Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি  ||  ৯ম বর্ষ ৫ম সংখ্যা ভাদ্র ১৪১৬ •  9th  year  5th  issue  Aug-Sept  2009 পুরনো সংখ্যা
ব্রাত্যজনদের কথায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস: নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সাথে আলাপচারিতা Download PDF version
 

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

ব্রাত্যজনদের কথায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস:

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সাথে আলাপচারিতা

 

নাহিদ রিয়ানন

যে কোন ইতিহাস ঠিক যে ভাবে ঘটেছিল সেভাবে আগামী পৃথিবীর কাছে তুলে ধরার জন্য ঘটনার প্রবাহগুলো সঠিক ভাবে গেঁথে রাখা যেমনি গুরুত্বপূর্ণ তেমনি কঠিন। বিশেষ করে যখন সেই ইতিহাস হয় একটি দেশের জন্ম ইতিহাস, সে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, জনগণের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সত্যকাহিনী। আমরা যেমন নিজেদের শিকড় সন্ধানের কথা বলি, নিজের আদি পুরুষ ও সংস্কৃতির পরিচয় যেমনি আত্মপরিচয় উদঘাটনের মাধ্যমে আমাদের আমিত্বকে জাগিয়ে তোলে, তেমনি একটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস সে দেশের মানুষদের মাঝে জাগিয়ে তোলে আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানবোধ। এভাবেই নতুন দেশটির মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশ জুড়ে থাকে এর আদি পুরুষের দেশপ্রেম, মূল্যবোধ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। জাতির আত্মবিশ্বাসের শক্ত ভিতের জন্য তাই প্রয়োজন এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। সেদিন থেকে পেরিয়ে গেছে ৩৮ বছর আমাদের ইতিহাসের পূর্ণ দলিল এখনো লেখা হয়ে ওঠেনি। তবে কাজ চলছে। এমনি অনেক প্রকল্পের একটির সাথে আমি পরিচিত হলাম গত জুলাই (২০০৯) মাসে। মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর টেলিভিশন অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন আমার ভেতরে তৈরী করলো এক নতুন অনুভূতি, জীবনকে দেখার এক নতুন দৃষ্টি আর জন্ম নিল অনেক প্রশ্ন। সত্যতা যাচাই করে সঠিক ধারাবাহিকতায় মু্ক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গেঁথে রাখার জন্য একটি বিশেষ উপায় হলো ব্রাত্যজনদের আত্মকথনের মাধ্যমে সত্যঘটনার ধারা বর্ণনা। পৃথিবীর আরো অনেক দেশেও একই ভাবে ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হয় বলে জানান জনাব ইউসুফ। মানুষের মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা, নিজ চোখে দেখা আপন জনদের নৃশংস হত্যাকান্ড আর ব্যথা ভারাক্রান্ত বীরাঙ্গনাদের নিগৃহীত জীবন কাহিনী তাদের নিজ মুখ থেকে শোনার মত শক্তিশালী ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার উপায় বোধহয় আরেকটি নেই। এমন একটি প্রকল্পই হাতে নিয়েছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। হিউষ্টনে অনুষ্ঠিত ২০০৯ সালের ফোবানা সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলায় জনাব ইউসুফ ‌চ্যানেল আই-এ তার অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন এর কিছু অংশ দেখালেন। দেখতে গিয়ে চোখের পানি লুকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল, একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে চোখ মুছতে শুরু করলাম। এ আমার জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাস, আমার জন্মসূত্রের অহংকার। আমার চোখের পানি আসলে কোন দুঃখ নয়, এটা কষ্ট যে আমাদের ইতিহাসের এক বিরাট অংশ আমরা এখনো পুরোপুরি গেঁথে উঠতে পারিনি যার ভেতরে লুকিয়ে আছে অনেক ভয়ংকর অথচ সত্যকাহন, গণহত্যা আর নির্যাতনের মর্মবিদারক ঘটনাবলী। যারা আমাদের ইতিহাস লিখনে সহায়তা করছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পাশাপাশি তাদের কাজের জন্য বাংলাদেশী হিসেবে গর্বও বোধ করলাম। এ অনুষ্ঠানে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশী নাড়া দিল তা হলো বীরঙ্গনাদের জীবন কাহিনীর অংশ বিশেষ। বাংলাদেশের নয়মাস দীর্ঘ যুদ্ধের অনেক গর্ভফসলের একটি হলো অনেক বীরাঙ্গনার করুণ কাহিনীচিত্র, কিন্তু বাংলাদেশের মায়েদের মতই এই মাদের জীবনও বহুল নিগৃহীত ও নিপীড়িত।

সাধারণ মানুষ, যারা হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে যেয়ে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু জীবনের প্রতি মুহূর্ত দিয়ে তারা যোগ দিয়েছেন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে, আর সকলেই বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা। একথাটি আমি শিখেছিলাম আমার মা-বাবার কাছে। পারিবারিক সূত্রে আমি যুদ্ধক্ষেত্রে ও দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের কাতারে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ও যুদ্ধের পক্ষে কাজ করা দুধরনের মু্ক্তিযোদ্ধাদের সাথেই জড়িত বলে তাদের কার্যক্রম, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের জন্যে গর্বিত বোধ করি। সেই সূত্রেই আমি প্রথম জানতে পারি বীরাঙ্গনাদের কথা। জানতে পারি তাদের লুকিয়ে রাখা দুঃখ কাহিনী কেমন করে এখনো আড়াল করে রাখা হয় আমাদের সমাজে। কারণ, জানাজানিতে তাদের জীবন হয়তো হয়ে উঠবে আরো দুর্বিষহ। অন্তর্জাল সংবাদ লিংকে একবার এমনি এক মা ও তার যুদ্ধ সন্তানের কথা পড়ে আমার মার সাথে এ বিষয়ে কথা বলছিলাম। মা যা বলেছিলেন সেটা সবার জানা, বিষয়টা এতটা সাদাসিধে নয়, ব্যাপারটা শুধু উদঘাটনের বিষয় নয়, এর পরে কি হবে, এরা কিভাবে কোথায় নিজেদেরকে নিরাপদে রাখবে এ প্রশ্নটি সমস্যা সমাধানের পথে একটি বিরাট বাঁধা। ব্যাপারটি আরো পরিস্কার হয় যখন আমি আমার এক নানুর (মিসেস এ. আর. রহমান) সত্যঘটনা নিয়ে লেখা স্মৃতির মেঘে বৃষ্টি ঝরে গল্পের বইটি পড়ি। তাঁর একটি গল্পে তিনি ১৬ই ডিসেম্বরের পর একটি বাড়ীতে আটকে থাকা কয়েকজন বীরাঙ্গনাদের কথা লিখেছেন যারা কাপড়ের অভাবে স্বাধীন দেশেও বেরিয়ে আসার মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। নানু আমাকে বলেছিলেন যে দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসল স্বাধীনতার ঠিকানায় পৌঁছাতে আমাদের আরো অনেকদূর হাঁটতে হবে; আর যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশে এইসব মেয়েরা আত্মমর্যাদা নিয়ে পূনর্বাসিত হতে পারবে, সেদিন আমাদের সমাজ স্বাধীনতার পক্ষে আরেক পা এগোবে, একাজ বড় কঠিন আর একজন মুক্তিযোদ্ধাই পারবে একাজটি হাতে নিতে। আমার নানু গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর হলো। নাসিরউদ্দীন ইউসুফ আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন সেই কথায়। আমরা কে এবং কোথায় এবিষয়ে কি করছি। জনাব ইউসুফের অনুষ্ঠানের এক অংশে ছিল তাঁর সাথে বীরাঙ্গনাদের কথোপকথন। আমার মনে হলো, এ দৃশ্যই আমার মত আরো অনেককে বলে দেবে আমরা স্বাধীনতার পক্ষে আরেক পা এগোনোর প্রথম কদম ফেলেছি। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে পৃথিবীর সব যুদ্ধ ইতিহাসের একটি অপমান, কুৎসিত আর অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক হলো বীরাঙ্গনাদের কাহিনী। অপমান, নিপীড়ন, নির্যাতন, মানসিক ও শারিরীক কষ্ঠভার যা এই রমণীদের কেউই স্বেচ্ছায় নিজের উপরে টেনে আনেনি, তা যেন কোন দিনই আর তাদের ছেড়ে যাবার নয়। যুদ্ধ সংবাদের মাঝে এসব নির্যাতন একটি বিষয় হলেও যুদ্ধ পূনর্বাসনে এ বিষয়টি কতটা অগ্রাধিকার পায় বলা মুশকিল। সম্প্রতি জয়নব সালবির বিটুইন টু ওয়াল্ডর্স বইয়ে তার আন্তর্জাতিক সংগঠন সম্বন্ধে জানতে পারলাম। তার সংগঠন উইমেন ফর উইমেন বীরাঙ্গনাদের মানসিক, শারিরীক ও সামাজিক পূর্নবাসনের জন্য কাজ করে। বইটি পড়তে যেয়ে মনে হলো, বাংলাদেশ ও তার বীরাঙ্গনারা পৃথিবীতে একা নয়, এ দুঃখ, কষ্ঠ ও লজ্জা পৃথিবীর মানব জাতির। এটা লুকিয়ে রাখার নয় বরং বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে, নির্যাতিত ও নিগৃহীত নারীদের পূর্ণ মর্যাদায় সমাজে পূর্নবাসন ও প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন হলেও একটি অতি জরুরী কাজ। নাসিরউদ্দীন ইউসুফের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের অংশবিশেষ দেখে আরো একটি বিষয় মনে পড়লো, বাংলাদেশের বীরাঙ্গনারা শুধুই নিগৃহীত আর অপমানিত জীবন যাপন করছেন না, তারা তাদের জীবনের চরম অপমানের মূহূর্তটি যেন প্রতিদিন নতুন করে পূনর্যাপন করছেন। অবশ্যই স্ব-ইচ্ছায় নয়। নাসিরউদ্দীনের সাথে কথা বলার সময় একজন বীরাঙ্গনা দেখাচ্ছিলেন তার ঘর, যেখানে তিনি পাকসৈন্য ও হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন, বলছিলেন সেদিনের ঘটনা। সে ঘর, সে উঠোন, আজো তার বাড়ী, তার গ্রাম, তার ঠিকানা যেখানে তিনি প্রতিদিন তার উপরে করা নির্যাতনের জন্যে নিগৃহীত, অপমানিত হন। তবুও পৃথিবী এগোয়- প্রতিদিন আমরা মনে করি এগিয়ে চলি আমরাও। আর সেই নারী, যার ভোর হয় সেই একই ঘরে, একই উঠোনে যার সূর্যোদয়, তার কথা আমরা কি করে বুঝবো, সে জীবন যে তিনি একাই বহন করে চলেন। দেশ ও সমাজ বিভেদে বা কোন ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রেক্ষিতে পূনর্বাসন শব্দটির সময় ও ঘটনাপযোগী মানে ভিন্ন হতে পারে, তবে মানুষের নিগৃহীত জীবন কোন কালেই, কোন সমাজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। বীরাঙ্গনাদের মুখে তাদের দুঃখ ও অপমানের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া অবশ্যই সাহসের কাজ, সবচেয়ে বড় সাহসী যোদ্ধা এখানে বীরাঙ্গনা যার যুদ্ধের এখনো শেষ নেই, প্রতিদিনই বুঝি তর যুদ্ধের দিন।

সমাজের কাছে ব্রাত্যজনদের মুখে বলা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা ছাড়াও আর যে প্রকল্পটি জনাব ইউসুফ ভবিষ্যতে করার আশা রাখেন, সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধ আশ্রম। এখানে সম্মানের সাথে থাকতে পারবেন মু্ক্তিযোদ্ধারা, আত্মমর্যাদার সাথে কিছুদিন হলেও নিশ্চিন্তে শান্তির দিন পার করার অধিকার পাবেন বীরাঙ্গনা মায়েরা। ঢাকা থিয়েটারের ডিরেক্টর, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক জনাব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু গ্রাম থিয়েটারের মাধ্যমেও সারা দেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবন্ত করে রাখছেন। ১৯৯২ সালে তারা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতে একই সময়ে সেলিম আল দ্বীনের নাটক মঞ্চায়ন করে সারা দেশে একত্রে ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন করেন। কয়েকজন বীরাঙ্গনা এসেছিলেন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে। টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকায় এ খবর দেখে দেশের আরো বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জনাব ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করেন অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি। খবর পাওয়া যায় আরো মুক্তিযোদ্ধাদের ও বীরাঙ্গনাদের যারা স্বাধীনতার ইতিহাস লিখতে সহায়তা করছেন। বীরাঙ্গনাদের চিন্হিত করার পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সামাজিক নিরাপত্তা ও পূনর্বাসনের জন্যে জনাব ইউসুফের প্রকল্পের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন আরো কিছু মানবাধিকার সংস্থা। ইতিহাস লেখা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসনের বাইরে স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণেও কাজ করছেন জনাব ইউসুফ। তিনি ও তার স্ত্রী বিশিস্ট শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী শিমুল ইউসুফ একত্রে কাজ করে চলেন প্রগতিশীল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে। আশা রাখেন ভবিষ্যতে মেয়ের সাথেও এবিষয়ে একসাথে কাজ করবেন তিনি। তাঁর মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই আমি প্রথম বীরাঙ্গনাদের মুখে শুনতে পাই তাদের কথা। তাদের করুণ ও নিগৃহীত জীবন আমাকে সহ আরো অনেককে কাঁদিয়েছিল সেদিন। শুধু কান্না নয়, যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগিয়ে রাখার পাশাপাশি যে কঠিন কাজটি শুরু করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, তাঁকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও ব্যথা ভরা জীবন থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখা মাদের সূর্যের আলোকে সম্মানের সাথে জীবিত করে তোলা হোক আমাদের সবার জীবনের একটি লক্ষ্য।

হিউস্টন

আগস্ট ০২, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.