Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
বিশ্বশান্তির অন্বেষায় মুসলিম বিশ্বের প্রতি ওবামা Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

 

বিশ্বশান্তির অন্বেষায়

মুসলিম বিশ্বের প্রতি ওবামা

 

ওবামা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, আবারও মোহিত-চমৎকৃত করলেন বিশ্ববাসীকে। দিনটি ছিলো ৪টা জুন, স্থান মিশরের ঐতিহ্যবাহী কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম থেকেই ওবামা সেদিন প্রদান করলেন বহু প্রতীক্ষিত তার ঐতিহাসিক ভাষণ, মুসলিম বিশ্বের প্রতি। সপ্তাহ ধরেই নানা মহলে চলছিলো জল্পনা-কল্পনা, কি বলেবন ওবামা, কতখানি এগুবেন মুসলমানদের দিকে, কেমন ভাষায় বলবেন ইত্যাদি। পরিশেষে ৪ঠা জুন ওবামা মুসলিম বিশ্বের প্রতি জানালেন সরাসরি আহ্বান সে আহ্বান সম্প্রীতির, পরস্পরকে সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখবার এবং পরস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবর্তনের নতুন পৃথিবী গড়বার। বিশেষজ্ঞদের মতে ওবামার এই বক্তৃতা সাম্প্রতিককালে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ভাষণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।

দীর্ঘ এই বক্তৃতায় ওবামা শুরু করেছেন মুসলমানদের প্রতি সম্মানসূচক সালাম দিয়ে (আসসালামু আলাইকুম)। পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন একাধিকবার। স্বীকার করেছেন যে অস্ত্র দিয়ে, দম্ভ দিয়ে পৃথিবীর জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়। বলেছেন ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সভ্যতার কথা, উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের কথা, মাইক্রো-ফাইনান্সিং-এর মাধ্যমে মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ইরাকের ভবিষ্যৎ সে দেশের মানুষকেই নির্ধারণ করতে হবে, এবং সে লক্ষ্যেই তার সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা সতকর্বাণী উচ্চারণ করেছেন ৯/১১-এর হোতা ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে যারা ইসলাম ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে পৃথিবীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার ঘৃণ্য খেলায় মেতেছে। বলেছেন, প্যালেস্টাইনীদের সহিংসা পরিহার করে ইহুদিদের সঙ্গে সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করতে হবে। হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাংখার ব্যাপারে।

ওবামার এই বক্তৃতা, মুসলিম বিশ্বের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর এই আন্তরিক এবং সময়োপযোগী প্রয়াস অনেকের মতই আমাদের আশাবাদী করেছে। মুসলিম বিশ্বের কাছে পৌঁছানোর এই মার্কিনী প্রয়াস একান্তই স্বতঃপ্রণোদিত বা প্রো-একটিভ। অতীতে আমরা দেখেছি, মুসলিম বিশ্বে কোন সংকটের সময়, বিশেষ করে ইসরাইল-প্যালেস্টাইন সংকটের মোকাবেলায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অনেক ভালো ভালো কথা বলে আসল সমস্যা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু এ ভাষণটি তার চাইতে অনেক ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ওবামা, তার বিচক্ষণতা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন, বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা সবাই বড় বেশি নির্ভরশীল একে-অপরের উপর। তাই বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ (মুসলিম) জনসংখ্যাকে শত্রু  বিবেচনা করে বিশ্বশান্তির অন্বেষা নিতান্তই আকাশ-কুসুম কল্পনা। সত্যিকার বিশ্বশান্তি মুসলমানদের বাদ দিয়ে নয়, মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে অর্জন করতে হবে এই আহ্বান ব্যক্ত করেছেন ওবামা তার বক্তৃতায়।

নিন্দুকেরা বলবেন হয়ত, ওবামা সুবক্তা। তাই যে বিষয়ে বলেন, তাই খুব কার্যকর মনে হয়। বলবেন, বিশ্বশান্তি মুখে বলা যত সহজ, কার্যত তারচেয়ে অনেক কঠিন। মানলাম, কার্যক্ষেত্রে, বিশ্বশান্তি ওবামার এক বক্তৃতায় প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে না। কিন্তু একথাও আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে ওবামা মুসলিম বিশ্বকে সঙ্গী করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিকভাবে সদিচ্ছা ও সহযোগিতার হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছেন এবারে মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব হবে এ আমন্ত্রণকে করমর্দনে পরিণত করা।

এভাবেই হাটি হাটি পা পা করে আমরা এগিয়ে যাবো বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে, প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষায়, We have the power to make the world we seek, but only if we have the courage to make a new beginning ….

 

মাহমুদুল হাসান

জুন ০৭, ২০০৯।

স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া।

 

_______________________________________________________________________

ওবামার বক্তৃতার পূর্ণ বিবরণঃ http://www.nytimes.com/2009/06/04/us/politics/04obama.text.html?pagewanted=1&_r=1

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.