Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
প্রেসিডেন্ট ওবামার এক বছর - সাফল্য ও ব্যর্থতা Download PDF version
 

ওবামা ও মার্কিন রাজনীতি

প্রেসিডেন্ট ওবামার এক বছর - সাফল্য ও ব্যর্থতা

শ্যামল নাথ

 

একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্য বা ব্যর্থতার পরিমাপক আসলে কি? গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতিতে একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর সাফল্যের পরিমাপ করা অনেক সহজ, কারণ সেখানে পরিমাপক একটিই, জনপ্রিয়তা। কিন্তু একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্য বা ব্যর্থতার পরিমাপ করার জন্যে, সেখানে জনপ্রিয়তার ভূমিকা কতখানি? প্রেসিডেন্ট ওবামার এক বছরের শাসনামলের সাফল্য আর ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই কেন জনপ্রিয়তার কথা বলছি, সেটা সহজেই অনুমেয়।  এক বছর আগে ওবামা যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন, তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে, শুধু আমেরিকাতেই নয়, সারা পৃথিবীতেই। আজ এক বছর পরে, সাম্প্রতিক গ্যালপ পোলের হিসাবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ওবামা এবং তার কর্মকান্ডের প্রতি আমেরিকানদের সমর্থনের পরিমান মাত্র ৫০%। আধুনিককালের আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের এক বছর শাসনামল পরবর্তী সময়ে তাদের প্রতি আমেরিকান জনগণের সমর্থনের হিসাবে এটা খুবই কম। তার মানে কি এই যে, সামগ্রিকভাবে এক বছরের শাসনামলে ওবামা ব্যর্থ হয়েছেন?

আজকে ওবামার জনপ্রিয়তা পরিমাপে আরো একটি পরিমপাক হিসাবে দেখা হচ্ছে গত সপ্তাহে (জানুয়ারী ১৯) মেসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেনেডীর শূন্য আসনের সিনেট নির্বাচন। প্রয়াত টেড কেনেডী, যার জীবদ্দশায় গত এক দশক যাবৎ যিনি ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির আদর্শের একজন পথিকৃত, সেই সিনেট আসনে তার শূন্যস্থান পূরণের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান স্কট ব্রাউন।  ডেমোক্রেট মার্থা কোকলির পরাজয়কে যে এখানে অনেকটাই ওবামার পরাজয় হিসাবে দেখা হচ্ছে, সেটা আমার কাছে যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে কারণ পোলের হিসাবে ওবামার জনপ্রিয়তার মাত্রার সাথে এটি সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু গ্যালোপ পোল বা মার্থা কোকলির পরাজয়ের হিসাবে ওবামার জনপ্রিয়তা আজ কম মানেই যে ওবামা তার প্রথম বছরে ব্যার্থ হয়েছেন, আমি ব্যাপারটাকে এইভাবে দেখতে পারছি না।

এক বছরের শাসনামলে ওবামা কেন এত দ্রুত এতটা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন, তার একটা অনুমান করার চেষ্টা করা যাক। ২০০৮ সালে ওবামার নির্বাচনী শ্লোগান ছিল, ইয়েস উই কেন, আমরা পারবই  নির্বাচনকালীন সময়ে আমেরিকা এবং তার বাইরে সমগ্র পৃথিবীতে ওবামা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আশার প্রতীক হিসাবে।  ২০০৮ সালেই আমেরিকা (এবং সমগ্র বিশ্বই) প্রবেশ করে আজকের চলমান এই অর্থনৈতিক মন্দায়। অসংখ্য আমেরিকান হারিয়েছিল এবং হারাচ্ছিল তাদের চাকুরী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কমতে কমতে লাভ থেকে লোকসানের পথে গিয়ে যাচ্ছিল বন্ধ হয়ে, সঞ্চয়ের লগ্নি করা টাকা কমে যাচ্ছিল প্রতিদিন, মানুষ হারাচ্ছিল তাদের গাড়ী, হারাচ্ছিল তাদের বাড়ী। হাজারো এই হতাশার মাঝে ওবামা মানুষকে শুনাতে পেরেছিলেন আশার বাণী। আমেরিকার বাইরে, আমাদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের কট্টরপন্থী বিদেশ এবং সমরনীতির কারণে আমেরিকা হারাচ্ছিল বন্ধু, আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র হারাচ্ছিল আমেরিকার প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা। সমগ্র বিশ্ব তাই নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে ওবামার মধ্যে দেখতে পাচ্ছিল আশা, নতুন আমেরিকার আশা, যে হবে সবার বন্ধু, যে নতুন দশকের জন্য বিশ্বকে দিবে যোগ্য নেতৃত্ব। ওবামার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূলে ছিল সবার মাঝে তার ছড়িয়ে দিতে পারা এই আশা। আর আজ তার জনপ্রিয়তা এতটা কমে যাবার কারণ? আশা ভঙ্গের বেদনা। নির্বাচনী সময়ে ওবামার দেয়া যে প্রতিশ্রুতি, তার থেকে আমাদের মাঝে সৃষ্ট যে আশা, আর তার বিপরীতে এক বছরের শাসনামলের যে প্রাপ্তি, তারই ফল এই আশা ভঙ্গের বেদনা।

তার মানে কি বিগত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ওবামার ব্যর্থতার পাল্লা তার সাফল্যের চাইতে বেশি ভারী?  হ্যাঁ, অনেকেই সেভাবে দেখছেন ব্যাপারটিকে। কিন্তু আমি আশা ছাড়তে পারছি না। আমার কাছে মনে হয় না যে, একজন প্রেসিডেন্টকে মূল্যায়ন করার জন্যে এক বছর যথেষ্ট সময়। আমি আশা ছাড়তে পারছি না, কারণ আমি এখনও দেখিনি যে ওবামা তার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

আমেরিকার মূলধারার মানুষদের জন্যে ওবামার নতুন প্রশাসনের কাছে প্রধান চাহিদা ছিল আমেরিকার অর্থনীতিকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তোলা। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, যেন আবার সব আমেরিকানরা কাজ খুঁজে পেতে পারে, আমেরিকার ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে এবং নুতন করে আরো কাজের সৃষ্টি করতে পারে, ব্যাংকগুলো আবারো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অবদান রাখতে পারে, যারা তাদের বাড়ী হারিয়েছে তারা আবার তাদের বাড়ীগুলো উদ্ধার করতে পারে, বাড়ীর দামের যে অবক্ষয় শুরু হয়েছিল তা বন্ধ হয়ে তাতে স্থিতিশীলতা আসে, পুঁজিবাজারের অবক্ষয় বন্ধ হয়ে তাতে স্থিতিশীলতা আসে যেন মানুষ তাদের সঞ্চয়ের টাকাগুলো আবার কিছু করে হলেও ফিরে পেতে শুরু করে। ওবামার প্রশাসনের শুরুর দিনে আমাদের অর্থনীতির এমনই ছিল অবস্থা যে প্রশাসনের কাছে আমাদের চাহিদা ছিল ব্যাপক।  এটুকু বলতে পারি যে, এক বছর আগের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি আজ অনেক স্থিতিশীল এবং সেটা অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রেই, পুঁজিবাজার, চাকুরীবাজার, বাড়ীর-বাজার, বা আমাদের ব্যাংক অবকাঠামোতে।  অনেকে বলছেন যে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে গিয়ে ওবামা প্রশাসন যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলো তার ফলস্বরূপ আমেরিকার ঋণের পরিমান বেড়েছে আরও এক ট্রিলিয়ন ডলার আর তার ফল ভোগ করতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। সত্যি কথা, এবং প্রেসিডেন্ট নিজেই কাল তা স্বীকার করেছেন তার স্টেইট অব দ্যা ইউনিয়ন ভাষণে। কিন্ত এটাই কি প্রত্যাশিত ছিল না? শূন্য থেকে তো আর নতুন কিছু সৃষ্টি হতে পারে না (হ্যাঁ, একমাত্র স্রষ্টার হয়তোবা সেই ক্ষমতা আছে কিন্তু মানুষের তা নেই।), কিছু দিয়েই কিছু সৃষ্টি করতে হয়। একজন যোগ্য নেতার কাজ হচ্ছে সেই মুহুর্তে জাতির সবচাইতে জরুরী প্রয়োজনটি চিহ্নিত করা এবং সেই খাতের উন্নয়নে তার সম্পদকে ব্যবহার করা। এখন যারা নুতন এক ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে হাহুতাশ করছেন, তারাই কিন্তু বিগত আট বছরে আমেরিকার ঘাড়ে দশ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা চাপিয়েছিলেন দু-দুটি যুদ্ধ শুরু করে আর আমাদের অর্থনৈতিক পদ্ধতি থেকে সব ধরণের নিয়মতান্ত্রিক প্রথাগুলোকে বন্ধ করে। স্পষ্টতই, আজ যারা নতুন এক ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে এতটা চিন্তিত তাদের মূল সমস্যাটা অর্থনৈতিক নয়, সমস্যাটা রাজনৈতিক। সমস্যাটা এই নয় যে নতুন ঋণ করা হয়েছে, সমস্যাটা এই যে নতুন ঋণের টাকাটা তাদের মত করে খরচ করা হয়নি।

হ্যাঁ এক বছর আগের তুলনায় আজ আমাদের অর্থনীতি যতটুকু এগিয়েছে, তা কি যথেষ্ট সন্তোষজনক?  আজ যারা আশাহত, স্পষ্টতঃই তাদের কারো কারো কাছে এই অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। এক বছর আগে আমার পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই চাকুরী হারিয়ে চাকুরীর বাজারে ছিলেন (এবং কিছুদিনের জন্যে আমিও ছিলাম তাদের একজন), সে অবস্থাটা আজ আমি আমার পরিচিতদের মাঝে দেখতে পাচ্ছি না। এটা একটা মাপকাঠি যে আজকের অবস্থা এক বছর আগের চাইতে ভাল।  চাকুরী হারাবার হার এক বছর আগের চাইতে কম, এবং চাকুরী পাবার হার এক বছর আগের চাইতে বেশী।  আবার এটাও ঠিক যে, এমন অনেকেই আছেন যারা এক বছর বা তারও আগে চাকুরী হারিয়েছেন এবং আজও নতুন চাকুরী তারা পাননি। বাড়ী বা পুঁজিবাজারের দিকে তাকালেও অবস্থাটা আনেকটা একই, অবস্থার উন্নতি হয়েছে, আমাদের কেউ কেউ তার সুফল টের পাচ্ছি আবার কেউ কেউ সুফলটা এখনও টের পাচ্ছি না। যারা সুফলটা এখনও টের পাচ্ছি না, যারা এখনও ভুক্তভুগী, তারা কেন অনেকেই আজ আশাহত তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। কিন্ত আমার কাছে বাস্তবতা এই, আমরা অর্থনৈতিকভাবে যে গর্তে ছিলাম তা থেকে মুক্তি পাবার জন্যে এক বছর মোটেও যথেষ্ট নয়।

আমাদের অর্থনৈতিক পতনের মূল যে কারণ, অর্থনৈতিক পদ্ধতি থেকে সব ধরণের নিয়মতান্ত্রিক প্রথাগুলোকে তুলে দেয়া, সে কারণগুলোকে চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোকে উৎপাটন করার জন্যে কি এই প্রশাসন যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে?  উত্তরটা আমার পক্ষে দেয়া কঠিন। কারণ, এর উত্তর যতটা না অর্থনৈতিক তার চাইতে অনেক বেশী রাজনৈতিক। উত্তরটা নির্ভর করে আপনি রাজনৈতিকভাবে কি ডানে ঘেঁষা না কি বামে।  সত্যিকারের উত্তর শুধু ভবিষ্যৎই দিতে পারবে।

অনেকে বলতে পারেন, এক বছরে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি আরও অনেক বেশী না হবার কারণ ওবামা প্রশাসনের মনযোগ শুধু অর্থনৈতিক মন্দা উত্তরণে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল অনেক বেশী কর্মকান্ডে।  ওবামা প্রশাসন প্রথম বছরেই তার সামর্থ্যের তুলনায় একইসাথে অনেক বেশী কাজ হাতে নিয়েছিল, এবং তার কোনটিই এখনও সফলভাবে সমাপ্তি করতে পারেনি। এটা যদি একটা অভিযোগ হয় তাহলে বলতে হবে যে তা অনেকাংশেই সত্যি। কিন্তু আমি বলব না যে, একসঙ্গে এতগুলো কাজ হাতে নেয়া প্রশাসনের জন্যে ভুল ছিল।  কারণ যে কাজগুলো হাতে নেয়া হয়েছে, তার সবই আমেরিকার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রমান করে ওবামা প্রশাসন কোন কাজগুলোকে  গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং প্রশাসনের চার বছর মেয়াদকালে সম্পন্ন করতে চায়।  আমি যতক্ষণ না  ওবামা এবং তার প্রশাসনকে এই কাজগুলো থেকে পিছিয়ে যেতে না দেখি, আমি এ নিয়ে আশাভঙ্গের কোন কারণ দেখি না।

ওবামার প্রেসিডেন্ট হিসাবে অন্যতম প্রথম অঙ্গীকার ছিল, এক বছরের মধ্যে গুয়ান্তানামো কারাগার বন্ধ করে দেয়া। আমরা ন্যায়বিচার আর অপরাধীদের আধিকারের কথা বলি, গুয়ান্তানামো কারাগার আমাদের সাজে না। গুয়ান্তানামো কারাগার বন্ধ করার অঙ্গীকারকে আমি স্যালুট করি। ওবামার ব্যর্থতা, এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দেয়া এবং বুঝতে না পারা যে গুয়ান্তানামো বন্ধ করার জন্যে এক বছর যথেষ্ট নয়।

ইরাক আর আফগানিস্তানের যুদ্ধ নিয়ে ওবামা তার অঙ্গীকার থেকে এখনও সরে যাননি। অঙ্গীকার ছিল ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা আর আফগানিস্তানে আল-কায়দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের আবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা। আফগানিস্তানে এরই মধ্যে নতুন করে আরও সৈন্য পাঠানো হয়েছে, আর ইরাক থেকে শীঘ্রই সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবার কথা।  আফগানিস্তানে নতুন করে আরও সৈন্য পাঠানো ওবামার অঙ্গীকার বহির্ভূত কাজ না হলেও, তার যৌক্তিকতা নিয়ে আমার সংশয় আছে। জাতি হিসাবে আমেরিকা এর বিপক্ষে যাওয়ার কোন কারণ নেই, যদিও আমার মনে হয় বহির্বিশ্বেও এর প্রতিক্রিয়া দ্বিধাবিভক্ত।

আমেরিকার হেলথ কেয়ার পুনর্গঠন এবং অন্য সব কর্মকান্ড যা কংগ্রেস এবং সিনেট থেকে বিল হয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে এসে আইনে পরিণত হবে, মনে হয় এ-সব কর্মকান্ডের ক্ষেত্রেই অগ্রগতি ছিল কম। যার মূল কারণ কখনও ডান এবং বাম রাজনৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্ব, আবার কখনও বা শুধুই রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছোড়ির ফল।  একজন প্রেসিডেন্টের সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করে এই পক্ষ এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতত্বকে সমন্বয় করে জাতিয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু আইন প্রণয়ন করতে পারার উপর।  ওবামার নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি ছিল, দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে ওয়াশিংটনে একটি সমন্বয়ের রাজনীতি চর্চা প্রতিষ্ঠা করা।  এর সাফল্য অবশ্য ওবামার একার ওপর নির্ভর করবে না বরং নির্ভর করবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকদেরও সদিচ্ছার ওপর। আমি এখানেও আশাবাদী।

বিশ্ব রাজনীতিতে ওবামার ভূমিকা এবং সাফল্যের ক্ষেত্রে শুধু সাম্প্রতিক সম্পন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ূ সম্মেলনের কথাই বলব।  ওই সম্মেলনে আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসাবে উপস্থিত হয়ে ওবামা আমেরিকার একটি দায় স্খলন করেছেন।  বিশ্ব জলবায়ু পরিস্থিতি আজকের বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, আর এই সমস্যা সমাধানে আমাদেরই নেতৃত্ব দেবার কথা।  সম্মেলনে সেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারাটা আমি ওবামার সাফল্য হিসাবে দেখবো।

ওবামার শাসনামলের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে কিছুদিন আগে টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ওপরা উইনফ্রি। ওবামা তার এক বছরের মুল্যায়ন করে তার গ্রেড দিয়েছিলেন বি-প্লাস।  আমার মনে হয় তার নিজের করা মূল্যায়ন যথার্থই ছিল।

 

আলবুকারকী, নিউ মেক্সিকো

জানুয়ারী ২৯, ২০১০

ই-মেইল : shyam_nath@hotmail.com  

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.