Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কেন মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত নয়? Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

বিশ্বজোড়া পাঠশালা

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদে কেন মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত নয়?

জাকিয়া আফরিন
  রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনা পৃথিবীর সকল অঞ্চলেই ঘটে থাকে তবে অন্য কোথাও দক্ষি এশিয়ার মত এমন নিত্তনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে তার নজির পাওয়া যাবে না। এ থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও। পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার চেয়ে কমসংখ্যক হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এর বীভৎসতায় ছাড়িয়ে গেছে পৃথিবীর সকল ঘটনাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে তার পরিবার পরিজনদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করার স্মৃতি বাংলাদেশের ত্রিশোর্দ্ধ প্রায় প্রতিটি মানুষের মনে গভীর ভাবে দাগ কেটেছে। তাই ২০০৯ সালে হত্যাকান্ডের ৩৪ বছর পর খুনিদের সাজাপ্রাপ্তির ঘটনায় স্বতস্ফূর্তভাবে স্বস্তি প্রকাশ করেছে আপামর জনসাধারণ।
     খুনিদন্ডের মৃত্যুদন্ড হওয়ায় খুশি বেশীরভাগ মানুষ। অনেক সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের পর্দায় মতামত দিয়েছেন এদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড দেবার বিষয়ে। মৃত্যুদন্ডকে শাস্তি হিসাবে বাতিল করার যে আন্দোলন বিশ্বজুড়ে সরব, বাংলাদেশে সেই কন্ঠস্বর কোথায়? এই মুহূর্তে মৃত্যুদন্ড বাতিল ঘোষণার কার্যকারিতা হতে পারে অন্যান্য যে কোন সময়ের চেয়ে সফল। কার হিসেবে উল্লেখ করা যায় দুইটি বিষয়ের, প্রথমত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকা সত্বেও এই খুনিদের মৃত্যুদন্ড রোধ করা হলে, তা হবে বাংলাদেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদরা নন বিশ্ববাসী বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার সমুন্নত করার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাতে বাধ্য হবে। দ্বিতীয়ত, দেরী করে হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকার্য সমাধা করে বাংলাদেশী বিচার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সাড়া ফেলেছে, সেই আবেদনের সঙ্গে বর্তমান বাঙালী সমাজের আধুনিকতা, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান - ইত্যাদি সজ্জার সমন্বয় ঘটাতে অমানবিক মৃত্যুদন্ড প্রথা বাতিল করাই কাম্য। তবে এখুনি উপযুক্ত সময় কিনা সে বিবেচনায় যাবার আগে মৃত্যুদন্ড আসলেই বাতিল করা প্রয়োজন কিনা সে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘদিন মানবাধিকার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি মৃত্যুদন্ডের চেয়ে বড় অধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে আর নেই। বেচে থাকার অধিকারই যদি রাষ্ট্র কেড়ে নেবার ক্ষমতা রাখে, তবে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, কিংবা অন্যান্য সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষার সংকল্প নাটকের সংলাপের মত বাস্তবে অচল হয়ে যায়। তবু সে দিক থেকে না ভাবলেও অন্তত আরো কিছু কারণে সচেতন নাগরিকের কাছে মৃত্যুদন্ড প্রথা রোধ ন্যায্য বলে বিবেচিত হতে পারে।
     ন্যায়বিচার বিষয়ক একেবারের গোড়ার কথা হল, নিরাপরাধ একজন মানুষও যেন শাস্তি না পায় দশজন অপরাধীকে ছেড়ে দিতে হলেও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মৃত্যুদন্ড দেবার ঘটনা ঘটেছে অহরহ। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংসদ ২০০১ সালের মুম্বাই বোমা হামলায় দোষী অভিযুক্ত আসামীর প্রাদন্ড দেবার সময় আদালত মন্তব্য করেছে সে তার কাছে উপযুক্ত নথি প্রমা নেই দোষীকে নিশ্চিতভাবে অভিযুক্ত করার, তবুও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে তার মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হলো। পাকিস্তানে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ অহরহ মৃত্যুদন্ডের মুখোমুখি হচ্ছে-
-ইসলামকে অবমাননা করার অভিযোগে। অথচ সামান্য তথ্য অনুস
ন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ্ ভিত্তিহীন
-ঈর্ষান্বিত প্রতিবেশী বা প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলা। স্বয়ং যুক্তরাষ্টও এই ভূল কিংবা মিথ্যা মামলা থেকে দু
রে নেই। অতি সম্প্রতি টেকসাস রাজ্য স্বীকার করেছে ২০০৪ সালে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা ক্যামেরন টড উইলিংহাম নির্দোষ ছিলেন। নিজ তিন সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে ১৯৯২ সালে ক্যামেরুনকে আটক করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে একই ধরনের অপর এক ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নিশ্চিত প্রমা পাওয়া যায় যে ক্যামেরুন হত্যাকারী ছিলেন না। আমেরিকার রাজনৈতিক বন্দীদের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়- তাদের অন্যতম- সাংবাদিক মুমিয়া আবু জামাল কারাগারে মৃত্যুর দিন গুনছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দু'ধরনের ঘটনাই প্রাসঙ্গিক। রাজনৈতিক বন্দী বদলায় প্রতি সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে। সকল রাজনৈতিক দলই বন্দী হয়ে কারগারে ভিড় করে সাময়িক শাসকের আমলে। আর বিচারে ভুলের কথা খুলে আর বলার প্রয়োজন নেই। বিনা বিচারে বছরের পর বছর জেল হাজতে পরে থাকা মানুষের সংখ্যা কিংবা তিন বছর বা কম বয়সী শিশুর ডাকাতি খুনের মামলায় আসামী হবার কথা অহরহ ছাপা হচ্ছে সংবাদপ্রত্রে। বাংলাদেশে'জন নির্দোষ ব্যক্তি এ পর্যন্ত মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত বা নিহত হয়েছে সে হিসাব কে রেখেছে?
     অপর যে কারণে বাংলাদেশে এই প্রথা রোধ করা সমর্থনযোগ্য তা হলো অপরাধের মূল সন্ধানে এর অপারগতা। শাস্তির উপর মনোযোগ বেশী থাকায়, অপরাধ সম্পর্কে আগ্রহ অনেক সময় কমে যায়। এর জলজান্ত উদাহর হতে পারে, বাংলা ভাইয়ের মৃত্যুদন্ড। জনতার দাবীতে তড়িঘড়ি করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বাংলা ভাইকে শেষ করা গেছে, কিন্তু তার সহযোগী মন্ত্রী, আমলা ও আন্তর্জাতিক শক্তি রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাংলা ভাই ছিলেন একজন সৈনিক- মূল সেনাপতির কাছে পৌঁছতে না পারলে বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবেলা করা অসম্ভব। একই যুক্তি দেখানো যায়, নারী নির্যাতন বিরোধী আইনটি সম্পর্কে বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ফাঁসির আদেশও হচ্ছে অহরহ। অথচ সামাজিক প্রতিরোধে গুরুত্ব কম থাকায় নির্যাতনের সংখ্যা বা ভয়াবহতা কমছে না একটু ও।
     মৃত্যুদন্ডের বিপক্ষে শেষ কথা বলে কিছু নেই। বরং এর স্বপক্ষে বলার মত যুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না একটিও। খুনের বদলা খুন' মধ্যযুগীয় এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসেছে পৃথিবীর বেশীর ভাগ দেশ। বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে প্রগতির পথে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পরাজিত দেশদ্রোহিদের জন্য যে সাধার ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে তিনি তার জন্য যতটা সমালোচিত হয়েছিলেন,তার মহানুভবতা ততটাই আড়ালে পড়ে গেছে। এই সময়ে নেলসন মেন্ডেলা প্রতিপক্ষের দলের প্রতি সাধার ক্ষমা করে পেয়েছেন সর্বোচ্চ মর্যাদা। বঙ্গবন্ধু কন্যা, ভারতে শান্তি পুরস্কার গ্রহ করার আগে মৃত্যুদন্ড প্রথা রোহিত করার পদক্ষেপ নিন- এই আশায় রইলাম। শেষ করার আগে মনে করছি সেই পুরোনো প্রবাদ, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়েছে পায়/ তাই বলে কুকুরে কামড়ানো কি মানুষের শোভা পায়?' মানুষ হত্যা করে আইন ভঙ্গ করে, তাই বলে রাষ্ট্রের পরিকল্পিত হত্যাকান্ড কি সমর্থযোগ্য?

ডিসেম্বর , ২০০৯

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া


 

মন্তব্য:
Correction: Number of Execution   January 18, 2010
In 2008, 5 men were executed in Bangladesh. Sorry for the typo. Source: Amnesty International/2009 Annual Report/Bangladesh
Correction: Number of Execution   January 18, 2010
In 2008, 5 men were executed in Bangladesh. Sorry for the typo. Source: Amnesty International/2009 Annual Report/Bangladesh
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.