Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
ঢাকার বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে কিছু ভাবনা Download PDF version
 

ঢাকার বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে কিছু ভাবনা

নূর-এ-ফায়জা বর্ষা


                                                                                                                       ফটো কৃতজ্ঞতা স্বীকার - আলেক্স মিলনে, যুক্তরজ্য

ঢাকা আমার খুব প্রিয় একটি শহর। এই শহরে বেড়ে উঠার চেয়ে আনন্দদায়ক আর কি হতে পারে? আমার ছোটবেলা কেটেছে পুরানো ঢাকার নারিন্দায়। বড়ো খোলা জায়গায় পাড়ার সবার ভালোবাসায় বেশ আনন্দে কেটেছে শৈশব। একবার পাড়ার টাংকিবাজ মামা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন বাসায় গিয়ে পদ্মার ঢেউ রে গানটি গাইলে মিমি চকলেট দেবেন। আমি বাসায় এসে সুন্দর মতো গানটি গেয়েছি, দেখি আমার খালা কাঁদতে কাঁদতে আব্বুর কাছে নালিশ করছে, দুলাভাই, দেখেন আপনার ফকির মেয়ে মিমির জন্য কি করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমার খালার নাম ঢেউ। পরবর্তীতে নতুন ঢাকায় আমরা চলে গিয়েছিলাম এপার্টমেন্ট নামের খুপরিতে থাকতে। তবে যেখানেই থেকেছি না কেনো, ঢাকা তার সৌন্দর্যে মহিমাময় ছিলো। উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণে আমি কানাডায় এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছিলাম, রাতে প্লেন থেকে নেমেছি তাই কিছু বুঝিনি। পরেরদিন সকালে রাস্তায় বের হয়ে আমি ভেবেছিলাম হরতাল চলছে বুঝি- এতো নীরব, জনহীন রাস্তা। মনটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। আমি মানুষ দেখে অভ্যস্ত, রাস্তায় চলতে গিয়ে যদি মানুষের গিজগিজ দেখে বিরক্তই না হই তাহলে কিভাবে হবে? বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার উপর খানিকটা কাজ করায় আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ঢাকার বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক মানোন্নয়নের উপর কিছু আলোচনা করতে চাই।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রিসাইকেলিং উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশী পরিমাণে হয়-- ব্যাপারটিতে আমার সাথে ডাঃ নিহার বিশ্বাস (১) সহ আরো অনেকেই সহমত পোষ করেন। আমার থিসিস ডিফেন্সের সময় উপস্থিত ইউরোপ হতে আসা আর এদেশীয় প্রফেসরদেরকে তাঁর ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে (কলকাতায় প্রায় ৪০/৫০ বছর আগের কথা) বুঝিয়ে বলেছিলেন উপমহাদেশে খুব ভালো রকমের রিসাইকেলিং ব্যবস্থা বেশ আগে থেকেই প্রচলিতআসলে এই দেশগুলোতে ওয়ান টাইম ইউজেবল জিনিসের ব্যবহার সীমিত। আমরা বেশীরভাগ খাবার সংরক্ষ করি কাঁচের বোতলে। টিস্যু পেপার, কাগজ, প্লাস্টিক, পলিথিনের ব্যবহার এদেশীয়দের মতো এতো মহামারী আকারে নয়জিনিসপত্র খুব আকর্ষনীয় মোড়কে দেবার জন্য অহেতুক আড়ম্বরও নেই।  এছাড়াও আমাদের মানসিক গঠন এমন যে কোনো কিছু সহজে ফেলে দেবার মতো স্বভাব আমাদের গড়ে উঠেনি। প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম ইউজেবল জিনিসগুলোও আমরা ধুয়ে অনেকবার ব্যবহার করি। অন্যদিকে পাশ্চাত্যে যেমন পরিবেশরক্ষার জন্য সরকার-নিয়ন্ত্রিত অনেক নিয়মকানুন আছে, উপমহাদেশে  কিন্তু ব্যাপারটি বাজার-নিয়ন্ত্রিত। উপমহাদেশে সংসারের কত্রীরা কাগজ, কাঁচের বোতল, পুরানো কাপড় সব আলাদা করে রাখেন। পরে এইসব জিনিস সের দরে বিক্রি করা হয়। কাগজের ঠোঙ্গা বানানোর সময় পাশ্চাত্যে কারো না থাকতে পারে,  তবে উপমহাদেশে ঢের সময় পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, উপমহাদেশে অনেক আগে থেকেই এই বাজার-নিয়ন্ত্রিত সুসংঘবদ্ধ রিসাইকেলিং অবকাঠামো বিদ্যমান।

বাংলাদেশে মূলত ঢাকায় এতো পরিবেশ দূষনের মূল কারণ মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা। কোনো প্রজেক্ট করে কুলিয়ে উঠা যায় না কারণ প্রজেক্টের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশী লোক নিয়ে ঢাকার তথা বাংলাদেশের অস্তিত্বতবে আগের চেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার মানের অনেক উন্নতি হয়েছে। সেই খোলা ট্রাকে করে রাস্তায় ময়লা ফেলতে ফেলতে যাওয়ার দৃশ্য আর চোখে পড়েনা বা কমলাপুরের ঐদিকে বাসা ভাড়া সস্তা পাওয়া যায় না কারণ ঢাকার যাবতীয় ময়লা ঐ এলাকায় ফেলা হয়- এই ভয়াবহ অবস্থার বেশ  উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০০১ সণের হিসাব অনুযায়ী দিনে  ১৭০০০ টন   বর্জ্য উৎপন্ন হয় (২), এরমাঝে ১৩১ বর্গ কি,মি,র ঢাকার আনুমানিক ১২ লক্ষ জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশী বর্জ্য উৎপন্ন করে (৩) এরমাঝে  শতকরা মাত্র ৪০/৫০ ভাগ ঢাকা সিটি কর্পোরেন সংগ্রহ করতে পারে। এসব কঠিন-বর্জ্যকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ খাদ্য ও গৃহস্থলী আবর্জনা, কাপড়, কাগজ, প্লাস্টিক, হসপিটাল বর্জ্য, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য,  চামড়া, ইট-পাথর, ধাতুকনা, কাপড়, কাঁচ, ইত্যাদি। এইসব বর্জ্য-আবর্জনার মাঝে (৬০%-৭০%) জৈব এবং খুব অল্প পরিমাণে দাহ্য পদার্থ বিদ্যমান (২)। ইদানিং ঢাকায় ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের পাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার  উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা এব্যাপারে পরিষ্কারক-কর্মী সরবরাহ করে থাকে। সাধারণত ঢাকাবাসী তাদের গৃহস্থলী বর্জ্য বাসার সামনে কন্টেইনারে রেখে আসেনপ্রতিদিন সকালে বা ভোররাতে পরিষ্কারক-কর্মীরা সেই বর্জ্য এসে নিয়ে যায়। ওইখানেই তারা কাঁচের বোতল, প্লাস্টিক, কাগজ আলাদা করে ফেলে ( যাকে বলা যায় সোর্স-সেপারেন)। তারপর বাকি বর্জ্য-আবর্জনা তারা বন্ধ-ভ্যানে বহন করে প্রত্যেক পাড়ায় বরাদ্ধ করা বড়ো স্টিলের সংরক্ষনাগারে রেখে আসে। প্রত্যেক সপ্তাহে ঐ সংরক্ষনাগার হতে বর্জ্য-আবর্জনা ঢাকা সিটি কর্পোরেনের  ট্রাকে করে মাতুয়াইলের ল্যান্ডফিলে (ময়লা ফেলার জায়গা) নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০২ স হতে খোলা ট্রাক ব্যবহার না করে ঢাকা সিটি কর্পোরেন বদ্ধ ট্রাক ব্যবহার শুরু করেছে। তাই রাস্তায় ময়লার অংশ পড়ে গিয়ে রাস্তা নষ্ট হওয়া বা বাজে গন্ধ ছড়ানো একদম কমে গেছে। তবে এই ব্যবস্থায় মারাত্মক যে ভুলটি এখনো করা হচ্ছে তা হলো গৃহস্থলী, হসপিটাল আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যকে সব একসাথে সংগ্রহ করা

অচিন্তনীয় দূষন আলকাতরার মত পানি। বুড়িগঙ্গা । কৃতজ্ঞতা স্বীকার : স্টার/প্রিয়

নানা দেশী, বিদেশী প্রতিষ্ঠান ঢাকার পরিবেশ রক্ষায়  নীরবে কাজ করে যাচ্ছে তন্মধ্যে অন্যতম হলো ওয়েষ্ট কনসার্ন গ্রুপ এটি ১৯৯৫ সনে এর যাত্রা শুরু করেছে (৪)এরা সাধারণত গভর্মেন্ট এজেন্সী, প্রাইভেট সেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সিদের সাথে কাজ করে বর্জ্যকে মুনাফায় পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা মূলত  জৈব আবর্জনা থেকে জৈবসারে রূপান্তরে বেশী আগ্রহী। অলাভজনক প্রজেক্ট হিসেবে তারা জৈব আবর্জনা থেকে শক্তি উৎপাদনের কথাও চিন্তা করছে। ইউএফসিসি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রিসাইকেলিং বিভি এবং নেদারল্যান্ড ওয়েস্ট কনসার্ন একটি যৌথ প্রজেক্টে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল হতে গ্যাস উৎপাদনের কথা চিন্তা করছে (৫)  ঢাকার কাছাকাছি গাজীপুর পৌরসভাতে একটি এবং টঙ্গী পৌরসভাতে দুটি ল্যান্ডফিল ( ময়লা ফেলার জায়গা) আছে। তারমাঝে টঙ্গীতে একটি ল্যান্ডফিলের কাছে কম্পোস্ট প্লান্ট আছে যেখানে প্রতি মাসে ৬০ টন সার উৎপ্নন করা সম্ভব(৬), যদিও মাতুয়াইল  ল্যান্ডফিলে এই প্রক্রিয়া এখনো পরিকল্পনাধীন।

 

দেশের সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক ল্যান্ডফিল উদ্বোধন করা হয়  ২০০৭ এর অক্টোবরে (৭)জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেসন এজেন্সীর (৮) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা সিটি কর্পোরেনের উদ্যোগে সাড়ে ৪৬.৬৩ কোটি টাকায় ঢাকার অদূরে মাতুয়াইলে সেটি নির্মাণ করা হয়েছে। কমলাপুর খোলা ময়লা ফেলার জায়গাটিকে বন্ধ করে মাতুয়াইলে নিয়মতান্ত্রিক ল্যান্ডফিলের (ময়লা ফেলার জায়গা) ব্যবহার শুরু হয়েছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে আধুনিক সব কারিগরি বৈশিষ্ট্য এই ল্যান্ডফিলে অনুপ্রবেশ করানো হবে। ঢাকা সিটি কর্পোরেনের ওয়েবসাইটে (৯,১০) গিয়ে এসম্পর্কিত রিপোর্টটি (১১)  ডাউনলোড করে আমি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। এই পুরো স্টাডিটায় আমি এমন কোনো প্রযুক্তির বা যন্ত্রপাতির প্রয়োগ দেখিনি যা আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের জ্ঞানের আওতাবহির্ভুত। তাদেরকে সুযোগ দিলে তারা যে খুব খারাপ মানের রিপোর্ট দিতো তা মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিদেশী কোনো কোম্পানী আমাদের দেশে সাহায্যের হাত বাড়ালেই প্রথম  যে কথা মনে হয়,  এর বদলে তারা কি চায়? এই সংসয়বাদী স্বভাবের জন্য আমি নিজেকে দায়ী না করে ইতিহাসের তথ্যগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেবো। বিদেশি কারিগরি সহায়তার মুখাপেক্ষী হয়ে দেশীয় মেধা ও জনবলকে তুচ্ছ করার প্রবনতা দেশের উন্নতির জন্য বেশ হানিকর

এই লেখাটির জন্য ঢাকার জুনিয়রদের সাথে কথা বলেছিলাম- ওদের  কথা শুনে বেশ মজা লেগেছে। ঢাকায় এখন ভালো পর্যায়ে প্লাস্টিক রিসাইকেলিং হয়। আপনি একটা কোকের বোতল কিনলেন কোক খাবার জন্য। রাস্তায় পুঁচকারা আশেপাশে ঘুর ঘুর করতে থাকবে, কোক খাবার জন্য নয়- প্লাস্টিকের বোতলটির জন্য। তারপর কোনো আড্ডায় ৪/৫ জন মিলে চা খাচ্ছেন, আশেপাশে তারা আছে। যখনি চা খাওয়া শেষ হবে, তারা এসে ওয়ান টাইম ইউজেবল প্লাস্টিক কাপগুলো ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে। কারণ এই প্লাস্টিক আবর্জনা তারা বিক্রি করতে পারে। ঢকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এইসব প্লাস্টিক আবর্জনা কিনে নেয় এবং ঐগুলো গলিয়ে অন্যান্য জিনিস বানিয়ে করে বিক্রি করার লাভজনক ব্যবসা দাঁড় করাতে পেরেছে। আমার নিজের গবেষণার ক্ষেত্রটি এসম্পর্কিত বলে নর্থ অ্যামেরিকার প্লাস্টিক রিসাইকেলিং ব্যবস্থা নিয়ে আমার খানিকটা ধারণা আছে। কোক বোতলগুলো যেই স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয় এর ডাকনাম পেট প্লাস্টিক (PETE- polyethylene terephtalate) আর ওয়ান টাইম ইউজেবল প্লাস্টিক কাপগুলো বানানো হয় পিপি (PP- polypropylene) অথবা স্টাইরোফোম টাইপ প্লাস্টিক দিয়ে ( polystyrene or Styrofoam)এইগুলো সংগ্রহ করা সহজসাধ্য এবং রিসাইকেল করে অন্য জিনিস বানানো বানিজ্যিক ভাবে লাভজনক। কিন্তু সমস্যা করে  পলিথিনব্যাগ যেগুলো এইচ.ডি.পি.ই. ফিলম ( HDPE- high density polyethylene film) বা এল. ডি.পি.ই. দিয়ে তৈরি ( LDPE- low density polyethylene)এগুলো সংগ্রহ করা বেশ ঝামেলাজনক প্রক্রিয়া (১২), নর্থ অ্যামেরিকার অনেক রিসাইকেলিং ইউনিট পর্যন্ত এগুলো গ্রহণ করতে চায়না

ঢাকার সামগ্রিক পরিবেশ দূষ কমানোর জন্য সরকারের অতি জরুরী ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেয়া উচিত বলে মনে করিঃ

১) হসপিটাল আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যকে আলাদাভাবে সংগ্রহ করার জন্য অতিসত্বর আইন প্র করা এবং এসম্পর্কিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিততাহলে ল্যান্ডফিল এলাকার আশেপাশেই কম্পোস্টিং প্লান্টগুলো অনেক সহজে গৃহস্থলী বর্জ্য থেকে জৈবসার তৈরি করতে পারবে। হসপিটাল, শিল্পকারখানাগুলোকে (মূলত গার্মেন্টস আর ট্যানারী) পরিবেশ সম্পর্কিত আইনভঙ্গের অপরাধে কড়া মাত্রায় জরিমানার আওতায় আনা উচিত হসপিটাল বর্জ্যের মাঝে সূঁচ, থার্মোমিটার এবং অন্যান্য অতিবিপদজনক বর্জ্য যেনো গৃহস্থলী বর্জ্য থেকে আলাদা থাকে সে বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যগুলো অনসাইটেই পুড়িয়ে ফেলা বা নিয়ম মেনে আলাদা ভাবে ল্যান্ডফিল করার আইনের আওতায় আনা উচিত।

ঢাকার অদূরে আবর্জনার স্তূপ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ কাপালিক ব্লগ

 

২) বুড়িগঙ্গা নদীর দুপাশে গড়ে উঠা গার্মেন্টস, ট্যানারীশিল্পসহ আরো নানারকমের শিল্পপ্রতিষ্ঠান মিলে নদীটাকে একটা বড়ো নর্দমা বানিয়ে ফেলেছে। দেশে পানিদূষন রোধে আইন প্রনয়ণের সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন অতিসত্বর বিদেশী সংস্থাগুলোর যন্ত্রপাতির সহায়তা নিয়ে পানি দূষনমুক্ত করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা উচিত।

৩) পলিথিন ব্যবহার না কমিয়ে এর পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে কমিয়ে আনতে হবে। ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের করুণ অবস্থা করুণতর করতে পলিথিন ব্যাগগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশী। এই পলিথিন ব্যাগগুলো যদি সংসারের কত্রীরা কাগজ, কাঁচের বোতলের মতো আলাদা করে রাখেন এবং তা সংখ্যা দরে বিক্রি করার ব্যবস্থা  শুরু করা যায় তবে খুব সহজেই এই পলিথিন রিসাইকেল করার চমৎকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে যাবে

৪) আমাদের দেশে রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলার সুব্যবস্থা একদমই নেই। রাস্তায় রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে, স্কুলে, পার্কে এসব দেশের মতো তিনটি খোপওয়ালা গারবেজ বিন বসাতে হবে তবে উল্লেখ্য আমাদের দেশের বর্তমান রাস্তার ফুটপাতগুলো মানুষ হাঁটারই অনুপযোগী, গারবেজ বিন বসানোর জায়গা কোথায়? আমার মতে রাস্তাগুলোতে সড়কদ্বীপ নামের অবাস্তব জিনিসগুলো না বানিয়ে ঐ জায়গায় গারবেজ বিন  বসানো যেতে পারে। আমাদের দেশের স্বল্পশিক্ষিত জনগণের সুবিধার জন্য গারবেজ বিনের  তিনটি খোপকে  তিন রঙ দিয়ে আলাদা করা যেতে পারে যেমন- লাল রঙওয়ালা খোপে যাবে কাগজ, নীল রঙ ওয়ালা খোপে যাবে প্লাস্টিক বোতল, ক্যান, কাঁচের বোতল, আর বাদামী রঙ  ওয়ালা খোপে যাবে অন্যান্য সাধারণ বর্জ্য (১৩) আর ঢাকার আশেপাশে বসুন্ধরা, টঙ্গী, গাজীপুর, পূর্বাচল ইত্যাদি  সম্প্রসারিত নগরায়ণের পরিকল্পনায় কিছুদূর পর পর গারবেজ বিন বসানোর ব্যবস্থা রাখা উচিত।

৫) রাস্তায় থুথু ফেলা আর পানের পিক ফেলার অপরাধের কড়া শাস্তিবিধান করা উচিত।

৬) আমাদের দেশের সরকার কখনোই উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেনা, বরং উদ্যোক্তাদের রুখে দেয়ার জন্য দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোনো ধরণের ছাড় দেয়না। বর্তমানে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক রিসাইকেলিং করছে বা গৃহস্থলী আবর্জনা থেকে জৈবসার বানাতে এগিয়ে এসেছে, তাদেরকে সরকারের সর্বাত্বক সুবিধা প্রদান করা উচিত  প্রয়োজনে অনুদান দিয়ে এদেরকে প্রাথমিক সাহায্য করা উচিত

৭) কারিগরি ক্ষেত্রে দেশীয় মেধা ও জনবল কাজে লাগিয়ে, উন্নতমানের যন্ত্রপাতির প্রয়োজনে বিদেশী সংস্থাগুলোর মুখাপেক্ষী হওয়া যেতে পারে। ইউএনডিপি এর মতো আরো অনেক পরিবেশরক্ষাকারী সংস্থা আমাদের দেশের পরিবেশ দূষনরোধে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি, পাইলট প্রজেক্ট অথবা অন্যান্য কাজগুলো করার মতো আত্মবিশ্বাস আমাদের নিজেদেরই থাকা উচিত বলে আমি মনে করি

৮) উদ্যোগগুলোর মাঝে সমন্বয় রাখা এবং সেইসাথে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা অনেক বেশী জরুরী। প্রজেক্টগুলোর ডাটা এবং কারিগরি তথ্য পেতে যেনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে না হয় সেই ব্যাপারেও খেয়াল রাখা উচিত।

পরিশেষে এটা না বললেই নয়, পরিবেশ দূষরোধে জনগণের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে হবে। এখানে যেমন হাল্কা সবুজ রং মানেই পরিবেশ বান্ধব এই মেসেজ প্রকাশ করে, তেমন দেশেও এই কালার কোড প্রচারণা চালাতে হবে। সরকারের উচিত এব্যাপারে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। স্কুল পর্যায় থেকে বাচ্চাদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা ও এর নৈতিক বাধ্যবাধকতা ঢুকিয়ে দিতে হবে। মোদ্দা কথা, জনগণের নিজেদের প্রয়োজনেই পরিবেশ দূষরোধে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো উচিত এই কথাটি ভালো মতো প্রচার করতে হবে।

কৃতজ্ঞতাঃ করামুল হক শামীম ।

রেফারেন্সঃ

১)http://web4.uwindsor.ca/units/eng/faculty2003.nsf/civil/F6A43428FE92630185256CE80057D73B?opendocument

২)http://dspace.bracu.ac.bd/bitstream/10361/279/1/Solid%20waste%20management%20of%20Dhaka%20city.pdf

৩)http://www.lexington.co.kr/ulsanforum/ppt/s2_01.pdf

৪)http://www.wasteconcern.org/

৫)http://cdm.unfccc.int/UserManagement/FileStorage/FS_334865036

৬)http://www.rajukdhaka.gov.bd/dap/Rajuk_Report/group_a/Chapter-3.pdf

৭)http://www.newagebd.com/met.html

৮)http://www.jica.go.jp/bangladesh/english/activities/01_4_1.html

৯)http://www.dhakacity.org/Page/Project/Link_1/3/List_id_1/5/Subid_1/73/Solid_Waste_Management

১০)http://www.dhakacity.org/Page/Project/Link_1/3/List_id_1/5/Subid_1/73/Clean_Dhaka_Master_Plan

১১)http://www.dhakacity.org/Documents/VOL3_SUPPORTING_01.pdf

১২)http://ecovillagegreen.com/2009/04/what-do-the-plastic-recycling-numbers-mean/

নূর-এ-ফায়জা বর্ষা কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ উইন্ডসরের সিভিল ও এনভিরনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

 

মন্তব্য:
erewre   May 27, 2016
Ralph lauren from the United States, and with a strong flavor of the Ralph Lauren Polo . The two Ralph Lauren name brands Poloby Ralph Lauren and Ralph Lauren opened the sales of high quality fashion in the world, will the designer Ralph Lauren Hoodies reputation and carry forward the glorious image of the Ralph Lauren brand. RALPH LAUREN (RALPH LAUREN) the fashion of the classic "" brand. Ralph lauren (RalphLauren) is a thick the smell good taste of fashion brand, design style Is Ralph Lauren's two famous brand "Lauren Ralph Lauren" (Ralph Lauren women's clothing), and Ralph Lauren Short-sleeved Polos (Ralph Lauren Polo brand) common characteristics. In addition to fashion, Ralph Lauren (Ralph Lauren) brand perfume, children's clothing, household products etc. Ralph Lauren outline is an American dream: the long grass, glittering and translucent antique, Ma Baoju. Ralph Lauren (Ralph Lauren) products: clothing and furniture, perfume or vessel, cater to the customer to the perfect life of Ralph Lauren Shirts upper class. Or as Ralph Lauren (Ralph Lauren) Mr Himself says: "the purpose of my design is to realize people's dreams Ralph Lauren Long-sleeved Polos - can imagine the best reality." Ralph Lauren (Ralph Lauren) fashion design fusion fantasy and inspiration of classical, romantic, innovation, all the details of the architecture in a not on the values of being eliminated by the time. Ralph Lauren (Ralph Lauren) are the main consumer class of medium or above income consumers and celebrities Ralph Lauren Shorts , and comfortable, good wear moderate price of Ralph Lauren, Ralph Lauren POLO shirts in Europe and the United States and Asia, has become almost everyone in the wardrobe essential clothing style!
shuhan   December 24, 2009
গোছানো লিখা। ... বিশেষ করে চার নাম্বার পয়েন্টটা বেশ স্বতন্ত্র।
শাহরিয়ার মামুন   December 24, 2009
চমৎকার লাগলো লেখাটা। বেশ গোছানো। পরিবেশ দূষণ রোধে করণীয় বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আমাদের বেশিরভাগেরই ধারণা কম, অথবা পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব আছে। নানান সময় আমরা নিজেরাও অনেকাংশেই দায়ী। এইসমস্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভাবলেও, সুনির্দিষ্ট এবং যথাযথ উপায়ে কীভাবে অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব, তা জানতে পারিনি। এই লেখাটা পড়ে কিছুটা ধারণা পেলাম। অনেক ধন্যবাদ। বেশ কিছু বানান ভুল আছে। ওগুলো ঠিক করে নিলে আরও ভালো হবে। ল্যান্ডফিল-এর পাশে বন্ধনীতে 'ময়লা ফেলার জায়গা' একাধিকবার না লিখে, একবার লিখলেই হতো। যাই হোক, এই বিষয়ে আরও লেখা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
shimul   December 24, 2009
enjoyed the write up. (Y) ৫) রাস্তায় থুথু ফেলা আর পানের পিক ফেলার অপরাধের কড়া শাস্তিবিধান করা উচিত। Can this be implemented?
অনার্য্য সঙ্গীত   December 23, 2009
লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ অসামান্য এই লেখাটির জন্য। এই শহরের জন্য কেউ ভাবেন সেটা বোঝা যায়না। অথচ কত দূর থেকেও কত মানুষ এই শহরটিকে আরেকটু বাসযোগ্য করার জন্য পরিশ্রম করেন, মেধা ব্যয় করেন। অনেক কৃতজ্ঞতা লেখিকাকে...
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.