Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশের বিরাট চ্যালেঞ্জ Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

 

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনই বাংলাদেশের বিরাট চ্যালেঞ্জ

প্রফেসর মাহফুজ আর চৌধুরী

জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশটি যে কী ধরণের ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, তা নিয়ে যতটা ভাবনাচিন্তা হওয়া উচিত, তা যে হচ্ছে না সেটা সহজেই আঁচ করা যায়। আবার এও হতে পারে যে, পুরো ব্যাপারটা নিয়ে কেউ যেন তেমন মাথাও ঘামাচ্ছেনা। কিন্তু সমস্যাটিকে গ্রাহ্যতার মধ্যে না আনলে অথবা এড়িয়ে গেলে তা কোন না কোনভাবে চলে যাবে সে ধারণা করা নিতান্ত ভুল হবে। বরং এর অব্যবহিত কারণে দারিদ্রপীড়িত এই দেশটির অবস্থার যে দ্রুত অবনতি ঘটবে, এমন কি তা পরে সমগ্র বিশ্বকেও প্রভাবিত  করবে সে কথা উপলদ্বি না করার কোন উপায় নেই।

জনসংখ্যা অনুসারে বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশ। বলতে গেলে ১৩৪,০০০ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশের ভূমিতে ১৫ কোটি লোক একজনের পাশে আর একজন প্রায় ঠাসাঠেসি করেই বাস করছে, যেখানে জনবসতির ঘনতা প্রতি কিলোমিটারে ১,১০০ জনেরও বেশি। এটা এতখানি জনাকীর্ণ দেশ যে, সিঙ্গাপুরের মত নগর রাষ্ট্রগুলিকে বাদ দিলে পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের তুলনায় জনবসতির ঘনতায় বাংলাদেশ থাকবে সবার উপরে। তবে বাংলাদেশের জন্য যা আরো বেশি সাংঘাতিক ব্যাপার তা হল, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা-জনিত সমুদ্রপৃষ্ট স্ফীতির কারণে একদিকে দেশটি তার ভূমি-অঞ্চলের বেশ কিছু অংশ হারাতে বসেছে, আর অন্যদিকে তার জনসংখ্যা বাড়ছে খুব অসহনীয় হারে।

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি, যা গত ৩৭ বছরে বেড়ে দ্বিগুণের চাইতেও বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক জরিপের বিভিন্ন নির্ধারণীতে প্রতিবছর শতকরা ১.৫ থেকে ২.০ ভাগের মধ্যে দেখানো হয়। আলোচনার খাতিরে যদি এদের মাঝামাঝি স্থানে প্রতিবছর শতকরা ১.৭৫ বৃদ্ধির হার ধরা হয়, তাহলেও দেখা যাবে যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা আবার দ্বিগুন হবে আগামী ৪০ বছরে। আর এদের মধ্যে নিম্নতম বৃদ্ধির হার হিসাবে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে ৪৭ বছরে। এই ভাবে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলে দেশটি কী রকম এক কঠোর সমস্যার সম্মুখীন হবে? এর পরিস্কার একটি ধারণা মিলবে যদি আমরা  কল্পনা করতে পারি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৩০ কোটি লোকজনকে তার উইস্কনসিন রাজ্যের সীমার মধ্যে বসবাস করতে দিলে কী রকম অবস্থা হতে পারে তার সম্ভাব্য দৃশ্যের কথা চিন্তা করলে। উইস্কনসিন রাজ্যের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় কাছাকাছি। দেশের এই অব্যশ্বম্ভাবী ভয়ংকর চিত্রটি সহজে ফুটে উঠলেও কেউ কেউ, বিশেষ করে আদর্শবাদীরা,  প্রসংগ তুলে যে বাংলাদেশ শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্র ছাড়াও গত কয়েক দশকে শতকরা ৫.০ হারে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছে তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য এবং সেটা বিবেচনায় আনাও দরকার। এই সব উন্নতির দিকগুলো সত্য হলেও কিন্তু সার্বিকভাবে দেশের দারিদ্রের পরিমাণ কমেনি, বরং বেড়েছে, তা বিভিন্ন সমীক্ষাতে ইতিমধ্যে প্রমাণিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে এ ধরণের অসামঞ্জস্যতার অর্ন্তনীহিত কারণ কী? এর সহজ উত্তর হল, দেমে অবাধ দুর্নীতির মাধ্যমে যে অল্প সংখ্যক লোক সম্পদের বড় বড় পাহাড় গড়ে তুলেছে তা সর্বাঙ্গীন অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপূরণীয় ক্ষতি করা ছাড়াও যে জিনিষটা এখানে খুব বেশি প্রভাবিত করেছে তা হল দেশের সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি, যাদের অধিকাংশই রয়ে গেছে বেকার।

বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশ কমেছে। কিন্তু তাদের তুলনায় অশিক্ষিত এবং সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুন বা আরো বেশি, এবং এরাই হচ্ছে দেশের সংখ্যাগুরু। এই হতদরিদ্রদের কোন দীর্ঘসূত্রী আয় নেই, এবং বলতে গেলে তাদের অনেকেই দিনে এনে দিনে খায়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, তাদের বৃদ্ধ বয়সে নিরাপত্তা ও অবলম্বনের জন্য তারা সচরাচর বেশি সন্তান চায়। এরাই আবার বিয়ে করে অল্পবয়সে। অথচ দেখা যায় তারা যে সন্তানদের জন্ম দেয় তাদের শিক্ষাদীক্ষা এমন কি সুষ্ঠুভাবে এদের গড়ে তোলার সামর্থও এই গরীবদের নেই। এর চেয়েও বড় দুর্ভাগ্য হল যে, এ সন্তানেরাই আবার একই ভাবে একই ধরণের সন্তানদের জন্ম দেয় প্রজন্মের পর প্রজন্মে। এ পুরো ব্যাপারটাই আসলে ঘটছে বর্তমানে বাংলাদেশ।

অতএব, এই ভাবে দেশের শিক্ষিতদের সংখ্যাবৃদ্ধির হারের কমতির তুলনায় দরিদ্রদের সংখ্যাবৃদ্ধির হারের বাড়তি ক্রমান্নয়ে হয়ে উঠছে অনেক বেশি। এর চেয়েও কঠোর বাস্তবতা হল, এ ধরণের দরিদ্র জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুধু যে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর সংকট বয়ে আনবে তা নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যও তা বয়ে আনবে অনেক দুর্ভোগ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাস্তবে সবখানেই ইতিমধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে সারা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে হিমবাহ গলছে, সাগরের পানির মাত্রা উপরে উঠছে, অনাবৃষ্টির অঞ্চল প্রসারিত হচ্ছে, মিষ্টি পানির সরবরাহ কমছে, এবং ঘূর্ণিঝড় ও ঝঞ্জার প্রকোপও বাড়ছে।

এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের জন জীবন ও জীবিকা উভয়ই গভীরভাবে সংকটগ্রস্ত হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে এর প্রভাব হবে অতি কঠোর, কেননা এমনিতেই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা দেশটির সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের উপর প্রচন্ড চাপ ফেলছে, এখন তার সাথে যোগ হবে এ আলগা প্রভাব। জনসংখ্যা বৃদ্ধের কারণে দেশের পরিবেশের সর্বদা অবক্ষয় হচ্ছে, তদুপরি পানি, বনসম্পদ ও কৃষি জমির মত যেসব অতি আবশ্যক সম্পদ দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য, সেগুলি ধীরে ধীরে নিঃশেষিত হয়ে যাচ্ছে। আবার এসব ছাড়াও দেশে সম্প্রতি নূতন আরেক আতংক দেখা দিয়েছে সাগর সৈকত-অঞ্চলে এক ধরণের মশার উৎপত্তি হয়েছে যেগুলি আকারে বড় এবং সহজে ধ্বংস করা যাচ্ছে না, এবং এদের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু সহ বহু ধরণের ভয়াবহ রোগের প্রকোপও ক্রমশঃ বাড়ছে।

কৃষি উৎপাদন, জমি ব্যবহার, এবং পানি সরবরাহ এগুলিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানকার ভুমিভাগের বড় অংশ আবার সাগর থেকে খুব বেশি উঁচুতে নয়, এবং বর্ষাকালে দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভূমি সাধারনতঃ বন্যার পানিতে ডুবে যায়। এ অবস্থা ক্রমশঃ আরো খারাপ হচ্ছে কারণ পার্শ্ববর্তি রাষ্ট্র ভারত তাদের দেওয়া বাঁধ বন্ধ করে বছরের শুকনো মৌসুমে স্রোতের উজানে নদীর পানির প্রবাহ নিজ দেশের দিকে ঘুরিয়ে নেয়ার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলি পলিমাটি আর কাদায় ভরে যাচ্ছে। তাতে নদীগুলি বর্ষাকালে বেশি পানি বহন করার সামর্থ হারিয়ে ফেলছে। তদুপরি আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হলেই বন্যার আক্রমণ বেড়ে যায় ভীষণভাবে, যা ইদানীং খুব ঘন ঘন ঘটছে। এই বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয় এবং লোক প্রাণও হারায়। এটা নিশ্চিত যে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতার কারণে সমুদ্রপৃষ্ট স্ফীতি হলে বাংলাদেশে বন্যার এ ধ্বংসাত্মক রূপও বেড়ে যাবে। এই ভাবে সৈকত অঞ্চলের ভূমি যখন পানিতে ডুবতে থাকবে তখন জনগণের উঁচু জায়গার দিকে ধাবিত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

প্রকৃতপক্ষে সৈকত অঞ্চল থেকে লোকজনের বহির্গমনের প্রক্রিয়া হয়তো ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে, এবং অবস্থা যত খারাপের দিকে যাবে তত এই প্রক্রিয়া আরো প্রকট হয়ে উঠবে। কিন্তু কোথায় যাবে ঐসব লোকগুলি? রাজধানী ঢাকা শহরের উপর লোকের যে প্রচন্ড চাপ পড়ছে এটাও তার একটা কারণ, আর এ চাপ কমার পরিবর্তে এখানে লোকের ভীড়ও প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে লোকে লোকারণ্য এই ঢাকা শহরে বসবাসের অবস্থা ক্রমশঃ খারাপ থেকে আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এখানে বিদ্যুৎ এবং বিশুদ্ধ পানির মত মৌলিক চাহিদার প্রয়োজনীয় জিনিষও সরকার লোকজনকে সময়মত আর সরবরাহ দিতে পারছেনা। দেশের অন্যান্য শহরের অবস্থাও ভীষণ খারাপ এবং সেখানেও দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটছে। এখন গ্রামাঞ্চল সহ সর্বত্র সরকারী জমির উপর অনধিকার প্রবেশ যেন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তাই ধারণা যে দেশের অবস্থা বেগতিক হলে লোক প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেবে। প্রকৃতপক্ষে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল এ ধরণেরই একটি সম্ভাবনার আভাস দিয়ে বলেছে যে সমুদ্রপৃষ্টের স্ফীতির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আরো সাড়ে তিন কোটি লোক ভারতে পাড়ি দেবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের আর একটি অত্যন্ত গূরুত্বপুর্ণ দিক হচ্ছে বিশ্বের খাদ্য সরবাহের উপর তার বিশেষ প্রভাব। বৈজ্ঞানিকদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ শতকের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী ফসলের পরিমাণ কমবে শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যে প্রকট সমস্যা দেখা দেবে তার স্বরুপ হবে অনেকটা এইরকমঃ বর্তমান পরিস্থিতিতেই দেশ তার খাদ্যের অভাব মিটাতে হিমশিম খাচ্ছে; অথচ যখন প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুন হবে এবং কৃষি জমিও কমে যাবে, তখন বিশ্ব খাদ্য সরবরাহের উপর সৃষ্ট প্রত্যাশিত চাপের মুখে বাংলাদেশ আরো অধিকতর খাদ্যের ঘাটতি কীভাবে মোকাবেলা করবে?

বাংলাদেশের বড় শহরগুলিতে ক্রমাগত জনসংখ্যার কেন্দ্রীকরণ এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষি জমির উপর সৃষ্ট অপরিসীম চাপ, এ দুটো সমস্যাকে এড়াবার জন্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কেউ কেউ কমপ্যাক্ট টাউনশীপ বলে একটি ধারণার যুক্তি দিয়েছেন। আবার কারো কারো মতে পলিমাটি জমে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২০ কিলোমিটার স্থলভূমি যোগ হচ্ছে, তাতে দেশের সমস্যার খানিকটা সুরাহা হবে। কিন্তু স্থলভূমি বাড়ছে, এ যুক্তিটিকে খন্ডন করে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল এর সদস্য আতিক রহমান বলেছেন, পলিমাটি জমে জমে যে হারে বাংলাদেশে নূতন স্থলভূমি সৃষ্টি হচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তন হেতু যে হারে সমুদ্রপৃষ্ঠ স্ফীতি হচ্ছে তার চাইতে অনেক কম

এইসব কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চরম চ্যালেঞ্জকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোকাবেলা করা বাংলাদেশের জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান না হলে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিতদের স্ফীতিকে রোধ করতে না পারলে, বাংলাদেশে সফল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত হবেই না বরং দেশে দারিদ্রতার প্রকট অসাধারণভাবে বেড়ে যাবে যা নিশ্চিতভাবে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবে। বস্ততপক্ষে দেশ যে এ ধরণের পরিণতির দিকে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে তার অনেকগুলি সংকেত এখন দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম হল দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অহরহ দাঙ্গা, রাজনৈতিক অঙ্গনে অবিরাম মারাত্মক সংঘাত, সন্ত্রাসবাদীদের তৎপড়তা, মৌলবাদের বিস্তার, রাহাজানির প্রসার এবং সর্বত্র গূরুতর আর্থিক দুর্দশাজনিত বিধিহীনতা ও নানাবিদ সামাজিক বিক্ষোভ।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি কীভাবে অবনতির দিকে এগুচ্ছে তা সাম্প্রতিক দুটি নজিরবিহীন ঘটনা থেকে স্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়। এক, বিগত ফেব্রুয়ারী মাসে  ঢাকায় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মাঝে বিদ্রোহের ফলে ৬০ জনের মত ঊর্দ্ধতন সামরিক অফিসারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা; দুই, জনবিরল সৈকত এলাকায় একটি ধর্মীয় স্কুলের অঙ্গনে অস্ত্রসস্ত্রের বিরাট গূপ্তভান্ডার খুঁজে পাওয়া। সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের পরিস্থিতি যত খারাপের দিকে যাবে তত এ ধরনের গূরুতর কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে।

চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা কীভাবে

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। উদাহরণস্বরুপ, চীন এ ব্যাপারে সবচাইতে কঠোর এক নীতি গ্রহণ করেছে, যেমন, তারা প্রতি পরিবারে সন্তানের সংখ্যা নির্ধারণ করেছে মাত্র একটি। তবে এ ধরণের নীতি গ্রহণের জন্যে চীনের স্থান একেবারে অনন্য। কেননা যদিও চীন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ধনতন্ত্রের নীতিকে গ্রহণ করেছে, সরকারী কার্যকলাপ ও নীতি নির্ধারণ এখনও চীনের কম্যুনিষ্ট পার্টির একক নিয়ন্ত্রণাধীণ রয়েছে। অন্যদিকে জনসংখ্যা নীতির প্রেক্ষিতে চীন বৃদ্ধদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বিধানেরও ব্যবস্থা করেছে।

বাংলাদেশ জনসংখ্যা পরিষদের সাম্প্রতিক এক সভায় স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা চীনা নীতির উপর বেশ খোলাখোলি আলোচনা করেছেন,  এবং দেশের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সে-নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মত একটি চিরাচরিত সমাজ ব্যবস্থায় চীনের মত প্রতি পরিবারে এক সন্তানের  নিয়ম কার্যকরী করা খুবই দুস্কর হবে। প্রথমতঃ বাংলাদেশে চীনের মত কোনো সুষ্ঠু সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এবং চীনের মত কোনো শক্তিশালী স্বৈরতন্ত্রী সরকারও নেই। তার  চেয়েও বড় কথা হল সে-নীতি বাংলাদেশে অনিবার্যভাবে ধর্মীয় মৌলবাদের কোপের মুখে পড়বে। ধর্মের নামে অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত জনগণকে খুব সহজেই প্রভাবিত করা যায়। সন্তানরা আল্লাহর দান এবং আল্লাহই তাদের দেখাশোনা করবেন, এ ধরণের যুক্তিতে এখনও তারা বিশ্বাসী। এ মনোবৃত্তি কিন্তু খুব সহজে বদলানো যাবেনা।

অপরপক্ষে ভারত এক সময়ে আইন প্রণয়ন করে তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবেলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রবল সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে সে-নীতি পরে তারা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশও একসময়ে পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম নিয়ে খুব উৎসাহের সাথে ঝাপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী নির্বাচিত সরকারের সময়ে সে উৎসাহের যথেষ্ট ভাটা পরে যায়। খুব সম্ভবতঃ এর কারণ ঐ সরকারের প্রধান রাজনৈতিক শরিকদের ধর্মীয় দল এ কাজের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে। এ বছর নূতন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে পরিস্থিতি হয়তো বা বদলেছে। তবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে এ নুতন সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মসূচী কী হবে তা এখনও পরিস্কার নয়।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার পরিস্থিতি যে দিন দিন খারাপ হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখানে প্রতিবছর ৩০ লক্ষের মত লোক যোগ হচ্ছে দেশের জনসংখ্যায়। এই বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে হলে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বহু প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। এই যেমন বিবাহের ন্যূনতম বয়স সম্পর্কে যে আইন রয়েছে তার কার্যকারীতা নিশ্চিত করা, আয়ের অবলম্বন ছাড়া বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হতে নিরুৎসাহিত করে আইন প্রণয়ন করা, হবু বর-কনেকে বিয়ের আগে পরিবার পরিকল্পনার উপর শিক্ষা নিতে বাধ্য করা, এবং সেই সাথে বৃদ্ধদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তারও একটা ব্যবস্থা করা।

তবে গ্রামের অশিক্ষিত সমাজের কাছে উপরোক্ত ধারণাগুলি তুলে ধরতে অভিনব উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যেমন- যৌনতা, শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান, সন্তান ধারণ, পরিবার পরিকল্পনা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খুব সহজ ধরনের একটি ভিডিও দেখানোর পরে প্রশ্নোত্তরের সুযোগ রাখলে প্রচেষ্টা সুফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুন বেড়ে যাবে। তদুপরি জনগণের ব্যাপক দারিদ্রের কথা মনে রেখে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও স্বল্পমূল্যের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর জোর দিতে হবে, যথা- বীর্যস্খলন বাইরে করার নিয়ম শেখানো, যা ডাক্তারি ভাষায় কয়েটাস ইন্টারাপটাস বলা হয়। এ ধরণের সহজাত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হয়তো দেশের ধর্মীয় নেতাদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তাছাড়া, প্রচলিত জন্মনিয়

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.