Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
দিন বদলের হাওয়া Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

দিন বদলের হাওয়া

শ্যামল নাথ

১৯৬৪ সালের ২১শে জুন। আমেরিকার সিভিল রাইটস আন্দোলনের তিন কর্মী সমবেত হয়েছেন মিসিসিপিতে। তাদের উদ্দেশ্য, একটি চার্চ পোড়ানোর ঘটনার তদন্ত করা, যে চার্চটি সিভিল রাইটস আন্দোলনের সমর্থক ছিল। তাদের একজন জেমস চেনী, মেডেরিন থেকে, স্থানীয় কর্মী। আরেকজন মাইকেল সোয়েরনার, নিউ ইয়র্ক থেকে সিভিল রাইটস আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মী। আর তৃতীয় জন এন্ড্রু গুডম্যান, সেও নিউ ইয়র্ক থেকে, একজন স্বেচ্ছাসেবী। তিনজন সবে ওয়েষ্টার্ন মহিলা কলেজ থেকে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ করে এসেছেন, বিষয়, কিভাবে কালোদেরকে ভোটার রেজিষ্ট্রেশানে উদ্বুদ্ধ করা যায়।

তারা তিনজন মেডেরিন থেকে রওয়ানা হয়েছেন লংডেল, মিসিসিপির দিকে, যেখানে তারা পুড়ে যাওয়া মাউন্ট জিওন ইউনাইটেড মেথডিষ্ট চার্চটি পরিদর্শন করবেন। চার্চটি ছিল স্থানীয় সিভিল রাইটস আন্দোলনের কর্মীদের মিলন স্থল। পাঁচদিন আগে চার্চটিকে কেউ পুড়িয়ে দিয়েছিল। ওরা জানত যে সাদাদের সংগঠন দুর্ধর্ষ নাগরিক সমিতি (Citizens Council) এবং কে-কে-কের লোকজন ওদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে, এবং ওরা সেইভাবে প্রস্তুতও ছিল।

একটি নীল রঙের ফোর্ড গাড়ী করে ওরা যাচ্ছে, মেডেরিন থেকে লংডেলের দিকে। পঞ্চাশ মাইল মতো পথ। হঠাৎ পিছনে পুলিশের সাইরেন। ওদের গাড়ী থামালেন নেশোবা কাউন্টির ডেপুটি, সেসিল প্রাইস। তখন গাড়ী চালাচ্ছিল চেনী। চেনীকে গ্রেপ্তার করা হল, অভিযোগ যে চেনী ৩৫ মাইলের বেশী বেগে গাড়ী চালাচ্ছিলেন। চেনীর সাথে গ্রেপ্তার করা হল তার সাথীদেরও। পুলিশের ডেপুটি প্রাইস ছিলেন কে-কে-কের সদস্য।

চেনী, সোয়েরনার এবং গুডম্যানকে নেয়া হল থানার জেলে। ওদেরকে কোথাও ফোন করার অনুমতি দেয়া হল না। তাও ওদের গ্রেপ্তারের খবর পৌঁছে গেল ওদের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় সংগঠনে। সংগঠন থেকে ফোন করা হলো থানায়। থানার লোকজন মিথ্যা বলল সংগঠনের লোকদের, যে ওরা তিনজন থানায় নেই। এদিকে প্রাইস তার কে-কে-কের সহযোগীদের খবর দিল এই তিনজনকে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করবার জন্যে। তিনজনকে থানায় রাখা হল অনেক রাত পর্যন্ত। ওদেরকে রাতের খাবার খেতে দেয়া হল – রুটি, মটরশুটি, আলু এবং সালাদ। চেনীকে জোরে গাড়ী চালানোর জন্যে ২০ ডলার জরিমানা করা হল, এবং তারপর ওদেরকে জেল থেকে মু্ক্তি দেয়া হল।

ওদের গাড়ী থানা থেকে বেরিয়ে গেলে, আবারো ডেপুটি প্রাইসের গাড়ী ওদের পিছু নিল। কিছুদুর যাবার পর আবারও পুলিশের সাইরেন, আবার ওদের থামান হল। এবার প্রাইস ওদের গাড়ী আটকে রাখলেন রাস্তার মাঝে, অনেকক্ষণের জন্যে, যতক্ষণ না তার কে-কে-কের সশষ্ত্রবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কে-কে-কের সশষ্ত্রবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হল, প্রাইস ও তার সহযোগিরা এই তিনজনকে আরও দূর্গম স্থানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

এই তিনজনের অপরাধ ছিল ওদের গায়ের রঙ কালো এবং এরা বিশ্বাস করত যে আমেরিকাতে কালো আর সাদা সবারই রয়েছে সমান অধিকার। নেশোরা কাউন্টির যে জায়গাতে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই শহরটির নাম ফিলাডেলফিয়া।

২০০৯ সালের ১৯-শে মে। মিসিসিপির ফিলাডেলফিয়া শহরের মেয়র নির্বাচন। আজকের ফিলাডেলফিয়ার লোকসংখ্যা আনুমানিক ৮০০০। শহরের লোকসংখ্যার প্রায় ৫৫% সাদা আর ৪৫% কালো। মেয়র নির্বাচনে দুইজন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের একজন রের্বান ওয়াড্ডেল, বর্তমান মেয়র, কাজ করছেন মেয়র হিসাবে তৃতীয় মেয়াদে, একজন সাদা আমেরিকান। অন্যজন জেমস ইয়াং, একজন কালো আমেরিকান। শহরবাসী দিনব্যাপী ভোট দিয়েছেন। রাতে ভোট গননা শেষ হয়েছে। কালো চামড়ার জেমস ইয়াং তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাত্র ৪৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলাডেলফিয়ার নতুন মেয়র। জেমস তার ফোর্ড পিকআপ ট্রাকে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শহরব্যাপী, আর তার নগরবাসী সাদা, কালো সবাই চিৎকার আর করতালি দিয়ে তাকে জানাচ্ছেন অভিনন্দন।

জেমস এখন ৫৩ বছর বয়সী। ৪৫ বছর আগে, ১৯৬৪ সালে জেমস-এর বয়স ছিল ৮। জেমস এর কিশোর বয়সে ফিলাডেলফিয়া শহরের অনেক জায়গাতে তার বা তার পরিবারের কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। আর আজ জেমস ফিলাডেলফিয়া শহরের সবচাইতে ক্ষমতাবান ব্যক্তি।

আমেরিকা বদলাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে সবই বদলায়। সেটাই নিয়ম। কিন্তু আমেরিকার এই বদলানো, যুগান্তকারী। পৃথিবীকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকা অনেক সময়েই নেতৃত্ব দিয়েছে, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, রাজনীতিতে, এবং অন্যত্র। কিন্তু এই যে আজ মানুষের সাথে মানুষের ব্যবধান ঘুচানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার মানুষ নিয়েছে অগ্রণী ভূমিকা, একজন আমেরিকান হিশাবে আমি গর্বিত। বাংলার যুগান্তকারী নজরুলের একটা লাইন মনে পড়ে, “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান”।

আলবুকআরকি, নিউ মেক্সিকো

২২ মে, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.