Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
মশা, মশারী, ম্যালেরিয়া, লেজার ও অন্যান্য অসংলগ্ন চিন্তা Download PDF version
  মশা, মশারী, ম্যালেরিয়া, লেজার ও অন্যান্য অসংলগ্ন চিন্তা

 

দীপেন ভট্টাচার্য

ভূমিকা

এই লেখাটি নিতান্তই অসংলগ্ন।

অপরাধ স্বীকার

এই লেখার সব ছবিই ইন্টারনেট থেকে অনুমতি ছাড়া নেয়া হয়েছে। তবে সেখানে কপিরাইটের কথা বলা হয় নি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে (যেখানে প্রয়োজন মনে করেছি)। এই ছবিগুলি ছাড়া এই লেখাটি দেয়া যেত না। এছাড়া এই ছোট লেখাটির অনেক জায়গায় পাঠকের মনে হবে ধান ভানতে শিবের গীত, তার জন্য অগ্রিম ক্ষমা চাইছি।

মশা মারতে কামান দাগা

বিজ্ঞানীরা এবার মশা মারতে কামান দাগছেন, ঠিক কামান, বলা উচিত লেজার তাক করছেন। লরেন্স লিভারমোর ল্যাবের বিজ্ঞানীরা এমন এক লেজার তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে মশাকে স্টার ওয়ার প্রযুক্তির সম্মুক্ষীণ হতে হবে। আর এই প্রকল্পের অর্থ জোগান দিয়েছে বিল ও মেলিন্ডা গেট ফাউন্ডেশন যা কিনা সারা পৃথিবী জুড়ে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানের ফান্ডিং করছে।

         


মশা মারতে লেজার দাগা 

এটা কি কোন কাজের হবে? এর উদ্ভাবকেরা বলছেন এই মারণাস্ত্র মেয়ে মশাদের (মেয়ে মশারা ম্যালেরিয়া জীবাণু বহন করে) খুব সহজেই চিহ্নিত করে তাদেরকে ধ্বংস করতে পারে, কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার মশা মারা পড়বে। গেটস ফাউন্ডেশন ম্যালেরিয়া দূরীকরণের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক, তারা লেজারের ব্যাপারটা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করছে, প্রতি গ্রামে গ্রামে নাকি এই যন্ত্র বসানো যাবে।

উপরোক্ত অত্যশ্চর্য আবিষ্কার কবে নাগাদ জনগণের কাছে পৌঁছাবে জানি না। এই ব্যাপারে আপনাদের কোন মন্তব্য থাকলে নিচে লিখবেন।

বাংলাদেশে যাচ্ছেন ? ম্যালেরিয়ার জন্য চিন্তিত? আপনি কি করতে পারেন?  

 

ডাক্তার আপনাকে ল্যারিয়াম, ডক্সিসাইক্লিন, ম্যালারোন বা অন্য কিছু দিতে পারেন। এই সব ওষুধেরই অবাঞ্ছিত কিছু পার্শ্ব প্রভাব আছে। ঘরের মধ্যে কয়েল জ্বালাতে পারেন। কিন্তু আপনি খুব ভাল করেই জানেন কয়েল থেকে কি ধরণের দূষণ বার হয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে একটা কয়েল থেকে বার হওয়া বড় ধরণের কণার পরিমাণ ১০০টা সিগারেটের সমান!

 

 ডিট নামে একটা জিনিস আছে, সেটা হচ্ছে মশা বিতারণের ওষুধ। N,N-diethyl-m-toluamide এর সংক্ষিপ্ত নাম । শরীরের উন্মুক্ত অংশে মাখার জন্যে এটা মোটামুটি নিরাপদ।

আর মশারী ব্যবহারের কথা তো আর নতুন করে বলতে হবে না। যেখানেই থাখুন না কেন, রাতে মশারীর মধ্যে শোবেন।  এইধরনের রাজকীয় মশারী কি আপনার পছন্দ?

                          

 

                           ফ্যান্সি মশারী

কিন্তু নিচের ছবিটা দেখুন। অক্সফামের আবির আবদুল্লাহ ছবিটা তুলেছেন নীলফামারীতে এক বন্যার পর। যে কৃষক তার গরুকে মশার হাত থেকে রক্ষা করে একটু স্বস্তি দেন তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

 

শিশুশ্রম

আপনাদের আর একটা কথা বলি মশারীর কিছু ছবির খোঁজে ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে মশারী তৈরির একটা ছবি দেখলাম। শিশুশ্রম। কপিরাইটের জন্য এখানে দেয়া গেল না। লম্বা লিঙ্কটাও দেয়া গেল না, কিন্তু প্রক্সী হিসাবে তিনটি অন্য শিশুশ্রমের ছবি দিলামঃ

 

 

চায়ের দোকানে ছেলেবেলা। ছবি তুলেছেন জুবায়ের চৌধুরী।

 

 

ইঁটভাঙ্গা ছেলেবেলা। ছবি তুলেছেন সঞ্জয়। উইকিমিডিয়া থেকে।

 

 

রূপার পাত্র তৈরি করে ক্লান্ত জয়নাল। ছবি তুলেছেন আকাশ।

এতো গেল বাড়ির বাইরে শিশুশ্রমের কথা। আমরা মধ্য ও উচ্চবিত্তরা বাসার চাকর হিসাবে শিশুদের নিয়োগ করি, বাইরের পৃথিবীতে এসে বর্ণবাদ, বর্ণবাদ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলি, অথচ সেই শিশুর অধিকার নেই আমাদের সাথে একসাথে টেবিলে বসে খাবার।

জলবায়ু

আর একটা ছবি আমি না দেখিয়ে পারছি না। এর সাথে শিশুশ্রম বা মশার কোন সম্পর্ক নেই। নিলফামারীতে বন্যার ছবিটা জলবায়ুর পরিবর্তনের একটা পাতা থেকে নেয়া। আর এই মাসে চলছে কোপেনহাগেন জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন। সেই উপলক্ষে বিলেতের টাইমস পত্রিকা কিছু চিত্তচঞ্চলকারী ছবি দেয়া হয়েছে। তার থেকে বেছে ভারতের গুজরাটের এক কুয়ার ধারে পানীয় জল তুলতে মানুষের ঠাসাঠাসি ভিড়।  ভবিষ্যত বিশ্ব কি এমনই হবে?

 

দু-খানা নোবেল প্রাইজ

                   

এই অসংলগ্ন লেখা শেষ করি নোবেল পুরস্কার দিয়ে। রোনাল্ড রস ১৯০২ সালে ম্যালেরিয়ার জীবাণুকে চিহ্নিত করার জন্য নোবেল পুরস্কার পান। রোনাল্ড রসের কাজের একটা বিরাট অংশ সঙ্ঘটিত হয় কলকাতার প্রেসিডেন্সী হাসপাতালে। এক বাঙ্গালী বিজ্ঞানী কিশোরী মোহন বন্দোপাধ্যায় তাঁর গবেষণায় সাহায্য করেন, তাঁকে ব্রিটেন গোল্ড মেডেল দিয়ে সম্মান জানায়। ১৯০৭ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী চার্লস ল্যাভেরাঁ ম্যালেরিয়া প্রটোজোয়ার ওপরে কাজ করার জন্য নোবেল পান। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে ম্যালেরিয়ার বিধ্বংসী ভূমিকাকে বিজ্ঞান মহলে অনেক আজে থেকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। 

পরিশেষ

এর পরের বার ডেঙ্গু বা ডেঙ্গি নিয়ে বলা যাবে।

অনুরোধ

লেজার, মশা, মশারী, ম্যালেরিয়া, শিশুশ্রম, জলবায়ু বা নোবেল পুরস্কার নিয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে জানাবেন।
_____________________________________________________________

দীপেন ভট্টাচার্য লিখছেন রিভারসাইড, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.