Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
মশা কেন কোন কোন ব্যক্তিকে কামড়ায় আবার কাউকে কামড়ায় না? Download PDF version
 

প্রযুক্তি বন্ধন

মশা কেন কোন কোন ব্যক্তিকে কামড়ায় আবার কাউকে কামড়ায় না?

দলিলুর রহমান

     কীট পতঙ্গের অসম্ভব ঘ্রাণ ক্ষমতা আছে যার সাহায্যে তাদের ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয় না। বাড়ীর পেছনের আঙ্গিনায় বারবিকিউ করার সময়ে লক্ষ্য করা যায় কাউকে কাউকে মশা সমানে হুল ফুটিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ এই উৎপাত থেকে মুক্ত। তাহলে কি কারো কারো রক্তে মশা স্বাদ পায় বেশী। গবেষকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই রহস্য উদঘাটন করতে। কিসে মশা আকৃষ্ট হয় বা বিকৃষ্ট হয়
? মানুষের শরীরে ৩০০ থেকে ৪০০ রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ বিরাজ করে। আমাদের শরীর যে এতোবড় রাসায়নিক পদার্থ তেরী করার ফ্যাক্টরী তা ভাবতে অবাক লাগে। ৩০০ থেকে ৪০০ রাসায়নিক পদার্থ ঘেটে মশার আকৃষ্ট ও বিকৃষ্ট হওয়ার ব্যাপারটা খুঁজে বার করা চারটি খানি কথা নয়।
    
Rothamsted Research in the UK এর বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পেরেছেন কেন মশা কোন কোন ব্যক্তিকে সারাক্ষণ কামড়ায় আবার কাউকে কাউকে মোটেও কামড়ায় না। বিজ্ঞানীরা এখন বেশকিছু রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করতে পেরেছে যেগুলি হয়তো মানুষের স্ট্রেসের জন্য বেশী মাত্রায় তৈরী হয়। আর মশা সেগুলির প্রতি বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট হয়। বলা চলে- মশা যদি কারো গায়ের দিকে আকৃষ্ট না হয় মানে না কামড়ায় তাহলে ধরে নিতে হবে তার ষ্ট্রেস লেভেল যথেষ্ট উপরে নয়। বিজ্ঞানী জেমস লোগান (Rothamsted এর একজন গবেষক) বলেন, “মশা অনেক রাসায়নিক পদার্থের মধ্য দিয়ে উড়ে গেলেও মানুষের শরীরে যে রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ পায় তাতেই আকৃষ্ট হয়, কিন্তু অনেক রকমের রাসায়নিক পদার্থের সম্মিলিত গন্ধ যখন ভুল বার্তা দেয় তখন মশা তাদের ভুক্তভোগীকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়।"
     রাসায়নবিদ
Ulrich Bernier,  এখন তিনি U.S. Department of Agriculture’s Agricultural Research Service এ কাজ করেন- তিনি ১৯৯০ সনের দিকে- এই সব ম্যাজিক রাসায়নিক পদার্থের উপর গবেষণা করেন, যেগুলি মশাকে আকৃষ্ট করে। তাঁর গবেষণার মতে এটা বুঝতে সুবিধা হয় যে বেশকিছু অতি সাধারণ রাসায়নিক পদার্থ যেগুলি মানুষের শরীরের চামড়া দিয়ে ও প্রশ্বাসের সাথে নির্গত হয়, যেমন কার্বন ডাই অকসাইড ল্যাকটিক এসিড (যা মানুষের চামড়ায় থাকে) এগুলি মশাকে আকৃষ্ট করে ফলে মশা তার রক্ত খাবারের সুযোগ পায়। কিন্তু এই গবেষণা থেকে এটা বুঝা যায় না- কেন মশা কিছু লোককে আবার কামড়ায় না। তাহলে কি তাকে বিকৃষ্ট করে? জেমস লোগান বলেন, “এর উত্তর মিলবে রাসায়নিক পদার্থের মধ্যেই। তবে যে সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ মশাকে আকৃষ্ট করে তার মধ্যে এর উত্তর পাওয়া যাবে না। সব মানুষই রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করে তাদের শরীরে যেগুলি মশাকে আকৃষ্ট করে তবে কিছু কিছু লোক আবার কিছু রাসায়নিক পদার্থ বেশী পরিমাণ তৈরী করে যেগুলি মশাকে বিকৃষ্ট করে।" লোগান এর মতে পার্থক্যটা হচ্ছে এই সব পদার্থের কারণে যেগুলি মশাকে বিকর্ষণ করে। এই সব রাসায়নিক পদার্থের কারণে মশাকে আকর্ষণ করার পদার্থগুলির গন্ধ ঢাকা পড়ে যায় কাজেই মশা দিশেহারা হয়ে পড়ে।


     পৃথিবীতে মশার জন্য নানা রকম অসুখের ছড়াছড়ি- ৫০ কোটি ম্যালেরিয়ায় তার মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ লোক মারা যায় । তাছাড়া মশা
West Nile ভাইরাস, ডেঙ্গু জ্বর, হলুদ জ্বর ছড়িয়ে থাকে। The Rothamsted  এর বিজ্ঞানীরা দুই দল সেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করেন। এদের একদলকে মশায় কামড়ায় অন্য দলকে কামড়ায় না। তারপর প্রত্যেক সেচ্ছাসেবীকে মানুষের সমান আকারের প্লাষ্ঠিক ব্যাগের মধ্যে দুই ঘন্টা ভরে রেখে তাদের শরীরের ঘ্রাণ বা রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করে। তারপর সেই রাসায়নিক পদার্থ গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এতে যাদের কামড়ায় না ও যাদের কামড়ায় তাদের শরীরের রাসায়নিক পদার্থের পার্থক্য বেরিয়ে পড়ে। তারপর তারা মশার গায়ে মাইক্রো ইলেকট্রোড লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন কোন কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে মশা মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মশা যখন রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করতে পারে তখন গবেষকরা মাইক্রো ইলেকট্রোডের সাহায্যে electrical impulse  মাপতে পারে। এমনিভাবেই ড. লোগান ও তার সঙ্গীরা মাত্র ৭-৮টি রাসায়নিক পদার্থ সনাক্ত করতে পেরেছেন যেগুলির জন্য কিছু লোক মশার কামড় খায় অন্যেরা খায় না। সবই নির্ভর করে কি পরিমাণ পদার্থ বিদ্যমান। এই সব রাসায়নিক পদার্থ সনাক্ত করার পর (যেগুলি মশাকে বিকর্ষণ করে) ড. লোগান এগুলি যাদেরকে মশায় কামড়ায় তাদের হাতে এই রাসায়নিক পদার্থ লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন যে মশা এদেরকে আর কামড়ায় না বরং মশা উড়ে অন্য দিকে চলে যায়। যে রাসায়নিক পদার্থ মশাকে বিকর্ষণ করে তাদের দুটোর নাম পাওয়া যায়- একটি হলো 6-methyl-5 hepten-2-one, অন্যটি হলো geranylacetone । এগুলির তথ্য পাওয়া যায় Dr. George Preti, একজন জৈব রসায়নবিদ, (Monell Chemical Senses in Philadelphia) যিনি পতঙ্গ কামড়ের উপর গবেষণা করেন।
    
ড. লোগান তার গবেষনালব্ধ রাসায়নিক পদার্থের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন কারণ এর থেকে দামী ড্রাগ তেরী করা যেতে পারে। তবে তিনি মন্তব্য করেন এই সব রাসায়নিক পদার্থের কিছু কিছু তৈরী হয় মানুষের স্ট্রেসের জন্য- তবে তিনি এব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন।
তথ্যঃ The Wall Street Journal
 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.