Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  প্রযুক্তি বন্ধন  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
উন্নয়নের চাবিকাঠিঃ ই-সংসদ Download PDF version
 

প্রযুক্তি বন্ধন

 

 

উন্নয়নের চাবিকাঠিঃ ই-সংসদ

 

প্রফেসর লুৎফর রহমান

 

     হাজার হাজার নারী পুরুষ শহর বন্দর গ্রাম থেকে ভোট দিয়ে সাংসদ নির্বাচন করেনসকলেরই প্রত্যাশা থাকে নির্বাচিত সাংসদের কাছে এলাকার সমস্যা তুলে ধরবে এবং সাংসদ সে অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা নিবেন অথবা পরামর্শ দিয়ে সযযোগীতা করবেনকিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সাংসদের পক্ষে সময মত যাওয়া সম্ভব হয় নাসেক্ষেত্রে এলাকাবাসী তাদের সমস্যার কথা জানাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হনই-সংসদ এসব সমস্যার চমৎকার সমাধান দিতে পারেবরং সামনা সামনি কথা বলার চাইতে এটি আরও কার্যকরীএখানে আইনগত প্রমাণ থেকে যায়যিনি আবেদন করেন এবং যিনি (সাংসদ) সেটি গ্রহণ করেন উভয়েই আইনের আওতায় পড়ে যানকাজেই কাহারও পক্ষে অস্বীকার করা বা গুরুত্ব না দিয়ে উপায় থাকে নাএ ধরনের কাজে সম্মানিত সাংসদগণও উৎসাহিত হন কারণ তিনি জনসাধারনের জন্য কি কাজ করেছেন তারও প্রমাণ থেকে যায়্

     ই-সংসদ জনগনকে উন্নত মানের সেবা দিতে পারেতথ্যপ্রযুক্তিই হতে পারে বাংলাদেশ সংসদের জন্য অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করনের হাতিয়ার আর সংসদ হতে পারে মত বিনিময় ও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ৯০টি দেশের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, ৭৭টি দেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগনকে অধিকতর সেবা দিতে সক্ষম হয়েছেগবেষণায় আরও লক্ষ্য করা গেছে যে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নত ও উন্নয়শীল দেশের মধ্যে বিশাল বৈষম্য বিদ্যমানতবে উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ও আসক্তি অনেক বেশী

সম্প্রতি বাংলাদশের একটি অনুষ্ঠানে একইরকম পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছেউক্ত অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য উপস্থিত থেকে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সংসদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেনঅত্যন্ত প্রাণবন্ত ও আশাব্যাঞ্জক আলোচনা হয়েছে এবং খোলা মনের পরিচয় দিয়েছেন মাননীয় সাংসদবর্গ - তারা বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন দারুনভাবেশুধু তাই নয়, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে না পারায়, কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সেই বিষয়টিও তুলে ধরলেন নির্দ্বিধায়একটি জাতি প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য এটিই পুর্ব ও শুভ লক্ষণবিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের সাংসদদের তথ্য-প্রযুক্তিতে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে কিভাবে ই-সংসদ বাস্তবায়ন করা যায়

     এখন থেকে ১৪ বৎসর আগে-১৯৯৬ সনে বাংলাদেশের সংসদীয় অবস্থা এমন ছিল নাঐ সময়ে বিলাতের কমনওয়েলথ সচিবালয়, সদস্যভুক্ত দেশ সমূহের সাংসদ, আমলা, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, অধ্যাপক, ডাক্তার, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য পেশার সিনিয়র কর্মকর্তাদের তথ্য-প্রযুক্তিতে ক্ষমতায়নের উদ্দ্যোগ নিয়েছিলবাংলাদেশ কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত একটি দেশউভয় সংস্থারই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামাজিক বিষয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে সদস্য দেশের জন্যবাংলাদেশ ও ভারত দুইটি প্রতিবেশী সদস্য রাষ্ট্রঅথচ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে বিশাল ব্যবধানকমওয়েলথ বা জাতিসংঘের কাজ হল দুটি দেশের মধ্যে বৈষম্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কিংবা ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বৈষম্য কমিয়ে আনা

            অনেক দেশই এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, কারণ ঐ সবদেশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ জনশিক্ত পাওয়া যায় না অথবা সকরার বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয় না১৯৯৬-৯৭ সনে বাংলাদেশ এই ধরনের একটি অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলকমনওয়েলথ এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরিচালক মিসেস জুডি জনসন লেখককে (লুৎফর রহমান) বাংলাদেশে কমনওয়েলথ নির্ধারিত তথ্য-প্রযুক্তি প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব দেয়তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত এ ধরনের একটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের আকর্ষণ করার কাজটি ছিল খুবই কঠিনসেক্ষেত্রে সমন্বয়কারী অনেকখানি সাফল্যের দাবিদার কারণ অংশগ্রহণকারিরা অধিকাংশই ছিলেন মহিলাঐ সময়ে এশিয়া মহাদেশ থেকে একমাত্র বাংলাদেশ এবং আফ্রিকা থেকে তানজানিয়া সফলভাবে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ পর্ব সমাপ্ত করে

     তথ্য-প্রযুক্তি বাংলাদেশ সংসদের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে আর ও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং জবাবদিহীমূলক করতে পারে  কমনওয়েলথ এর তথ্য-প্রযুক্তি প্রকল্পের ন্যায়, জার্মানে অবস্থিত জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য দেশগুলীর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য একটি চমৎকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞান দূতের পদ সৃষ্টি করেছেবিজ্ঞান দূত বিজ্ঞানকে সংযুক্তিকরণ এবং বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আদর্শে বিশ্বাসীতারা বিজ্ঞান সংযোজনের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে এবং স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন ও সহযোগিতা করেএই কার্যক্রম প্রথমে শুরু হয় ইউরোপে, পরবর্তীতে আফ্রিকায় এবং বর্তমানে এশিয়ায় বাংলাদেশেপ্রবন্ধকার লুৎফর রহমানকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান দূত হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে

     কমনওয়লথ এর তথ্য প্রযুক্তির বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে আশা করা যায় বর্তমান সরকার ই-সংসদ কার্যকরী করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান দূতকে যথার্থভাবে ব্যবহার করবে এবং জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবিত পথ অনুসরনে জোরালো ভূমিকা রাখবেআর এভাবেই বাংলাদেশ ই-সংসদকে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাবে

 

 

প্রফেসর লুৎফর রহমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান দূত (জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: lutfor@agni.com

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.