Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৩য় সংখ্যা আষাঢ় ১৪১৬ •  9th  year  3rd  issue  Jun-Jul  2009 পুরনো সংখ্যা
ফোবানা ২০০৯ সম্মেলন নিয়ে কথোপকথন Download PDF version
 

বঙ্গ সম্মেলন ও ফোবানা সম্মেলন

ফোবানা ২০০৯ সম্মেলন নিয়ে কথোপকথন

মোহাম্মদ হোসেন খান ফোবানা বাংলাদেশ সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। বর্তমানে তিনি ডিসি ফোবানা-এর কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য।  তিনি বিভক্ত ফোবানার একটি অংশের স্টিয়ারিং কমিটির ফাউন্ডিং সেক্রেটারী-এর দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ সালের উত্তর আমেরিকার বিভক্ত ফোবানা সম্মেলনের প্রাক্কালে পড়শীর সাথে তাঁর এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে সাবির মজুমদার  দেয়ান শামসুল আরেফিন।

পড়শী : ফোবানার শুরুটা কবে এবং কেন?

মোহাম্মদ হোসেন খান (মোহোখা): ফোবানা শুরু হয়েছে ১৯৮৭ সালের লেবার ডে উইকেন্ডে, ওয়াশিংটন ডিসিতে। তখন অবশ্য এর নাম ফোবানা ছিল না - উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ সম্মেলন (এন.এ.বি.সি) নামে এর যাত্রা শুরু হয়। ডালাস সম্মেলনে অংশগ্রহকারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে ফোবানা নামকরণটি গৃহীত হয়।

প্রথমে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল-উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশীদের মধ্যে একটি যোগসূত্র সৃষ্টি করা এবং এখানে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশী কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ সম্মেলনের পরিধি, এর প্রয়োজনীয়তা এবং এর উদ্দেশ্যের রূপান্তর ঘটেছে। সময়ের প্রবাহে কেবলমাত্র বাংলাদেশীদের মধ্যে যোগসূত্র এবং পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে - শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য ও টেকনোলজির আদান-প্রদানের বিষয়গুলোও এ সম্মেলনের উদ্দেশ্যের সাথে সন্নিবেশিত হয়েছে। এরও কিছু পরে এ বিষয়গুলো কেবলমাত্র উত্তর আমেরিকার মধ্যে এর বিস্তৃতি ঘটানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই শুরু হয় বাংলাদেশ থেকে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মেলনে অতিথি করে নিয়ে আসা। তখন থেকেই এ সম্মেলনের প্রচারে পূর্ণতা পেয়েছে, যদিও এর সফলতা এখনো দূরে বলেই মনে হচ্ছে। তবুও বলবো বর্তমানে ভাঙ্গা গড়ার ভেতর দিয়ে হলেও উদ্দেশ্যকে পরিপূর্ণ করার প্রত্যয়েই দুটি গ্রুপই সম্মেলনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আশা করি সময়ের আবর্তনে ও প্রয়োজনের তাগিদে এই বিভক্তি পনরায় একত্রিভূত হবে।

পড়শী : ফোবানার সাথে আপনার সম্পর্ক এবং দায়িত্ব কি?

মোহোখা : ফোবানার সাথে আমার সম্পর্ক শুরু থেকেই। ১৯৮৭ সালের প্রথম সম্মেলন থেকেই অদ্যাবধি কখনো অবিভক্ত, খনো বিভক্ত সম্মেলনে বিরতিহীন অংশগ্রহ করে আসছি। এ দীর্ঘ পরিক্রমায় সম্মেলনের সাথে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এভাবে প্রতি সম্মেলনে অংশগ্রহ অনেকটা আমার দায়িত্বের মধ্যে এসে গেছে। নিয়ম মাফিক দায়িত্বের কথা যদি বলি, তাহলে প্রথমে বলতে হয়, ফোবানার গঠনতান্ত্রিক নিয়মাবলীর কথা। ফোবানার অর্থ হল, ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা। এর অর্থ হল যে, ফোবানার সদস্য এবং এর দায়িত্ব পেতে হলে প্রথমে কোন সংগঠনের প্রতিনিধি বা কর্মকর্তা হয়ে ফোবানার সদস্য হতে হবে। ফোবানার সদস্য হওয়ার পর আপনি ফোবানার কোন দায়িত্ব পেতে পারেন।

শুরু থেকে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে ফোবানার দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিভক্ত ফোবানার একটি অংশের স্টিয়ারিং কমিটির ফাউন্ডিং সেক্রেটারী-এর দায়িত্ব পালন করেছি এবং পরে এর সদস্য হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করছি।

পড়শী : ফোবানার ভাঙ্গন শুরু হয় কবে এবং কেন?

মোহোখা : এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফোবানা সম্মেলন দুদফায় বিভক্ত হয়েছে। প্রথম বিভক্তি ঘটে ১৯৯৪ সালে। একাংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বস্টনে। অন্য অংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় নিউজার্সীতে। এ বিভক্তির মূল কারণ ছিল পূর্ববর্তী টরেন্টো সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত না মানা এবং সিদ্ধান্তটিকে যার যার পক্ষে, তার তার করে ব্যাখ্যা করা। একপক্ষের ব্যাখ্যা সঠিক ছিল না।

টরেন্টোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৪ সালের সম্মেলন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল নিউজার্সী সোসাইটিকে শর্ত সাপেক্ষে। ঐ সময় নিউজার্সী সোসাইটির মধ্যে দুটি গ্রুপ বিদ্যমান ছিল। শর্ত ছিল দুপক্ষ মিলে সর্বসম্মতিক্রমে একটি সম্মেলন কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠন করতে হবে। যদি কোন কারণে সম্মেলনের ব্যাপারে দুপক্ষের মধ্যে মতৈক্য না ঘটে তাহলে নতুন কোন সভা ছাড়াই টরেন্টো সম্মেলনের কনভেনর ১৯৯৪ সালের সম্মেলনটি বস্টনকে সম্মেলন করার দায়িত্ব অর্পণ করবেন। এ শর্তানুযায়ী টরেন্টো সম্মেলনের কনভেনর জনাব শামসুল হুদা বস্টনকে সম্মেলন করার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

অন্যদিকে, নিউজার্সী সোসাইটির বিবাদমান গ্রুপের একটি অংশ টরেন্টোর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে নিউজার্সীতে পাল্টা সম্মেলন অনুষ্ঠিত করে। এভাবে সম্মেলনের প্রথম বিভক্তি ঘটে।

১৯৯৭ সালে একাংশের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল নিউইয়র্কে এবং অন্য অংশের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল লসএঞ্জেসসে। নিউইয়র্ক সোসাইটি দ্বিধাবিভক্ত সম্মেলন না করে সম্মেলনটিকে ঐক্যবদ্ধ করার স্বার্থে নিউইয়র্কে সম্মেলন না করে লসএঞ্জেলেস-এর সম্মেলনে যোগদানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের উদ্যোগ এবং ত্যাগের বিনিময়ে বিবাদমান দুটি গ্রুপকে একত্রিত করে ১৯৯৭ সালের ফোবানা সম্মেলন লস এঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করে।

১৯৯৯ সালে এ সম্মেলনটি পুনরায় আটলান্টা শহরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। এখানেও দ্বিধা বিভক্তির পেছনের মূল কারণ প্রথমবারের মত পূর্ববর্তী সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তকে না মানা। আটলান্টায় দুটি গ্রুপই পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে যার যার পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে একটি সম্মেলনকে দুটিতে বিভক্ত করে ফেলেন। অদ্যাবধি ফোবানা সম্মেলনের এ বিভক্তি চলছে।

পড়শী : এবার ফোবানা কোথায় কোথায় হচ্ছে? আপনি কোনটাতে যাচ্ছেন এবং কেন?

মোহোখা : এ বছরও ফোবানা সম্মেলন দু জায়গায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি ওয়াশিংটন ডিসিতে এবং অন্যটি টেক্সাসে। আমি ওয়াশিংটন ডিসির সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবো। এ সম্মেলনটি বিভক্ত বস্টন সম্মেলনের ধারার সম্মেলন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সংগঠনের রীতিনীতি মেনেই বস্টন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমার এ বিশ্বাস থেকেই আমি ওয়াশিংটন সম্মেলনে যাওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমার ধারণা, বিভক্তির কারণে কোন অংশের সম্মেলনই সম্মেলনের মূল আমেজ নিয়ে আসতে পারছে না। আমাদের সকলের অতীত কর্মকান্ডের আলোচনা-পর্যালোচনা করে অতিসত্বর ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।

পড়শী : এবারের ফোবানার আকর্ষণগুলো কি কি?

মোহোখা : আসলে কোন আকর্ষণই শেষ পর্যন্ত আর আকর্ষণ হয়ে থাকে না। সম্মেলনের এই বিভক্তি সকল বড় বড় আকর্ষণকেই চূড়ান্তভাবে ম্লা করে দিচ্ছে। এখন সবাই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যকে দূরে সরিয়ে রেখে শিল্পীর সমাহার অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। কে কার সম্মেলনে অধিক সংখ্যক নামীদামী দেশী-বিদেশী শিল্পীর সমাহার ঘটাতে পারবেন এটাকেই এখন মূল আকর্ষণ করে সানে নিয়ে এসেছেন। পত্র-পত্রিকা বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় আকর্ষণীয় কর্মসূচীর কোন অভাব থাকে না। কিন্তু বাস্তবে সেগুলোর প্রতিফলন ঘটছে না।

পড়শী : ফোবানাকে কি আপনি সফল মনে করেন? পক্ষে বা বিপক্ষে আপনার যুক্তি কি?

মোহোখা : ফোবানাকে কেউ এক কথায় অসফল বলতে পারবে না। ফোবানার সকল উদ্দেশ্যের পরিপূর্ণতা ঘটেনি এ কথা সত্য। তবে, একে একেবারে অসফল বলা যাবে না কোন দৃষ্টিকো থেকেই। সফলতার দিক যদি বলেন, তবে বলতে হয় এর শুরুটাই বড় সফলতা। এর শুরুটা আমাদের সকলের চিন্তার ঐক্য থেকেই শুরু হয়েছে। আমরা হাটি-হাটি পা-পা করে সামনের দিকেই যাচ্ছি। এ আগানোর তি বিভক্তির কারণে হয়তো আশানুরূপ নয়। আগানোর যে গতি হওয়ার কথা তা হচ্ছেনা, এটাকে অসফলতা বলা যেতে পারে। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে হয়তো অনেক পদক্ষেপে পূর্ণ সফলতা আসেনি। সেগুলোকেও অসফলতা বলে বিবেচনা করা সমচীন হবে না। এসবকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে হবে।

পড়শী : ভবিষ্যতে একীভূত ফোবানা হবার কি কোন সম্ভাবনা আছে? থাকলে এর উদ্যোক্তা কারা? না থাকলে নাই কেন?

মোহোখা : আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ভবিষ্যতে ফোবানা অবশ্যই একত্রিভূত হবে। আমরা সবাই জানি বিজ্ঞানীই হোক বা সমাজবিজ্ঞানীই হোক সময়ের সাথে সাথে এবং প্রয়োজনের তাগিদে পরিবর্তন অনিবার্য, অবশ্যম্ভাবী। ফোবানার ক্ষেত্রে একমাত্র কাম্য - বিভক্ত সম্মেলন একীভূত হওয়া। আমরা যারা শুরু থেকেই এর সাথে জড়িত তাদের মধ্যে সময়ের পরিক্রমায় ফোবানার ঐক্যের ব্যাপারে আত্মোপলদ্ধি আসা উচিত। জন্মলগ্ন থেকে যাঁরা এর সাথে জড়িত আছেন তাদের সকলকে ঐক্যের ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

পড়শী : উত্তর আমেরিকার প্রবাসী কমিউনিটির স্বার্থে পড়শীর মত মিডিয়াগুলো কি করতে পারে?

মোহোখা : নিয়মিত পড়শী পড়ার সুযোগ আমার হয় না। তবে অনিয়মিত হলেও পড়শীর সাথে আমার যোগাযোগহীনতাও নেই। পড়শীর অনেক আকর্ষণীয় লেখাই আমি পড়ে থাকি। পড়শী প্রবাসীদের জন্য অবশ্যই একটি শক্ত ও সবল ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজে যে সমস্ত প্রয়োজনীয় সংবাদ এবং বিষয়গুলো উত্তর আমেরিকায় প্রকাশিত সাপ্তাহিকসহ অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে উঠে আসে না, পড়শী সযত্নে সেগুলোকে প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

পড়শী : আপনাকে পড়শীর পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ।

মোহোখা : পড়শীকেও আমার পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ। আমি পড়শীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করি।

 

১৯ মে, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.