Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
জঙ্গীবাদ সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসেরই 'ব্লোব্যাক' Download PDF version
 

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ

 

 

জঙ্গীবাদ সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসেরই 'ব্লোব্যাক'

দেওয়ান শামসুল আরেফীন

 

২০০৬ সালে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় যে ভাষায় সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করে সেটি হলো - Terrorism involves unlawful, typically random acts of violence or the threat of violence by an individual, group or government to achieve a political goal । সংজ্ঞাটির ব্যাখ্যায় আরো যোগ করে যে যুদ্ধ যেখানে আন্তর্জাতিক আইন এবং কনভেনশন্স মেনে চলে সন্ত্রাসবাদ সে সবের তোয়াক্কা করেনা। সন্ত্রাসবাদের কাজ হলো একাধারে আকস্মিক সহিংস আক্রমন পরিচালনা করা এবং ব্যাপক ভয়-ভীতির সৃষ্টি করা এবং তা জারী রাখা। এর কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে বোমা বিস্ফোর, হাইজ্যাকিং, কিডন্যাপিং, গোপন হত্যাকান্ড ইত্যাদি। এসব কাজে দুধরণের রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততা থাকে বলে এতে ধারণা দেয়া হয়। দু'টোর একটি হলো state sponsored terrorism যা কিনা সন্ত্রাসীদের অর্থ, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষ দিয়ে অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অথবা অভ্যন্তরে সহিংস তৎপরতা চালাতে সক্রিয় সহযোগীতা করে থাকে। যেমনটি আফগানিস্তানের তালিবান সরকার আল কায়েদাকে সহায়তা করেছে ৯/১১-এর মতো নৃশংসতম ঘটনা সংঘটিত করাতে।

দ্বিতীয়টি হলো - কিছু রাষ্ট্রই আছে যেগুলো প্রকৃতিগতভাবেই নিপীড়নমূলক। এই সন্ত্রাসবাদকে আখ্যায়িত করা হয়েছে নিষ্পেষণমূলক ষ্টেট টেরোরিজম হিসেবে। যেখানে সরকার তার নিজ জনগণের উপর অত্যাচার, নির্যাতন, মানুষ গুম করা, ধর্ষণ, এমনকি গহত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চায়। দৃষ্টান্ত হিসেবে এক্ষেত্রে নাৎসী জার্মানীর এডল্ফ হিটলার, কম্বোডিয়ার পলপট, ইরাকের সাদ্দাম হোসেনর কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

নৈর্ব্যক্তিক সমাজ বিশ্লেষক, বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞানীরা আগ্রাসনবাদীদের এ ব্যাখ্যাকে একদর্শী বলে মনে করেন। এবং আভিমত দিয়ে থাকেন যে তাদের দেয়া সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা, তার বিভাজন, ইত্যাদিতে সত্যতা অবশ্যই কিছুটা রয়েছে - তবে তা বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়। দু থেকে আড়াই ' বছর আগে যখন আমেরিকার অস্তিত্ব ছিলনা - তখনও বিশ্বে সন্ত্রাস ছিল। কোথায়ও এটা ছিল রাজনৈতিক মতাদর্শিক, কখনো ধর্মীয় মুক্তির উদ্দেশ্যে চালিত। বর্তমান বিশ্বে এর যে ব্যাপক বিস্তৃতি এবং সন্ত্রাসবাদ ও ইসলাম ধর্মের সমার্থকর করা হয়েছে - সেটা আমেরিকার মিলিটারী ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স তাড়িত পররাষ্টনীতিরই প্রতিক্রিয়া। আমেরিকার প্রশাসন, বিশেষ করে সিআইএ সেটা ভাল করেই জানে। তারা নিজেরাই এই প্রক্রিয়াকে 'ব্লোব্যাক' বলে আখ্যায়িত করে থাকে বলে বিশিষ্ট লেখক চ্যামার্স (Chalmers Johnson)  Blowback’ শীর্ষক এক দীর্ঘ নিবন্ধে বলেন। আরো বলেন, এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষি আমেরিকাসহ সামপ্রতিক বিশ্বের অগণিত সংঘর্ষ ছাড়াও আফগানিস্তান (তালেবান) ইত্যাদির সৃষ্টি বা তাদের সাথে সামরিক সখ্যতার ভূমিকার কথা কে না জানে?

সন্ত্রাসবাদ সজ্ঞায়নের বিষয়টি মূলতঃ আপেক্ষিক ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্যটিকে সম্মূখে আনেন নোম চোমস্কী। কোন আক্রমটি benign, এবং কোনটি barbaric তার সংজ্ঞায়নের তারতম্য ঘটে কে আক্রমনকারী এবং কে আত্মরক্ষাকারী তার উপর। সুতরাং সন্ত্রাসবাদ সজ্ঞায়নের একক স্বত্ব আমেরিকার নয়। উপরন্তু, আমেরিকা সন্ত্রাসী চিহ্নিতকরণে নিলর্জ্জ পক্ষপাতদুষ্ট। ইসরাইল সন্ত্রাস তাদের চোখে পড়েনা। অথচ, তিহাসিকভাবে তারাই আধুনিক সন্ত্রাসবাদের উদ্ভাব

 বাংলাদেশের জঙ্গীবাদকে উল্লেখিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা ঠিক হবেনা। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর একক পরাশক্তি আমেরিকা তার নিজ স্বার্থে এক শত্রু  অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সে অভাবই সে পূর্ণ করে ইসলাম ধর্মের অত্যাচার, অবিচার, অন্যায়, জুলম-বিরোধী জেহাদ সংক্রান্ত ধারণা, চেতনা এবং মুসলিম সমাজের ন্যুনতম একাংশের সে সব বিমূর্ত ধারণা ও চেতনার অপব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে। মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়বেনা সেটাতো আশা করা যায়না। ধমার্ন্ধ কিছু সংগঠনের উদিচী ও ছায়ানটের অনুষ্ঠানে নাশকতামূলক, সহিংস কাজ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার একাধিক প্রচেষ্টা, একই দিনে সারা বাংলাদেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা - স্পষ্টতঃ বলে দেয় বাংলাদেশ জঙ্গীবাদ থেকে মুক্ত নয়। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের আবির্ভাব দুঃখজনক এক ঘটনা।

এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া আত্যন্ত জরুরী। তবে জঙ্গীবাদের সমপর্যায়ের কোন পন্থা এর যথার্থ সমাধান নয়। এক্ষেত্রে ২০০৮ সালে ব্যাণ্ড কর্পোরেশন পরিচালিত একটি গবেষণালব্ধ তথ্য প্রাসঙ্গিক বিধায় বিশেষভাবে স্মর্তব্য। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও যথার্থ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ নিরসন যতটা সম্ভব সামরিক শক্তি বা বল প্রয়োগ করে তা সম্ভব নয়। গত ৪০ বছরে যে ২৬৮ সন্ত্রাসী সংগঠনের মৃত্যু ঘটেছে তার ৪৩ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের আংশগ্রহণের মাধ্যমে। ৪০ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে পুলিশের কার্যকরী তদারকী এ খবরদারীর কারণে। সামরিক শক্তি বা বল প্রয়োগের ফলে এদের আবলুপ্তির হার একেবারেই কম - মাত্র ৭ শতাংশ। স্বভাবতঃই এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের 'ব্লোব্যাকের' বিষয়টিকে গভীরভাবে উপলদ্ধি করতে হবে। তা না হলে, জঙ্গীবাদের পক্ষের শক্তি এবং বিপক্ষের শক্তি -  উভয়ের জন্যেই জঙ্গীবাদ হয়ে দাঁড়াবে আত্মঘাতীমূলক একটি হাতিয়ার।

 

নিউ জার্সী

১৬ জানুয়ারী, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.