Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রসঙ্গ : বিডিআরের নাম-পোশাক বদল এবং দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার অনুসন্ধান Download PDF version
 

সাম্প্রতিক 

প্রসঙ্গ : বিডিআরের নাম-পোশাক বদল এবং দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার অনুসন্ধান

সৈকত হাবিব

অবশেষে সম্ভবতঃ সেই বহুকাঙিক্ষত ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে বিডিআরের নাম পোশাক।

গত ফেব্রুয়ারিতে পিলখানার বিডিআর সদর দপ্তরে যে মর্মান্তিক এবং পরম শোকাবহ ঘটনাটি ঘটে গেল, তারপর শ্রেণী-পেশা-অবস্থান নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের অনেকেই মনে করেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে নিয়োজিত একটি বাহিনীর আর পুরোনো নামে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। কেননা, বিডিআরের ঘটনায় যে পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস আর সংকট তৈরি হয়েছে এবং এটি জাতীয়ভাবে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, এর স্মৃতি খুব দ্রুত মুছে ফেলাই মঙ্গল। এত মৃত্যু আর রক্তের চিহ্ন বহন করা ওই বাহিনীর জন্যও হতো খুব ভারী।

কিন্তু কী হবে এর নাম, কী হবে ইউনিফর্ম আর মূলসুরই বা কী, এ তো রাতারাতিই নির্ধারণ করা যায় না। অনেক ভাবনা, বিবেচনা, ভূতভবিষ্যৎ দেখার ব্যাপার তো আছে। সেজন্য এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি বিভিন্ন সময়ে সভা-বৈঠক করেছে, অনেক প্রস্তাব ও সুপারিশ হাজির করেছে। তবে গত ১৯ মে বিডিআর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ ব্যাপারে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে। বিডিআর পুনর্গঠনের জন্য গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিডিআর ঘটনাসংক্রান্ত তদন্ত কমিটিগুলোর সমন্বয়কারী বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বৈঠকে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে বিডিআরের জন্য নতুন ১০টি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই ধরনের পোশাকের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এতে অফিসার ও সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিডিআর জওয়ানদের জন্য ভিন্ন পোশাকের প্রস্তাব রয়েছে। এদের মধ্যে একটি নাম বেছে নেওয়া হবে। ১০টি মূলমন্ত্রের (মটো) প্রস্তাব করা হয়েছে। লোগোর বিষয়ে সাত-আটটি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব সরকারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্গঠন সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে। ফারুক খান আরো জানিয়েছেন, পুনর্গঠন নিয়ে ১৮টি প্রশ্নসংবলিত একটি পত্র ছয় হাজার ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা পুনর্গঠন নিয়ে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের হাতে রয়েছে। এগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এত সব নাম এবং মূলমন্ত্রের ভেতরে প্রথম আলোর মতে, নতুন বাহিনীর নাম বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ এবং মূলমন্ত্র সীমান্তে নির্ভীক প্রহরা হতে পারে বলে উল্লিখিত হয়েছে তাদের ২০মে সংখ্যায়। তবে এখনো  চূড়ান্ত হতে কিছু সময় লাগতে পারে এবং নাম-মূলমন্ত্র বদলেও যেতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর গণমাধ্যমের কথাবার্তা থেকে মনে হচ্ছে। 

কিন্তু আপাত অর্থে যে কারণে পিলখানায় এ মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি এবং যে অপ্রাপ্তি-বঞ্চনাকে ঘিরে বা একে পুঁজি করে এ নৃশংস ঘটনা, তার  প্রতিকারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে নতুন বাহিনীর ক্ষেত্রে? এক্ষেত্রেও কিছু প্রস্তাব ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, বৈঠকের শুরুতে বিডিআরের পুনর্গঠন নিয়ে সাচিবিক সহায়তা দল একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। এতে বিডিআরের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়। এর আগে এ দলটি স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বাহিনী যেমন বিডিআর, পুলিশ,  রেব ও আনসারের পোশাক, পদবির নাম ও মর্যাদা, র্যাং ক-ব্যাজ, বেতন-রেশনসহ অন্যান্য সুবিধার ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়নের ব্যাপারে খসড়া প্রস্তুত করে। কিন্তু নীতিগুলি কী কিংবা সুবিধার ধরন সম্পর্কে  কিছু এখানে উল্লেখ ছিল না। চূড়ান্ত করার পর সম্ভবত এটি প্রকাশ করা হবে।

আমরা মনে করি, যদি সত্যিকার অর্থে সব বাহিনীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবির ব্যাপারে সামঞ্জস্য তৈরি হয়, সেটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নেতিবাচক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা থাকবে না। কারণ, ইতিপূর্বে আনসার বিদ্রোহের ঘটনাটিও ছিল অপ্রাপ্তি-বঞ্চনারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ, যাকে কঠোর হাতে দমন করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এদিকে পত্র-পত্রিকায় তদন্তরিপোর্ট নিয়ে নানারকম খবর প্রকাশ হওয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সংকট। পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংক্রান্ত সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সেনাসদর বলেছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর এবং মনগড়া তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। ১৯ মে আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সেনা অফিসারদের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রতিবেদন গত ১০ মে সেনাবাহিনী প্রধানের  নিকট হস্তান্তর করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা হলেও ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ের ওপর বিভ্রান্তিকর এবং মনগড়া তথ্য পরিবেশন করে চলেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিলখানার ঘটনার মতো একটি জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে অনুমাননির্ভর সংবাদ পরিবেশন উদ্যেগ ও সংশয়ের সৃষ্টি করছে। সেনা সদর আন্তরিকভাবে আশা প্রকাশ করে, সংশ্লিষ্ট সবাই এ ধরনের সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। (সমকাল, ২০ মে সংখ্যা)।

তবে সমস্যা হলো, বাণিজ্যমন্ত্রী তদন্ত শুরু হওয়ার প্রায় শুরুতেই এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি তৎপরতার সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট। আবার এও ঠিক যে, যে ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানির তদন্ত ও অনুসন্ধান অনেক শঙ্কা ও হুমকি তৈরি করেছে। সেখানে যে ধরনের অস্ত্র আমদানি করা হয়েছিল, সে ধরনের কিছু কিছু বিডিআর ঘটনায়ও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কাজেই সম্পর্কটা একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। কিন্তু যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এসবের প্রকৃত ঘটনা যথাসম্ভব দ্রুত জনগণকে জানানো জরুরি। এদিকে সরকারি তদন্ত কমিটি আজই ১০৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন  স্বরাস্ট্র মন্ত্রাণলয়ে জমা দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তদন্ত রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে যতটা জানা গেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তিন মাস পর এই তদন্ত রিপোর্ট কতটা সত্যের উদঘাটন করতে পেরেছে তা জনমনে কিছুটা সন্দেহই রয়ে গেল।

এদিকে ১০ ট্রাক মামলার তদন্তে গত কদিনে যেসব খবর বেরিয়ে আসছে, তাতে তো পুরো জাতিরই ভিমরি খাওয়ার জোগাড়। তদন্ত ও অনুসন্ধান যত এগোচ্ছে ততই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয়তায় সব তথ্য। তদন্তের শেষ ভাগে বেরিয়ে আসছে এমন সব নেপথ্য নায়কদের নাম, তাতে কেবল আতঙ্কিত হওয়াই নয়, বরং শঙ্কা জাগে যে রাজনীতি, ক্ষমতা, প্রশাসন ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমবায়ে দেশের ভেতর এমন এক দেশ, সরকারের ভেতরে এমন এক সরকার, প্রশাসনের ভেতরে এমন এক প্রশাসন গড়ে উঠেছে, যারা এই দেশটিকে রসাতলে নিয়ে যেতে চায়। সর্বশেষ এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক দুই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম তিন দিনের রিমান্ডে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার এমন সব তথ্য দিয়েছেন, যা ভয়াবহ। সিআইডি এখন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, রাষ্ট্রের কোন ব্যক্তির নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্র চোরাচালান রোধ করার পরিবর্তে সহযোগিতা করেছিল।

সিআইডি সূত্র মতে, মামলার তদন্ত যে পরিণতির দিকে যাচ্ছে তাতে শেষ পর্যায়ে আটকে যেতে পারেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক  স্বরাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন সাবেক জোট সরকারের অনেক মন্ত্রী। সেজন্যই কি জোট সরকার আমলে চাঞ্চল্যকর এ মামলার দায়সারা তদন্ত করা হয়েছিল?

কিন্তু এ লেখা পর্যন্ত (২১ মে) এনএসআই-এর সাবেক দুই মহাপরিচালককে আবারও ছয় দিনের রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে। যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং আসবে তাতে মনে হয়, এই ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানির ঘটনা বাংলাদেশে জঙ্গী উত্থান, সন্ত্রাস-মৌলবাদ-চোরাচালানের বিস্তার, সাম্প্রতিক পিলখানার ঘটনা এবং জঙ্গীদের নানামুখী তৎপরতা-প্রতিটিই পরস্পর সম্পৃক্ত। এগুলোর মধ্য দিয়ে যে কেবল দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা চলছে, তা-ই নয়, সম্ভবত একটি জঙ্গী-ধ্বংসাত্মক আফগানিস্তানের দিকে দেশকে ধাবিত করার মরিয়া চেষ্টা চলছে, যার সঙ্গে দেশী-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ শক্তি জড়িত রয়েছে। আজকের প্রথম আলোর (২১ মে) প্রধান খবরটিও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এই খবরে বলা হয়েছে, তালেবান-আল কায়েদার সহযোগী এআরওয়াই কোম্পানিই ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের অর্থদাতা, যারা আসলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এমন বহু সংগঠন ও তাদের দেশীয় এজেন্ট যে এক্ষেত্রে ভয়ংকরভাবে সক্রিয়, এ তো প্রায় রোজকার খবর।

সৌভাগ্যবশত ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ার কারণেই আমরা এত তথ্য জানতে পারছি। এমন বহু অস্ত্র যে আমাদের নজর এড়িয়ে নিয়মিতই আসছে না, আমরা তো জানি না। আর যে ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের মতো ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, সেখানে সাধারণের কী-ই বা ভরসা। এ যে দেশের কত ভয়ংকর ভবিষ্যৎ আর তা মোকাবিলায় আমাদের কত অসহায়, তাই প্রমাণিত হয়।

আমরা কোন বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি- জানি না।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.