Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ৫ম সংখ্যা ভাদ্র ১৪১৬ •  9th  year  5th  issue  Aug-Sept  2009 পুরনো সংখ্যা
চিরকুমারী শ্যামাসুন্দরী Download PDF version
 

সাহিত্য

 

রম্যরচনা

 

চিরকুমারী শ্যামাসুন্দরী

 

রণজিৎ বিশ্বাস

 

 

আমার একমাত্র উত্তরাধিকারিণীর জননীতাঁকে তটস্থ করে, সংশয়ে সন্দেহে ডুবিয়ে আমার টেলিফোনে ম্যাসেজ-টোন এলো এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জানতে চাইলেন-

: কার সঙ্গে তোমার অত ম্যাসেজ ম্যাসেজ খেলা? তাও আবার এই বয়সে! চুল কি তোমার বাতাসে পাকছে, না বয়সে? বুঝতেইতো পাচ্ছিনা!

: দেখ, প্রয়োজনে কাউকে ম্যাসেজ পাঠানো, আর সৌজন্য ও ভদ্রতার দাবি পূরণ করে অন্যের ম্যাসেজ-এর জবাব দেয়া-এগুলোর নাম ম্যাসেজ ম্যাসেজ খেলা নয়আর, তোমার বিচারে খেলা যদি হয়ও, এ খেলার জন্য কোন বয়স লাগে নাসব বয়সেই খেলাটি চলতে পারেতাছাড়া, তুমিত জানো, বয়সকে একটি সংখ্যা ছাড়া আমি দ্বিতীয় কিছু ভাবি না

: সে আমার চেয়ে বেশি আর কে জানে?

: আর কে জানে মানে, আমিই সবচেয়ে বেশি জানিতুমি হচ্ছো সেই জন যার সংসারে এক অন্তরে শতেকযাকে নিয়ে সংসার কর, তাকে ভালোবাসো নাআর যাদের ভালো-বাসো তাদেরতো সংসারে আনবার উপায় নেই

: তুমি কি কথাগুলো সেন্স-এ বলছো?

: সেন্স-এই বলছিতোমাকে আমি হাড্ডিতে, অস্থিতে, রক্তেমাংসে ও নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে চিনি বলেই বলছিবলার সাহস আমার আছে বলেই বলছিআমি আমার তিরিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

: তিরিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমারওতো কিছু বলার থাকতে পারে!

আগে এই অস্ত্রটি প্রয়োগ করলে তিনি চুপ করে যেতেন এবং গুম মেরে থাকতেনকারণ তার লেজ ধরে অনেক কথা আসতোএবার অন্যরকমঅনেক কথা বলতে হলো দুজনকেইযুক্তির পিঠে যুক্তি, কুযুক্তির পিঠে কুযুক্তি চলে আসতোতিনি বলতেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক রচিত হওয়ার পরও আমি কাকে মাথায় নিয়ে কবিতা লিখেছি দুতিনটেসবই তাঁর মুখস্থঅত নিষ্ঠায় তিনি কোনদিন স্কুল কলেজের লেখা পড়াও হয়তো মুখস্থ করেননিযেমন, কোন অধিকারে কাঁদাও তুমি, কেঁদে কেঁদে বলেছিল ইলা।/ আমি শুধু বলেছিলাম, অধিকার আছে কিনা কোন, জানি না।/ জানি শুধু নিগড় ভাঙতে ভালো লাগে আমারএটি তুমি লিখেছিলে তোমার সেই ছাত্রীকে নিয়ে, নোয়াখালী কলেজের সেই শ্যামাসুন্দরীকে নিয়ে যে এখন রেডিওতে চাকরি করেতুই হবি জননী তুই হবি ঘরণী প্রেমিকা আমারএইটি তুমি লিখেছ তোমার সেই সহপাঠিনীকে নিয়ে যিনি এখন বিএম কলেজের প্রফেসরসন্তানকে মানুষ করতে হবে তেমন/টগবগায় যেমন আরবী ঘোড়া।/আলিঙ্গন ঘনতর করি ইলা বলেছিল,/পারবো, পারবো আমি শতবার/তোমার আমি দেবো নাথ শতসন্তান উপহারএই ইলা যে কোন ইলা, তাতো আগেই বলেছিদ্বিতীয়বার বলতে চাই না

আমি বলতাম, যাদের নিয়ে তুমি এসব বল, আর ভেবে ভেবে কষ্ট পাও, তারা যদি এসব জানে, আমাকে তারা কী ভাববে, সে আমার ওপর ছেড়ে দাও, তোমাকে কী ভাববে বুঝতে পেরেছো!

তিনি বলতেন, আমাকে নিয়ে আর কারও কিছু ভাবতে হবে নাআমি আর বেচা যাবো নাআমার বয়স হয়েছে, আমার ছেলে বিয়ে হয়েছে, সে বাবা হচ্ছে, আমার এখন আটচল্লিশ যাচ্ছে

যাক না আটচল্লিশতোমরাতো নাকি বনোজলে ও প্রাণরসে দুবার হাবুডুবু খাওকুড়ির আগে আর চল্লিশের পরে

বাজে বকো নাবয়স তোমারও হয়েছে

সে যদি কেউ বুঝতো!

বুঝবে কী করে! তুমিইতো বলো- বয়স আমার কাছে সংখ্যামাত্রতোমার লোলচর্মের দেহে মনের বয়সতো বাড়ে নিতোমার চোখের তৃষ্ণা একটুওতো কমেনি

কমেনিতো তোমারও

কী করে বুঝলে?

জানো না কী করে বুঝলাম! জানো না কখন তোমার ভ্যানিটি ব্যাগে কী দেখতে পেয়ে আমি টাকা সরানো বন্ধ করলাম! জানো না কখন থেকে আমি তোমাকে এক্সট্রা কেয়ারফুল বানিয়ে ফেললাম! তোমারতো সে কৃতজ্ঞতাবোধও নেই! কারও ঔদার্যের মূল্যায়নতো তোমার কাছে হতে দেখলাম না

এখন বল, কে পাঠিয়েছে ম্যাসেজ?

সে আমি আজ বলবোই না

তোমার লেখার ভক্ত ইডেন কলেজের সেই ছাত্রী?

পাগলামো রাখো

রাখবো কেন! তোমার দৃষ্টির রেইঞ্জতো আমি জানিকোন স্ল্যাবের ওপরে আর কোন স্ল্যাবের নিচে- সেটিতো এখন আমাকে আর নতুন করে বুঝতেও হবে না, নতুন করে চিনতেও হবে নাতোমার জীবনের সবগুলো মনিমুক্তো আমি উল্টেপাল্টে দেখে নিয়েছি

: তা ভালো করেছোতবে, তোমার সঙ্গে আজ আমি আর কোন বিবাদে জড়াবো নাকথাও বলবো নাআজ আমার মাথাটা তুমি গরম করে দিয়েছো

: দুপুরে ভাত চাইবে কার কাছে? চিংড়ির বড়াটা কাকে দিতে বলবে?

: কারও কাছে চাইতে হবে না আমার! হোটেলে খাবো

: হোটেলে কেন খাবে! তোমার আরওতো সংসার আছে, সেখানে খেয়োচিরকুমারী শ্যামাসুন্দরী যাবে কোথায়? তারওতো কাংক্ষা আছেতারও তো দাবি আছে

: আমি এখনই ঘর থেকে বেরিয়ে যাবো

: আমিতো আর রুখতে পারবো না

: তোমার সমস্যাটা কোথায় হয়েছে জানো?

: কোথায়?

: কোন লেখকের সঙ্গে তোমার বিয়ে হওয়া উচিত হয়নি

: বুঝতে পেরেছিআমার চেয়ে বেশি আর কে বুঝতে পেরেছেবাইরে মধু ঝরে, ভেতরে তিতে সরেআমি একটা জিনিস ঠিক করেছি, একেবারে ফাইনাল করে ফেলেছি

: কী সেটা!

: লেখালেখির ত্রিসীমানায় যদি কারও স্বভাবের ছিঁটেফোঁটাও থাকে, আমি তাকে আমার মেয়ে দেবো না

: ঠিক আছে, দিও নাল্যাঠা চুকে গেলোআমি এখন বাইরে যাবোতোমার জন্য কিছু আনতে হবে? ডিমডাম? নুডলস পাউরুটি? কলাদলা?

: আনোতো বিপদ আছেতোমার আনা কোন জিনিস আমি আজ স্পর্শ করবো নাতুমি আমার মাথা গরম করে দিয়েছ

: ঐ বস্তুটি ঠাণ্ডা থাকে কখন?

: এই মেয়ে, তোর বাবাকে এক্ষুণি বাইরে যেতে বলনইলে আমি কী করি, জানি নাহয় ওর মাথা ফাটাবো, নইলে আমারটি ফাটাবো না

মেয়ে ইশারায় বললো- বাবা তুমি বাইরে থেকে ঘুরে আসো গেএকটু পরে সব ঠিক হয়ে যাবেআমি দেখছি

তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে আমি বাইরে এলাম এবং হাঁফ ছাড়লামএমন লম্বা একটি নিঃশ্বাস ছাড়ায় কী যে শান্তি! কী যে মুক্তিবিবাদের চক্করে পড়ে তিনি সাঁড়াশিতে আমাকে গেঁথে যা জানতে চাননি- তার সহজ সরল অনুবাদ হচ্ছে- বল ব্যাটা বলকার সঙ্গে তোর ম্যাসেজ খেলা আমাকে বলআমি জানতে চাই কার এমন সাহস!

পুরো ভেজাল আর গোলমেলে ব্যাপারটা তিনি ভুলেই গিয়েছিলেনআমি দ্রুত ম্যাসেজটা মুছে ফেল্লাম ও এক শুচিশুদ্ধসফেদ মানুষ হয়ে গেলামমনে মনে বললাম- তুমি চালাক! না, আমি চালাক! v

লেখক শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

ঢাকা,

জুলাই ১৮, ২০০৯।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.