Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  শিল্প সংস্কৃতি  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
কন্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী Download PDF version
  শিল্প-সংস্কৃতি

 

 

কন্ঠশিল্পী

সৈয়দ আব্দুল হাদী

 

ইসামত আরা বেগম

 

 



বাংলাদেশের আধুনিক বাংলা গানের এক অনন্য প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী বাবার শখের গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনে সেই কৈশোর জীবন থেকেই সঙ্গীত অনুরাগী হয়ে উঠেন তিনি তারপর আর থেমে থাকেননি নিরন্তর গান করে খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান নিয়েছেন বেতার, টেলিভিশন চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অজস্র গান করে জনপ্রিয় হয়েছেন বহু আগেই পেশা সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন এখন গানের চর্চা কমিয়ে দিলেও তিনি এদেশের সঙ্গীত পিপাসুদের অন্তর জয় করেছেন এই স্বনামধন্য শিল্পী

 

পড়শী : আপনি সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেছেন কবে? পারিবারিকভাবে কে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছে?

হাদী : আমার বাবা মা পরিবারের অন্য কেউ আমাকে উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত কোনটাই করেনি। আমি গান শুনতে শুনতে সঙ্গীত অনুরাগী হয়ে উঠি বাল্যকাল থেকেই। এই সুযোগটি আমি পেতাম আগরতলায় আমাদের বাড়ির গ্রামোফোন রের্কড থেকে। বাবা গান গাইতেন আর কলেরগানে গান শুনতে পছন্দ করতেন।

পড়শী : সঙ্গীত জগতের কোন কোন ব্যক্তিত্বকে আপনার পছন্দ?

হাদী : আবদুল আহাদ আর আবদুল লতিফ- এই দুজন ব্যক্তিত্বকে আমার সবচেয়ে পছন্দ।

পড়শী : কোন কোন শিল্পীকে যোগ্য মনে করেন বা তাদের গান শুনতে পছন্দ করেন?

হাদী : সুবীর নন্দী, রফিকুল আলম, মুনির খান, আসিফ- এদের গান আমি পছন্দ করি।

পড়শী : রাজনীতিকে কতটুকু সমর্থন দেন?

হাদী : রাজনীতি অব্যশই থাকবে। সবাই রাজনীতি সচেতন হবে। আমি প্রত্যক্ষভাবে দল করি না। এককভাবে কোন দলকে সমর্থনও করি না। তবে আমাদের দেশের কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদ দেশপ্রেমী। রাজনীতিক সংস্কৃতি নষ্ট হওয়ায় আর ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি প্রচলিত হওয়ায় আমি এ বিষয়টিকে একেবারেই সমর্থন করতে পারছি না।

পড়শী : আপনি কি সাঁতার জানেন?

হাদী : পানিতে একবার ডুবে গিয়ে বেশ পানি খেয়েছিলাম ছোটবেলায়। ঘটনাটি ঘটেছিল আগরতলায় আমাদের বাড়ির পুকুরে। ছোটবেলায় অনেকটা সময় কাটিয়েছি আগরতলা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর কলকাতায়। তবে কলেজ জীবন কেটেছে রংপুর আর ঢাকায়। আগরতলার বাড়িতে পুকুর ছিল আর তাতে পাড়ার ছেলেরা মিলে দলবেঁধে সাঁতার কাটতাম।

পড়শী : কোন কোন দেশ ভ্রমণ করেছেন গান করার জন্য? অন্য দেশের শ্রোতাদের সম্পর্কে কিছু বলুন?

হাদী : ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচের প্রায় সব দেশে আমি গান করতে গিয়েছি। ১৯৭৮ সালে চীনে একটি অনুষ্ঠানে বাংলা গান শুনিয়ে ঐ দেশের শ্রোতাদের উল্লাসিত করতে পেরেছিলাম। আমাদের ভাষা না বুঝলেও তাদের সেই উপলব্ধি আজও আমার কাছে স্মরণীয়। এছাড়াও লন্ডনের ওয়েল্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক নাইট অনুষ্ঠানে বাংলা, উর্দু ও হিন্দী গান করেছিলাম। বাংলাদেশের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে গেয়ে তাদেরকে মুগ্ধ করেছিলাম। বাংলাদেশের শ্রোতাদের চেয়ে অন্যান্য দেশের শ্রোতাদের আমি অনেক বেশি ধৈর্যশীল লক্ষ্য করেছি। ১৯৮১ সালে ভারতের ছয় সাতটি স্থানে গান করেছি। সে দেশেও লক্ষ্য করেছি শ্রোতারা ধ্যানমগ্ন হয়ে গান শুনছে। আমাদের দেশের ধনী শ্রোতাদের মাঝে সঙ্গীত এখনকার ড্রাইভ করার সময়টাতে আনন্দমাত্র। গাড়িতে গান শুনতে বা অন্যদের শোনাতে অনেকে পছন্দ করেন আর ধুম-ধারাক্কা গান হলেতো কথাই নেই। সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ এখন শহরের ধনী শ্রোতাদের মাঝে নেই যা মফস্বল এলাকার শ্রোতাদের মধ্যে এখনও লক্ষ্য করা যায়।

পড়শী : রান্না করতে আপনার কেমন লাগে? বাসায় কখনও কি রান্না করেন?

হাদী : চা বানানো ছাড়া আমি কোন রান্না করতে পারি না। লন্ডনে একবার এক মজার ঘটনা ঘটেছিল। ওখানে ওয়েল্স ইউনিভার্সিটিত লাইব্রেরি সায়েন্স নিয়ে পড়ার সময় বেড়াতে গিয়েছিলাম এক বাঙালি ভদ্রলোকের বাসায়। পরদিন ছিল ছুটির দিন, অতএব সবকিছু বন্ধ। উনিও বাসার রান্নাঘরের সবকিছু আমাকে দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন অন্য জায়গায়। আমিতো রান্না মোটেই জানি না। কোন উপায় না দেখে চাল, ডাল মিশিয়ে খিচুড়ি রান্নার চেষ্টা চালিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত রান্নাটি মণ্ডেপরিণত হয়েছিল যা আমি ক্ষুধার্ত পেটে খেতে যেয়ে বেশ মজা পেয়েছিলাম।

পড়শী : কৈশোরে কিভাবে আনন্দ করতেন?

হাদী : কৈশোরে অনেক আনন্দ করতাম। শীতকালে বার্ষিক পরীক্ষার পর বন্ধুরা মিলে আগরতলায় ঘুড়ি উড়াতাম। আমি ঘুড়ি খুব কাটতে পারতাম। বনে ঘুরে বেড়াতাম আর পেয়ারা সংগ্রহ করতাম। বন্ধুরা মিলে হলে ম্যাটিনি শোতে সিনেমা দেখতে যেতাম। তবে পারিবারিক আইন ছিল সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরা।

পড়শী : প্রেম কি করেছিলেন কখনও?

হাদী : নিজের জীবনে কোন নারীর সাথে প্রেম হয়েছিল কিনা তা আমি বলতে  চাচ্ছিনা। তবে প্রেম ছাড়া জীবন হয় না। প্রেম ছাড়া জীবন অর্থহীন। আমাদের সময়টাতে প্রেম করতে হতো লুকিয়ে। প্রেম করার অপরাধে থানায় যাওয়ার ঘটনাও ঘটতো কখনও কখনও। আমি বন্ধু মহলের অনেককে এ ব্যাপারে সহায়তা করেছি। কখনও কোন প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনেক রাতে যেতাম প্রেমিকার পক্ষ থেকে সিগন্যাল দেওয়ার জন্য।

পড়শী : গান করার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছেন কে কে? চলচ্চিত্রে গান করেছেন কবে?

হাদী : আমি ছোটবেলা থেকে গাইতে গাইতে গান শিখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে অনার্স পড়ার সময় ওস্তাদজীর কাছে যেতাম বা ওস্তাদজী আমার কাছে আসতেন। সুবল দাস, পি.সি গোমেজ, আবদুল আহাদ, আবদুল লতিফ প্রমুখ আমাকে গান শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন। আমাকে ১৯৬০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের গান করিয়েছেন আলী হোসেন ও করিম শাহাবুদ্দীন এবং তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম।

পড়শী : আপনার শখের কাজ কি কি?

হাদী : আমি মাছ ধরতে ও শিকার করতে খুব পছন্দ করি। আমার বাবার বন্দুক দিয়েই আমার শিকারের হাতেখড়ি হয়েছে। মাছ ধরতে বা শিকারে যেতাম দেশের বিভিন্ন জেলায়। এমনকি দেশের বাইরেও মাছ ধরাটা আমার পছন্দ ছিল। মাছ ধরার নেশা থাকলেও আমি খেতে পছন্দ করি ছোট মাছ।

পড়শী : আপনি কি কখনও গানের শিক্ষকতা করেছেন?

হাদী : না। আমি বাসায় গানের শিক্ষকতা কখনও করিনি, এখনও করিনা, তবে এ ব্যাপারে আমি পরামর্শ দিয়ে থাকি।

পড়শী : আপনার কি কণ্ঠশিল্পী হওয়ার ইচ্ছা ছিল নাকি অন্য কোন কারণে গায়ক হয়েছেন?

হাদী : আমার বাবা ছিলেন ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) অফিসার। উনি চেয়েছিলেন আমি যেন সি.এস.পি হই। আমি জগন্নাথ কলেজে তিন বছর পড়িয়েছি। বিটিভির প্রথম চারজন প্রডিউসারের একজন আমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করে লন্ডনে ওয়েল্স ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরীয়ান হিসেবে অবসর নিয়েছি। গান গাওয়াটা আমার কাছে পছন্দের একটা বিষয় ছিল অনেকদিন আগে থেকেই। অন্য কোন কারণ নেই।

পড়শী : বর্তমানে অবসর সময়টাতে কেমন আছেন?

হাদী : আমার স্ত্রী সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। ওর চলে যাওয়াটা আমার কাছে অনেক কষ্টের। আমার ভালো-মন্দ দেখাশোনা করতো আমার স্ত্রী যার উপর আমি সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারতাম। এখন কোন কিছুতেই আর আগের মতো মন বসাতে পারি না। গান-চর্চাও খুব প্রয়োজন ছাড়া করি না।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.