Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ৯ম সংখ্যা পৌষ ১৪১৬ •  9th  year  9th  issue  Dec 2009 - Jan 2010  পুরনো সংখ্যা
উচ্ছ্বাসে মুখর বিজয় দিবস ২০০৯ জাগলো নতুন আশা Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

উচ্ছ্বাসে মুখর বিজয় দিবস ২০০৯

জাগলো নতুন আশা

নাসির আহমেদ

            এবারের বিজয় দিবসের ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমমনে হয়েছিল যেন একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশকে দেখছিকী যে প্রাণের জোয়ারপ্রতি বছরই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যেমন আনন্দে উদ্বেল মানুষ ছুটে যায় একাত্তরের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, তেমনি সারাদেশেও দিনটি পালিত হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেনি রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কিংবা জেলা প্রশাসনসহ সরকারি আনুষ্ঠানিকতায়যথারীতি ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে খুব ভোরে দিনটির সূচনাও হয়েছে আগের মতইহয়তো সচেতন পাঠকের মনে কৌতূহল জাগতে পারে, তাহলে ব্যতিক্রম কোথায়? হ্যাঁ, ব্যতিক্রম তো ছিলইছিল বলেই সম্পূর্ণ অন্যরকম মনে হয়েছেসাধারণ মানুষের মধ্যে এ বছর ১৬ ডিসেম্বরের দুতিনদিন আগে থেকেই যে আবেগ-উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে, বিগত দিনগুলোতে তা ছিল অনুপস্থিতঅনুপস্থিত বলা বোধ হয় ঠিক হবে নাবলা ভালো সীমিত ছিলএর কারণ স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-শিবিরের আধিপত্য ছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্তকারণ বিএনপি-জামায়াত জোট বেঁধে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জোট সরকার গঠনের পর পাঁচটি বছর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ভূত এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে, দেশটাকে চেতনার দিক থেকে পাকিস্তানি সংস্করণে পরিণত করার যত কাজ, তার সবই এরা করেছেএমন কি হাসান হাফিজুর রহমানের মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ কবি ও সাংবাদিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের যে দলিলপত্র সংকলিত হয়েছিল ৯ খণ্ডে, ঐ দলিলপত্র পর্যন্ত বদলে দেবার অপচেষ্টা করেছেজোট সরকার পাঠ্য পুস্তকও বিকৃত করেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসস্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ, যেখানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতির সব কিছুই বলেছিলেন, তা ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া হয়ঐ ভাষণের আগে জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ১৯৭০-এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের ইতিহাস, সব কিছু ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেছেশুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার জন্য তার বিরুদ্ধে কত অপপ্রচারই না চালিয়েছেতাঁর নামে স্থাপিত যমুনা বহুমুখী সেতু, নভো থিয়েটারসহ বহু স্থাপনা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলে নতুন নামকরণ করেছে

            ঘটনা যদি এ পর্যন্ত থাকতো, তা হলেও একটা সীমা ছিলসবচেয়ে বড় সর্বনাশ যা করেছে, তা হলো স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধ স্তব্ধ করে দিতে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকবাহিনীর সহযোগী হয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে, তাদের গাড়িতে উড়লো মহান স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকামন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হলো যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই দুই জামায়াত নেতাকেএই সুযোগটা জামায়াত এমন নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে দলকে শক্তিশালী করেছে, যার তুলনা নেইসারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যেমন সংগঠনের ভিত্তি শক্ত করেছে মন্ত্রিত্বের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে, তেমনি করেছেসারা দেশে বহু নতুন এনজিওকে রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে জামায়াত নেতার মন্ত্রিত্বে থাকা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে

            সুতরাং জামায়ত ও বিএনপির নিরংকুশ ক্ষমতার দাপটে একদিকে নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয়েছে ভুল ইতিহাস পড়ে, অন্যদিকে ২০০১ এর অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রায দুটি বছর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দলটির নেতাকর্মী রাজনৈতিক তৎপরতা তো দূরে থাক নিজ নিজ এলাকায় পর্যন্ত যেতে পারেনিজুলুম নির্যাতন আর ইতিহাস বিকৃতির এরকম জঘন্য পরিবেশেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রহসন করল বিএনপি-জামায়াত জোট মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করেএ মন্ত্রণালয় সত্যিকারে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেকরেছে দলীয়করণএর মধ্য দিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা হয়েছে অনেকেই তালিকাভুক্তএমন কি স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামী পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন বানালোশুধু তাই নয়, তারা এই সংগঠনের প্লাটফর্মে তারা সম্মেলন পর্যন্ত করলকোনো মুক্তিযোদ্ধা কি জামায়াতে ইসলামের সমর্থক হতে পারে

            এইসব অবিশ্বাস্য অবাস্তব ঘটনার বাস্তব রূপ দেখেছে বাংলাদেশ জোট শাসনের পাঁচ বছরেতারপর যে মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে সামরিক বাহিনীর সমর্থনে এক অভিনব তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল, তারাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেনিতাঁদের দুবছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতৃবৃন্দ নাজেহাল হলেও জামায়ত নেতারা ছিল সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থানেএমনকি এত যে দুর্নীতি হয়েছে জোট শাসনের ৫ বছরে তার একটি আচঁড়ও লাগলো না জামায়াতের গায়ে

            সুতরাং এসব ঘটনা তথা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির ক্রমাগত শক্তিসঞ্চয় সত্ত্বেও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম জননেত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের ডাকে সাড়া দিয়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আশায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিপুল সংখ্যক ভোট দিয়ে জয়ী করেছে আওযামী লীগের নেতৃত্বে গড়া মহাজোটকেসেই জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে যদিও একের পর এক চক্রান্ত চলছে সরকারকে ফেলে দিতে, তারপরও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রায় কার্যকর করতে উচ্চ আদালতে রায়ে চূড়ান্তকরণ, যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোসহ কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বর্তমান সরকার সক্রিয় এবং অনড় ভূমিকায় রয়েছে

            এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত অগণিত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার, নবীন প্রজন্ম এবং সচেতন প্রগতিশীল সংস্কৃতিপ্রেমীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে এবার রাজপথে নেমে এসেছেন বিজয় উল্লাসেসাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে অকল্পনীয় ভিড় হয়েছে এবারগণজোয়ারে প্লাবিত হয়েছিল কয়েক কিলোমিটার রাস্তাঢাকার টিএসসি, চারুকলা, শিল্প একাডেমী, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে ছিল উৎসবের নানামাত্রিক বর্ণিল আয়োজনএসব আয়োজনেরও ছিল শিশুকিশোরের এবং তাদের অভিভাবকসহ অগণিত মানুষমুক্তিযুদ্ধ জয়ের অনন্য গৌরবে ভাস্বর মহান বিজয় দিবসে এবার সরকারি টিভি চ্যানেল বিটিভিসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো এত বর্ণাঢ্য আয়োজনে একাত্তরের গৌরবময় আনন্দ বেদনার স্মৃতি তুলে ধরেছিল যে, মনে হয়েছে আমরা সবাই ৭১-এর সেই দিনটিতেই ফিরে গেলামযেদিন রমনার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওর্দী উদ্যান) প্রায় এক লাখ হানাদার পাকবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ডার জেনারেল নিয়াজি অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছিলেন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছেউল্লাসে ফেটে পড়েছিল আনন্দ বিহব্বল হয়ে মুহূর্তের জন্য ভুলেছিলেন স্বজনহারার মর্মযাতনা

            এবারে বিজয় দিবসে আমরা সেই উচ্ছ্বাসই যেন নতুন করে দেখলামযে তরুণ প্রজন্ম একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দেখেননি, তারাও এবার বুঝতে পেরেছেন আমরা কত কঠিন মূল্য দিয়ে কী অমূল্য ধন স্বাধীনতাঅর্জন করেছিলামতবে এবারের বিজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারি জেনোরেলের উক্তিরক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রক্ষা করবো কী বিচিত্র এই দেশ সেলুকাসভূতের মুখেও রাম নাম? কিন্তু তাদের এই প্রতারণামূলক উক্তি কোনো ফল দেয়নিসচেতন মানুষ হেসেছেকারণ নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে এবার বিজয় দিবসে একটাই দাবি সোচ্চার ছিল; ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইএমন কি কোলের শিশুরাও টিভি ক্যামেরার সামনে আধো আধো বোলে উচ্চারণ করেছে বিচাল চাইঅর্থাৎ বড়দের মুখে শোনা বিচার চাই; বলতে চেয়েছেএরপরও কি বলতে পারি না প্রাণের উচ্ছ্বাসে মুখর বিজয় দিবস নতুন আশার সঞ্চার করবে?

ঢাকা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.