Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
জয় করে তবু, ভয় কেন তোর যায় না ! Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

দূরের জানালা,কাছের মানুষ

জয় করে তবু, ভয় কেন তোর যায় না !

অনিরুদ্ধ আহমেদ

 

এক.

     একটি জাতির জীবনে প্রাপ্তি যে কেবল বস্তুগত মাপকাঠিতে পরিমেয় হয় তা সম্ভবত নয় যদিও জনসাধারণের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বিশেষত বস্তুগত প্রাপ্তিতেই বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই। বাংলাদেশে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে যারা জয়ী হলেন, তাঁদের দিনবদলের ডাকের মধ্যে প্রতিশ্রুতি ছিল দ্বিবিধ। একদিকে যেমন তাঁরা বস্তুগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের, বিদ্যূৎ উৎপাদনের, দূর্নীতি দমনের এবং পণ্যমূল্য জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার, প্রতিটি বাড়ির একজন বেকারকে চাকরি প্রদান করার, তেমনি তাঁদের কিছু নীতিগত ও আদর্শিক প্রতিশ্রুতিও ছিল। এই সব আদর্শিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে যুদ্ধাপরাধী বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা, ২১শে অগাস্ট হত্যা, কিবরিয়া হত্যাসহ বেশ কিছু হত্যাকান্ডের বিচারের প্রসঙ্গটি যেমন ছিল, তেমনি বাহাত্তরের সংবিধানে প্রত্যাবর্তন অথবা একটি বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে এই সব নৈতিক ও আদর্শিক প্রতিশ্রতি পুরণে সরকার ক্রমশই দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাপ্তি কি এ প্রশ্নের সহজ উত্তরটি  হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারে শাস্তির রায় । গোটা জাতি যে অপরাধের বোঝা স্কন্ধে বহন করছিল দীর্ঘ দিন ধরে, গ্রীক ট্যাজেডির মতই সেই মহাশোকের বহুবছর পর যেন  সম্মিলিত পাপস্খলনের মুহূর্তটি আদালতের রায়ে পাওয়া গেল। বলাই বাহুল্য যে ১৫ই অগাস্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের যে বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত বিচার হলো বাংলাদেশের মাটিতে তাতে বাংলাদেশের জনসাধারণ কেবল নন, মানবতাবাদী  প্রতিটি মানুষ বিশ্বের সর্বত্রই এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এবং এক ধরণের বিজয় আনন্দ অনুভব করেছেন, বাঙালি মাত্রই। এই বিজয় কোন প্রতিহিংসার নয় বরঞ্চ এ হচ্ছে সত্যের স্বীকৃতির বিজয়।

দুই.

     এই সত্য যে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর ধরে অস্বীকৃত ছিল সেটাই বাংলাদেশের জন্যে পরম লজ্জার কারণ । এই লজ্জা যে জাতির জনকের প্রাণ রক্ষায় বাঙালির সামগ্রিক ব্যর্থতার লজ্জা তাই-ই নয় এই লজ্জা আইন  করে এই হত্যা এবং  অবৈধভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতাদখলের জন্যে যারা দায়ি তাদের অপরাধ থেকে অব্যাহতি দানের লজ্জা। পনেরোই অগাস্টের ঘটনার পর, অবৈধ ভাবে ক্ষমতাদখলকারী খন্দকার মুশতাক আহমেদই নয় কেবল, এর পরবর্তী শাসকরা, জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার, জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়া প্রত্যেকেই সচেতনভাবে এই বিচার বিলম্বের জন্যে দায়ি। বিশেষত বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান যে প্রত্যক্ষভাবে ১৫ই অগাস্টের সরকার পরিবর্তনের বেনেফিশিয়ারি হয়েছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কেবল জিয়া নিজেই নন, তিনি যে দলগঠন করেন সেটি ও ১৫ই অগাস্টেরই ফলশ্রুতিতেই গঠন করা হয়। এখনও যাঁরা জিয়ার কথিত সুশাসনের প্রশংসা করেন, তাঁরা ভুলে যান যে নিজে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে নিহত হবার আগের মূহুর্ত পর্যন্ত মুজিব হত্যার হোতা এবং কলাকুশলীদের পুরস্কৃত করেছিলেন নানান ভাবে। ডিসেম্বরে বাঙালির বিজয়ের মাসে যখন আমি এই লেখাটি লিখছি, তখন এক ধরণের অনিবার্য বেদনাও আমাকে ভীষণভাবে আক্রান্ত করছে। যে জিয়াউর রহমানকে আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অন্যতম একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে, নির্ভয়ে নির্লিপ্ততা এড়িয়ে সক্রিয় হতে, ২৬শে মার্চ পুর্ব ঘোষিত স্বাধীনতার বাণীকে পরের দিন ২৭শে মার্চ কালূর ঘাট বেতার থেকে স্বকন্ঠে প্রচার করে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে প্রণোদিত করতে, সেই জিয়া, সেই জাতির জনক যাঁকে তিনি কালুর ঘাটের বেতার ঘোষণায় আমাদের "গ্রেট লিডার" বলে উল্লেখ করেছিলেন তাঁরই ঘাতকদের সঙ্গে এক অশুভ মিতালিতে মেতে উঠলেন। জিয়াউর রহমানের মনোকষ্টের একটি কারণ সম্ভবত এ ছিল যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাঁকে সেনাপ্রধান না করে, উপপ্রধানের পদটি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান আমলের একজন মেজর ন মাস যুদ্ধে পর যে উপপ্রধানের পদ পেয়ে যেভাবে পুরস্কৃত হলেন সে ও তো নিতান্ত কম নয়। আরো কিছুটা ধৈর্য ধরলে জিয়া নিশ্চয়ই সেনাপ্রধান হতে পারতেন। বিস্ময়কর ব্যাপার এ ও যে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তাঁর বাবা-মা'র মৃত্যুর সময়ে জেনারেল জিয়া বত্রিশ নম্বরে গিয়েছেন বার বার, বত্রিশ নম্বরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল যে কোন সেনা কর্মকর্তার চাইতেও বেশি। সে জন্যেই তো খালেদা জিয়াও নিতান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েও বঙ্গবন্ধুর শরণাপন্ন হয়েছেন এবং বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কারণেই জিয়ার দাম্পত্য জীবন ঝড়ো হাওয়া সত্বেও ভেঙ্গে পড়েনি শেষ পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধুর এই অবদানের ফলই ভোগ করেছেন খালেদা জিয়া দুবার (এবং অতি অল্পসময়ের জন্যে আরো একবার) প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাগ্রহণের মাধ্যমে কিন্তু দূর্ভাগ্য জাতির যে বেগম জিয়ার কৃতঘ্নতা এতই প্রচন্ড যে তিনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসকে তাঁর জন্ম দিনের সোচ্চার উৎসব আনন্দে পরিণত করলেন। এই নিষ্ঠুর, নির্মমতা কল্পনাতীত ব্যাপার। তবে আমাকে বিস্মিত করে ঘাতকদের প্রতি জেনারেল জিয়াউর রহমানে নীতি বিরোধী সমর্থন ও পুরস্কৃত করার পরিস্কার প্রবণতা।

তিন.

     আমি বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানের যতই চেষ্টা করেছি, ততই বিস্মিত হয়েছি যে প্রশাসক হিসেবে জিয়াউর রহমান যে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত সততার ক্ষেত্রেও তাঁর যে এক ধরণের খ্যাতি ছিল তার সঙ্গে তাঁর চরিত্রের এই সব রাজনৈতিক ছলচাতুরি এবং নীতিবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে কোন ভাবেই যৌক্তিক সমীকরণ সাধন করা সম্ভব নয়। তবে একটি কারণ সম্ভবত ক্রমশই পরিস্কার হয়ে উঠছে যে জিয়াউর রহমান উচ্চাকাঙ্খি ছিলেন। ঘাতক শাহরিয়ার যখন এক সাক্ষাৎকারে পরিস্কার বলেছে যে সে এই ষড়যন্ত্রে জিয়ার সংশ্লিষ্টতা চাইলে একজন সাবধানী মানুষ হিসেবে তিনি নিরাপদ দূরত্বে থাকলেন অথচ এই রকম জঘন্য ঘটনা থেকে নির্বৃত্ত করার জন্যে তিনি যেমন তাঁর দাপ্তরিক কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলেন তেমনি এমনকী ব্যক্তিগত পর্যায়েও এদের থামানোর কোন চেষ্টাই তিনি করলেন না। বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে জেনারেল জিয়াউর রহমানের এই যে ভূমিকা ধরি মাছ, না ছুঁই পানি এটিও তাঁর সুবিধাবাদি চরিত্রেরই বহিপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের প্রায়োগিক ব্যাপারে দ্বিমত থাকতেই পারে এবং সেনাবাহিনী উপপ্রধান হিসেবে সেই দ্বিমত প্রকাশ করা যে তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না, সে কথা মেনে নিয়েই বলা যায় যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বড় রকমের কোন নীতিগত বা আদর্শিক বিরোধীতা ছিল তা সম্ভবত নয় কারণ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বাঙালি জাতীয়তাবোধ এ সব ব্যাপারে জাতি তখন একতাবদ্ধ এবং এই আদর্শের কারণেই জিয়াও যে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন সে নিয়েও সন্দেহের অবকাশ নেই । সুতরাং আর দশজন জিয়া-সমালোচকদের মতো আমি জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসেবে দেখতে চাই না। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই যে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের তিনি যে কেবল নিরাপদ নিশ্চয়তা দিয়েছেন তাই-ই নয়, তাদেরকে পুরস্কৃত করেছেন পদ ও পদবী দিয়েও। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক যে কাজটি করে গেছেন জিয়াউর রহমান তা হলো আদর্শিক দিক দিয়েও তিনি জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করেছেন। এর কারণ সম্ভবত যাদেরকে তিনি মিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তারা সবাই ছিল আওয়ামি লীগ বিরোধী এবং তাদের সিংহভাগ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীও ছিল।

চার.

     প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তিনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে একত্রিত করলেন না কেন? এর প্রধান কারণ স্বাধীনতার পক্ষের প্রায় সব শক্তিই পচাত্তরে আওয়ামি লীগের সহযোগি কিংবা বাকশালে অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া স্বাধীনতার পক্ষের দলগুলোর মধ্যে তখনও সব চেয়ে বেশি শক্তিশালী দল ছিল আওয়ামি লীগ। সুতরাং আওয়ামি বিরোধী রাজনীতি করার জন্যেই জিয়া আদর্শিকভাবে ভিন্ন মেরুতে আশ্রয় নিলেন । জিয়া হত্যা সম্পর্কে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বই'এ, চট্টগ্রামের তদানীন্তন  জেলা প্রশাসক  . জিয়াউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন যে তাঁর মাধ্যমে, তাঁর বাড়ি নোয়াখালীতে জিয়াউর রহমান আওয়ামি লীগের সদস্যদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে আওয়ামি লীগের সদস্যরা সঙ্গত কারণেই জিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করেননি। অনুমান  করা যায় জিয়াউর রহমান এই চেষ্টা অন্যান্য জেলায়ও হয়ত করেছিলেন কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু স্বাধীনতাপন্থিদের সঙ্গে পেলেও, তাঁকে সহযোগিতার জন্য যারা এগিয়ে আসে তারা প্রায়ই সবাই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। আর এই সহযোগিতার পুরস্কার হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের কার্যত সমাজ ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশালের বিপরীতে তিনি যে বহুদলীয় ব্যবস্থা চালু করেন তার পেছনেও তার রাজনৈতিক মিত্রদের পুনর্বাসনের ইচ্ছেটাই প্রধান ছিল। মনে রাখা প্রয়োজন যে জিয়াউর রহমান নিজের রাজনৈতিক দল ও জোট গঠনের পরই কেবল বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কথিত সিপাহী জনতা বিপ্লবের মাধ্যমে যে জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি এই তথাকথিত বিপ্লবের নেতাকে হত্যা করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সেটাও তার রাজনৈতিক সততার দৃষ্টান্ত নয়। জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন বটে কিন্তু মাঝে মাঝে যেন মনে হয় যে তাঁরা নামের আগে "মুক্তিযোদ্ধা" অভিধাটি যুক্ত করা যথার্থ হয় না যখন দেখি যে নিতান্তই রাজনৈতিক ফায়দার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধের সব আদর্শকে ভুলুন্ঠিত করে, বিপরীতমুখী যাত্রা শুরু করেন। ঘাতক ও দালালরা হয় তার মিত্র, মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি করেন কোণঠাসা।

পাঁচ.

     ডিসেম্বরের এই মাসে যখন এই লেখাটি লিখছি, তখন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসেবে চিত্রিত করতে এক ধরণের বেদনা অনুভব করছি বটে কিন্তু ইতিহাস তো বরাবরই নির্মম। কোদালকে কোদাল না বললে ইতিহাস কখনই ক্ষমা করে না। বাংলাদেশে ইতিহাসের এই চড়াই উৎরাই, এই মেরুবর্তী আদর্শের মধ্যে আসা যাওয়া আমাদের প্রায়শই সন্ত্রস্ত করে কারণ অনেক বিজয় সত্বেও আমাদের ইতিহাসে পরাজয়ের গ্লানিও কিন্তু কম নয়। এখনও দেশে জঙ্গি মৌলবাদের যে অন্তস্রোত বয়ে চলেছে সেটি আমাদের আশংকার একটি মুল কারণ। এই জঙ্গি মৌলাবাদের উন্মুল উৎপাটন না করলে, জয় করেও ভয় যাবে না কখনই, বিশেষত দ্বিধাবিভক্ত দেশটিতে।

অনিরুদ্ধ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও নিবন্ধকার

aauniruddho@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.