Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
রাজনীতির সংস্কৃতির শুদ্ধতা চাই Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

রাজনীতির সংস্কৃতির শুদ্ধতা চাই

 

অনিরুদ্ধ আহমেদ

 

এক.

            সংস্কৃতির রাজনীতি থেকে যাত্রা শুরু যে বাঙালির, বাঙালির স্বাজাত্য বোধের নির্ভজাল আন্দোলনের, আজ বহু বছর পর এসে দেখতে পাই সংস্কৃতির রাজনীতি যদিওবা বিজয় অর্জন করেছে, রাজনীতির সংস্কৃতি এখনও যেন সুশীল ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেনি সেখানে শাহরিক ও ডিজিটাল কোন স্পর্শ লাগেনি; গ্রাম্য রাজনীতির মধ্যে যে ঈর্ষা ও বিদ্বেষ, যে সহিংস হানাহানি থেকে গেছে তারই দুঃসহ বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করি জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেওসদ্য-প্রাক্তন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলের শত সমালোচনা সত্ত্বেও, মানতেই হবে, রাজনীতরি সংস্কৃতিতে একটি পরিবর্তন আনার ব্যাপারে সবাই এক ধরণের ঐক্যমত্ পোষণ করছিলেন২০০৬ সালের শেষের দিকে বড় দুটি জোটের মধ্যে যে মারমুখি অবস্থা নির্বাচনকে সঙ্কটাপন্ন করেছিল এবং যার ফলে পর পর দুবার তত্ব্বাধায়ক সরকার গঠিত হয় বাংলাদেশে, সেই মারমুখি অবস্থার জন্যে প্রধানত দায়ী সুশীল ও সমৃদ্ধ রাজনতৈকি সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক চেতনার স্পষ্ট অভাবগণতন্ত্রকে নির্বাচনী পদ্ধতি হিসেবে সব দল মেনে নেওয়া সত্ত্বেও, আমরা লক্ষ্য করি যে সেই নির্বাচনে জয়লাভের জন্যে যে সহিষ্ণুতা এবং ন্যায়বোধের প্রয়োজন সেটি যেন তাঁরা মেনে নেননিসেই জন্যে লক্ষ্য করার বিষয় যে এক কোটরি ও বেশি ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করে, পছন্দসই তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিযুক্ত করে নির্বাচন নামের প্রহসনের প্রস্তুতি নেয়, তদানীন্তন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এই ধরণের আচরণ যে রাজনীতি এবং বিশেষত গণতন্ত্র চর্চার মূল উপাদানকে ব্যাহত করে, সে কথা বলাই বাহুল্যআর গণতন্ত্রের এই দুর্বলতার কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐ ব্যাতক্রমি ঘটনাটি ঘটলো যে একটি তত্বাবধায়ক সরকারকে কার্যত উৎখাত করলো, সামরিক বাহিনী সমর্থিত আরেকটি তত্বাবধায়ক সরকাররাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হিংসা হানাহানির এক চরম মুহূর্তে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ঐ দ্বিতীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অনিবার্যতা অনস্বীকার্যতবে অনস্বীকার্য এও যে, বাংলাদেশের তত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়াটি, অভিনব এবং সেটি সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেউলিয়াপণাই প্রমাণ করে ভোট জালিয়াতির এক নির্লজ্জ প্রয়াস রোধের আশংকায় রাজনতৈকি দল-বিশেষ পরিচালিত সরকারের ওপর আস্থার অভাব থেকেই এই রাজনীতি নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের সূত্রপাতঅথচ লক্ষ্যণীয় যে ২০০৬ সালে, এই তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায়ও রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে, বিচারপতিদের বয়সসীমা পরিবর্তন করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির দলীয় মনোভাবকে ব্যবহার করে তত্বাবধায়ক সরকারের দলীয়করণের এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করেছি এই বিষয়টি দ্বিতীয় আরেকটি সত্যকে প্রমাণ করলো যে রাজনীতিকরা নির্বাচন জয়লাভের জন্যে জনসাধারণের ওপর আস্থা না রেখে অন্যান্য কৌশল প্রয়োগ অব্যাহত রাখলে কোন ধরণের সরকারই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে পারে নাতবে সম্প্রতি আওয়ামি লীগ যে নিজ দাবি অনুযায়ী গঠিত তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করতে চাইছে সেটিও সমর্থন করার কোন কারণ দেখি নাবাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন কোন গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি, যার ফলে কোন দলীয় সরকারই নির্বাাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতার দাবি করতে পারবে বাংলাদেশের গত আটত্রিশ বছরের ইতিহাসে কোন দলীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত নির্বাচনে, তখনকার কোন ক্ষমতাসীন দলকে, ক্ষমতাচ্যূত করা সম্ভব হয়নি অথচ পার্শ্ববর্তী ভারতসহ, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দলীয় সরকারই নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে এবং নির্বাচনে নিজ দলের পরাজয়ও স্বীকার করে থাকে বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে কারচুপি শব্দটি এমনই স্থায়ী স্থান লাভ করেছে, যে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বার বারতবে যেটা দরকার, সেটা হলো এই তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও একটি ঐক্যমত  প্রতিষ্ঠাআওয়ামি লীগ নের্তৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকার তার সংখ্যাগরষ্ঠিতার জোরে এ রকম সংস্কার বৈধভাবে আনতেই পারে, যেমন করতে পারে সংবিধান সংশোধন কিন্তু যেহেতু তত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টির সঙ্গে নির্বাচনমুখি প্রতিটি দলই জড়িত, সেহেতু এ ব্যাপারে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজন সাধন করতে হলে অবশ্যই সরকারের উচিৎ হবে অন্য দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা, নইলে বিরোধীদল সংসদ বর্জনের মতো নির্বাচন বর্জনের অস্ত্র প্রয়োগ করলে, তা এমনকী এই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রিয় সরকারের জন্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে রাজনীতির সংস্কৃতি তখন আবারও অপসংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হতে পারে

দুই.

            বর্তমান মহাজোট সরকার তার প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করলো সাফল্যের সোচ্চার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আর তার বিপরীতে প্রধান বিরেধীদল এই সরকারকে ব্যর্থ সরকার বলে অভিহিত করলোআসল যে মধ্যবর্তী সত্য সেটি উচ্চারিত হলো না কোন পক্ষেরই বক্তব্যে বাংলাদেশের পর্বতপ্রমাণ সমস্যা সমাধানে এক বছর যথেষ্ট নয় কিন্তু এরই মধ্যে সরকার মৌলিক কিছু সাফল্য অর্জন করেছে বিগত ১৯৯৬ সালের আওয়ামি লীগ সরকারের মতো বর্তমান সরকারও কৃষি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা সত্ত্বেও রপ্তানি বাণিজ্যকে এর প্রভাব  থেকে বস্তুত মুক্ত রাখতে পেরেছে, ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদানের মধ্য দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে, দুর্নীতিমুক্ত অধিকাংশ নতুন মুখ নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করেছে, সংসদীয় কমিটি গঠন করে এবং সেই সব কমিটির কয়েকটিতে বিরোধীদলকে র্শীষ স্থান দিয়ে সংসদীয় রাজনীতিকে শক্তিশালী করার প্রয়াস চালিয়ে গেছে এবং বিরোধীদলের অব্যাহত সংসদ বর্জন সত্বেও সংসদকে সক্রিয় ও সজীব রেখেছে, শিক্ষানীতি ঘোষণা করেছে, নোট বই নিষিদ্ধ করে, পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ডিজিটাল সংস্কৃতিকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে সংক্ষম হয়েছে তাদের এই সব সাফল্যের পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের নানাবধি কর্মসূচী নিয়েছে তবে সেগুলো বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এর সাফল্য ব্যর্থতার ব্যালান্স শীট তৈরি করা সম্ভব হবে, আরো অন্ততঃ বছর খানেক পরবলাই বাহুল্য, এই সব বাস্তব সাফল্যের পাশাপাশি মহাজোট সরকার কিছু আদর্শিক সাফল্যও অর্জন করেছে নিঃসন্দেহেই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচাররর কাজ শুরুর জন্যে প্রায়োগিক প্রস্তুতি এবং ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা সহ অন্যান্য হামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু   

তিন.

     তবে এই সব ইতিবাচক অগ্রগতি কিংবা অগ্রগতির লক্ষণ সত্বেও, রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্খিত সাফল্য অর্জি হয়নি সরকারী দল এবং বিরোধীদলের মধ্যে যে বিতর্ক আমরা লক্ষ্য করি, তাতে যুক্তির পরিবর্তে উষ্মা এবং ইস্যুর পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণই প্রধান হয়ে দেখা দেয় সামান্য দুএকটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে বৈকি কিন্তু এই দুই নেত্রীর মধ্যে যে আরো কিছু ইস্যুভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, সেটি অনুধাবন করতে হবে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে দলমত নির্বিশেষে ঐকমত্য পোষণের আবশ্যকতা বাংলাদেশের মানুষ অনুভব করে এসেছে র্দীঘ দিন ধরে জাতীয়তাবোধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান প্রদর্শন সহ আদর্শিক দূরত্ব হ্রাসের প্রয়োজন রয়েছে এ সব ব্যাপারে সরকারী দলকেই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে এবং বিরোধী দলকে বুঝতে হবে, যে গণতন্ত্রে বিরোধিতা হয় ইস্যুভিত্তিক, ইতিহাস ভিত্তিক নয়আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আরেকটি খুব প্রচলিত সমালোচনা হচ্ছে যে দলটি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায়শই একলা চল নীতি গ্রহণ করে এবারও নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যে বিপুল আসনে জয়লাভ করেছে, তাতে বাস্তবে তাকে অন্য কোন দলের ওপর যে নির্ভর করতে হবে না সেটা সত্যি কথাকিন্তু আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অন্য দলের অংশগ্রহণের কথা ছিলমন্ত্রীসভায় কয়েকটি দলের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যেমন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের এবং সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়াতবে মন্ত্রীসভায় রাশেদ খান মেনন বা হাসানুল ইনুর মতো রাজনীতিকদের স্থান কেন হলো না, সেটা পরিস্কার নয় মহাজোটের সব শরীকের অংশগ্রহণের প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্যে যে আদর্শিক দিক দিয়ে তাঁরা আওয়ামী লীগের সমর্থক  সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আক্রমণের শিকার হয়েছে ছাত্র মৈত্রীর সদস্যরা এবং এরাও আদর্শিক দিক দিয়ে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত কাছের দলনিজ সহপক্ষের সঙ্গে এই যে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ এ ধরণের সংঘাত দমনের জন্যে এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্যে আওয়ামী লীগকে আরো অনেক বেশি সক্রিয় হতে হবে সরকারের সব অর্জন বিসর্জিত হবে যদি না রাজনীতির সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সরকার উদ্যমী হয়ে ওঠ

অনিরুদ্ধ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও নিবন্ধকার

aauniruddho@gmail.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.