Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রেক্ষাপট : সৌদি আরব Download PDF version
 

সাম্প্রতিক


প্রেক্ষাপট : সৌদি আরব

         

টি.এ.এম. ফখরুল বাসার

 

 

আনুমানিক ২০ লাখ বাংলাদেশী সৌদি আরবে- সংখ্যাটি দিনে দিনে বাড়ছেপরিসংখ্যান বলে এই ২০ লাখ মানুষের প্রেরিত রেমিটেন্স-এর পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারতার মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২০০৭ এ মাত্র ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং সামগ্রিক উন্নয়নে এই মানুষগুলোর ভূমিকা সর্বোচ্চআমাদের উদাহরণ সব সময়েই টানা হয় যে কোন টিভি টক শোতে, উপস্থিত বুদ্ধজীবীদের একটা উৎকৃষ্ট বিষয় এটিঅথচ এই মানুষগুলো কেমন আছে, কেমন থাকে, দেশে আসলে তাদের প্রতি সবার আচরণটাই বা কেমন!

এরা শুধুমাত্রই বাংলাদেশীবাংলাদেশী পাসপোর্টই তারা বহন করেন, আর কোন নাগরিকত্ব তাদের নেই অথচ আমরাই সবচাইতে অবহেলিত নিজ দেশে- যেন আমরা বাড়তি মানুষ - হে স্বদেশ তোমার কাছেও

বর্তমান বিশ্ব মন্দায় ও সৌদি আরবে এর উন্নয়ন প্রকল্প থেমে নেইপ্রতিনিয়তই নতুন নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করছেন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন সৌদএসব প্রকল্পে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ দক্ষ ও অদক্ষ জনশক্তিপত্রিকান্তরে জানা যায় নূন্যতম ১০ লক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নেএখানে বাংলাদেশ কোথায়?  একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সিইও-র মন্তব্যই যথেষ্ট: আমরা জানি হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমান না, কিন্ত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলতে হয়,  এদের চার আঙ্গুলের চরিত্রই এক, অর্থাৎ অপরাধী, বাকি আঙ্গুলটি  চার এর কাছাকাছি  এই উক্তি থেকেই সহজেই অনূমেয় আমাদের অবস্থান

গেল ২ বছরের অধিক সময় এ দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা অযাচিত কিছু সমস্যায় পড়েছে  পড়ার কারণ যেমন নিজেরাই, আবার সোই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপপ্রচার বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধেবিভিন্ন ধরনের মারাত্মক অপরাধে বাঙালিরা নিজেদের জড়িয়েছেস্বল্প সংখ্যক হাতে গোনা অপরাধীদের হাতে জিম্মি হয়েছে ২০ লাখ বাঙালি ও তাদের ভাগ্য

বিগত রাষ্ট্রদূত তবুও এসব বিষয় নিয়ে কম্যুনিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, কিন্ত বর্তমান রাষ্ট্রদূত যেন কোন এক ভিন গ্রহের মানুষতার দেখা পাওয়া দুষ্কররাজনৈতিক কাউন্সিলর কোন তথ্যই কাউকেই জানাতে চান নাবলা যেতে পারে দূতাবাস সম্পূর্নই জন বিচ্ছিন্ন

এক জরীপে দেখা গেছে যে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বেশীর ভাগেরই দেশের বাড়ি দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেআর তাই টাকা পাঠাতে তারা বেশ জটিলতায় পড়েনতাদের প্রিয়জনরা কখনই ঠিক সময়ে টাকা পান না, এখান থেকে এক্সপ্রেস মানি ট্রান্সফার করলেও তা ৭/১০ দিন বা কখনো কখনো ১ মাস পরে টাকা হাতে পানআর যে কারণে এদের অনেককেই হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ঝুকি নেনদেখা গেছে যে, প্রাপকের ব্যাংক ( এ ক্ষেত্রে সোনালী ও অগ্রনী ব্যাংক) তাদের পরিবারকে ইচ্ছাকৃতভাবেই হয়রানি করে থাকেআবার ২০০ থেকে ৫০০ টাকা উৎকোচ দিয়ে তারা দ্রতই টাকা পেয়ে থাকেনযে সব প্রবাসী কর্মীরা টাকা পাঠান- তারা মাসে বাংলাদেশী টাকায় ৬ থেকে ১০ হাজার এর বেশী পাঠাতে পারেন নাআর প্রতিবার যদি তাদের ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়  তারা কেন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন! কখনো কখনো জরুরী অবস্থার দোহাই দিয়ে এই ঘুষের অংক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে

সৌদি আরবে রয়েছে সোনালী ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি কার্যালয় আর ইসলামী ব্যাংকের দুটি  তবে  এদের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায় নাএরা শুধু হিসাব খোলা (বাংলাদেশে) এবং অভিযোগপত্র গ্রহণ করে থাকেন

এক্ষেত্রে আমাদের সুনর্দিষ্ট পরামর্শ হলো- গ্রাহক সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে, যাতে এখান থেকে টাকা পাঠানোর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রাপক তার টাকা উৎকোচ ব্যতিরেকে পেতে পারেন

বাংলাদেশী পন্য রফতানী করে বা রপ্তানীমুখী রেডিমেড গার্মেন্টস কোম্পানীগুলি বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী হিসাবে বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনূযায়ী অর্জিত বৈদেশিক মূদ্রার উপরে উৎসাহ ব্যঞ্জক ভাতা হিসাবে ১৫% থেকে ২০%   অতিরিক্ত বৈদেশিক মূদ্রা পেয়ে থাকেন, পক্ষান্তরে প্রবাসীরা সরাসরি বৈদেশিক মূদ্রা প্রেরণ করেও কোন ধরনের উৎসাহ দূরে থাক, সরকার থেকে কোন সূযোগ সুবিধাই পান না

এই প্রেক্ষিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে এবং হুন্ডির দাপট কমাতে হলে আমরা প্রবাসীরা মনে করি প্রবাসীদের এ  রেমিট্যান্সের উপরে আর্থিক প্রনোদনা দেয়া প্রয়োজন  এ ক্ষেত্রে এই ইনসেন্টিভ-এর টাকা সরকার তার কোষাগারে রেখে দিতে পারেবিষেশত মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী রা সকলেই চুক্তি ভিত্তিক কর্মী এবং এক সময় তাদেরকে দেশে ফিরতেই হবে, তখন সরকার ঐ টাকা দিয়েই এসব প্রত্যাগত প্রবাসীদের জন্য পেনসন স্কিম চালু করতে পারেনকিংবা ঐ টাকা থেকেই এ সব প্রত্যাগতরা ঋন নিয়ে নিজস্ব ব্যবসাও করতে পারেনআশা করি সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন

২০ লাখ বাংলাদেশীর জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস এর কার্যক্রম অত্যন্ত শ্লথ এবং অপেশাদার। যেমন তাদের লোকবল নিতান্তই অপ্রতুলএখানকার বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারিরা কিছু উপরি আয়ের উৎস খুঁজতে থাকেন সৌদি আরবে পদার্পনের দিন থেকে, তাদের আচরণে মনে হয় তারা বুকে পিঠে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আসেন আমি বিক্রি হতে চাই, আর এই সুযোগটার সদ্ব্যবহার করেন অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মধ্যসত্ত্বভোগীরা  আর অতি সহজে এরা সন্ত্রাসী ও অসাধু জনশক্তি রপ্তানীকারকদের হাতের ক্রীড়নকে পরিণত হয়ে পড়েনপ্রবাসী কর্মীদের অসুবিধার সমাধান তো তারা করেনই না বরং এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেও তারা ঐ সব গডফাদারদের শরনাপন্ন হন। যে ব্যক্তি সাধারণ শ্রমিকদের দূর্দশার কথা দূতাবাসকে অবহিত করতে আসেন- তার উপরে চলে হুমকি এবং মানসিক নিপীড়নবলা যেতে পারে রিয়াদ দূতাবাস এইসব সস্ত্রাসী অসাধু গডফাদারদের দখলেযে কারনে ১৮০ রিয়েল বেতনের ভিসাও এই দূতাবাস সত্যায়ন করেন

যে কোন রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকার বলে থাকেন যে প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন- রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তারা পরিস্কার বলে দেন তারা কিছু জানেন নাযেমন জন্ম নিবন্ধিকরণ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন যে আমরা জানিনা‌- প্রয়োজন হলে মিডিয়াতে আমাদের নামে অভিযোগ করতে পারেনশুধু জন্ম নিবন্ধনই নয়- কর বিষয়ক জটিলতায়ও এখানকার প্রবাসীরা হাবুডুবু খাচ্ছেন

সৌদি আরব থেকে যারা ছুটিতে দেশ যান- তাদেও পড়তে হয় মহা বিড়ম্বনায়। বিশেষ করে দুই ঈদেও ছুটিতে অনেকেই দেশে যানবাংলাদেশ বিমানে কখনই সিট খালি পাওয়া যায় নাতবে আপনি বিমানের টিকেট পাবেন বিশেষ কিছু মুদি দোকানে- আপনাকে আসল ভাড়ার চাইতে ২০০ থেকে ৩০০ রিয়েল বেশি দিতে হবেতেমনিভাবে আসার সময় প্রতি সিটের মূল্য নির্ধারণ করা আছে- সিট প্রতি ২০০০ টাকাইমিগ্রেশনে চলে নানাবিধ হয়রানিবিশেষ করে ঢাকা থেকে বেরুবার সময়উদ্ভট সব প্রশ্নের সম্মূখীন হতে হয় প্রতিটি সৌদি আরবগামী যাত্রীদের- যেন প্রত্যেকেই চৌর্যবৃত্তির সঙ্গে জড়িতইমিগ্রিশেন ছাড়াও দেশে ব্যাংক, যে কোন সরকারি দপ্তর সর্বত্রই সৌদি প্রবাসীদেরকে অত্যন্ত অবহেলা এবং তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতেই দেখা হয়বাংলাদেশের মানুষ প্রবাসী বলতে বোঝেন যারা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এসব দেশে যারা থাকেন, তারাই প্রবাসী   সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের তারা মিসকিন হিসাবেই দেখে থাকেন। ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ভোটার লিস্টে আমাদের অন্তভূক্তি তো দূরে থাক আমাদের নামটি পর্যন্ত নিতে নির্বাচন কমিশন কুণ্ঠাবোধ করেন  মনে প্রশ্ন জাগে বারবার আমরা কি সত্যি স্বদেশেও বাড়তি মানুষ?

মাঝে মাঝেই সারা বিশ্বের মানুষ খবরের কাগজে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখেন যে সৌদি আরব থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী বহিস্কৃতসেখানে বাংলাদেশীদেরও নাম থাকেসৌদি আরবে আসতে হলে বৈধ ভাবেই আসতে হয়বৈধ ভিসা এবং আনূসাঙ্গিক কাগজপত্র না থাকলে এ দেশে ঢোকা যায় না, তথাপি কেন অবৈধ? একটি হচ্ছে অনেকেই ওমরাহ ভিসাতে ওমরাহ করতে আসেন এবং এসে থেকে যান- এরা অবৈধ  আবার, যে-পেশাতে এবং যে মাসিক বেতনে চুক্তিপত্র সই করে একজন এদেশে বৈধভাবে আসেন, আসার পরে  দেখা যায় সেই বেতন এবং সেই পেশা তিনি পান না, এবং অন্য উপায়ন্তর না দেখে স্পন্সর-এর কাছ থেকে পালিয়ে যান এবং অবৈধ হয়ে পড়েনআরেক দল আছেন, যারা আগে থেকেই তাদের আত্মীয় বা বন্ধুদের কথায় সৌদি আরবে এসে আকামা হাতে পাবার পরেই ভেগে যায়, মূলত এই সব অবৈধ লোকেরাই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েসবচাইতে মারাত্মক হোল তথাকথিত স্থানীয় জনশক্তি সরবরাহকারীরাবৈধ শ্রমিকদেরকে বেশী বেতন এর লোভ দেখিয়ে স্পন্সর এর কাছ থেকে ভাগিয়ে এনে এরা এই  সব নিরীহ শ্রমিকদেওকে অবৈধ করে ফেলে এবং এই অবৈধতার সুযোগ নিয়ে সাধারন শ্রমিকদেরকে ব্লাক মেইল করেঅবৈধ হওয়াটার দায়ভার সম্পূর্নই জনশক্তি রপ্তানীকারকদের এবং দূতাবাসেরযে কথা আগেই উল্লেখিত হয়েছে যে ঐ সব অসাধু জনশক্তি মধ্যসত্ত্বভোগী দ্বারা দূতাবাস দখলীকৃত

উল্লেখ্য যে জন শক্তি আমদানীতে সৌদি সরকারের নীতিমালা এ রকম: যে কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের বিদেশী জনশক্তির প্রয়োজন, তারা প্রতি ভিসা বাবদ সৌদি রিয়াল দুই হাজার ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করবেনভিসার অনুমোদন পেলে সংশ্লিস্ট দেশের দূতারাস থেকে সত্যায়ন করে, সেই দেশে হয় তারা এজেন্ট নিয়োগ করেন বা নিজেরাই গিয়ে রিক্রুট করে নিয়ে আসেনবিমান ভাড়া সহ যাবতীয় আনুষাঙ্গিক খরচ তারাই বহন করবেনসৌদি আরবে আসার পরে কর্মচারীদের ইকামা বা রেসিডেন্স পারমিট এবং ইনসুরেন্সও তারাই বহন করবেনএই নীতিমালা অন্যান্য দেশের বেলায় প্রযোজ্য হলেও বাংলাদেশের বেলায় এই চিত্র সম্পূর্নই বিপরীত  বাংলাদেশী মধ্যসত্ত্বভোগীদের কল্যাণে জনশক্তি আমদানী কারক প্রতিষ্ঠানগুলোর এক পয়সা খরচ তো দূরে থাক, তারা বা তাদের অসাধু (বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত) কর্মকর্তারা লাভবান হন  বর্তমানে বাংলাদেশী একটি ফ্রি ভিসার মূল্য ২০ থেকে ২২ হাজার রিয়াল, আর এর প্রতিটি পয়সা গুনতে হয় হতভাগ্য শ্রমিকদের

বিভিন্ন ব্যাংক বা অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন চ্যানেলে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন যে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এ দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্ত কেউ কি বলতে পারবেন কি পরিমাণ বৈদেশীক মুদ্রা আবার দেশান্তরী হয় এই ভিসা কেনার জন্য? কেউ সে হিসাব কষেন না  অনুরোধ জানাই প্রথিতযশা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে- এর একটি গবেষনা প্রকাশ করতে, তাহলেই এর ভয়াল চিত্র বেরিয়ে আসবে

সবচাইতে অদ্ভুত ব্যাপার হলো যেখানে সৌদি সরকার অতিথি শ্রমিকদের কাছ থেকে তাদের আসা বাবদ বা অন্যান্য সরকারী ফিস আদায় করার প্রমাণ পেলে ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, সেখানে বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরব বা বিদেশে চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নেয়াকে বৈধতা দিয়েছেনএ ব্যাপারে বিশেষ করে সৌদি আরবে বসবাসরত মধ্যসত্ত্বভোগীরাই যেমন অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন, তেমনি তারাই সব চাইতে লাভবান

 বর্তমান দিন বদলের অঙ্গীকারাবদ্ধ সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ:

ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে টাকার খেলা বন্ধ করে সৌদি সরকার এর নীতিমাল অনুসরণ করুন, কোন শ্রমিক যাতে কম পক্ষে ৮০০ রিয়ালের নিচে না যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন, তাহলে অন্তত বলা যাবে যে বাংলাদেশীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ কমে আসবে এবং বাংলাদেশ তার পুরানো সুনাম ফিরে পাবেমনে রাখা দরকার  যে দেশে যে নীতি, সে দেশে থাকতে হলে সে দেশের সামাজিক ও আইনি নীতি মালাই মেনে চলতে হয়বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে এ কথার সম্পূর্নই বিপরীত চিত্র আমরা দেখিসব রকমের নিষিদ্ধ কাজেই বাঙালিরা জড়িতভিসা কেনা বেচা, অবৈধভাবে লোকাল ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই, দেহ ব্যাবসা, চুরি, আঞ্চলিক সমিতি গুলোর মধ্যে প্রকাশ্য সড়কে তলোয়ার, রাম দা, বিভিন্ন প্রকার ধারালো অস্ত্র নিয়ে মারামারি, কোনটাই বাদ নেই প্রবাসী বাংলাদেশীদেরসুতরাং প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ থেকে ১ কিংবা ২ বছর সৌদি আরবে বা মথ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানী বন্ধ রাখুন, ভিসা কেনা বেচা বন্ধ করুন, মধ্যসত্ত্বভোগী উচ্ছেদ করুন, তাহলে হয়ত বাংলাদেশ তার হৃত ভাবমূর্তি ফিরে পেতে পারে

১৯৯১ এবং পূর্বে সারা সৌদি আরবে বাংলাদেশীদেও ছিল শুধুই সুনামঅত্যন্ত নিষ্ঠাবান,সৎ, কর্মঠ এবং নিরীহ হিসেবেই ছিল বাংলাদেশীদের পরিচয়এর পূর্বে এদেশে বাংলাদেশী দলীয় রাজনীতি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি, পরবর্তীতে বিস্তার লাভ করতে থাকে দলীয় রাজনীতি এবং এক একটি দল-এর ৩ থেকে ৪ টা করে অংশ আত্মপ্রকাশ করতে থাকে- মূলত নেতৃত্বের কোন্দল এর কারণেএবং জন্মলাভ ও বিস্তার লাভ করতে থাকে সন্ত্রাস এখন এই ২০০৯  এ বিগত কয়েক বছর যাবতই সৌদি আরবের অপরাধ তালিকায় বাংলাদেশীরাই শীর্ষে অবস্থান করছেগণ ধর্ষণের অভিযোগে কিছু বাংলাদেশীর সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা কেটে মৃত্যদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও হয়েছেতারপরেও এই সন্ত্রাস থেমে নেইএসবের পেছনেও কাজ করছে এইসব আসাধু জনশক্তি মধ্যসত্ত্বভোগী চক্রএবং তাদেরই ছত্রছায়ায় লালিত হচ্ছে দলীয় রাজনীতি এবং সন্ত্রাস

বিগত তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময় দলীয় সন্ত্রাসীদেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে সৌদি আরবে পাচার করা হয়েছেযে সব দুর্বত্ত রাজনীতিকের কারনে দেশে এক এগারোর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে- তারা যে শুধু বাংলাদেশেই দুর্বৃত্তায়ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং দুর্নীতি করেছেন তাই নয়সারা বিশ্বে ছড়িয়েছেন তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিকে হেয় প্রতিপন্ন এবং ক্ষুন্ন করেছেনএইসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের সম্মুখীন করা প্রয়োজন

গেল দুই বছর থেকে সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রতি পদে পদে নানাবিধ অযাচিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বাংলাদেশের ভাবমুর্তি মোটামুটি ভূলুন্ঠিতএকটা বিষয় স্পস্টই প্রতীয়মান য়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও  গণহত্যার বিষয়টি এ সব দেশের জনগণ বা সরকার এর কাছে পরিষ্কার নয়  ১৯৭৫ এ জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পরেই সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়পরবর্তী কোন সরকারই এই সব দেশকে বোঝানোর বা বলার চেষ্টাও করেনি যে দীর্ঘ নয় মাসে বাংলাদেশে প্রতিদিন গণহত্যা চলেছে, নির্বিচার নারী ধর্ষন চলেছে, কত হাজার যুদ্ধ শিশু এই নয় মাসের ফসলআর এগুলো সংগঠিত করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর বাহিনীতখনকার পাকিস্তান এসব দেশকে বুঝিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে কাফেরদের সাথে অভ্যন্তরীন গন্ডগোল চলছে, আজ অবধি এদের এই ভ্রান্ত ধারনা কেউই বদলাবার চেষ্টা করেনিএই বিষয়গুলি এদের গোচরে যেমন আনা প্রয়োজন, তেমনি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ডেষ্ক মধ্যপ্রাচ্যমূখী করা আবশ্যক

দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এখনি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন দুই দেশের সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের

একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই:  সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং পত্রিকার প্রতিনিধি রয়েছেনতাদেও কেউই সৌদি তথ্য মন্ত্রনালয় দ্বারা স্বীকৃত নয়, যে কারণে তারা অনেক খবর যেমন সংগ্রহ করতে পারেন না, তেমন অনেক খবর পাঠাতেও পারেন নাবাংলাদেশ দূতাবাস ও তাদেরকে  সহযোগিতা করেন নাসরকারের কাছে অনুরোধ, এদেরকে সৌদি আরব সরকার কতৃক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করবেন

রিয়াদ, সৌদি আরব

masumbasher@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.