Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  স্বাস্থ্য  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
ঘুম এবং মানব মস্তিকঃ যুগলবন্দী Download PDF version
 

স্বাস্থ্য

 

ঘুম এবং মানব মস্তিকঃ যুগলবন্দী

ডা. তুরিন চৌধুরী

ঘুম এর প্রসঙ্গ উঠলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক আলো আঁধারির দিগন্ত উঠে আসে। এত রহস্যময়তায় ভরা কোন বিষয় বোধ হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে আর দ্বিতীয়টি নেই। ঘুম যে শুধু একটা জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। বরং জৈবিক, রাসায়নিক, মানসিক, জেনেটিক, পরিবেশগত প্রভাব ইত্যাদি অনেক কিছুর সঙ্গেই কোন না কোন ভাবে সম্পৃক্ত ঘুম ব্যাপারটি। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে ঘুমের সাথে প্রধানভাবে এবং বিস্তৃতভাবে জড়িত মানদেহের মস্তিস্ক নামক অঙ্গটি। গণতন্ত্রের সেই বিখ্যাত উক্তি Of the people, by the people, for the people এর অনুকরণে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলেছেন- Sleep is of the brain, by the brain, for the brain

ঘুম প্রসঙ্গে গত পঞ্চাশের দশকের পূর্ববর্তী কাজগুলো মূলতঃ ছিল অনুমান নির্ভর তাত্ত্বিক চর্চা। পরবর্তীতে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের সঙ্গে সঙ্গে এই গবেষণা নতুন মাত্রা পেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিস্কের নানারকম পরীক্ষন যন্ত্র, প্রযুক্তি আবিস্কারের পর (যেমন EEG  তথা ইলেক্ট্রো এনকেফালোগ্রাফ) নতুন আঙ্গিকে আবিস্কৃত হতে থাকে ঘুম। এছাড়া চোখের যন্ত্র EOG তথা  ইলেক্ট্রো-ওকুলোগ্রাফ এবং মাংশপেশীর যন্ত্র EMG তথা ইলেক্ট্রো মায়োগ্রাফ ও ঘুম গবেষনাতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

বলা হয় যে মানুষ তার জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। সু্স্থ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ গড়ে দিনের প্রায় ছয় থেকে আট ঘন্টার মতন ঘুমোয়। নতুন জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের পরিমাণ আরো বেশী। একটা সময় খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হতো যে আমাদের মস্তিস্ক ঘুমের সময় পুরোপুরি, না হয় প্রায় পুরোপরি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বলা হতো যে ঘুমের সময়টা মস্তিস্কের কর্মবিরতির সময়। এই ধারনাকে জোড়ালো করেছিল মূলতঃ দুটি পর্যবেক্ষণ। প্রথমতঃ ঘুমের সময় পারিপার্শিক সবকিছু থেকে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন থাকে, কোনরকম কর্মকান্ডে সেই সময় সক্রিয় হওয়া ঘুমন্ত ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়তঃ ঘুমকালীন সময়টার কোন কথাই ঘুমন্ত ব্যক্তির স্মৃতিতে থাকে না। বাহ্যিক কর্মকান্ডের কথাতো বাদ, এমনকি মানসিক অবস্থার কোন কথাও তার স্মৃতিতে থাকে না। এই প্রেক্ষাপটে অবশ্য স্বপ্ন দেখার প্রসঙ্গটা এসে পড়ে; ব্যক্তি যে স্বপ্ন দেখেন ঘুমের মধ্যে তার কথা তো বলতে পারেন, মনে থাকে। তবে এর উত্তরে সে সময় স্বপ্নদেখার ব্যাপারটাকে ঘুম ভাঙ্গার প্রক্রিয়ার সময় বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। এটা অবশ্য বর্তমানে গ্রহণযোগ্য ত্বত্ত্ব নয় বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

৫০ এবং ৬০ এর দশকের গবেষণায় ঘুম সংক্রান্ত উপরোক্ত ধারনাগুলো প্রায় উল্টেই যায়। এসময় ১৯৫৩ সালে আবিস্কৃত হয় যে ঘুম প্রক্রিয়াটির দুটি পর্যায় বা স্তর রয়েছে যা আবর্তনশীল, পর্যায়ক্রমে ঘটতে থাকে। একটা পর্যায়কে বলে (RAPID EYE MOVEMENT) এবং অপর স্তর বা পর্যায় হলো (NON RAPID EYE MOVEMENT)। মানুষের এক রাত্রের ঘুমের মধ্যে সাধারণত ৪-৫ বার REM পর্যায় ঘটে। এবং একবারের এই REM পর্যায় ৯০-১০০ মিনিটের স্থায়ী হয়ে থাকে।  ঘুমের বাদবাকী সময়টা NREM  পর্যায়ের হতে থাকে। REM  এবং NREM  পর্যায়ের নামকরন মূলতঃ চোখের নড়াচড়ার দ্রুততার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। NREM  এর সময় ঘুমন্ত ব্যক্তির চোখ খুব ধীরে এবং সমন্বয় বিহীনভাবে নড়াচড়া করে। পক্ষান্তরে REM  এর সময় ঘুমন্ত ব্যক্তির চোখ অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি এবং সমন্বিতভাবে নড়াচড়া করে। তবে এই চোখের নড়াচড়াই যে এই দুই স্তর তথা ঘুমের পর্যায়ের একমাত্র পার্থক্য, তা নয়। NREM  পর্যায়ের সময় রক্তচাপ হ্রাস পায়, হৃৎপিন্ডের গতি কমে আসে।

অন্যদিকে ঘুমের REM পর্যায়ে এ সমস্ত দৈহিক কর্মকান্ড বেড়ে যায় এবং অনিয়মিত হয়ে ওঠে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে যে REM এর সময় দেহের বাইরের ইন্দ্রিয় বা সংবেদন সম্বন্ধীয় অনুভুতি NREM এর সময় অপেক্ষা বেশী সক্রিয় থাকে।

REM  পর্যায়ের সময় ঘুমন্ত ব্যক্তির দেহে বাইরের কোন স্পর্শ, তাপমাত্রা ইত্যাদির প্রভাব কমে আসে। সাধারণভাবে বলা যায় যে REM  পর্যায়ে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ঘুম থেকে জাগাতে বেশী ডাকাডাকি, ধাক্কাধাক্কি করতে হয় NREM পর্যায়ে ঘুমন্ত ব্যক্তির তুলনায়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে REM  পর্যায়ে বা স্তরে ব্যক্তির দেহের অভ্যন্তরীন কর্মকান্ডের গতি বৃদ্ধি হলেও বাহ্যিক অনুভব ক্ষমতা কমে আসে। এছাড়া আরো জানা গেছে যে, REM  পর্যায়ের ঘুমকালীন সময়েই মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। অর্থাৎ মস্তিস্ক এসময় একটা সক্রিয় অবস্থার মধ্যে থাকে। REM পর্যায়টা এখনও চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে একটা ধূসর অঞ্চল। এই সময় মস্তিস্ক সবচেয়ে বেশী সক্রিয় অবস্থায় থাকে কিন্তু অপরদিকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গ সেই অনুপাতে সাধারণ অবস্থার চেয়ে কম সক্রিয় থাকে। এই পরস্পর PARADOXICAL ধরনের প্রকৃতি এর কারণ এখন পর্যন্ত পরিস্কার নয়।

এর পাশাপাশি এখন যে ধাঁধাটির উত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা খোঁজার চেষ্টা করছেন তা হল ঘুমের সময়কার ব্যক্তির সচেতনতা বা সজ্ঞানতা এর ব্যাপারে। ঘুমের সময়টার বলা চলে মানুষ পুরোপুরি অচেতন হয়ে থাকে। ঘুমের সেই সময়টার সম্পর্কে কোনরকম কিছুই সে মনে করতে পারে না ঘুম ভাঙ্গার পর। কেবল যদি কোন স্বপ্ন দেখে থাকে ব্যক্তি শুধু সেটার কথাই মনে থাকে। এর বাইরে বাকী ব্যাপার কোন কিছু সম্পর্কে ব্যক্তি থাকেন পুরো অচেতন এবং জ্ঞানহীন। এর থেকে ধারনা করা হচ্ছে যে ঘুমের সময় দেহের সক্রিয় মস্তিস্কের মাধ্যমে স্বপ্ন তৈরী হয় বলে তা মনে থাকে। কিন্তু অপরাপর সংবেদনসম্বন্ধী ইন্দ্রিয় যেমন- দেখার জন্য চোখ, গন্ধের জন্য নাক, স্বাদের জন্য জিহ্বা ইত্যাদি এদের সংবেদনাত্মক ক্ষমতা কোন কারণে বন্ধ থাকে। কিন্তু নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস এর কাজ চলছে, কেবল গন্ধ অনুধাবন বন্ধ রয়েছে। কাউকে ঘুমের মধ্যে খাওয়ালে সে খেয়েও নিচ্ছে, কেবল স্বাদটা পাচ্ছে না ঘুম থেকে উঠলে খাবার ব্যাপারে কোন কিছুই জানাতে পারছে না। একটা অবাক ব্যাপার হচ্ছে যে চিন্তা করার ক্ষমতা বহাল থাকছে তবে তা স্বপ্ন তথা মস্তিস্ক কেন্দ্রিক। স্বপ্নকালীন ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে চিন্তা করছে ব্যক্তি, স্বপ্নের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেই মত করে। কিন্তু বাস্তব পরিপার্শ্বের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাশক্তি কাজ করছে না। বাস্তব পরিপার্শের সম্পর্কে সম্পূর্ন অজ্ঞান, অচেতন, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকছে ব্যক্তি।

আজকের আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঘুমের ব্যাপারটাকে একটা সহজ উদাহরন দিয়ে বললে বোধহয় বুঝতে একটু সুবিধা হতে পারে। মানুষকে যদি একটা ইন্টারনেটে যুক্ত কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করি এবং ইন্টারনেটকে করে নেই পারিপার্শ্ব হিসাবে তাহলে ঘুম হল কম্পিউটারের OFFLINE অবস্থা। OFF LINE অবস্থাতেও কম্পিউটার তার কাজকর্ম করে চলেছে, কেবল বিচ্ছিন্ন রয়েছে ইন্টারনেট তথা পরিপার্শ্ব থেকে।

জাপান

dr.turin@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.