Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৫ম সংখ্যা ভাদ্র ১৪১৬ •  9th  year  5th  issue  Aug-Sept  2009 পুরনো সংখ্যা
প্রচলিত কৌতুক ও তার উৎস Download PDF version
 

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস

প্রচলিত কৌতুক ও তার  উৎস

ওয়ালিউল ইসলাম

হাস্যরস অর্থাৎ হাসিতে যে রস। রসের অনেক ধর, অনেক গড়ন। এই রস মনে আনে আনন্দ যার প্রতিফলন পড়ে দেহেও। আমরা দেহ ও মনের সমন্নয়ে সৃষ্টি, তাই রসবোধ আমাদের থাকতেই হবে। রসবোধ না থাকলে আর যাই হোক মানব জনম সার হবে না। পড়শীর এ সংখ্যার প্রচ্ছদ কাহিনী বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস, তাই পাঠকের কাছে হাস্যরস পোঁছে দিতেই এ সামান্য প্রচেষ্টা। অনেক কারণেই মানুষের হাসি আসে, আবার অনেক সময় কার ছাড়াই হাসি আসে। কারণ ছাড়া যে হাসি, তার অর্থ অন্যরকম দাঁড়ায় তাই কার দিয়ে হাসির খোরাক দেওয়া ভাল। সেজন্য কৌতুক দিয়েই হাস্যরস অনুভব করার চেষ্টা করবো। তার আগে উৎস সম্মন্ধে একটু বলে নিই। হাসির উৎস যেমন কৌতুক, তেমনি কৌতুকের উৎস প্রতিদিনের কথাবার্তা, রাগঅনুরাগ, ও নানান ধরনের অনুভুতি থেকে যা আবার সময়ের সাথে পাল্টে যায়। সাধারভাবে যা দেখি বা অনুভব করি, তা সাধার ঘটনা হয়ে যায়, আর যা একটু রস দিয়ে দেখার চেষ্টা করি তাই হয় কৌতুক। এক উৎস থেকে আসা কৌতুকের রস অন্য উৎস থেকে আসা কৌতুকের রস থেকে ভিন্ন হতে পারে, তবে সবটাতেই রস থাকে। সময়ের সাথে অনুভুতি পাল্টে যায় কেমন করে তা সেদিন গিন্নীর একটা কথায় ফুটে উঠেছিল। তিনি বললেন যৌবনে খোঁপায় ফুল গুঁজে দিলে যেমন খুশি লাগতো, এখন এই ষাটউর্দ্ধ বয়সে প্রবাসজীবনে রান্নার জন্য তরকারী কেটে দিলে মনে হয় তেমনি খুশি লাগে

দেখি নিচের কৌতুকগুলো আমাদের কেমন হাসাতে পারে, আর তাদের রসই বা ভিন্ন কেমন। শুরু করা যাক ছোট বেলার কৌতুক দিয়ে।

(১)

গ্রামের স্কুল। পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্র তার শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলো স্যার, পিলার বানান কি? শিক্ষক উত্তর দিলেন- Pilar ছেলেটি একটু চুপ থেকে বললো স্যার আমার বড় ভাই কলেজে পড়ে, সে বললো পিলার বানান নাকি - Pillar! শিক্ষক মহাদয় একটু চিন্তা করে বললেন পিলার বানানে এক এল দিলেও হয় তবে দুই এল দিলে Pillarটা একটু পোক্ত হয়।

(২)

শহরের স্কুল। বাংলা ক্লাস। এক ছাত্র ক্লাস শিক্ষক কে জিজ্ঞেস করলো স্যার কপোল মানে কি? শিক্ষক মহাশয় একটু চিন্তা করলেন - কপোল, কপোল- না এমন কোন শব্দ আছে বলে তো তার জানা নেই। তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন কোথায় পেলে এ শব্দ? ছাত্রটি তখন বই থেকে পড়ে শোনালো এই যে স্যার, এখানে লেখা আছে কপোল ভিজিয়া গেল দুই নয়নের জলে। শিক্ষক মহাশয় তখন আবার গম্ভীর হয়ে বললেন ওখানে ছাপার ভুল আছে। আসল শব্দটা হবে কপাল, আর পুরো কবিতাটা হবে-

কপাল ভিজিয়া গেল দুই নয়নের জলে, পা দুটি বাঁধা ছিল ডুমুর গাছের ডালে

(৩)

ইতিহাসের ক্লাস। শিক্ষক মহাশয় একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা রুবেল তুমি বলোতো বাদশাহ আকবরের জন্ম ও মৃত্যু সন কি? রুবেল মাথা নিচু করে একটু চিন্তা করে বললো স্যার, আমার বইতে তো এমন কোন ঘটনা লেখা নাই। কেবল উনার রাজত্ব কালে কি কি ঘটনা ঘটেছিল, তিনি জনগনের সুবিধার জন্য কি কি  ভাল কাজ করেছিলেন, কি ব্যাবস্থার প্রচলন করেছিলেন এই সব লেখা আছে। শিক্ষক মহাশয় ছাত্রটিকে ভাল করে পড়ে দেখতে বললেন বইটি। রুবেল ভাল করে বইটা আবারও পড়ে দেখে বললো না স্যার কোথাও পেলাম না বাদশাহ আকবরের জন্ম ও মৃত্যু সন। শিক্ষক বললেন কই বইটা আনো দেখি। প্রথম পাতাতেই বাদশাহ আকবরের নামের পরেই লেখা (১৫৫৬ ১৬৫৮). শিক্ষক বললেন- এইতো প্রথমেই লেখা, আর তুমি বলছো লেখা নেই। রুবেল মাথা চুলকিয়ে বললো স্যার, এটাতো আমি প্রথমেই দেখেছি, আমি ভাবলাম এটা বাদশাহ আকবরের সেল ফোন নাম্বার।

(৪)

ছোট ছেলেটা স্কুল ছুটির পর তার বাবার দোকানে বসে এবং বাবার অনুপস্থিতিতে দোকান সামলায়। একদিন এক ভদ্রলোক সেই দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় এত বড় দোকানে ছোট ছেলেকে বসে থাকতে দেখে তাকে প্রশ্ন করলো এই যে খোকা, এত বড় দোকান তুমি এইটুকুন মানুষ ঠিক সামলাতে পারো তো?

উত্তর: হ্যাঁ, ভাল ভাবেই পারি।

প্রশ্ন: তা হিসাব রাখতে অসুবিধা হয় না?

উত্তর: জি না।

প্রশ্ন: আচ্ছা বুঝলাম, তা ওই যে বোয়েমের ভিতরের চকলেট, লজেন্স বিস্কুট এসব খেতে ইচ্ছে হয়না?

উত্তর: জি হয়, তবে খাই না। চেটে রেখে দেই।

(৫)

ছাত্রদের পড়াচ্ছেন এক শিক্ষক মহাশয়। পড়ানো শেষ হয়ে গেলেও তখনও ঘন্টা পড়েনি। হাতে সময় আছে কিছুটা। শিক্ষক মহাশয় তাই ছাত্রদের বললেন এখনও ঘন্টা পড়েনি তাই এই ফাঁকে তোমাদের একটা কুইজ দিই, ভেবে চিন্তে উত্তর দেবে। আমার নাম সাহেদ, আমার ভাই এর বয়স ৩৬, সে টয়োটা গাড়ী চালায়- বলোতো আমার বয়স কত? ছাত্ররা সবাই চুপ। চিন্তা করছে কিন্তু এ কুইজের কোন উত্তর তারা পাচ্ছেনা। একি ধরনেন কুইজ। হঠাৎ পেছন থেকে এক ছাত্র দাড়িয়ে বললো ২৬ বৎসর। শিক্ষক অবাক হয়ে বললেন আষ্চর্য্য, কি করে বললে তুমি, আমার বয়স আসলেই ২৬ বৎসর। অবাব কান্ড! ছাত্রটি উত্তর দিল না মানে স্যার আমার বড় চাচা, সে পুরো পাগল, আর তার বয়স ৫২ বৎসর।

(৬)

স্কুল ইন্সপেক্টর এসেছেন স্কুল পরিদর্শনে। ক্লাসে ক্লাসে ঘুরছেন তিনি আর ছাত্রদের নানা ধরনের প্রশ্ন করছেন। মনোবিজ্ঞান ক্লাসে গিয়ে তিনি একটি ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা তুমি বলোতো হাসি কি? ছাত্রটি উত্তর দিলো স্যার এটা একটা আবেগ। খুব ভালো, খুব ভালো তা কি করলে হাসি আসে বলতে পারো? জি স্যার হাসির ঘটন দেখলে হাসি আসে, তা ছাড়া কৌতুক শুনলেও হাসি আসে। ভাল, খুব ভাল তা তুমি একটা কৌতুক বলতে পারবে? পারবো স্যার এক মোরগ আর একটা হাসকে অপরাধ করার জন্য জেল খানায় ঢুকানো হয়েছে। মন তাদের খারাপ খুব। হাসটি মোরগকে জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা ভাই, এরা কি আমাদের পাঁলক ছেটে দেবে? মোরগ বললো, আমি তো ঠিক বলতে পারবো না; তুমি বরং ঐ কোনায় বসে থাকা ইঁদুরটাকে জিজ্ঞেস করো। হাস তখন ইদুঁরকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ইঁদুর ভাই, এরা কি আমাদের পালক ছেটে দেবে? ইঁদুর টা গম্ভীর হয়ে বললো আমি ইঁদুর নই, আমি শজারু

 

************

ছোটদের কৌতুক ও তার দৃষ্টিকোন কত সহজ সরল অথচ এতেও হাসির খোরাক অনেক। কর্মময় ও মাঝ বয়সের কৌতুক যেমন হয় গাড় হাসির খোরাক, তেমনি হয় সুক্ষ ও স্পর্শকাতর। আর এর শাখা-প্রশাখা অনেক বিস্তৃত। দেখা যাক এ কৌতুকগুলো আমাদের কেমন হাসাতে পারে।

(১)

ছোট্ট শহর। সেই শহরের রাস্তার পাশে ভেষজ ওষুধ বিক্রি করছিলো এক লোক। মোটামুটি ভীড় হয়েছে সেখানে আর উচ্চ স্বরে লোকটি বলছে আমার এই ওষুধ ব্যাবহার করুন ও দীর্ঘজীবি হোন। অততে যারা আমার এই ওষুধ খেয়েছেন, সবাই দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হয়েছে। আপনিও হোন। আমি আজ দেড়শ বছর ধরে এই ওষুধ বিক্রি করছি। পথচারী এক ভদ্রলোক ভীড় দেখে থামলেন সেখানে। ওষুধ বিক্রেতার কথা শুনে তার খট্কা লাগলো মনে। দেড়শ বছর ধরে ওষুধ বিক্রি করছে লোকটা, তার মানে তার বয়স দেড়শ বছরেরও বেশি। তা কি সম্ভব? পথচারী একটু অপেক্ষা করে সুযোগ মত ওষুধ বিক্রেতার কিশোর সহকারীকে চুপি চুপি জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা বাবা সত্যি করে বলোতো তোমার ওস্তাদের বয়স কি দেড়শ বছরেরও বেশি? সহকারীটি নির্বিকারভাবে উত্তর দিল কি করে বলবো বলুন, আমি তো এই ওস্তাদের কাছে মাত্র নব্বই বছর হলো আছি

(২)

মহরমের মাস। তার উপর কাঠ ফাটা রোদ। কিন্তু তাই বলে তো আর মাতম থেমে থাকতে পারে না। শহরের রাস্তায় মহরমের বিরাট মিছিল বের হয়েছে। মিছিলের জন্য যানবাহন প্রায় বন্ধই বলা যায়। সেই মিছিলের মাঝামাঝি অবস্থানে আট দশ জন যুবক লোহার চেইন দিয়ে তাদের পিঠে আঘাত করছে আর হাই হোসেন, হাই হোসেন বলে সুর করে মাতন করছে। চেইনের আঘাতে তাদের পিঠ রক্তাক্ত হয়ে গেছে, তবুও থামছে না তারা। ঘাম আর রক্ত মিশে সারা শরীর রক্তাক্ত, লাল হয়ে যাচ্ছে রাস্তা। সেই মিছিলের সামনে এবং পেছনে পুলিশের সাথে সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারাও আছেন। ছবি তুলছেন আর জনগনের কাছ থেকে নানা ধরনের মন্তব্য সংগ্রহ করছেন। দেখা গেল বিদেশী এক ভদ্রলোক সেই মিছিল ঠেলে মিছিলের মাঝখানে যাবার চেস্টা করছেন রক্তের উৎস কোথায় তা দেখার জন্য। তিনি গিয়ে দেখলেন ঘটনা কি ঘটছে। অবাক হয়ে এ সব কান্ড দেখে কিছু বুঝতে না পেরে তিনি একজনকে জিজ্ঞেস করলেন মাফ করবেন স্যার,  এই লোকগুলো এভাবে নিজেদের আঘাত করে রক্তাক্ত হচ্ছে কেন? ভদ্রলোক তখন বিদেশীকে সেই ১৪০০ বছর আগে কারবালায় কি ঘটেছিল তার একটা ছোটখাটো বর্ননা দিলেন। বিদেশি ভদ্রলোক সব শুনে কিছুটা দিশেহারা হয়ে বললেন তা এরা কি সেই খবর আজই পেল?

(৩)

বিখ্যাত এক শহর। সেই শহরের বিশাল এক দোকানে অনেক মূল্য হ্রাস ঘোসনা করলো। যে দিন সকাল থেকে মূল্যহ্রাস শুরু তার আগের দিন রাত থেকেই দোকানের গেটে প্রচুর লোক লাইন ধরলো সকাল ৮টার দিকে বিশাল দেহী এক লোক শিষ দিতে দিতে ভীড় ঠেলে দোকানের গেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু রাত থেকে লাইন দেওয়া লোকজন তার বিশাল দেহের তোয়াক্কা না করে সবাই মিলে ধাক্কা দিয়ে তাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিল। লোকটি কিছুটা অবাক হলো, জীবনে কেউ কোনদিন এভাবে ধাক্কা দেয়নি তাকে। যাই হোক, সে আবার ভিড় ঠেলে গেটের দিকে যাবার চেষ্টা করলো। এবারে সবাই মিলে তাকে চ্যাংদোলা করে দূরে লাইনের শেষে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিল। সে এবার উঠে দাড়িয়ে জামার হাত গুটিয়ে বললো দেখুন আমাকে সামনে যেতে দিন তা না হলে ভালো হবে না বলে দিচ্ছি, বলেই সে আবার সামনের দিকে যেতে চেষ্টা করতেই লোকজন তাকে ধরে চ্যাং দোলা করে আবার পেছনে ফেলে দিল। এবার সে এক লাফে উঠে দাড়িয়ে বললো ঈশ্বরের কছম, এবার যদি কেউ আমাকে ছোয় তবে বলে দিলাম আজকে আমি আর দোকানই খুলবো না

(৪)

দুই বন্ধু এক বার থেকে বেরুল। রাত হয়েছে অনেক। পানীয়ও গিয়েছে পেটে অনেক। টলতে টলতে চলতে চলতে এক জন আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো দেখ চাঁদটা কি সুন্দর। আজ বোধ হয় পূর্নিমা। চাঁদের আলোটা এতো স্নিগ্ধ, আমার খুব ভাল লাগে। দ্বিতীয় বন্ধু আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো দুর বোকা,  ওটা চাঁদ হতে যাবে কেন? ওটা তো সূর্য্য। দেখ্ ছিস না কতো আলো আর কেমন গরম লাগছে। এই নিয়ে তর্ক শুরু হয়ে গেল দুই বন্ধুর মধ্যে। একজন বলে চাঁদ আর একজন বলে সূর্য্য। এভাবে কিছু সময় কেটে গেল। টলতে টলতে যাচ্ছে তারা। মাথা তুলে ভাল করে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলো যে আর একজন লোক তাদের দিকেই আসছে। দুজনেই তখন ঠিক করলো যে ওই লোকটাকে জিজ্ঞেস করবে যে আকাশে ওটা চাঁদ না সূর্য্য। আর এই লোকটি যা বলবে তাই হবে। কিছুক্ষন পর লোকটি কাছাকাছি আসতেই এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা ভাই, আকাশে ওই যে জিনিষটা দেখছেন ওটা কি চাঁদ না সূর্য্য? লোকটি মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু চিন্তা করে বললো- দেখুন ভাই আমি তো ঠিক বলতে পারলাম না কারন আমি এখানে থাকিনা, একটু বেড়াতে এসেছিলাম

(৫)

বন্ধুরা বিয়ের রাতে বিড়াল মারতে হবে বার বার বলে দেওয়া সত্তেও রাজকন্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে রাজপুত্র তা ভুলে গেল। বাসর রাতের পরই রাজপুত্র বুঝতে পারলো কি ভুলটাই না সে করেছে। উঠতে বসতে সব সময়ই রাজকন্যা তার ভুল ধরছে আর মাথায় চাটি মারছে। এভাবে কমাস যাওয়ার পর দেখা গেল রাজপুত্রের মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে চাটি খেতে খেতে। নিরুপায় হয়ে একদিন রাজপুত্র তার বন্ধুদের সরনাপন্ন হলো। এক বন্ধু তাকে কানে কানে কিছু বললে রাজপুত্র মাথা নেড়ে সে বুঝেছে জানিয়ে চলে এলো। প্রাসাদে পৌঁছেই সে ঘোড়াশালে গিয়ে একটা ঘোড়া পছন্দ করলো শিকারে যাওয়ার জন্য, তারপর রাজকন্যাকে বললো তার সাথে আসতে। দুজনে রওনা হলো সেই ঘোড়ায় চড়ে শিকার করতে। কিছুদুর যাওয়ার পর ঘোড়াটি একটা হোচট্ খেল, রাজপুত্র বললো একবার হলো। কি একবার হলো জিজ্ঞেস করেও রাজকন্যা কোন উত্তর পেলনা। তারপর তারা ভালভাবেই শিকারের জায়গায় পৌঁছে গেল। কিছু শিকার করে তারপর খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে রওনা হলো প্রাসাদে ফেরার জন্য। ঘোড়ায় উঠে কেবল রওনা হয়েছে, ওমনি ঘোড়াটা আবার হোচট্ খেলো। রাজপুত্র এবার বললো দুবার হলো। রাজকন্যা এবারও কি দুবার হলো প্রশ্ন করেও কোন উত্তর পেলনা। রাজপুত্র গম্ভীর। রাজপ্রাসাদ দেখা যাচ্ছে, প্রায় পৌঁছে গেছে তারা, আর তখনই আর একবার হোচট্ খেলো ঘোড়াটা। রাজপুত্র তখন তিনবার হলো বলেই লাফ্ দিয়ে ঘোড়া থেকে নামলো, রাজকন্যাকে নামালো তার পর দড়াম করে গুলি করলো ঘোড়াটাকে, আর মুখে বললো একবার, দুবার কিন্তু তিনবার হলে আমি বরদাস্ত করি না। ঘোড়াটা মাটিতে পড়ে যেতেই রাজকন্যা চিৎকার করে উঠল = এ কি করলে তুমি, আমার প্রিয় সাদা ঘোড়াটাকে মেরে ফেললে? জান, আমার বাবা কতো খোঁজ করে তবে ঘোড়াটা কিনে ছিলেন আমার জন্য। তুমি একটা মানুষ না কি? বলেই রাজপুত্রকে একটা চাটি মারলো। রাজপুত্র গম্ভীর হয়ে কেবল বললো একবার হলো

(৬)

এক পাগল পাগলাগারদের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে প্রায় ডুবে যাবার উপক্রম হলে অন্য আর একটা পাগল সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধার করলো। এই খবর শুনে গারদ-কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী পাগলটাকে ডেকে পাঠালো এবং এ মহৎ কাজ করার জন্য তাকে অনেক বাহবা দিল। তাকে এও বলা হোলো যে, যেহেতু সে মৃত্যুর হাত থেকে একটা মানুষকে বাচানোর বুদ্ধি রাখে ও কৌশল জানে, তাকে আর এ গারদে থাকার প্রয়োজন নাই। যখন খুশি সে চলে যেতে পারে এবং একজন স্বাভাবীক নাগরীকের জীবন জাপন করতে পারে। ঠিক সেই সময়ই এক আর্দালী দৌড়াতে দৌড়াতে এসে খবর দিল - যে লোকটাকে ডুবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুনে কতৃপক্ষ মর্মাহত হলেন এবং উদ্ধারকারীকে বললেন এটা খুবই দুঃখের কথা। তুমি লোকটাকে বাঁচালে আর সে কিনা আত্মহত্যা করলো। যাই হোক দুঃখ করোনা, তোমার কাজ তুমি করেছ এবং ভাল কাজই করেছো। উদ্ধারকারী পাগল এ সব শুনে মাথা ঝাকিয়ে বললো না স্যার, ও আত্মহত্যা করেনি, খুব ভিজে গিয়েছিল তাই আমি ওর গলায় দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে গিয়ে শুকাতে দিয়েছি

********

ষাটউর্দ্ধ বয়সের কৌতুক সাধারত স্বাস্থ্য ভিত্তিক ও মানসিক বিষয় নিয়ে হয়। সেগুলিতে অতিতের শিক্ষা, ভুল, শারীরিক ও মানসিক অবহেলা ইত্যাদির প্রতিফলন থাকে। তারই দু একটি কৌতুক দেওয়া হলো পাঠকের মনে রস সঞ্চারের নিমিত্তে।

(১)

ভদ্রলোকের বয়স পঁচাত্তর কিন্তু দেখতে অনেক কম বয়েসী মনে হয় এবং বয়সের তুলনায় স্বাস্থ্য ও ভাল। একদিন তিনি সামান্য কোন অসুবিধার জন্য ডাক্তারের কাছে গেছেন। ডাক্তার তাকে পরিক্ষা করে বললেন আপনার স্বাস্থ্য খুবই ভাল আপনার বয়সের তুলনায়। তাছাড়া আপনাকে দেখলেও তো মনে হয়না আপনার বয়স এত। তা আপনার এই ইঅং থাকার রহস্যটা কি? কি করেন আপনি এই ইঅং থাকার জন্য? ভদ্রলোক বললেন না আমি তেমন বিশেষ কিছু করিনা। আর দশজন যা করে আমিও তাই করি। বিয়ের সময় আমি আর আমার স্ত্রী ঠিক করেছিলাম, যে খারাপ ব্যবহার করবে এবং রাগারাগী করবে সে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাবে। তো ভালই ছিলাম আমরা। দুজনেই সাবধানে থাকতাম। কিন্তু একদিন একটা ব্যাপার নিয়ে আমার মাথায় আগুন চড়ে গেল আমি আর নিজেকে সংযত করতে পারলাম না। খুব রাগ করেছিলাম সেদিন। তারপর অনেক চিন্তা ভাবনা করে সর্ত অনুযায়ী পরের দিন অর্থাৎ আমাদের বিয়ের বছর দুই পরে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেয়েছিলাম। আজ চল্লিশ বছর হলো বাইরেই আছি আর ফিরে যাইনি ঘরে।

(২)

এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে বলছে শোন দোস্ত আসলে না আমার জীবনটা শিখতে শিখতেই শেষ হয়ে গেল। কিরকম? জিজ্ঞেস করলো বন্ধুটি। বয়স হয়ে গেল তবুও তুই এসব বুঝবিনা। বিয়ে তো করলিনা জীবনে তুই বুঝবি কি করে প্রথম বন্ধু বললো। দ্বিতীয় বন্ধু বললো ঠিক আছে, আমি না হয় বুঝিনা তা তুই বোঝা, যে কি শিখছিস তুই যা শেষ হচ্ছে না। প্রথম বন্ধু তখন বললো শোন, ছোট বেলায় মা বাবা শিখলেন কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক। তার পর স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে এলাম কতো কি শিখলাম ভাবলাম পরের জীবনটা আর বেশি কিছু শিখতে হবে না। তার পর করলাম বিয়ে। ব্যাস, নতুন করে আবার সব শিখতে হলো, দেখলাম আগে যা জানতাম ভুল জানতাম। তারপর হলো ছেলে মেয়ে। তারা একটু বড় হয়েই শেখাতে শুরু করলো আমাকে। তাও সহ্য করে চলছিলাম এই ভেবে যে সময় বদলেছে, ছেলেমেয়ের কাছ থেকে সময় উপযোগী সব কিছু শিখতে ক্ষতি কি? কিন্তু সহ্যের ও তো একটা সীমা আছে। সে দিন আমার মেয়ের ঘরের তিন বছর বয়সের নাতনীটা আমাকে বললো নানা, মোজা না পরে জুতা পরছো কেন? যাবো কোথায়!

 

মন্তব্য:
Biswajit Ghosh   September 5, 2009
Asadharan.
M.A.HANIF   September 4, 2009
hahaha hahaha
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.