ফল আজ ভোগ করতে হচ্ছে পুরো বিএনপিকে

৩.

রাহুল গান্ধী দলকে সুসংগঠিত করেছেনদল ও জনগণের চাপ সত্ত্বেও সরকারের মন্ত্রিত্ব থেকে দূরে থেকেছেননিজেকে মন্ত্রিত্বের পদে জড়ানোর জন্য সময় নিতে চেয়েছেনবয়স এবং অভিজ্ঞতার রথে চড়ে আরও বড় দায়িত্ব নেয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেনমা সোনিয়া গান্ধী এ ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাতিনিই মডেলক্ষমতা থেকে কীভাবে দূরে থেকেও ক্ষমতাবান হওয়া যায়, দলকে বড় ভিত দেয়া যায়- তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে সোনিয়া গান্ধী তার মডেলরাহুল গান্ধী সেই মডেল অনুসরণ করছেনএকজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন মা যে রাজনৈতিক পথে হাঁটা পুত্রের জন্য কত বড় অভিভাবক হতে পারেন সোনিয়া গান্ধী তার বড় প্রমাণপ্রক্রিয়া ও নিয়মের হাত ধরে অভিজ্ঞতার পথ পেরিয়ে দল ও জনগণের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যে রাহুল গান্ধী তৈরি হচ্ছেন তিনি রাজনীতির সকল দুর্দিন, দুর্বিপাক, দুর্যোগ মোকাবেলার সামর্থ্য নিয়েই বেড়ে উঠছেনবাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম জিয়া সেই পথে হাঁটতে ব্যর্থ হয়েছেনপুত্র তারেক জিয়ার জন্যও ক্ষতির কারণ হয়েছেনদল, দেশ দুটোই তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

৪.

এই ক্ষতির নমুনা দলের জন্য কেমন হয়েছে?

১/১১-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপি সংগঠিত হতে পারেনি

গত ১৫ বছরে বিএনপির কোনো কাউন্সিল হয়নি

বছরের পর বছর ধরে দলের জেলা কমিটি বা তৃণমূলের কমিটিগুলোতে নির্বাচন হচ্ছে না

৭৫টি জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে

সম্প্রতি যে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটিও আলোর মুখ দেখতে পারছে নাদ্বন্দ্বে-দ্বিধায় জর্জরিত সাংগঠনিকভাবে বিএনপিদলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বার্ধক্য এবং অসুস্থতার ভারে জর্জরিত১৫ সদস্যবিশিষ্ট দলের সবচেয়ে বড় নীতি নির্ধারক ফোরাম এই জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১০-এর বেশি কখনো কার্যকর থাকেনিফলে, বিএনপির স্থবিরতা কাটেনিস্থবিরতা সংগঠনের মধ্যে নানা জটিলতাও তৈরি করেছে

১/১১-এর পরে দল যে দুর্দিন এবং দুঃসময় পার করছে, দলের জন্য যখন ঐক্য এবং সংহতি খুব দরকার তখন দলে বিভেদ বাড়ছেআদর্শ এবং মতের সকল রীতিকে অগ্রাহ্য করে শুধু নিজেদের অস্তিত্ব ঠেকাতে দলের মধ্যে পরস্পর বিপরীত চরিত্রের ব্যক্তি গ্রুপের সখ্য গড়ে উঠছেইতোমধ্যে উদারপন্থী বলে পরিচিত, সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধাচারী খোন্দকার দেলোয়ারের সঙ্গে কট্টরপন্থী মির্জা আব্বাস গংয়ের ঐক্য গড়ে উঠেছেঅন্যদিকে সংস্কারপন্থী সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে, দলের চরম দক্ষিণপন্থী অংশের নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ-এর সখ্য তৈরি হয়েছেবিএনপির রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ধারার যে শক্তির স্ফুরণ ছিল, তার বদলে দলটির চরম প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছাকাছি থাকা গ্রুপটি বড় হয়ে উঠছেবিএনপির এই বিকাশ দলটিকে দারুণভাবে জামায়াতে ইসলামী ঘরানার দিকে ঠেলে দিচ্ছেপরিবর্তিত বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চেহারায় বিএনপির বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে

বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এই অকার্যকারিতার সুফল পাচ্ছে সরকারদল হিসেবে বিএনপি যত অসংগঠিত হবে সরকারের দানবীয় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তা ততই সহায়ক হবেদুর্বল বিএনপি, দানবীয় সরকারকে প্রণোদনা দেবেক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্রকেননা রাজপথে, সংসদে শক্তিমান বিরোধী দল থাকলেই সরকারি দল ও প্রশাসন একটা নিয়মতান্ত্রিক নীতিসম্মত রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়েগণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দেশ ও সরকারকে সঠিক পথে রাখার সেটাই রক্ষাকবচঅথচ বাংলাদেশে বর্তমানে ঘটছে উল্টো ঘটনাফলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষত, বিরোধ বিএনপিতে যত বাড়বে, সংগঠন যত স্থবির হবে ততই বেপরোয়া হয়ে উঠবে সরকারের অপশাসন

৫.

সরকারের অপশাসন ঠেকাতে বিএনপির দরকার ছিল সংগঠিত নেতৃত্বসংসদে এবং সংসদের বাইরেকিন্তু কিছুতেই বিএনপি সেই কাজটি করতে পারছে নাইতোমধ্যে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হবার প্রশ্নে প্রকাশ্যে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকাচৌ) এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদঅন্যদিকে মহাসচিব পদের লড়াইয়ে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাঅপরপক্ষে যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, কৃষক দলের সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরের নামও উচ্চারিত হচ্ছে মহাসচিব পদেসংসদে উপনেতা এবং দলের মহাসচিব- এই প্রশ্নে দলে দ্বন্দ্ব বাড়ছেতার প্রভাব পড়ছে তৃণমূল সংগঠনেদীর্ঘদিন ধরে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে কাউন্সিল নেইসেটা করতেই একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপিকিন্তু উপনেতা আর মহাসচিব ঘটিত বিরোধের আছর পড়েছে এই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ওপরকেন্দ্রের নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেরা নানা দলে, উপদলে বিভক্ত হয়ে এর ওপর প্রভাব ফেলছেনদ্বন্দ্ব-সংঘাত তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় খালেদা জিয়া এখন কমিটির নাম ঘোষণা স্থগিত করেছেনফলে বিএনপির সংগঠন গোছানোর কাজ আরও পিছিয়ে গেল

বিএনপির যখন এই অবস্থা তখন তারা সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেনবেগম জিয়ার বাড়ি উচ্ছেদসহ সরকারের নানা ব্যর্থতার কথা বলে মধ্যমেয়াদি নির্বাচনের ডাক দিয়ে রাস্তায় নামছেনঅসংগঠিত বিএনপির এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সরকার শক্তভাবে মোকাবেলা করার চেষ্টা করছেবেগম জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য তৃতীয়বারের মতো নোটিস পাঠিয়েছে

৬.

সরকারের অবস্থাই বা কি? শেখ হাসিনার সরকার রাজনৈতিকভাবে বিডিআর বিদ্রোহ মোকাবেলা করলেও এর বিপত্তি এখনো কাটেনিনির্ধারিত সময় পার করে দুটো তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছেবিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে নানা গুঞ্জন, নানা মত আছেএবং এই রিপোর্ট ভেতরে ভেতরে একটা টেনশনও তৈরি করছেবিডিআর ঘটনা নিয়ে সামনে আরও টেনশন তৈরি হতে পারেকেননা, বিপুলসংখ্যক বিডিআর জওয়ানের সম্পৃক্ততা মিলছেপুরো বিডিআর জওয়ান এবং তাদের পরিবার এখনো টেনশনে আছে এই ঘটনার পরিণতি নিয়েটেনশন তাদের ভাগ্যে কি ঘটে সেই অজানা আশঙ্কা নিয়েকতজন বিডিআর দায়ী হন, শাস্তি পান, সেটা একটা দুশ্চিন্তাই বটেঅন্যদিকে নিহত সেনা সদস্যদের পরিবার এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আকাঙিক্ষত বিচার তারা পান কিনা সেটাও একটা দেখার বিষয়বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা, তদন্ত, বিচার বিষয়ে সামাজিক-রাজনৈতিক অভিঘাত, দ্বন্দ্ব নানারকম অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে

৭.

শেখ হাসিনার সরকার গত পাঁচ মাসের শাসনামলে পুরো সরকারকে এক ব্যক্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছেনসরকারে হাসিনাই শেষ উত্তরপুরো মন্ত্রিসভায় টিমওয়ার্ক বা একক সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রিসভা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অনেক সময় তাতে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছেসেটি এই সরকারের বড় দুর্বলতা

সরকারের আরেকটি বড় দুর্বলতা, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী না করে দুর্বল করছেন; আইন দিয়ে, অনুগত দলীয় লোকদের পাঠিয়েএই বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন, পিএসসি, বিআরটিসি, স্থানীয় সরকার কমিশন (বিলুপ্ত) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মানুষের নির্ভরতা বা আস্থা বাড়ার বদলে কমছেমানুষ সন্দেহ করতে শুরু করেছে এই রাজনৈতিক সরকারের আমলে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের স্ব স্ব ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা?

 সরকারের আরেকটি বড় দুর্বলতা আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণ ও পুরস্কার প্রদানের আওতায় এনে সরকার একে নিবীর্যকরণ এবং সুবিধাভোগীতন্ত্রের আস্তানায় পরিণত করেছেযার ফলে প্রশাসনে গতিধারা আসছে নাপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বড় উদাহরণকর্মরত প্রফেশনাল কূনীতিকদের বাদ দিয়ে দেশে দেশে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হচ্ছে চুক্তিভিত্তিক সাবেক দলীয় অনুগত কূটনীতিকদেরকখনো কখনো দল ও পরিবারতন্ত্রের পছন্দসই এমন লোকদের, যাদের সঙ্গে কূটনীতির কোনো সম্পর্ক নেইইতোমধ্যেই রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন একজন ব্যবসায়ীকুয়েতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন গলফ, ভলি, বাস্কেটবল সংগঠকলন্ডনে পদ পেয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্যাতিত একজন শিক্ষাবিদএমনিতেই বাংলাদেশের মিশনগুলোতে পেশাদারিত্বের অভাব তীব্র, তার ওপর এসব প্রেষণ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, আরও দুর্বল করছেঅন্যদিকে কর্মরত কূটনীতিকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, প্রফেশনালিজম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

 সরকারের এসব আচরণ জনমনে আস্থা আনতে দোদুল্যমানতা তৈরি করছেমানুষ ভাবছে সরকার যেসব বিপজ্জনক, সাহসী, জনস্বার্থের অনুকূলের কর্মসূচি নিয়েছে তা কি বাস্তবায়িত করতে পারবে? জঙ্গিবাদ প্রশ্নে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সকল চাপ, দেশের বিএনপি-জামায়াত ঘরানার চাপ পেরিয়ে ফল কি ঘরে আনতে পারবে?

৮.

ভারতে গণতন্ত্র শক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতে পেরেছে বলেসেখানে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নিতে পারে না, রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তিমত্তার কারণেবাংলাদেশে ঘটনা তার উল্টোখালেদা-হাসিনার একক ভাবমূর্তি দলকে উপচে উঠে বড় হয়ে উঠেন তারাগৌণ হয় দল, প্রতিষ্ঠানকখনো কখনো দেশওফলে তাদের ওপর আঘাত এলে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল ও দেশ

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, আঞ্চলিক রাজনীতির নানান হিসেব নিকেশ, পাকিস্তানে তালেবান খেদাও রক্তযুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় এলটিটিই নিধন, নেপালে মাওবাদীদের পতন- এই বহুমাত্রিক রাজনীতির ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র

হাসিনার রাজত্বে দল ও জনগণ সম্পৃক্ত না হলে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্রজনস্বার্থ আর বাস্তবতা না বুঝলে পরিবর্তন আসবে না খালেদা জিয়ার কাজেওদাঁড়াবে না দলদল না দাঁড়ালে গণতান্ত্রিক যাত্রার পথ সুগম হবে না

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.