Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
নিউ ইয়র্কে ২০০৫ সালে বঙ্গ সম্মেলনের রজত জয়ন্তী: স্মৃতিচারণ Download PDF version
 

বঙ্গ সম্মেলন ও ফোবানা সম্মেলন

নিউ ইয়র্কে ২০০৫ সালে বঙ্গ সম্মেলনের রজত জয়ন্তী: স্মৃতিচারণ

জহর ভট্টাচার্য্য

সেবার বঙ্গ সম্মেলনের পঁচিশ বছর পূর্তির সময় যখন ঘনিয়ে এল, আমাদের তখন ইচ্ছে হল সেই সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একটা নতুন করে, নতুন ভাবে বঙ্গ সম্মেলন করার। সেটা চিন্তা করতে করতে ঠিক হল যে আমরা যদি বিষয় বা সংস্কৃতির কোন দিককে কেন্দ্র করে thematic কিছু অনুষ্ঠান করি তাহলে একটা নতুনত্ব আসে। বঙ্গ সম্মেলনটা ক্রমশ গতানুগতিক একটা গানের জলসার মত হয়ে যাচ্ছিল, তার চাইতে যদি আমরা একটা theme-এর ওপর ভিত্তি করে বড় বড় অনুষ্ঠানগুলো করতে পারি ভাল হয়। সে জন্য দেশে ও এখানকার শিল্পী ও পরিচালক সবার সাথে মিলে একটা নতুন ধরনের বঙ্গ সম্মেলন উপহার দেওয়ার জন্য আমরা প্রাণপণে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

শেষ পর্যন্ত আমরা নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে একটা অত্যন্ত স্মরণীয় বঙ্গ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম, যেটা পরবর্তী সময়ের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে গিয়েছিল।

বিশাল অনুষ্ঠান মালার থেকে একটা উদাহরণ দিচ্ছি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৭০ জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা একটা নৃত্যনাট্যে অংশ নিয়েছিল। নৃত্যনাট্যটি এদেশের বিখ্যাত উদ্দীপনামূলক গান God Bless America আর বঙ্কিমচন্দ্রের দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম এর উপর ভিত্তি করে রচনা করা হয়েছিল। ছেলেমেয়েরা এসেছিল নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সী আর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে। নৃত্য পরিচালনা করেছিল টরোন্টোবাসী সুকল্যাণ ভট্টাচার্য্য, মাত্র ত্রিশ বছর বয়স কয়েকটা শহর ঘুরে ঘুরে ওকে মহড়া দিতে হয়েছিল। তবে লোকসঙ্গীত, ফিউশন, ভরতনাট্যম, ব্যালে মিলিয়ে সেই নৃত্য এতই আকর্ষণীয় হয়েছিল যে সুকল্যাণ সেজন্য একটা পুরস্কারও লাভ করে।

বাংলা নাটকের ঐতিহাসিক ধারা নিয়ে একটা অনুষ্ঠান ছিল, ৫০ বছরের গানের ওপর অনুষ্ঠান ছিল। ষড় ঋতু নিয়ে ছিল আলাদা নৃত্যনাট্য এছাড়া দেশে ও বিদেশে সব গায়কদের নিয়ে একই মঞ্চে বসিয়ে প্রায় দুঘন্টা একটা গানের অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য দেশ থেকে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সুরকার কল্যাণ সেন বরাট এসেছিলেন। উনি নাচের সমস্ত তদারকী করেছেন, বিখ্যাত সরোদ বাদক তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার সুর দিয়েছিলেন। এছাড়া দেশ থেকে Astra Infotech বলে একটা কোম্পানি আছে তারা প্রাণ ঢেলে কাজ করেছেন। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানের সঙ্গে audio visual ছিল। এরকম জিনিস আগে কখনও হয়নি। দুদিন ধরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান হয়েছে তাতে রীতিমত who’s who, অর্থাৎ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সবাই উপস্থিত ছিলেন। তিনটে মিলনায়তনে একসঙ্গে অনুষ্ঠান। ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে, হ্যামেরস্টাইন অডিটোরিয়াম আর ওপরে একটা ছোট অডিটোরিয়াম ছিল, এই তিনটি মিলনায়তনে তিন দিন এক নাগাড়ে অনুষ্ঠান হয়েছে। তার সাথে বঙ্গ সম্মেলনের আনুষঙ্গিক যা থাকে শাড়ির দোকান, গয়নার দোকান এসব তো ছিলই। ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেন 34th Street, Manhattan এর চত্বরটা এই তিন দিন ধরে আমাদের বাঙালিদের দেশ হয়ে গিয়েছিল। সবখানে বাঙালিরা শাড়ি পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা নতুন পরিবেশ, মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিউ ইয়র্কে আমাদের ধারণামতে ১০,০০০ লোক হয়েছিল।

এখন বঙ্গ সম্মেলন করতে দুই থেকে আড়াই বছর লেগে যায়। কারণ প্রত্যকটা জিনিষের logistics বা কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবের একটা দিক রয়েছে মিলনায়তন ঠিক করা, শব্দের সরঞ্জাম ঠিক করা, সব কিছু যন্ত্রপাতি একদম নিখুঁতভাবে কাজ করা চাইতো। এছাড়া এই যে অনুষ্ঠান গুলো হবে, এই অনুষ্ঠানগুলো ঠিক করা, অনুষ্ঠানের  মহড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটা বিশেষত্ব হচ্ছে, কলকাতায় কিছু মহড়া হয়েছে, নিউ ইয়র্কে কিছু হয়েছে। অনেক শিল্পী কল্যাণ সেন বরাটসহ দু সপ্তাহ আগে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের জন্য আলাদা জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল, ওরা অনবরত মহড়া দিয়েছেন। সেইজন্যই অনুষ্ঠানট এতখানি নিখুঁত হয়েছে। সব কিছু আয়োজন করতে আমাদের প্রায় আড়াই বছরের মত লেগেছে।

এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য তো বিরাট অর্থের প্রয়োজন। অর্থ সংগ্রহ করা তাই সম্মেলনের একটা বিরাট অংশ। আমাদের বাজেট ছিল ১.৪ মিলিয়ন ডলার। রেজিস্ট্রেশন থেকেতো আর বঙ্গ সম্মেলন হয়না। বঙ্গ সম্মেলনের অনেকটাই আসে যারা সাহিত্যপ্রেমী, কৃষ্টিপ্রেমী তাঁদের দাক্ষিণ্যে। এছাড়া দেশ থেকে আগ্রহী ব্যবসা সংস্থা, তারাও অনেকটাই সাহায্য করে থাকেন।

এখন বঙ্গ সম্মেলন ৪ দিনের অনুষ্ঠান। সঙ্গে আরেকটা যেটা হয় সেটা হল ব্যবসা সংক্রান্ত সেমিনার। সেবার সেমিনারও বেশ বড় করে হয়েছিল। মুখ্য অতিথি ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্প নিয়ে সেবার আমরা ব্যবসা সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলাম, সেই সাথে তথ্য প্রযুক্তিও ছিল।

সব চেয়ে বড় জিনিসটা হচ্ছে logistics। সেই কাজটা হয়ে গেলে বড় কথা হল operations । প্রথম দিকে যেটা হয় সেটা হচ্ছে সব কিছু পরিকল্পনা করা, অর্থ সংগ্রহ করা। সেই সাথে registration  ও চলতে থাকে। কিন্তু শেষ ছয় মাস হচ্ছে operations । সমস্ত কিছু হলেও operations যদি ঠিকমত না হয় সমস্ত জিনিসই মাটি হয়ে যাবে। লোকে শুধু ঐ চার দিনই দেখছে। আগের দুবছর কেউ দেখছে না। আরেকটা কথা, এখানে যে ১০,০০০ লোক এসেছে, তার মধ্যে বাইরে থেকে ৭-৮ হাজার আসছে, তাদের বঙ্গ সম্মেলনে হোটেলে রাখতে হয়েছে। তাদের খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হয়েছে। সবাই ভারতীয় খাবার আশা করে, খাবারের জায়গা ঠিক করতে হবে, কারা খাবার বিক্রি করবে, তাদের ঠিক করতে হবে। বাঙালিরা বড্ড সেন্টিমেন্টাল, খাওয়াদাওয়ার যদি ঠিকমত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ক্ষোভের আর শেষ থাকবে না।

প্রতিটি বঙ্গ সম্মেলনে যে পরিমাণ পরিশ্রম আর dedication দরকার সেটা আপনি নিজে জড়িত না থাকলে বোঝান কঠিন। যে কোন বঙ্গ সম্মেলনের যে মূল স্বেচ্ছাসেবকের দল, ধরুন ৫০ জন, তাদেরই কৃতিত্বের সিংহভাগ পাওনা। ওরাই নিরলসভাবে দু বছর কাজ করে যাচ্ছে।

আমরাও সেবার প্রাণপণে খেটেছিলাম। আজ যখন ভাবি যে সেই সম্মেলনে আমরা একটা নতুন মিশা স্থাপন করেছি সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি। এই যে বঙ্গ সম্মেলনকে একটা নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারপর থেকে বঙ্গ সম্মেলনের মান অনেক বেড়ে গেছে। সবাই এখন নিউ ইয়র্কের বঙ্গ সম্মেলনের দিকে পেছন ফিরে তাকায় আর সেখান থেকে বঙ্গ সম্মেলনকে আরও ভাল করার, সুন্দর করার ধারণা লাভ করেন।

________________

জহর ভট্টাচার্য্য বঙ্গীয় সংস্কৃতি সংঘ বা CABএর সভাপতি। উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। গান-বাজনা ভালবাসেন, আর ভালবাসেন বাংলা সাহিত্য আর সংস্কৃতির সেবায় কাজ করতে। ২০০৫ সালে বঙ্গ সম্মেলনের রজত জয়ন্তী উৎসবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কর্ণধার ছিলেন। পেশায় কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ।

 

লিটল্ নেক, নিউ ইয়র্ক

১ জুন, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.