Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন, ওয়াশিংটন ডিসি Download PDF version
 

বঙ্গ সম্মেলন ও ফোবানা সম্মেলন

প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন, ওয়াশিংটন ডিসি

ওয়াহেদ হোসেনী

ফোবানা সম্মেলন এসে গেল। নিয়ম মাফিক আমেরিকার দুটি বড় শহরে, একইদিনে একই সময়ে, একই নামে দুই বা ততোধিক অনুষ্ঠান তো হচ্ছেই, অতীতের মত ফোবানা শহরেই ‘গোমাংস ভূরি ভোজন দিয়ে সম্মেলন থেকে লোক ভাগানোর চেষ্টা আছে কিনা জানিনা। ফোবানার কথা ভাবতে ভাবতে নিচে বেসমেন্ট-এ গিয়ে কাগজপত্রের গুদাম হাতড়াতে থাকলাম। নিরাশ হইনি। প্রথম দিকের সম্মেলনগুলোর বেশ কিছু কাগজপত্র, ফাইল, এ্যালবাম পেলাম। প্রথম সম্মেলনের স্মরণিকাটা তুলে নিয়ে ওপরে চলে আসলাম। ৫/২ X/২ আকারের চকচকে নীল মলাটে বাধানো চটি একটা স্মরণিকা। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাফর আহমদ FIRST NORTH AMERICA BANGLADESH CONFERENCE’’ কথাগুলোকে মোটা মোটা কালো অক্ষরে এমন সাজিয়েছিলেন যেন মনে হয় একটা ফুলদানি। আর সেই ফুলদানি থেকে বেরিয়ে আসছে লম্বা লম্বা পাতলা ফুল। আসলে ফুলের মত দেখতে করে লেখা প্রথম সম্মেলনে অংশগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম। যেমন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব হিউষ্টন, বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্ক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ওয়াশিংটন ডিসি, ইত্যাদি।

স্মরণিকা

 
স্মরণিকাটির পাতা উল্টাতে উল্টাতে নজরে পড়লো প্রথম সম্মেলনটির নাম দেওয়া হয় প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন ৩১ শে অক্টোবর ও ১ লা নভেম্বর ১৯৮৭ সন। স্থান বিশ্ব ব্যাংক এইচ বিল্ডিং, ওয়াশিংটন ডিসি। উদ্যোক্তা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ওয়াশিংটন ডিসি। একই সংগে আরও একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, সেটি ছিল বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ফোরামের বাৎসরিক সম্মেলন। সম্মিলিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুটি সম্মেলন বিশ্ব ব্যংকের ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে চলতে থাকে।

য়াহেদ হোসেনী, হাওয়ার্ড শেফার্ড ড: নুরন্নবী

 
প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলনের মখ্য উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের একটা ‘ছত্র’ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যার দায়িত্ব হবে আমেরিকায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের স্বার্থ অগ্রায়ন করা। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত তখনকার প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ তাঁর বাণীতে এই সম্মেলন সম্পর্কে বলেন, “----- ওয়াশিংটনে প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলনের আয়োজন তাদের (বাংলাদেশীদের) মধ্যে যোগাযোগ সৃষ্টির, ভাবের আদান প্রদানের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা ও দলাদলির । ঊর্ধ্বে থেকে নিজ সম্প্রদায়ের বৃহত্তর স্বার্থে পরিচালিত হলে এমন সমাবেশ প্রবাসীদের পক্ষে কল্যাকর প্রমাণিত হবে---। ওয়াশিংটনে তখনকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাননীয় ওবায়দুল্লাহ খান তাঁর বাণীতে লেখেন, ---Setting up of a national organization, I understand, will also be explored in this conference…”. নিউ জার্সী সোসাইটির তখনকার সাধার সম্পাদক ডক্টর নুরন্নবী তাঁর বাণীতে বলেন, “—we are sure that this conference will promote friendship and understanding, generate better communication and address various problems faced by Bangladeshi people living in North America.”

স্মরণিকাটির পাতা উল্টাতে উল্টাতে মনে পড়ে গেল বাংলাদেশীদের একত্রিভত হয়ে কাজ করার মনবাসনা আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যখন প্রধান অতিথি  Deputy Assistant Secretary of State এবং বাংলাদেশে প্রাক্তন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত হাওয়ার্ড শেফার্ড তার বক্তৃতায় বলেন, আমেরিকান প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব অর্জন করতে হলে বাংলাদেশীদের অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হবে, কেননা আমেরিকার কাছে বাংলাদেশের কোন strategic importance নেই। কিন্তু সম্মেলন উদ্বোধনের ঘন্টাখানেকের মধ্যে আমি বোধ করতে শুরু করলাম হয়তো সেটা সম্ভব হবে না। আমার এই বোধোদয়ের কার সম্মেলনে আগত কিছু সোচ্চার ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য কি তা বেশীর ভাগের বোধগম্য ছিল না, সম্ভবত সেই কারণেই তারা সহযোগিতা বা সহানুভতির বদলে সমালোচনা ও চিৎকারে বিরাট হলটি গম গম করে তোলেন। নিউইয়র্ক থেকে আসা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটিই ছিল সর্ববৃহসুশৃংখল। এদের বাদ দিয়ে ছোট ছোট, এমনকি দুজন তিন জনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বহু। আর এদেরই গলার জোর ছিল সব চাইতে বেশী। পদে পদে তারা শুধু বাধাই সৃষ্টি করেনি, মনে হচ্ছিল এই বিঘ্ন সৃষ্টিকে তারা খুব বাহাদুরী মনে করছিল। নিউ ইয়র্ক শহরের নাম করলে এ ব্যবহার নিউ ইয়র্ক শহরেই সীমিত ছিল না। আরো কয়েকটি শহরের মানুষ যেন প্রতিযোগিতা করে মাঠে নামেন। এক সময় এশিয়া ফাউণ্ডেশনের ডক্টর মার্কস ফ্রাণ্ডার বক্তৃতার সময় একদল যুবক চিৎকার করে ওঠে, বাংলায় বল্ , বাংলায় বল্। অনুষ্ঠানগুলো ভালো হচ্ছিল না মন্দ, তা বুঝে ওঠার চেয়ে নিয়ন্ত্র ও শৃংখলা রক্ষা করাটাই ছিল সর্ব কঠিন কাজ।

ইতিপূর্বে এতবড় একটা সম্মেলন পরিচালনা করার অভিজ্ঞতার অভাবে উদ্যোক্তাদের নিশ্চই কিছু কিছু দুর্বলতা ছিল। যেমন নাম রেজিষ্ট্রেশন না করা বহু লোক খাওয়ার ঘরে ঢুকে পড়লে খাওয়া কম পড়ে যায়। নিউ ইয়র্কের কিছু নেতৃবৃন্দের সহয়তায় তখনি নতুন করে রান্না করে সে পরিস্থিতির সুরাহা করা হয়। হট্টগোল চরমে ওঠে দ্বিতীয় দিনে management meeting এ। মিটিং এর উদ্দেশ্য ছিল একটি নিখিল আমেরিকান প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাঠামো আলোচনা করা, এবং দ্বিতীয় সম্মেলন কোথায় হবে তা নির্ধার করা। আগেই আলোচনা করে পরবর্তী স্থান নিউ ইয়র্ক হবে বলে একটা মোটামুটি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ কারো কথা শুনতে না চেয়ে গণ্ডগোল চলতেই থাকে। তখন নিউ ইয়র্ক সোসাইটির সভাপতি ডঃ মোহাম্মদ ইউসুফ উঠে দাড়িয়ে বলেন, দ্বিতীয় সম্মেলন আমরা নিউ ইয়র্কেই করবো কে আমাদের ঠেকাবে? যে ভাবে গণ্ডগোল চলছিল তাতে ইউসুফ সাহেবের নেওয়া পদক্ষেপই ছিল সমাধানের একমাত্র পথ। সেদিন যেমন কোন নিয়ম বা শৃংখলা সৃষ্টি হয়নি। আজও তেমনি। উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন পরিত হয়েছে ফোবানায়। ফোবানা হয়েছে দ্বিধা বিভক্ত, ত্রিধা বিভক্ত। তার ওপর আছে ল্যাং মেরে ফোবানা অনুষ্ঠান থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার অপূর্ব সব কাণ্ড-কারখানা। তা সত্ত্বেও ফোবানা এগিয়ে চলেছে। নাচে গানে, শাড়ীর দোকানে, আর মাঝে মধ্যে মূলধারার দুএকজন নেতাকে টেনে এনে বাহাদুরী দেখানোর নাটকে

উঠে পড়লাম প্রথম সম্মেলনের স্মরণিকাটি তার জায়গায় রেখে আসতে। সিড়ী দিয়ে বেসমেন্টে নামতে নামতে দিবা স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম সবাই যেন ব্যক্তিগত সংকীর্ণতা দলাদলি থেকে ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সবার মঙ্গলের জন্য। বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্য। স্মরণিকাটি রেখে উপরে এসে ভাবছিলাম দিবাস্বপ্ন কি কখনোই সত্য হয় না?  মনে হোল বৃদ্ধ শেফার্ড সাহেব যেন বলছেন সত্য হয়, তবে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।

___________________

ওয়াহেদ হোসেনী প্রথম উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলনের সাধার সম্পাদক ছিলেন। লেখকের ই-মেইল : ElderHossaini@gmail.com

য়াশিংটন ডিসি

১ জুন, ২০০৯

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.