Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
মানবজীবনে হাত ও পায়ের ভূমিকা Download PDF version
 
   
 

সাহিত্য

 

রম্য রচনা

মানবজীবনে হাত পায়ের ভূমিকা

 

রনজিৎ বিশ্বাস

 

     হাতের কাজ ডাকায় হাতের কাজ ঢাকায় হাতের কাজ খাওয়ায় খাওয়ানোয়, লেখায় লেখানোয় হাত দিয়ে মানুষ ধরে, আবার অনেক কাজ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে মানুষের দেহে হাত পা এক অদ্ভুত স্টাইলে দুভাবে কাজ করে কখনও কাজের সময় তারা দৃশ্যমান থাকে, কখনও অদৃশ্য অবস্থাতেই কাজ করে বেড়ায় যেমন- ধরার সময়, মারার সময়, গুতোনোর সময়, খোঁচানোর সময়, বেতানোর সময়, জুতোনোর সময়, কান টানার সময়, মাথা ফাটানোর সময় এবং আরেক জনকে দুনিয়া থেকে সরানোর সময় মানুষের হাত কখনও দেখা যায়, কখনও দেখা যায় না

     মানুষ যে মানুষকে আঘাত করে, তখনও একই অবস্থা পেছন থেকে আঘাত করার সময় আঘাততো চুরি করে করা যায়-, সামনাসামনি আঘাতও মানুষ নিজের দেহ কিংবা হাত লুকিয়ে করতে পারে

     অপরাধজগতের  গডফাদাররা যখন বোমাশিল্পী, সন্ত্রাসশিল্পী, ঝাপটাশিল্পী গড়ে তোলে তখন তার হাত ব্যবহার করে বটে, তবে হাতের শুদ্ধ-বিশুদ্ধ আঙ্গুলগুলো রিমোট কন্ট্রোলের বাটনএর ওপর রাখে হাতের পুরো পাঞ্জাটা নির্মীয়মান শিল্পীদের মাথার ওপর রেখে তাদের আশিস বর্ষাতে হয় না

     মানুষ যখন মানুষকে বেচে ও কেনে, বিকৃত ও বিক্রীত করে, যখন ভজে ও তোষে, পোষে ও পালে, দলে ও পিষে, প্রাপ্তিবঞ্চিত রেখে বঞ্চনার আগুনে স্যাঁকে, হক কেড়ে নিয়ে হতাশার আঁচে ও ভাপে উল্টেপাল্টে ভাজে ও ভেজে-ভেজে বারবিকিউ বানায় তখন তার হাত সরাসরি প্রয়োগ করতে হয় না। কোন অদৃশ্য ভবনে বিশ্বস্ত কাউকে বসিয়ে চ্যালাচামুণ্ডাদের ব্যবহার করলেই হয়। ইডিয়টদের, কালপ্রিটদের হুডলাম, ভ্যাণ্ডাল ও এক্সটরশনিস্টদের মাথায় পিঠে সরাসরি হাত বুলিয়ে কিংবা কাল্পনিক হাতের পরশ দিয়ে অথবা সামান্য প্রশ্রয়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দুষ্টু ডেকে দিলেই হয়।

     এতে কোন অন্যায় হয় না। কাউকে কিছু করে খেতে দিলে, দলতে পিষতে ও ছ্যাঁচতেদুকতে দিলে, কারও সঙ্গ কল্পবিরোধও গল্পবিদ্বেষ তৈরী করে তাকে কাঁদালে ভোগালে কিংবা পাউডার বানালে সমাজের কোন ক্ষতি হয় না। কখন কোন বিচার কীভাবে হবে সে ভাবনা মাথায় না নিয়ে কয়েক বছর তো হেসে খেলে খেয়েদেয়ে এবং সেজেগুঁজে ও বেলুন উড়িয়ে অথবা রিবন কেটে কাটিয়ে দেয়া যায়। তাতে কারও কোন ক্ষতি হয় না। কোথাও তেমন কোন চিহ্নও থাকে না। কিছু মোটামাথার বুদ্ধিহীন মানুষ বুঝতে পারে না বলেই ঐসব শিল্পী ও শিল্পগুরুদের দোষারোপ করে ও টেনেটেনে ন্যায়ালয়ের দোরেদ্বারে নিয়ে যায়। কাজটা তারা ভালো করে না। এসব দেখে আমারা যারা ভাবি- অনেকদিন পর কিছু উচিত কাজ হচ্ছে, তাদের কোন মন্তব্য করার আগে ব্যাপারগুলো ভালোমত বুঝতে হবে।

     কোন অর্থকাঙাল ও কোন স্বপ্নকাঙাল অথবা কোন স্কুলড্রপ-আউট বাঙাল যদি তার প্রয়োজন কিংবা ভবিষ্যত পরিকল্পনায় কোন দৃশ্যাদৃশ্য হস্ত কিংবা দস্তসহায়তায় কিছু কড়িকাঞ্চন দেশের ভূগোলের বাইরে পাঠিয়েও দেয়, তাতে কোটি-কোটি সরলসোজা হতবিভ্রান্ত দরিদ্র লোকের ক্ষতি যদি হয়ও, হারাহারি হারে কিংবা মাথাপিছু হিসেবে কতই বা লোড পড়ে। মহাভারতে কী এমন অশুদ্ধি ঢোকে! রামায়ণে কীইবা এমন চরিত্র পাল্টায়! ব্যাপারগুলো মাথায় না নিয়ে কাউকে অন্যরকম জ্ঞান করা ঠিক নয়।

     হাত ও পায়ের ব্যবহারে আরও কিছু বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ হচ্ছে- হাত ব্যবহার না করেও মানুষ বড়বড় কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে পারে, অকারণে ও অসময়ে পদাঘাত ও লাঠ্যাঘাত করতে পারে এবং বুঝে না বুঝে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। কাউকে প্রতিপক্ষ ভেবে হেলায় অবহেলায় পায়ে ঠেলতে, পায়ের আকৃতি ও অবয়ব যে প্রকৃতিরই হোক না কেন, তা জগতসমক্ষে দৃশ্যমান করতে হয় না। কোন কাজে কারও নিয়মনীতি দুমড়ে দিয়ে অসংস্কৃত অবস্থায় আধোয়া পা ঢুকিয়ে দিয়ে সবকিছু তছনছ ও হজপজ যদি কিউ করে দিতে চায়, তার পা দেখাবার কোন প্রয়োজন পড়ে না। পা না দেখিয়েই পায়ের জোরে কিংবা পদাধিকার বলে করে ফেলা যায়। পায়ের ভূমিকায় ও পদাধিকার বলে কখনও কখনও ব্যতিক্রমী আসনে উপবেশনও করে। সীমাবদ্ধ ও খর্ব মানুষ এসব বারবার দেখে, কিন্তু মনে রাখে না। বরং, যত দেখে ও যত পড়ে, তত ভোলে। সংসারের কেমিস্ট্রির মত অদ্ভুত দ্বিতীয় কিছু এখনও আবিস্কার হয় নি।

রণজিৎ বিশ্বাস শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.