Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
অতিথি সম্পাদকীয় Download PDF version
 

ওবামা ও মার্কিন রাজনীতি

 

অতিথি সম্পাদকীয়

 

ওবামা ও মার্কিন রাজনীতি

 

আধুনিক বিশ্বে দীর্ঘতম চলমান গণতান্ত্রিক দেশ হোল আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সেই চলমান গণতন্ত্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট। এই গণতান্ত্রিক দেশের সরকার তিন ভাগে বিভক্ত – প্রশাসন, সংসদ, ও বিচার বিভাগ। এইগুলো হোল প্রকাশ্য সরকারী অঙ্গ। আর একটি অঙ্গ সম্পূর্ণ অদৃশ্য এবং বর্তমানে দৃশ্যমান সকল অঙ্গের চাইতে শক্তিশালী। এই অঙ্গটি হচ্ছে লবীষ্ট গ্রুপ। এরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিতও নয়, কিংবা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সুপারিশকৃত ও কংগ্রেসকৃত অনুমোদিতও নয়। এরা বিভিন্ন স্বার্থ গোষ্ঠী দ্বারা নিয়োজিত। লবীষ্ট গ্রুপের একমাত্র কাজ তাদের নিয়োগকর্তার স্বার্থ রক্ষার জন্য আইন প্রণয়নকারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। এবং সেটা করা হয় বৈঠকের মাধ্যমে, প্রচারণার মাধ্যমে, ভীতির মাধ্যমে, এবং অদৃশ্য টাকার হাতবদলের মাধ্যমে। লবীষ্টদের কার্যসিদ্ধির ব্যাপারে ঢিলাঢালা কিছু সরকারী ন্যায়নীতি ছাড়া আর কিছু বাধ্যবাধকতা নেই। নয় তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের ছাড়া আর কারো কাছে দায়ী। এদের সমস্ত ক্রিয়াকর্ম আইনানুগ, গণতন্ত্রের অঙ্গ, বাক-স্বাধীনতার অধীনে। আইন প্রণয়নকারীদের সব চাইতে বড় ভীতি পরবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হওয়া। আর এই ভীতিকেই লবীষ্টরা লাগায় কাজে।

বারাক হোসেন ওবামা, আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৪৪তম প্রেসিডেন্ট অতি অল্প সময়ে জাতীয় রাজ়নৈতিক জগতে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নিঃসন্দেহে তা অতুলনীয়। অনেকেই এর পেছনে “কী ওয়ার্ড” বলে যে শব্দের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন সেটি হোল “কৃষ্ণাঙ্গ”। নিঃসন্দেহে সেটি একটি বড় ফ্যাক্টর। তবে তার চাইতে আরো বড় ফ্যাক্টর ওবামার পিতা মাতা, মাতামহ ও মাতামহীর আশা আকাংক্ষা ও তাদের চারিত্রিক গুণ ও মূল্যবোধ। পিতা তাকে সঙ্গ দেননি। তবে তাঁর কাছ থেকে ওবামা পেয়েছেন উচ্চ শিক্ষার মূল্যবোধ।

চারিত্রিক মূল্যবোধে বলীয়ান ওবামা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জন করে শিকাগো যান আইন পড়তে। আইন পড়ার বদলে লেগে যান সমাজ সেবায়। বেকারত্বে ভরপুর, অপরাধে টইটুম্বুর স্বল্প ভাগ্যবানদের এলাকায় কম্যুনিটি অর্গানাইজার হিসাবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লেগে যান ওবামা। সে কাজে ওবামা পুরোপুরি অসফল না হোলেও অতি অল্প সময়েই তিনি বোঝেন যে, শুধু একটি অঞ্চলে নয়, সামগ্রিকভাবে স্বল্প ভাগ্যবানদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে প্রয়োজন আইনের পরিবর্তনের, রাজনৈতিক পরিবর্তনের। এত বিরাট এক পরিবর্তনের কথা ভেবে ওবামা মুষড়ে পড়েননি বা হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেননি। হার্ভার্ড থেকে আইন পাশ করে আবার ফিরে আসেন শিকাগো। মাঝে হার্ভার্ডে থাকাকালীন সময়ে হার্ভার্ড ল রিভিঊ-এর সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আত্মবিশ্বাস হয় দৃঢ়, রাজনৈতিক চেতনাবোধ হয় আরো পরিচ্ছন্ন।

সিভিল রাইটস আইনজীবি ও সংবিধান বিষয়ক অধ্যাপক হিসাবে স্বচ্ছলতার স্বাদ পেতে শুরু করলেও কম্যুনিটি অর্গানাইজারের স্বল্প ভাগ্যবানদের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা মন থেকে কোনদিনই মুছে যায়নি। সমস্যার মূল খুঁজে বার করার ইচ্ছা ও প্রয়াস সব সময়ই ঘিরে রাখে ওবামাকে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ্‌, ছোট বেলার মূল্যবোধ শিক্ষা, বড় হয়ে নামী দামী স্কুল থেকে ডিগ্রী অর্জন, তুখোড় বক্তার গুণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে করে তোলে সমৃদ্ধ, অভিজ্ঞতায় করে তোলে ভরপুর। তিনি বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হলে সমস্যার মূলকে ধরে নাড়া দিতে হবে। আর তার সঙ্গে সমস্যা যাদের তাদের সচেতন করতে হবে। ওবামা ইতিমধ্যে আরো শিখলেন, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে।

এই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওবামা যখন তিন তিন বার ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসাবে কাজ করেন, তখন তাঁর খোলামেলা সমস্যা বিশ্লেষণ ও তার সমাধান উত্থাপনে প্রথম প্রথম বাধার সৃষ্টি হলেও পরে পান সহযোগীতার হাত। ইলিনয়ে স্বল্পবিত্ত নাগরিকদের জন্য আর্নড ইনকাম ট্যক্স কমে যায়, শিশু শিক্ষার পথ প্রসারিত হয়, আর ফাঁসির শাস্তি কমে যায় এই কারণে যে প্রতিটি ফাঁসির যোগ্য অপরাধের অভিযুক্ত প্রতিটি অপরাধীর জবানবন্দীর রেকর্ড করা হয়। ফলে অনেক মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ থেকে অভিযুক্ত অপরাধী মুক্তি পায়। কম্যুনিটি অর্গানাইজার থেকে ষ্টেট সিনেটর হওয়া পর্য্যন্ত বারাক ওবামার একটা বড় শিক্ষা হল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বড় কিছু পেতে হলে কিছু দিতে প্রস্তুত থাকা, তাদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে কাজ করা। তাই তার পক্ষে ইলিনয়ে অতগুলো বৈপ্লবিক আইন প্রণয়ন সম্ভব হয়েছিল। ইউ এস সিনেটে এসে, রিপাবলিকান সিনেটর টম কোবার্ন-এর সঙ্গে মিলে যে কোন নাগরিকের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বাজেটের ধার্যকৃত খরচের প্রতিটি ডলার কিভাবে কোথায় খরচ হয়েছে দেখার অধিকার দিয়ে আইন প্রণয়ন করেন। ডেমোক্রাটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সময় সব চাইতে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারী ক্লিন্টনকে সেক্রেটারী অব ষ্টেট হওয়ার জন্য রাজী করাতে তার দেওয়া-নেওয়ার ক্ষমতার শক্তির আর একবার পরিচয় পাওয়া যায়।

হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস এবং সিনেট, উভয় স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা সত্বেও ওবামা তার প্রার্থীত উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন, পড়ে যাচ্ছেন সেই অদৃশ্য আর এক “সরকারী অঙ্গের” কলা কৌশলে। এমনকি কেউ কেউ এই ভবিষ্যৎবাণী করতেও কসুর করছেন না যে এই জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টকে ‘ওয়ান টার্ম’ প্রেসিডেন্ট হয়েই বিদায় নিতে হবে। ওবামা তাতে মুষড়ে পড়ছেন না, বরং বলছেন, কোন বড় কাজ সহজে হয় না, বিনা কষ্টে হয় না। আমি হাল ছাড়বো না। বোধহয় সেই কারণেই তিনি রিপাবলিকানদের “রিট্রিট”-এ গিয়ে তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে দ্বিধা করেননি। তিনি বড় কিছু পেতে কিছু কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত, সেই পতাকাই তুলে ধরছেন। ‘এক টার্ম প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার কথা শুনে কম্যুনিটি অর্গানাইজার, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা এক সাক্ষাৎকারে এ বি সি-র ডায়ান সোয়েরকে বলেন, “মাঝারী গোছের টু টার্ম” প্রেসিডেন্ট হওয়ার চাইতে “এক টার্মের উত্তম প্রেসিডেন্ট হওয়া শ্রেয়”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এটা দেখতে যে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট তাঁর দেওয়া-নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে কি পারবেন অদৃশ্য চতুর্থ “সরকারী অঙ্গকে” পরাজিত করতে!       

 

‍‍- ওয়াহেদ হোসেনী

       

ওয়াশিংটন ডিসি

ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১০

ই-মেইল : elderhossaini@gmail.com  

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.