Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
একাত্তরের বিজয় আনন্দের সাথে অন্য কোন আনন্দের তুলনা চলেনা Download PDF version
 
বিজয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা

 

         একাত্তরের বিজয় আনন্দের সাথে অন্য কোন আনন্দের তুলনা চলেনা

 

    সুব্রত বিশ্বাস

 

          একাত্তরের মধ্যভাগ আমার কর্মস্থল সিলেট-মেঘালয় সীমান্তে তামাবিলের পাশ্ববর্তী মেঘালয়ের ডাউকীতেঅনেকগুলো দায়িত্ব আমার ওপরনাছাইন ইয়ুথ ক্যাম্পের রিক্রুটিং-এর দায়িত্ব, তামাবিলের পাশ্ববর্তী জাফলং, হাদারপার, সানকিভাংগা, সেংগ্রাম, বল্লা এসব মুক্ত এলাকা দেখাশুনা, অপারেশনে আহতদের শিলং হাসপাতালে পাঠানো, দেশের ভেতর থেকে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে আসাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এসব আরও কিছুকিন্তু নভেম্বরে যৌথ বাহিনীর আক্রমণ শুরুর প্রাক্কালে সবকিছু  গুছিয়ে ফেলতে হয়আবার অনেক দায়িত্বের আর প্রয়োজন বা গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়তখন পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি

        নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিলেট তামাবিল সদর রাস্তা দিয়ে আমরা সিলেটের দিকে এগুচ্ছিসিলেটের পথে তামাবিল থেকে আট মাইল দূরে জৈন্তাপুর থানা হেডকোয়ার্টারজৈন্তাপুর থানা হেডকোয়ার্র্টার ছোট ছোট পাহাড়ী টিলায় ঘেরাশুরু থেকে পাক বাহিনী এখানে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলকিন্তু মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণের মুখে পাক বাহিনী বেশিক্ষণ অবস্থান ধরে রাখতে পারেনিজৈন্তাপুর থেকে মাইল দুয়েক দূরে সারিঘাটে ছিল পাকবাহিনীর দ্বিতীয় অবস্থানকিন্তু সেখানে তেমন প্রতিরোধই আসেনি পাক বাহিনী জৈন্তা, সারিঘাট, দরবস্ত ত্যাগ করে সোজা নয় মাইল দূরে হরিপুরে গিয়ে শক্ত অবস্থান নেয়সিলেটের পথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ থাকায় পাক বাহিনীর জন্য এটা একটা বড় অসুবিধা ছিলযৌথবাহিনী দরবস্তে অবস্থান নিয়ে হরিপুরে আক্রমণ চালায়এদিকে জকিগঞ্জ থেকে কানাইঘাট হয়ে মেজর সি আর দত্তের বাহিনী দরবস্ত এসে যোগ দিয়েছে

         এদিকে সারিঘাটে একটি সমস্যা দেখা দেয়পাক বাহিনী সারিঘাট ত্যাগ করার সময় সিলেট তামাবিল রাস্তার ওপর খরস্রোতা সারি নদীর ওপর বৃটিশের নির্মিত লোহার পুলটি ভেঙ্গে দিয়ে যায়তখন হেমন্তকাল চলে এসেছে, নদীর পানি অনেক নীচে নেমে গেছেনদীতে মিত্রবাহিনী যুদ্ধের একটি অস্থায়ী পুল তৈরী করেছে, কিন্তু দুই পাড়ে বালুর স্তুপের সাথে সংযোগ থাকায় স্রোতের মধ্যে পুল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল নাঅথচ পুলটি না হলে নয়এখানে বলা দরকার আমার গ্রামের বাড়ী ঐ এলাকায় পেছনে ফেলে আসা জৈন্তাপুরেযদিও শহরে থাকি কিন্তু সত্তরের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ন্যাপ নেতা পীর হবিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে থেকে জৈন্তাপুর, তামাবিল, জাফলং এসব এলাকা চষে বেড়িয়েছিআমার সাথে ছিলেন বিয়ানীবাজারের আবুল খয়ের চৌধুরী (পরে মুক্তিযোদ্ধা) এবং সুনামগঞ্জের ছাত্রনেতা গোলাম রব্বানীএসব বিবেচনা করে এডভোকেট আব্দুল লতিফ সরদার (শ্রদ্ধেয় সরদার ভাই) দায়িতট্বি আমার ওপর ন্যাস্ত করে দেনসরদার ভাই মেঘালয়ের বালাট থেকে এসে আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেনবালাট থেকে তিনি সুনামগঞ্জে কাজ করেছেনআব্দুল লতিফ সরদার বাষট্টির ছাত্রনেতাতখন জেলা ন্যাপের কোষাধ্যক্ষসত্তরের নির্বাচনে জেলা ন্যাপের নির্বাচনী প্রচারের কো-অর্ডিনেটর ছিলেনসে যাক, এখন দায়িত্বটি কিভাবে সম্পন্ন করা যায় সেটা আমার কাছে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়            

       অনেক চিন্তা করে একটা পন্থা বের করা গেলদেশের বিভিন্ন স্থানে সাপ্লাই দেওয়ার জন্য নদীর ধারে কন্ট্রাক্টরদের কালেকশন করা বিরাট বিরাট অনেক বল্ডার পাথর ছিলসিদ্ধান্ত নিলাম এলাকার লোকজন নিয়ে দুই পাড়ে এসব পাথর ফেলে নদীর প্রস্থ কমিয়ে এনে পুলটি তৈরী করে ফেলারাতে এলাকার আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের পরিচিতজনদের খবর দেওয়া হলোপরের দিন ৫০/৬০ জন লোক এসে হাজিরলোকজনের স্বতর্ষ্ফুর্ত সাহায্যে দুদিনে পুলটি তৈরী করে ফেলিপুল তৈরীর জন্য দুদিন আমাকে সারিঘাটে থাকতে হয় 

         এখানে একটি ঘটনা না বললে নয়দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যার পর পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এক মহিলা ও তার মেয়ে কিছু লোকজনসহ আমার কাছে এসে বিচার প্রার্থীঅভিযোগ মহিলার স্বামী ও মেয়ের বাবার বিরুদ্ধেমহিলার স্বামী শান্তি কমিটির সদস্যসে প্রায়ই বাড়ীতে পাকবাহিনী নিয়ে আসতো এবং তাদেরকে নারী সাপ্লাই দিতএকদিন সে বাড়ীতে নেই পাক বাহিনীর জোয়ানরা বাড়ীতে এসেছেতাকে না পেয়ে মেয়ে ও মাকে তারা ধর্ষণ করেতারা চলে যাওয়ার পর স্বামী বাড়ীতে এলে মা ও মেয়ে তাদের ধর্ষণের ঘটনা তার কাছে বর্ণনা করেকিন্তু স্বামী এসবে ভ্রক্ষেপ না করে তারপরও পাক বাহিনীকে বাড়ীতে নিয়ে এসেছেতাদেরকে এ অন্যায় কাজে ব্যবহারে বাধ্য করেছেমা ও মেয়ে উপায়ান্তর না পেয়ে তার অন্যায় সহ্য করেছেএখন এলাকা মুক্ত হয়েছে, তাদের ওপর মহিলার স্বামী ও মেয়ের বাবার অন্যায়ের প্রতিকার তারা চায়সে এখন পালিয়ে পাশের গ্রামের একটি বাড়ীতে লুকিয়ে আছেতাকে ধরে এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য তারা আমার কাছে এসেছেআমি বললাম, এই মুহূর্তে আমার এ দায়িত্ব নয়দেশ পুরো স্বাধীন হওয়ার পর বিচার প্রার্থী হলে অবশ্যই তার বিচার হবেকিন্তু না, এখনই ধরে আন্‌তে হবেঅনেক করে আমার ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতা  বুঝিয়ে তবে তাদের বিদায় করিপরে জেনেছি দেশ স্বাধীন হলে সে জেলে ছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত হয়ে যায়এভাবেই সেদিন জামাত-শিবির-রাজাকার-শান্তি কমিটির অমানুষগুলোর হাতে দেশের লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে 

        পূর্বের কথায় ফিরে আসিদুদিন ধরে হরিপুরে পাক বাহিনীর সাথে যৌথবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ চলছেহরিপুর টিলা বেষ্টিত এলাকায় পাক বাহিনী সুবিধাজনক প্রতিরোধ অবস্থানে ছিলতাছাড়া হরিপুর থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত তাদের যোগযোগে কোন অসুবিধা ছিল নাযৌথবাহিনী ক্ষেতের মাঠ, হাওর এবং সিলেট তামাবিল রাস্তার দুই পাশ থেকে আক্রমণ চালায়তবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণের সাথে গৌহাটি থেকে মিত্রবাহিনীর বিমান সাপোর্ট থাকায় পাক বাহিনী দুদিনের মধ্যে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েএদিকে খবর আসে শহরের পূর্ব দিকে গোলাপগঞ্জ হয়ে এবং উত্তরে গোয়াইনঘাট হয়ে সিলেট শহরের দিকে আসা মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী আমাদের মত শহরের কাছাকাছি পৌছে গেছেতার আগেই আমরা ধারণা করছিলাম খুব শীঘ্র পাক বাহিনীর পতন হচ্ছেএরই মধ্যে রেডিও থেকে জেনারেল মানিকশোর পক্ষ থেকে পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পনের প্রচার শুরু হয়একই সাথে বিমান থেকে প্রচারপত্র ছাড়া হচ্ছেএতে আমাদের ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়এসব খবরে আমরা এতই উচ্ছ্বসিত এবং উৎফুল্ল হই যে, মনে হয়েছে ৯ মাসের সকল দুঃখ যন্ত্রণা এক মুহূর্তে বিলীন হয়ে গেছেকতক্ষণে সিলেট শহরে পৌছে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মিলিত হবো, কে কিভাবে আছে দেখার এবং জানার জন্য আমাদের মন উদগ্রীব হয়ে ওঠে

        পনের তারিখ পাক বাহিনীর সারেণ্ডারের খবর এসে যায়আমরা প্রস্তুতি শুরু করি ১৬ তারিখ সকালে সিলেট শহরে প্রবেশেরএই সময়ের মধ্যে পাক বাহিনীকে বিভিন্ন জায়গা থেকে জড় হওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়এদিকে পনের তারিখ সন্ধ্যায় গাড়ী করে শিলং থেকে কমরেড বরুণ রায়, আফতাব উদ্দিন, কয়েস চৌধুরী, ফরিদ হায়দার চৌধুরী ও রওনক আহমদ চৌধুরী এসে উপস্থিত হনকমরেড বরুণ রায় ছিলেন মেঘালয়ের বালাটেবরুণ রায় অবিভক্ত সিলেট জেলা, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার অবিসংবাদিত নেতাদীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেনমুক্তিযুদ্ধের সময় আত্মগোপন থেকে মুক্ত হনআব্দুল লতিফ সরদার সম্পর্কে আগেই উল্লেখ করেছিরওনক আহমদ সিলেট জেলা ন্যাপের সহসভাপতিআফতাব ছিলেন মেঘালয়ে নাছাইন ইয়ুথ ক্যাম্পের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টরআমি ছিলাম একই ক্যাম্পের রিক্রুটিং ইনচার্জ এবং ফরিদ হায়দার চৌধুরী ক্যাম্প পরিচালনার অন্যতম কর্মকর্তাফরিদ হায়দার সিপিবি করতেনতিনি ছিলেন তখকার এমএনএ ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মুন্তাকিম চৌধুরীর ভাইআফতাব ষাটের দশকের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা১৯৫৮ সালে সামরিক স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খান সিলেট আসেনছাত্রসংগ্রাম পরিষদ আগে থেকে পরিকল্পনা নেয় আইয়ূব খানের সভায় বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং তাঁর প্রতি জুতা নিক্ষেপ করা হবেপরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় সার্কিট হাউসে আইয়ূব খানের বক্তৃতা মঞ্চের চারপাশ থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় আইয়ূব খানকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করা হয়এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যে কয়জন অভিযুক্ত হয়ে জেলে ছিলেন আফতাব ছিলেন তাদের একজনকয়েস চৌধুরী শিলং-এ ছিলেনমুক্তিযুদ্ধের  শুরুতে তিনি জেম্‌স ফিন্‌লে টি কোম্পানীর জাফলং চা-বাগানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেনসেখান থেকে পাশ্ববর্তী মেঘালয়ে আশ্রয় নেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেনতিনি এগারো দফা আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম শরিক এনএসএফের নাজিম কামরান চৌধুরীর বড় ভাইদুঃখের বিষয় এদের মধ্যে আব্দুল লতিফ সরদার, রওনক আহমদ চৌধুরী, আফতাব এ তিনজনই আজ আমাদের মাঝে নেইতারা আজ স্মৃতির পাতায়

         সিলেট শহরে প্রবেশের পাঁচ মাইল আগে জেমস ফিন্‌লে টি কোম্পানীর খাদিমনগর চা-বাগানকয়েস চৌধুরী ঐ কোম্পানীরই জাফলং চা-বাগানের ম্যানেজারসিদ্ধান্ত হয় আমরা খাদিম চা-বাগানে রাত কাটিয়ে সকালে সিলেট শহরে প্রবেশ করবোসিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সবাই রাত নয়টায় চলে যাই খাদিমনগর চা-বাগানেযুদ্ধের আগে বাগানে একজন পাঞ্জাবী ম্যানেজার ছিলএখন সেখানে একজন বৃটিশ ম্যানেজারের দায়িত্বেকয়েস চৌধুরী তাঁর কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে আমাদেরকেও পরিচয় করিয়ে দেনবৃটিশ ম্যানেজার আমাদেরকে আপ্যায়নের জন্য ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েনআমাদের জন্য তার সমস্ত বাংলাটি ছেড়ে দিতেও যেন আপত্তি নেইবাবুর্চিকে দিয়ে বাঙ্গালী খাবার রান্না করানো হয়রাত বারোটায় বৃটিশ ম্যানেজারসহ আমরা সকলে মিলে খাওয়া দাওয়া করিরাতে আমাদের সাথে  মিত্র বাহিনীর জনৈক বাঙালী মেজর মিঃ ভট্টাচার্য্য এসে যোগ দেনতিনি যুদ্ধের শুরু থেকে আমাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে এসেছেনতার পিতৃপুরুষ বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেনফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হচ্ছে এবং তিনি নিজে সে যুদ্ধের একজন সৈনিক এজন্য তার আনন্দের সীমা ছিলনাআমাদের সাথে রাতের আনন্দে শরীক হতে এসে ভীষণ খুশীকিন্তু দুঃখের বিষয় পরদিন সকালে দায়িত্ব পালনকালে পাক বাহিনীর পুতে রাখা একটি মাইন বাস্ট হয়ে তার দুটি পা-ই উড়ে যায়বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সত্যি কিন্তু তার মনে জামিয়ে রাখা আনন্দ আর পরিপূর্ণতা পায়নিএভাবে তার মতো ১৪ হাজার মিত্রবাহিনীর রক্ত আমাদের শহীদের রক্তের সাথে মিশে আছেসে ঋণ আজো আমাদেরকে তাড়া করেআমরা তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি মাটির স্মৃতিসৌধও তৈরী করে সম্মান দেখাতে পারিনিএর চেয়ে লজ্জার, দুঃখের আর কি হতে পারে

         বাগানটি শহর থেকে পাঁচ মাইল দূরে হলেও বস্তুত শহরতলীই বলা চলেসকালেই শহরে প্রবেশ করবো, হাজারো চিন্তা মনের মধ্যে আলোড়িত করছেকখন ভোর হবে

মনে হচ্ছে রাতটা যেন অনেক লম্বা| সকালের অপেক্ষায় রাতে কারো ঘুম হয়নিসকলে আনন্দ স্ফূর্তি করে রাত কাটিয়ে দেই

          সকাল ছয়টায় আমরা শহরে প্রবেশের জন্য রওয়ানা দিলাম পথিমধ্যে শিলং থেকে আসা তখনকার সিলেটের এমএনএ ফরিদ গাজীও এসে আমাদের সাথে মিলিত হন কিন্তু তখনও পাকবাহিনীকে জড় করা শেষ হয়নি, আমাদেরকে বিকেল তিনটের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তবে ফরিদ গাজী সাহেবকে বিশেষ কারণে ঢুকতে দেওয়া হয় আমরা কয়েস চৌধুরীর নেতৃত্বে পেছনে ফিরে ৭/৮ মাইল দূরে এবার চলে যাই চিকনাগুল চা-বাগানে সেখানে দেখা হয় হরিপুর আওয়ামী লীগ নেতা ছইফ উল্লার সাথে তিনি আমাদের সকলকে তার বাড়ীতে নিয়ে যান সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল তিনটায় আবার ফিরে আসি শহরে প্রবেশের জন্য শহরে প্রবেশের জন্য আসার খবর জানাজানি হয়ে যায় তাই দ্বিতীয়বার যখন আসি তথন অনেকেই এসেছেন আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আমরা মহা আনন্দে শহরে প্রবেশ করি এ আনন্দ সম্ভবত মানুষের জীবনে বার বার আসে না সেটা সম্ভবত কোন দেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধার ভাগ্যেই ঘটে থাকে আর ঘটে থাকে সেদেশের জনগণের মাঝে

        দুঃখের বিষয় পঁচাত্তরের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে পরাজিত খুনী চক্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের শহীদদের সকল আশা আকাঙ্খা, স্বপ্ন ধ্বংস করে দেয় দেশ চালিত হয় মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত পথে চক্রান্ত চলে দেশে একটি মিনি পাকিস্তান বানানোর বিগত ৩৮ বছর সামরিক, বেসামরিক এবং বিএনপি-জামাত জোট দেশে মৌলবাদ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বহু ঘাত প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে দেশে স্বাধীনতা পক্ষ শক্তি এখন ক্ষমতায় নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সকল হত্যা, বোমাবাজির তদন্ত কাজে হাত দিয়েছে মৌলবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে দেশময় তৎপরতা চলছে ইতিমধ্যে জাতির বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় হয়েছে সরকার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় কার্যকরের পর জেলহত্যা, একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলাসহ সকল বোমা হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শুরু করবে সুতরাং এবারের বিজয় দিবসের গুরুত্ব অনেক জনগণ আশা করছে বিজয় দিবসের আগে সরকার বিচারের রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করবেন অতিসত্বর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শুরু করে শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা সম্পন্ন করবেন এটাই হোক এবারের ৩৮তম বিজয় দিবসের শপথ সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা

নিউইয়র্ক

নভেম্বর ৩০, ২০০৯।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.