Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
বঙ্গবন্ধুর হত্যা, বিচার এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

বঙ্গবন্ধুর হত্যা, বিচার এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা

শুভ কিবরিয়া

 

১.

ক.

যখন তুমি কোনো ভদ্রলোকের সঙ্গে খেলবে, তখন তোমাকেও ভদ্রলোকের মতোই খেলতে হবেআর যখন তুমি কোনো বদমাশের সঙ্গে খেলবে, তখন তোমাকেও এর চেয়ে বড় বদমাশ সাজতে হবেতা না হলে তুমি হেরে যাবে

-শেখ মুজিবুর রহমান

খ.

আজ বাকশাল সদস্যদের সতর্ক থাকার কারণ হচ্ছে এই যে, বাংলাদেশের জনগণ খুব বেশি প্রতিক্রিয়াশীলতারা তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবেএই কথা তোমাদের মনে রাখা ভালোতোমরা সারা জীবনভর নিবেদিত প্রাণে কাজ করে যাবেযদি তোমরা একটা ভুল কর, তাহলে তোমরা বাংলাদেশের মাটি থেকে নিঃশেষ হয়ে যাবেএইটা বাংলাদেশের আইন

- ২১ জুলাই ১৯৭৫ সালে বাকশালের মনোনীত জেলা গভর্নরদের উদ্দেশে দেয়া বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য থেকে নেয়া

সূত্র : বাংলাদেশে : এ লিগেসি অব ব্লান্ড লেখক- এ্যান্থনী ম্যাসকার্নহাস, প্রকাশক-হাক্কানী পাবলিশার্স, অনুবাদক- মোহাম্মদ শাহজাহান, ২য় মুদ্রণ ১৯৯১ ইং

২.

     বঙ্গবন্ধুকে যখন সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র অফিসার ও জোয়ানরা হত্যা করে তখন (১৯৭৫ সালে) বাংলাদেশে এক দলীয় শাসন বাকশাল কায়েম হয়েছেজনগণের মৌলিক অধিকার নানাভাবেই খর্বিতসংবাদপত্রে আরোপিত হয়েছে বিধি নিষেধ১৯৭৪ সালে একটা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছেদুর্নীতি ও চোরাকারবারীর নানান ঘটনা ঘটছিলআত্মীয় ও চাটুকার পরিবেষ্টিত বঙ্গবন্ধুর অন্যতম রাজনৈতিক সুহৃদ এবং দক্ষ রাজনীতিবিদ তাজউদ্দিন আহমদ তখন মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত

     ১৯৭১ সালের পর এই বছরেই খন্দকার মোশতাক আহমদ বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেনমার্কিন লবির চর মোশতাক ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, ১৯৭৫ সালে তা করতে সফল হলেনবঙ্গবন্ধুকে খুশি করে, তার আস্থাভাজন হয়ে, তার সত্যিকার বন্ধুদের থেকে তাকে দূরে সরিয়ে একা করে, খুনি মোশতাক সেজে রইলেন তার অন্যতম সুহৃদ

     বাঙালি মুসলমানের নৃতাত্ত্বিক যে স্বভাব সেই আত্মীয়-তোষণ, পরিবারকে নিয়মনীতির বাইরে এনে রাজশাসনে প্রভাব রাখবার ব্যবস্থা করে দেয়া, এসব কাজে ততদিনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধানতম ব্যক্তিটিও নিয়োজিত হয়ে পড়েছেনতারই ধারাবাহিকতায় আত্মীয়তন্ত্রের সুবিধাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন

     এসব প্রেক্ষাপটে জনপ্রত্যাশা আর বাস্তবতায় দুস্তর ফারাক ঘটছিল নব্য স্বাধীন দেশে রাষ্ট্রের নানা সংগঠনগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হবার বদলে বৈরিতায় পতিত হচ্ছিলবিশেষত সরকার এবং সেনাবাহিনী নানা দ্বন্দ্বে, নানা বিশ্বাসহীনতায় পরস্পরের মধ্যে দ্বেষ ও হিংসা পুষে বড় হচ্ছিলরক্ষীবাহিনী সরকারের বিশেষ দৃষ্টি লাভ করায় তাও সেনাবাহিনীকে সংগঠন হিসেবে বৈরিতায়, বিদ্বেষে সরকার বিরোধী করেছিলএসব সত্য, প্রমাণিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যার পর

     ক্যু, পাল্টা ক্যুর পর যে সেনাবাহিনী স্থিতিলাভ করেছে ১৯৭৫-এ, তা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্যুটারদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেঅন্যদিকে সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে থেকে যারা (মেজর জেনারেল অব. শফিউল্লাহ, এয়ার ভাইস মার্শাল অব. এ. কে খোন্দকার) বঙ্গবন্ধুর রক্তাক্ত খুনকে নির্বিঘ্নে পার হতে দিয়েছেন অবশেষ তারাই আওয়ামী লীগে স্থিতিলাভ করেছেন

     বঙ্গবন্ধুর খুনের পর খুনি মোশতাক সরকারকে যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা করেছেন, আনুকূল্য দেখিয়েছেন এবং নিজেরা নানা পদ-পদবি, উপঢৌকন লাভ করেছেন তাদের অনেকেই শেষে আওয়ামী লীগেই পুরস্কৃত হয়েছেবঙ্গবন্ধুর খুনের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হিসেবে পরবর্তীতে জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল এরশাদকে দেখা হয়েছে, তবে সেই এরশাদকেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মিত্র বানিয়েছেআজকের বাংলাদেশে মহাজোটের দুই বড় মিত্র জাসদ (ইনু) এবং এরশাদের জাতীয় পার্টির দিকে তাকালে ১৯৭৫-এর বিবেচনায় একে রাজনৈতিক ভিন্নচিত্রই বলা যায়হয়ত এ এক রাজনৈতিক দুষ্টচিত্রও বটে

৩.

     এসব প্রসঙ্গ কেন আনলাম তা বলবার আগে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের প্রসঙ্গটি টেনে আনি১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হলেও তার হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে ৩৪ বছর লাগলোপ্রথমত, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বা এই হত্যার বিচার করা যাবে না, এ দায়মুক্তি দিয়ে যে আইন প্রণীত হয়েছিল তা রদ করতে হয়েছেদ্বিতীয়ত, বিএনপি সরকারের শাসনামলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ বিচারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করা হয়েছে১৯৯৬ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র চালানোর ম্যান্ডেট দিলে এ কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা সম্ভব হয়দ্বিতীয় দফায় ২০০৮-এ আবার জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আওয়ামী লীগের পক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারকে সম্পন্নের  দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়সুতরাং দুক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার কাজটিকে সম্পন্ন করার মূল অনুঘটক জনগণজনগণের ম্যান্ডেটআওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা

৪.

     এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজন কারাগারেছয়জন পলাতক, একজন পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় মৃতপলাতক ছয়জনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকারএই খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলে আশা করা যায় জনগণের প্রত্যাশার অনেকটা মিটবেকিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তার সঙ্গে সঙ্গে কি বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সব অপরাধ বিলীন হবে? এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় চূড়ান্ত হবার পর শাসক দল আওয়ামী লীগের মধ্যে সেই মনোভঙ্গি খুব সুস্পষ্ট হয়েছেরাজনৈতিকভাবে সেটিই হচ্ছে জনগণের জন্য দুর্ভাবনার বিষয়

কেননা, বঙ্গবন্ধুর হত্যা কি শুধু এই কথিত অভিযুক্ত শাস্তিপ্রাপ্ত স্যুটার বা কিলারদেরই কাজ?

এর পেছনে আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি নেই?

দলের ভেতর যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সহায়তা করেছে, তাদের বৈধতাকে পূর্ণতা দিয়েছে সেই রাজনৈতিক শক্তি, সেই আমলাতন্ত্র কি বর্তমান সরকারকেও ঘিরে নেই?

যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার নানান রসদ যুগিয়েছে সে বিষয়ে সরকারি পক্ষে কি কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হয়েছে?

সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তো এখন আওয়ামী সরকারের সবচেয়ে বড় মিত্র

যে আধিপত্যবাদী মার্কিন রাষ্ট্রবিবেচনা জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যার আয়োজন করতে পারে সেই আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রবিবেচনাকে শাসকদল আওয়ামী লীগ বর্তমানে মিত্র বিবেচনা করে কোন রাজনৈতিক দার্শনিক মনোভঙ্গিতে?

দ্বিতীয়ত : দেশের সামরিক আমলাতন্ত্রের সাথে বঙ্গবন্ধু সরকারের যে গোপন দূরত্ব তা কি বর্তমান সরকারকেও ঘিরে নেই

বলার কথা এই, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল কুশীলব বা পরিকল্পক যারা, যাদের মূল চিন্তা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি একজন জাতীয়তাবাদী নেতার দ্বারা পরিচালিত না হোক- সেসব কুশীলবরাই আজকের শাসকদের বড় মিত্র, ভেতরে ও বাইরে

৫.

     বঙ্গবন্ধুর হত্যার যারা বেনিফিশিয়ারি, যারা দেশে-বিদেশে, শাসক দল আওয়ামী লীগে বড় হয়েছে, রাজনৈতিক -অর্থনৈতিক (Political Economy) ক্ষমতায় পরিপুষ্ট হয়েছে সেই শক্তি এখনো ভীষণ রকমের বড়

     যে জনগণ বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের বিষয়ে আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে সেই জনআস্থার সঙ্গে শাসক দল আওয়ামী লীগের বর্তমান যোগসূত্র খুব একটা সুদৃঢ় রয়েছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিশ্বাস রাখা কঠিন সরকার এবং দল এর মধ্যে দূরত্ব বাড়ছেদূরত্ব বাড়ছে আমলাতন্ত্রের শক্তিমান অংশের সঙ্গে সরকারের শক্তিমান অংশেরএর মধ্যে এ সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বড় ঘটনা

     অন্যদিকে পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিস্তারিত হচ্ছেভারতের শাসক রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে এই আধিপত্যবাদী মনোভঙ্গি এতই তীব্র তা শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র লোকেই উদ্বিগ্ন করছে নানিজ দেশের মধ্যেও তার প্রতিবাদ ও রক্তস্নাত প্রতিরোধ বাড়ছেভারতের ২০টি রাজ্যে মাওবাদীরা সরকারি এই আধিপত্যবাদকে রুখতে সশস্ত্রতার আশ্রয় নিয়েছেআসাম, ত্রিপুরাতে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে সেখানকার জনগণআশঙ্কার বিষয় এসব স্বাধীনতাকামী সংগঠন (উলফাসহ অন্যদের) এর বিপক্ষে ভারতীয় আধিপত্যবাদের সঙ্গে হাত মিলাচ্ছে শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারইতোমধ্যে উলফার বড় অংশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে

৬.

     ভারতের এই রাজনৈতিক আগ্রাসনের মধ্যেই চলছে উপমহাদেশ জুড়ে নানান অস্থিরতাপাকিস্তানের যে সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তালিবান পরিপুষ্ট হয়েছে তার বিরুদ্ধেই তাকে অস্ত্র ধরতে হচ্ছে আমেরিকার চাপেআঘাত-পাল্টা  আঘাতে রঞ্জিত পাকিস্তানআফগানিস্তানে নতুন তীব্রতর লড়াইয়ের দামামা বাজাচ্ছেন বারাক ওবামা

     বাংলাদেশ সেই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কৌশল মাথায় না নিয়েই জড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় আধিপত্যবাদের চক্রেভয়টা সেখানেইবঙ্গবন্ধু যে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হবার কারণেই মৃত্যুর শিকার, কজন শূটারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আমরা ভাবছি মূল কারণ তিরোহিত হয়ত

     শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্য দুর্ভাবনা সেখানেইআওয়ামী লীগ যখন জেতে তখন বড় একা এগুতে চায়হারলে সবাইকে ভোগায়বাংলাদেশের রাজনীতিতে শত্রু মিত্র চিনবার এই দুর্দিনে সরকার এবং শাসক দলের কথিত আত্মতৃপ্তি এবং ভারত-মার্কিন নির্ভরতা আশঙ্কা জাগাচ্ছে বড়...

ঢাকা

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.