Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ ১৪১৬ •  9th  year  10th  issue  Jan - Feb  2010 পুরনো সংখ্যা
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবে ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর থেকেই স্পর্শকাতর ব্যাপার। বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এক বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লী সফর অনেক আলোচনা-সমালোচনা আশাবাদ-মুর্দাবাদের জন্ম দিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েক দফা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তিনটি প্রতিরক্ষা/নিরাপত্তা চুক্তি এবং দুটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে দুটি ছিল বিদ্যুৎ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে। সব ধরণের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে দুটি দেশ এক সঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার করেছে। বলা হয়েছে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশধিকার পাবে। ভুটান, নেপাল ও ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। বিনিময়ে ভুটান ও নেপাল এই বন্দর দুটো ব্যবহারের জন্য স্থলপথে ভারতের ট্রানজিট পাবে। ভারত বাংলাদেশকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বাংলাদেশে জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করার জন্য। দাবী করা হয়েছে সাম্প্রতিক হাসিনা-মনমোহন চুক্তি ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা ঐতিহাসিক চুক্তির আদলেই করা হয়েছে।

সরকারী দল আওয়ামী লীগ দাবী করেছে শেখ হাসিনার দিল্লী সফর একশত ভাগ সফল হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। তাতে করে সার্ক দেশীয় সহযোগিতার সম্ভাবনা আরো বেড়ে গেল। অন্য দিকে, বিরোধী দল বিএনপি বলেছে এ সফর একশত ভাগ ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা ঢাকায় ফেরার পর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে তাঁর দফতরে খোলা মেলা আলোচনা করেছেন চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে। অন্য দিকে, বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেছেন যে শেখ হাসিনা দেশ বিক্রী করে এসেছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে বিএনপি এবং তার জোট এই সুবাদে সরকার পতনের আন্দোলনে নামছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়নে যে সকল বিষয়গুলো সব সময় সামনে আসে সেগুলো হলো - পানি বন্টন, জঙ্গিবাদ, সমুদ্র সীমানা, অসম ব্যবসা-বাণিজ্য, ভারতে বাংলাদেশের বইপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার, সীমান্ত হত্যাকান্ড, করিডোর, বেআইনী প্রত্যাবাসন, ইত্যাদি। কিছু কিছু সমস্যা আছে যেগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ আঞ্চলিক সমস্যা। যেমন, ভূগর্ভের পানিতে আর্সেনিক দূষ এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ও উঞ্চতার পরিবর্তন। আরো আছে জঙ্গিবাদ। এ সকল প্রকট সমস্যা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিকভাবে যে সমাধান করা যাবে, তাও নয়। দ্বিপাক্ষিক থেকে আঞ্চলিক (সার্ক) এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক (জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ফোরাম) আলাপ আলোচনাই এনে দিতে পারে বিভিন্ন সমস্যার বিভিন্ন ধরণেরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান।

ভারতীয় প্রবাসীরা গত দু তিন যুগ ধরেই ভারতের জাতীয় নীতিমালায় বিভিন্ন ধরণের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন বিনিয়োগ আর ব্যবস বাণিজ্যের মাধ্যমে। একইভাবে বাংলাদেশের প্রবাসীরা এই প্রভাব বিস্তার করতে পারেন তাঁদের বিভিন্ন ধরণের বিনিয়োগ এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে। এ ধরণের বৃহত্তর উদ্যোগে সময় কখনো সঠিক ছিল না, কখনো সঠিক হবে না। এটাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলাও কি প্রবাসী বাংলাদেশীদের দায়িত্ব নয়? বিনিয়োগের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সম্মিলন একমাত্র প্রবাসী বাংলাদেশীরাই বাংলাদেশকে উপহার দিতে পারেন বিভিন্ন সেক্টরে। বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী সংগঠনগুলোও ব্যাপারে আরো এগিয়ে আসতে হবে নিজেদের স্বার্থেই, দেশের স্বার্থেই। বাংলাদেশ সেই উদাহর ভারত থেকে নিতে পারে, চীন থেকে নিতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের উন্নতি যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হবে আরো উদার এবং উদার নীতি ভিত্তিক। আধুনিকতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিই দিতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির চাবিকাঠি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি মানেই অবরুদ্ধ উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক সহযোগিতার এরকম আরো গোটা দশেক উদাহর খুঁজলেই পাওয়া যাবে।

কাজেই আসুন আমরা চিন্তায়, চেতনায় এবং মননে আরো আধুনিক হই, নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থেই প্রবাসী হিসেবে দেশের উন্নয়নের কাজে অংশদার হই এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো উদার হই। সেই অর্থে হাসিনা-মনমোহন চুক্তি সম্ভাবনার দ্বার সত্যিকার অর্থেই আরো খুলে দিয়েছে। তবে বর্তমান সরকারকে তাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং চুক্তিগুলো খোলামেলাভাবে জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরতে হবে। গোপন চুক্তি কিংবা গোপন পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে বেশীদূর এগুনো যাবে না। তাতে করে এক সরকার এসে যা করবে অন্য সরকার এসে তা ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে চাইবে!

- সাবির মজুমদার

ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

১৬ জানুয়ারী, ২০১০

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.