Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  অদ্ভুত উটের পিঠে  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
অদ্ভুত উটের পিঠে Download PDF version
 

অদ্ভুত উটের পিঠে

 

এহসান নাজিম

 

বাংলাদেশে উট নাই। তবু কি করে যেন আমাদের পড়শী একটা উট জোগাড় করে তার পিঠে চড়ে সমগ্র স্বদেশ ভ্রমণ করতে থাকেন আর ঘটে যাওয়া সব অদ্ভুত কান্ড আমাদের শোনাতে চান ছোট করে-


অঙ্গীকারবদ্ধ!

     পড়শী উটের পিঠে চড়ে রাজধানীর মগবাজারে জামাতের মজলিশে শূরায় নিজামী মাওলানার বক্তৃতা শুনছিলো। ৭১-এর কুখ্যাত বদর বাহিনী প্রধান বলে চলছেন, নয় মাসের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এখন অশনি সংকেত চলছে। কিন্তু তার দল স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দেশকে ইসলামহীন করার ষড়যন্ত্র চলছে। এরই অংশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মত একটি মীমাংসিত বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে। শিক্ষানীতি থেকে ইসলামকে বাদ দেয়ার অপচেষ্টা, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাবার চেষ্টা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার- এসবই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। পড়শী ভাবছিলো নিজামরা ডরাইছে! নইলে ইসলামের দোহাই দিয়ে আর কতদিন সাধার মানুষের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করে যাবে?

হিংস্র নেত্রী!

     ৭/৮ ডিসেম্বরে জামাতের মজলিশে শরার পর পড়শীর হাতে জামাতের সাবেক আমির গোঃ আমের রচিত বাংলাদেশে রাজনৈতিক শক্তি শিরোনামে একটি পুস্তিকা (যা প্রত্যেক শুরা সদস্যের হাতে দেয়া হয়) এসে পড়ে। পুস্তিকায় বলা হয়েছে, শেখ মুজিবের স্বৈরাচার ও কুশাসন থেকে মুক্তির কোন বিকল্প পথ না থাকায় কয়েকজন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা সফল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট দেশকে উদ্ধার করেন। গোটা বিশ্ব মুজিব হত্যাকে একটি সফল অভ্যুত্থান হিসাবেই গ্রহ করেছিলো। তাই মুজিব হত্যার বিচার দাবী জনগণের উপর মহা অবিচার। পড়শীর মুখ ঘৃণায় কুকঁড়ে গেলেও পড়ে যাচ্ছেন- আওয়ামী লীগ কোন সুস্থ রাজনৈতিক শক্তি নয়। আওয়ামী লীগের মতো একটি সংগঠিত দল দেশের জন্য কল্যাকর ভুমিকা পালন করতে পারে যদি এ দলটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ ত্যাগ করে এবং শেখ হাসিনার হিংস্র নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হয়। তার নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হতে না পারলে দল আর এগুতে পারবে না। দেশ ও দলকে কিছুই দেবার সাধ্য শেখ হাসিনার নেই। শেখ মুজিব মানুষের অন্তর থেকে মুছে গেছে, আর শহীদ জিয়া সে স্থান দখল করে আছে। পড়শী আর পড়তে পারলেন না ------
সিনিয়র!

     জম্মে পর থেকেই যিনি সিনিয়র তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হলো বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে। শুধু তার জন্যেই সৃষ্টি করা হলো পদটি, অনুমোদন দেবার জন্য দলের সবাই শশব্যস্ত ছিলো। তাই প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতির ধারক হয়েও দলের সেকেন্ড ম্যান(পরিচয়ে সেকেন্ড হলেও বিগত সরকারের সময় প্যারালাল সরকার পরিচালনার কথা প্রচলিত আছে) হলেন সর্বসম্মতভাবে। নতুন বিএনপির শ্লোগান দিয়ে শুরু করা বিএনপির কাউন্সিলে নেতৃত্ব গঠনের (কোন নেতাই নির্বাচিত নন, সব চেয়ারপারসন কতক মনোনীত) মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো- সেই একই ধারার রাজনীতিই করবে দলটি। গত জুলাইতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেও প্রায় একই দৃশ্য দেখে পড়শীর চোখেও তা সয়ে গেলো। কিন্তু একটা খটকা কিছুতেই কাটছে না- বড় দুটি দলই মুখে কতো গতন্ত্রের কথা বললেও দলে কেন গতন্ত্র চর্চা করেনা?
লীগ-লীগ!

     হাসপাতালে কর্মরত কোন চিকিৎসক কলে রোগী দেখতে যাবেনা- নিয়ম হলেও যুবলীগের দুভায়ের চাপে পড়ে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোস্তাফিজুর রহমান যেতে বাধ্য হন। শুধু এখানেই শেষ নয়, রোগীর চিকিৎসা দেয়ার পর দুভাই তাদের অবাধ্য হবার জন্য বেদম প্রহার করে। ডাক্তারের বক্তব্য চাকরিজীবনে কখনো এমনভাবে আর অপমানিত হইনি। যুবলীগের কান্ড দেখে পড়শী চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সস বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে দেখলো ছাত্রলীগ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে। জানা গেছে ছাত্রলীগের এ আন্দোলনের পিছনে ৪৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ যার পাবার দাবীদার তারা। আর তাই আন্দোলনের ২১ দফা দাবীর ১০টি দাবীই নির্মান ও ক্রয়সংক্রান্ত। অতঃপর বরিশাল যেয়ে পড়শী দেখলো বিআইডব্লিউটি এর অধীনস্থ দুটি লঞ্চঘাট কাউকে ইজারা না দিয়ে শ্রমিকলীগের নেতারাই তা চালাচ্ছে। ফলস্বরূপ সরকারি কোষাগারে কম টাকা জমা পড়ছে। দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও দেখা যাচ্ছে শুধু দলের বদলে লীই সব কিছুর নিয়ন্ত্র নিয়েছে।
বদলে যাও-বদলে দাও!

     টেলিভিশনের জনপ্রিয় ের বদলে যাও বদলে দাও সংলাপ দেখতে দেখতে পড়শী ভাবছিলে বড় দুদলের কেউ পুরোটা মানছেনা। তার যতটা বদলে দিতে আগ্রহী ততটা বদলে যেতে আগ্রহী না। এই যেমন বঙ্গবন্ধুর নামে করা নভোথিয়েটারের নাম কেমন করে বদলে যায়ঃ বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার (১৯৯৬-২০০১)-> ভাসানী নভো থিয়েটার (২০০১-২০০৯)-> বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার (২০০৯->--)এমনি করে বদলে দিচ্ছে স্থাপনগুলোর নাম সরকার বদলের সাথে সাথে। প্রতিবার বদলাচ্ছে চীন মৈত্রী(বঙ্গবন্ধু) সম্মেলন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের আব্দুল হান্নান (শাহ আমানত) বিমান বন্দরের, জিয়া (চন্দ্রিমা) উদ্যানের নাম। ম্প্রতি সম্ভবতঃ যোগ হচ্ছে জিয়া বিমানবন্দরের নাম- যা বদলে হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরপড়শী ভেবে পায়না চাটুকার তোষামোদীরা প্রতিবার নাম বদলে কার প্রতি সম্মান দেখাতে চায়। নাম বদলাতে সাইন বোর্ড তৈরীর পয়সাতো জনগণের পকেট থেকেই যাচ্ছে।
পোর্টল্যান্ড
, অরিগন
ঘটনাকালঃ ডিসেম্ব
, ২০০৯

 

মন্তব্য:
rakib   February 1, 2010
chaliye jao bondhu
Enamul   January 26, 2010
গত বারের তুলনায় এবারেরটাতে অনেক বেশি তথ্য পূর্ণ ছিল.............. আশা করি এহসান নাজিম তার লেখা চালিয়ে যাবে..........
জণারণ্য   January 24, 2010
সুন্দর হচ্ছে। চালিয়ে যাও বন্ধু!
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.