Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
নিউইয়র্কের টুকরা খবরঃ Download PDF version
 

উত্তর আমেরিকায় কর্মকান্ড

নিউইয়র্কের টুকরো খবরঃ

রানু ফেরদৌস

     ২০০৯ এর ব্যস্ততম বছরটি ফুরিয়ে গেল। শুরু হল ২০১০ এর শুভ যাত্রা। নানারকম অনুষ্ঠানে ভরপুর ছিল ২০০৯ এর প্রায় প্রত্যেকটি মাস। বাঙালি অধ্যুষিত নিউইয়র্কের এলাকাগুলোতে প্রতি সপ্তাহান্তে বেশ কিছু অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। শেষ মাস ডিসেম্বর ছিল আরো মুখর। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অসংখ্য সংগঠন এ মাসে বিজয় দিবস উদযাপন করেছে মহা সমারোহে। এছাড়া এ সময়ে দু' একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানও হয়েছে, যা ভিন্ন মাত্রা সংযোজন করেছে বছর শেষে।
     বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের নতুন ভবন নির্মাণ উপলক্ষে সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে উত্তর আমেরিকায় "ফ্রেন্ডস অব দি লিবারেশন ওয়ার মিউজিয়াম" ইউ.এস.এ. নামে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে হিউষ্টনে অলি মোহাম্মদের নেতৃত্বে। এই কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমামকে আহবায়ক করে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়। উপস্থিত অনেকেই স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অলি মোহাম্মদ ও আরো অনেকে যাদুঘর সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন। পরবর্তীতে অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। নিউইয়র্ক ফিল্ম সেন্টারের আয়োজনে ও এটিএনবাংলা টিভির মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
     ২০০৯ এর শেষ পর্বে এসে একটি ব্যতিক্রমী তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস উইমেনস গিল্ড। নিউইয়র্কের এই সংস্থাটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দুংস্থ শিশুদের সাহায্যার্থে কাজ করে থাকে। বর্তমানে এই সংস্থাটি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫০টি সংগঠনকে প্রতিবছর অনুদান দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংগঠন এর আওতায় অনুদান পেয়ে থাকে।
     "ব্রাইডস অব অল নেশনস গালা" নামকরণের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিয়ের কনের পোষাক প্রদর্শনী ও ককটেল ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করে। নিউইয়র্কের ব্রংক্স বোটানিকাল গার্ডেনের এ্যাবিগেইল ক্রিশ্চ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়।
     মূলত বিভিন্ন দেশের বিয়ের কনের ট্রেডিশনাল বিয়ের সাজ-সজ্জা ছিল প্রধান আকর্ষণ। বিভিন্ন মহাদেশের আকর্ষণীয় বিয়ের পোষাকের প্রদর্শন ছিল
অত্যন্ত মনোহর ও দর্শনীয়। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের কনের পোষাক ও অলংকার ছিল অদ্ভুত ডিজাইনসমৃদ্ধ। বাংলাদেশের বিয়ের কনে সেজেছিল তানিয়া জাহান। ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে একপ্যাচ দিয়ে শাড়ি পড়েছিল তানিয়া, সাথে স্বর্ণের অলংকার। বিপুল করতালির মাধ্যমে বাংলাদেশের মডেলকে স্বাগত জানান হল ভর্তি অতিথিগণ।
     এছাড়া পাশাপাশি "সাইলেন্ট অকশনের" ব্যবস্থাও করা হয়। ইউ.এন. গিন্ডের সদস্যদের অনুদানকৃত জিনিসপত্রের দ্বারা "সাইলেন্ট অকশনের" ব্যবস্থা করা হয়। একটি স্মরণিকাও বের করা হয় এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে।

আরও একটি সেচ্ছাসেবী সংস্থা "আধুনিকা ফাউন্ডেশন" এবার বিজয় বিদস পালন করে ভিন্ন মাত্রায়। এ সংস্থাটি মূলতঃ বাংলাদেশে নারীদের জন্য আইটি ক্ষেত্রে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। তবে এবারের বিজয় অনুষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বটিও আয়োজন করে কয়েকজন কিশোরী যারা নবম ও দশম শ্রেনীর ছাত্রী। ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, বিজয় দিবস বিষয়ে নিজেরাই তথ্য সংগ্রহ করে অনুষ্ঠানমালা সাজিয়ে নেয়। স্লাইড শো প্রদর্শন, গান ও বিভিন্ন যন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে এ আয়োজন করে। ১৯৭১ এ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারের সেই বিখ্যাত গান "বাংলাদেশ বাংলাদেশ"- জোয়ান বায়েজের কন্ঠে গাওয়া গানটি গেয়ে শোনায় কিশোরীরা, সঙ্গে গিটার ও বেহালার সংযোজন। এছাড়া সংগ্রামী গান, একুশের গান ও সোনার বাংলা গান গেয়ে শোনায়। অন্য এক কিশোরী তার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা চাচার উপর নিজের লেখা গল্প-ছবির ভিডিও প্রদর্শন উপস্থাপন করে, যা ছিল সত্যিই অনন্য।
     এছাড়া খুদে শিশুদের জন্য ও প্রায় সবার জন্য ছবি আঁকা ও ফটো ফ্রেম ডিজাইন করার ব্যবস্থাও ছিল চমৎকার আয়োজন। বাংলাদেশের সুভেনির বিক্রির মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে তহবিল সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।
     ২০১০ শুরু হতেই আরো একটি ভিন্নতর আয়োজন হয় নিউইয়র্কে। বাংলাদেশী আমেরিকান আর্ট গ্যালারীর উদ্যোগে চারজন চায়নীজ চিত্রশিল্পীর চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় জ্যামাইকার বার্নি সেন্টারে। হাড়কাঁপানো শীতের জন্য অত্যন্ত কম সংখ্যক দর্শকের আগমন ঘটে সেদিন।
     গত কয়েকমাস পূর্বে ফিলাডেলফিয়ায় "বাংলাদেশী আমেরিকান আর্ট গ্যালারী" নামে বাংলাদেশী মালিকানাধীন প্রথম আর্ট গ্যালারী উদ্বোধন করা হয়। এদের উদ্যোগে কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনীর অয়োজন করা হয় নিউইয়র্কের বার্নি সেন্টারে। সে সময়ে যথেষ্ঠ জনসমাগম হয় ও বেশ কিছু কাজও বিক্রি হয় সুলভ মূল্যে।
     ২০১০ এর যাত্রা প্রাক্কালে সবাইকে শুভেচ্ছা।

নিউ ইয়র্ক।
 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.