Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশের ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থান ও বিস্তার Download PDF version
 

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ

 

বাংলাদেশের ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থান ও বিস্তার

আরাফাত তারেক

 

বাংলাদেশে কবে, কখন, কীভাবে জঙ্গীদের উত্থান হয়েছে- তার সঠিক তথ্য বলা না গেলেও, '৭১-এর পরাজিত শক্তি পাকিস্তানিদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদল আল শামস বাহিনীর প্রধান বা হোতারাই জঙ্গী সংগঠনগুলোর নেপথ্য নায়-এই বিষয়টি পরিষ্কার। যারা অসাম্প্রাদায়িক, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, মানতে পারেনি '৭২-এর সংবিধানকে, এবং যাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর এদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে- এই গুরু বিদেশী রাষ্ট্র ও শিষ্য দেশীয় হোতারাই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ইসলামের নামে জঙ্গীবাদী কায়দায় দেশের ক্ষমতা আরোহন। ধারণা করা যায়- জঙ্গীবাদের চারা রোপন করা হয় মূলত। ৭৫ এর পরে পরেই। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতারোহন এক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইসলামপন্থী দলগুলোর সদস্যরা ভারত ও পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে এবং কাশ্মীরে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই জেহাদী নামক তালেবানী যুদ্ধে অংশ নেয়। বাংলাদেশের প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার গোলাম আজম, আব্বাস, নিজামী, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, কাদের মোল্লা, সাইদী, সোবহান, আমিনী গঙ আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে মৌলবাদী-জঙ্গী সংগঠনগুলোর আন্তসংযোগের মাধ্যমে গুরু রাষ্ট্রগুলোর অর্থায়নে গোপনে তৈরি করে জঙ্গী সংগঠনগুলো। জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্রকারী খোন্দকার মোশতাকের মাধ্যমে ক্ষমতা আরোহণ করে শাহ আজিজুর রহমানের মতো প্রমাণিত রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী করা এবং গোলাম আজমকে দেশে ফেরত আনার ফলে পুনর্বাসিত হয় ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীরা। পরবর্তীতে স্বৈরচারী এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে এদেরকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয়। এই সময়গুলোতে জঙ্গীরা ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। '৯১-সালে খালেদা সরকারের সময় ইসলামী জঙ্গীদের গডফাদাররা পূর্ণ বটবৃক্ষ হওয়ার সুযোগ পায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে জঙ্গীদের গডফাদাররা ভীষণ দুঃচিন্তায় পড়ে যায়। শুরু করে গোপন উত্থান। তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে দেশের বিভিন্ন জায়গায় - আত্মপ্রকাশের ভাষা বোমা-বিস্ফোরণ। উদীচী রমনার বটমূল, পল্টন, কবি শামসুর রাহমানের বাসা, শাহ এম এস কিবরিয়া হত্যা, একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ, ময়মনসিংহে সিনেমা হলসহ অসংখ্য বিস্ফোরণ, হত্যায় মেতে উঠলো জঙ্গীরা।

একদিকে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এম এল), পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), জাসদ গণবাহিনী ও সর্বহারা পার্টির সন্ত্রাস ও অন্যদিকে নতুন করে জঙ্গীদের কর্মকাণ্ডের উত্থান বাংলাদেশের জনগণকে দুঃসময় ও দুঃস্বপ্নের মধ্যে ফেলে দেয়। হরকাতুল জিহাদ (হুজি), জামাতুল মুজাহিদ (জিএমবি) নামক জঙ্গী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সারা বিশ্বে সাড়া জাগায়। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করে জঙ্গীদের গডফাদার জামাত-ইসলামী ঐক্য জোটের মতো দলগুলোর সমন্বয়ে শীর্ষ ক্ষমতার সাধ পায় নিজামী-মুজাহিদ-সাকা-আমিনী।

ক্ষমতায় এসেই ফজলুল হক আমিনী দীর্ঘ এক মাস সফর করে পাকিস্তানে। এদিকে নিজামী প্রথমে কৃষি ও পরে শিল্প মন্ত্রী এবং মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে মাদ্রাসার অনাথ ছেলে আর মুজাহিদ অসংখ্য ইসলামী এনজিও এর রেজিস্ট্রেশন দিয়ে জঙ্গী অর্থ দাও প্রদান করতে থাকে। শায়খ আবদুর রহমান, ছিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই- জঙ্গী কায়দায় ভয়াবহ তাণ্ড চালাতে থাকে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের ৫ বছরের ক্ষমতাকালীন সময়ে জঙ্গীরা তাণ্ডব যজ্ঞে পাহাড় সমান হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে শীর্ষ জিএমবি-র ৬ জঙ্গীর ফাঁসি হওয়ার পরও এদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জঙ্গী ও তাদের বিভিন্ন ধরণের আলামত উদ্ধার করছে রেব পুলিশ। নতুন করে আরো একটি জঙ্গী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেছে হিজবুত তাহেরি।

নিচে শীর্ষ জঙ্গী সংগঠনগুলোর কয়েকটা নাম দেওয়া গেল:

১. জামাতুল মজাহিদ-জেএমবি

২. জাগ্রত মুসলিম জনতা

৩. হরকাতুল জিহাদ-হুজি

৪. জাদিদ আল কায়দা

৫. আল্লার দল

৬. হিজাব-উত-তৌহিদি

৭. হিজাবুত তাহিরি

৮. লিবারেটে ইয়ুথ

জামায়াত ইসলামী তওহিদী জনতা নামে আরো একটি উগ্র বাহিনী বা সংগঠনকে লালন করে ও পারিচালনা করে। জঙ্গীদের গুরুরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, মাদ্রাসা, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে যার মাধ্যমে তাদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে উঠৈছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গীদের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক-বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এই সরকার এসে ভারতের কয়েকটি ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের নেতা ও পাকিস্তানের বিখ্যাত জঙ্গী সংগঠন লস্করী-ই-তইওবার কয়েকজন নেতাকে বাংলাদেশে গ্রেফতার করেছে।

সর্বশেশে বলা যায়, এদেশের ইসলামী মৌলবাদী দলগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এসব জঙ্গী সংগঠনগুলো গড়ে তুলেছে। দেখা যাক সময় কী বলে?

 

ঢাকা থেকে

১৬ জানুয়ারী, ২০১০

 

মন্তব্য:
victoria   July 11, 2017
Thanks for sharing us a great information that is actually helpful. numerology Organifi Green Juice survival book Organifi Green Juice review Numerologist review Teds Woodworking Review review site
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.