Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
ওবামা কি ডিকনষ্ট্রাকশনিষ্ট প্রেসিডেন্ট নাকি উইজার্ড অফ ওয়ার্ডস হতে চলেছেন! Download PDF version
  ওবামা ও মার্কিন রাজনীতি

ওবামা কি ডিকনষ্ট্রাকশনিষ্ট প্রেসিডেন্ট নাকি উইজার্ড অফ ওয়ার্ডস হতে চলেছেন!

দেওয়ান শামসুল আরেফ

২০০৮ এর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারের সময় থেকে প্রেসিডেন্ট পদে সমন হওয়ার মূহুর্ত পর্যন্ত বারাক হোসেন ওবামার জনপ্রিয়তা শনৈ গতিতে আকাশচুম্বী হয়। নির্বাচনে প্রতিশ্রুত বিষয়গুলোতে নিজেকে প্রমান করাতো দূরের কথা নিয়োগ করার আগেই ক্যারিসমেটিক প্রেসিডেন্ট/নেতা হিসেবে আখ্যায়িত হতে শুরু করেন। ক্ষমতায় যাবার এক বছর পরে তার সেই জনপ্রিয়তা ও মর্যাদার অবস্থান অক্ষুন্ন রয়েছে - তা দাবী করা রীতিমত কঠিন। সত্যি বলতে কি বাস্তবতা অনেকটাই পাল্টেছে। Peace and War in Oslo (The Nation : December 16, 2009) শীর্ষক সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধে Win Without War Coalitionএর কো-চেয়ার কর্টরাইট বলেন - ওবামা অসলোতে তার উৎকৃষ্টতম বাগ্মীতা প্রদর্শন করে শান্তি এবং অহিংস নীতিমালাকে তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তৃতা বিশ্বে আমেরিকার ভূমিকা সম্পর্কে বিকৃত একটি ধারণা দেয় এবং 'ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ' বলতে যা বোঝায় সে সব বিষয়ে তাঁর অগভীর ধারণা বা জ্ঞানকে স্পষ্ট করে। আমেরিকার সামরিক ক্ষমতা বিশ্বে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সাহায্য করেছে (.. that US military power has helped to underwrite global security) বলে দাবী করেন। কথাটি শুনে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হতে বসে। আমি ভেবেছিলাম, তিনি undermine শব্দটি ব্যবহার করেছেন- কার সেটাই হতো প্রকৃত অবস্থার বিবর। ওয়াশিংটনের অনেক অপদ্যোগই বিশ্ব নিরাপত্তার ক্ষতির কার হয়েছে- এর প্রমান হিসেবে গুটি কয়েক দেশ ও ঘটনার কথাই বলিনা কেন যেমন ভিয়েতনাম, মধ্য আমেরিকার যুদ্ধসমূহ অথবা যেমন ইরাক আক্রমনের ঘটনা। আমেরিকার অন্যায়, বেআইনী সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে মিলিয়ন-মিলিয়ন মানুষ প্রা হারিয়েছে এবং অনেকেই এখনো কষ্ট-যন্ত্রণায় ভুগে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট দাবী করেন-আমেরিকা কখনো গতান্ত্রিক দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। কিন্তু তিনি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন সিআইএ কিভাবে ১৯৫৩ এ ইরানের আইনগতভাবে নির্বাচিত গতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করেছে, একই ঘটনা ঘটিয়েছে ১৯৫৪ এ গুয়েতেমালায় এবং ১৯৭৩ এ চিলিতে। ওবামা দাবী করেন আমেরিকার ঘনিষ্ঠতম দেশসমূহ তাদের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং তা অব্যাহতভাবে রক্ষা করে আসছে। কটাক্ষ করে কর্টরাইট বলেন প্রেসিডেন্ট কি আমাদের বন্ধু বলতে সৌদী আরব, মিশর ও পাকিস্তানের কথা বুঝাচ্ছেন?

প্রেসিডেন্ট 'ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ' ধারণাটির উপর আলোকপাত করেন এবং তার নৈতিক উপাত্তগুলিও চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকে 'ন্যায়সঙ্গত কার, 'শেষ অবলম্বন', আনুপাতিকতা', ইত্যাদি- কিন্তু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরুদ্ধবাদীতা-পুষ্ট নীতির মত সবচেয়ে গুরতপূর্ণ ও জরুরী উপাত্তটি অনুল্লেখিত থাকে। ন্যায়সঙ্গতার বিষয়টি শুরুই হয় এই ধারণা থেকে যে 'যুদ্ধ প্রায় সর্বক্ষেত্রেই অন্যায় একটি কাজ এবং সেটা কেবল এমন পরিস্থিতিতেই হতে পারে যখন অবস্থা হয়ে পড়ে একেবারেই সর্ঙ্গীন এবং অসহায়- এবং একই সঙ্গে যদি পূর্বে বর্ণিত 'ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধে' নৈতিক শর্ত ও উপাত্তগুলো পূর করা যায়।

'যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনাও' একটি অনিবার্য উপাত্ত। ওবামা এই উপাত্তটির কথাও উল্লেখ করেননি বলে কর্টরাইট জানান। তালেবানদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করা অতি অনিশ্চিত একটি সম্ভাবনা। বহু সাম্রাজ্যের সমাধিস্থল হিসেবে আফগানিস্তানের সুখ্যাতি রয়েছে- যে সুখ্যাতি কারো অর্পিত নয়- রীতিমত তা অর্জিত। ইতিহাসগতভাবে, তারা বহু বৈদেশিক হস্তক্ষেপ দৃঢ়হাতে প্রতিহত করেছে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধটিকে যে ভাষায়ই আমরা সংজ্ঞায়িত করিনা কেন আমরা কি আসলেই তাদেরকে পরাজিত করতে পারবো?

প্রেসিডেন্ট বলেন, শক্তি ব্যবহারকালে খেয়াল রাখতে হবে সাধার মানুষ যেনো সহিংসতার শিকার না হয়। কথাটিতো অবশ্যই ঠিক। কিন্তু দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত বৈমানিকহীন ড্রোন থেকে পাকিস্তানে যে আক্রমন পরিচালিত হচ্ছে- তাতে কি সে নীতি রক্ষিত হচ্ছে। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড কিলিওলেন (David Kileullen) এক কংগ্রেশনাল হিয়ারিং-এ বলেন ড্রোন আক্রমনে যতনা সন্ত্রাসী, ঙ্গী নিহত, আহত হচ্ছে তারচেয়ে অনেক বেশী হচ্ছে সাধার নাগরিকবৃন্দ। এ বিষয়ে অপরাপর গবেষণা প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া যায়। ড্রোন আক্রমন জনগণের মধ্যে এতই ক্রোধের সৃষ্টি করে যা কিনা তাদেরকে একত্রিত, ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করে- স্বভাবতই এতে উগ্রবাদ আরো জোরদার হয়ে উঠে।

ওবামা আরো জোর দিয়ে বলেন- সন্ত্রাসী আক্রমন প্রতিহত করা 'ন্যায়সঙ্গত' একটি কাজ। এ কথাটিও সত্য। কিন্তু তা বলে যুদ্ধ দিয়ে তাকে প্রতিহত করা কোন আইনগত বা যথার্থ পন্থা নয়। ন্যায়সঙ্গত কার অনেক থাকতে পারে - ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ কিন্তু কম। ২০০৮ এ রেন্ড কর্পোরেশন এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায় যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও যথার্থ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ নিরসন যতটা সম্ভব সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তা সম্ভব নয়। গত ৪০ বছরে যে ২৬৮ টি সন্ত্রাসী সংগঠনের মৃত্যু ঘটেছে - তার ৪৩ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণের মাধ্যমে, ৪০ তাংশের ঘটেছে পুলিশের কার্যক্রত্ত্বাধানের কারণে - সামরিক শক্তির ব্যবহারের ফলে এদের অবলুপ্তির হার একেবারেই কম- মাত্র ৭ শতাংশ। কর্টরাইট বলেন, সন্ত্রাস-বিরোধী সমরনীতির মূল কথা হলো- মন ও হৃদয় জয় করা এই অভিযানের মূল চরিত্রের ৮০% হচ্ছে বেসামরিক:- অথচ এ মুহুর্তে আফগানিস্তানে যা ঘটছে তা তার সম্পূর্ণ বিপরীত- ৮০ শতাংশেরও বেশী সামরিক।

কর্টরাইট বলেন, বর্তমানের যুদ্ধ-নীতিমালা শুধুমাত্র অযথার্থ, অকার্যকর অর্থহীন নয়- আমেরিকার সমর নীতির প্রতি জন্ম দিচ্ছে ব্যাপক ক্রোধের। প্রেসিডেন্ট ওবামা মনে করেন বহু দেশের আমেরিকার প্রতি রয়েছে সহজাত সন্দেহের দৃষ্টিজাত একটি আচর (Reflexive suspicion of America)। ওবামা স্বীকার করতে ভুলে গেছেন যে আমেরিকার ভ্রান্ত নীতিমালাই এই সন্দেহের কারণ। ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা বলেন, ইরাক আক্রমন এবং সারা বিশ্বে দখলদারীত্ব 'ফ্রেন্জী অব এ্যান্টি-আমেরিকানিজম (Frenzy of anti-Americanism) এর সৃষ্টি করেছে। আফগানিস্তানে বিদেশী সৈন্যের উপস্থিতি তালেবানদের সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছে শুধু তাই নয়, জনগণের মধ্যে তালেবানদের সমর্থন বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা যেটাকে রিফ্লেক্টিভ এ্যান্টি-আমেরিকানিজম বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন সেটা মোটেই তা নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক চেমার্স জনসন (Chalmers Johnson) এগুলোকে বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক আক্রমন, দখলদারীত্ব, অন্যদেশের অভ্যন্তরী বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ, স্বাধীনচেতা- গতান্ত্রিক দেশসমূহের সরকার উৎখাত বা দুর্বল করার লক্ষ্যে সে সব দেশে বিরতিহীন গোপন কার্যকলাপ জারী রাখাসহ নানাবিধ অনৈতিক, বেআইনী কর্মকান্ডেরই ফল বলে অভিমত দেন। এগুলো তাদের তিক্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার উপলব্ধিজাত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলন। সিআইএ সে ব্যাপারে জ্ঞাত ও সচেতন। সিআইএ প্রক্রিয়াটিকে 'ব্লোব্যাক' বলে আখ্যায়িত করে মেনে নিয়েছে বলে চ্যামার্স জনসন জানান।

শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কটি গুরত্বপূর্ণ নীতির কথা অসলোতে ওবামা উচ্চার করেন সেগুলো হলোঃ পারস্পরিক বহুমূখী সাহায্য ও সহযোগীতা, মানবাধিকার রক্ষা করা, অর্থনৈতিক উন্নায়নে আত্মনিয়োগ করা। আন্তর্জাতিক আইন কার্যকরী করার লক্ষ্যে বেসামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলেন। তবে সেটাকে কার্যকর করার ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতার উপর জোর দেয়ার কথা বলেন। তিনি অহিংস নীতিমালার নৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং প্রশংসা করেন মহাত্মা গান্ধী এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জীবন ও চিন্তা চেতনার।

ওবামার বক্তব্যের অধিকাংশই সর্বজনীন আশা, ভরসা ও সম্ভাবনার দীপ্তিতে ভরা, কিন্তু তিনি তাঁর পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে স্পষ্টতঃই তা করেছেন বেসামরিক পন্থাকে নাকচ বা অবমূল্যায়ন করে। উপরন্তু, তিনি ও তার সরকার যুদ্ধ খাতে যে পরিমান অর্থ ও অপরাপর জাতীয় সম্পদের যোগান দিচ্ছেন সেক্ষেত্রে তার বারংবার স্বঘোষিত অগ্রাধিকারেরে উন্নয়ন ও কূটনীতিতে কণামাত্র যোগান দিচ্ছেন না। হার্পার ম্যাগাজীনে প্রকাশিত একটি ছোট্ট তথ্য এখানে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবেনা যে গত বছর পেন্টাগনের ব্যয়ের হিসেবে যে গরমিলটি ধরা পড়ে সে অংকটাই হলো ২২ বিঃ ডলার। তার অনেক সমর্থনকারীরা এখন বলছেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশের কথা ও কাজের মধ্যে শঠতা ছিলনা। ওবামার কথা ও কাজের বৈপরিত্য ক্রমশঃই তার সততাকে সন্দেহ ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

ওবামার সমর্থনকারীরা সঙ্গত কারণেই এখন তার নির্বাচন প্রতিশ্রুতির স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়টি সম্মূখে টেনে আনেন। ওবামা সে সময় যে প্রতিশ্রুতি দেন সেটি হলোঃ If I were designing a system from scratch, I would probably go ahead with a single- payer system। তিনি এমন বলেন জনসাধার কংগ্রেস সদস্যদের নির্বাচিত করেন। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম স্বাস্থ্যসেবার ইনসিউরেন্স উপভোগ করে থাকেন অথচ তাদের নির্বাচকদের অধিকাংশই এর ন্যুনতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ যে ইঙ্গিতটি তিনি দেন তা হলো স্রস্টা তার সৃষ্টি থেকে কম পাবে- এ স্ববিরোধী ধারণাগত ব্যবস্থা থাকতে পারেনা। এক পর্যায়ে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, আমরা সিনেটররা যে স্বাস্থ্যসেবা ইনসিউরেন্সের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকি জনগও তাই পাবে। সমর্থনকারীদের অনেকেই এখন ওবামার এইক্ষেত্রে পাবলিক ম্যান্ডেট এবং কংগ্রেসের উভয় ক্ষে উল্লেখযোগ্য গরিষ্ঠতা থাকা সত্বেও রাজনীতিক দঢ়তা ও সততার অভাব ও কাপুরুষোচিত আচর লক্ষ্য করে আক্ষেপের স্বরে বলেন- এটি সত্যি বিস্ময়কর ওবামা এখন 'পাবলিক অপশনের' কথা ভুলেও উচ্চারণ করেননা।

তারা এটাও বলেন- কে না জানে যুদ্ধ দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ হয়না। যুদ্ধ শান্তি অর্জনের মাধ্যম নয়। এ সত্যটি নোবেল প্রাইজ কমিটির অজানা থাকার কথা নয়। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে জড়িত শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ীর সংখ্যা অনুন্য ১২০। এই পুরস্কার চালু হওয়ার পরেই না অন্যান্য ছোট-বড় শতেকখানেক যুদ্ধসহ দু'দুটো বিশ্ব যুদ্ধ হয়েছে। এখনো আমেরিকার উদ্যোগে দুটো যুদ্ধ ঘটে চলেছে। প্রতি যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে সে যুদ্ধ আগামী সব যুদ্ধের ইতি ঘটাবে- এ ধরণের ঘোষণা দেয়ার রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা সম্পর্কে নোবেল কমিটি বা বিশ্বের বিদগ্ধজন এমনকি আমজনতার উল্লেখযোগ্য অংশ অবহিত নয়- তাতো নয়। অথচ বাগ্মতাপ্রিয় ওবামা অসলোতে যেন তাকে নোবেল প্রদানকারী কমিটি তথা সারা বিশ্বেকে অজ্ঞ ভেবে যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে-১০১ কোর্স মাপের এক বক্তৃতা ঝাড়লেন। সবশেষে যে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি সবাইকে বুঝাতে চাইলেন তা হলো - এক, আমেরিকা একটি একক সুপারপাওয়ার। তার দায়ীত্ব অনেক। সাম্প্রতিক ষ্টেট অফ দি ইউনিয়ন বক্তৃতায় তিনি সে ধারণাকে আরো ক্ষুরধার করলেন এই বলে যে বিশ্বে আমেরিকার স্থান সর্ব্বোচ্চে। দ্বিতীয় স্থান কোনক্রমেই তার জন্যে গ্রহযোগ্য নয়। দুই, সে অবস্থানের দায়ীত্ব পালনে যাবতীয় কর্মপন্থা নির্ধার তারই দায়ীত্ব। বিশ্বে নিরাপত্তার ক্ষেত্রটিও এর ব্যতিক্রম নয়। কোনটি 'ন্যায়সঙ্গত' যুদ্ধ, আর কোনটি নয় সেটি নির্ধারণের দায়ীত্বটিও বর্তেছে তাদেরই উপর। US military power has helped to underwrite global security - পূর্বোক্ত বাক্যটি আবারো এখানে প্রণিধানযোগ্য। বাক্যটিতে আর যাই থাকুক, বিষয় ও ইতিহাসবোধে গভীরতা ও স্বচ্ছতার ছাপ নেই;- রয়েছে নগ্ন- উদ্ধত আমেরিকানিজমের। তার কথায়, ওয়ার অফ নেসেসিটি এবং ওয়ার অফ চয়েস নিয়ে আমজনতার মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনা চলতেই পারে - ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ সংজ্ঞায়িত করা এবং তা কার্যকর করার ক্ষমতা নিহিত একমাত্র আমেরিকার হাতে।

ওবামার প্রতিশ্রুতি রাখা না রাখার ব্যাপারে জনৈক ভাষ্যকার লেখেন- ওবামা কখনো নিজেকে বিপ্লবী বলে দাবী করেননি। এটি সত্যি যে তিনি জনগকে আশার কথা বলেছেন- অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। তবে এক বছরের মধ্যে আমেরিকার পুঁজির স্বার্থ, লবিষ্ট, র্পরেশনের দৌরাত্ম্য, ফক্স চ্যানেলের ভাষ্যকারবৃন্দ এবং মরবাদীরা তার এক ঝিলিক হাসি এবং বক্তৃতার মাধুর্য্যে হাত তুলে আত্মসমর্প করবে- এমন কথা ওবামা বলেছেন বলেতো মনে পড়ে না। কিন্তু ভাষ্যকার তীর্যক ভাষায় বলেন - Obama never claimed that he was a radical. True, he did offer hope and inspiration. But I don’t recall him saying that within a year the entrenched interests of American capital, the lobbyists, the corporations, Fox commentators and militarists would throw their hands up in surrender at the flash of his smile and lilt of his rhetoric. His decision to escalate the war in Afghanistan, for example, is wrongheaded. But to qualify as betrayal he would have to have promised something  else, when the truth is this is one pledge he kept and many of us wish he hadn’t (Gary Younge, Believers in Great Men Think Alike, The Nation, Feb 1, 2010: p 10)

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের স্বনামধন্য অধ্যাপক এরিক ফনার যুদ্ধ বিষয়ে ওবামার ধারণা এবং এ যাবত প্রকাশিত ভূমিকা সম্পর্কে বলেন - As for Obama, his recent address on Afghanistan and his surprisingly bellicose speech accepting the Nobel Peace Prize reveal that he has comfortably embraced  the role of wartime president, even adopting Bush-like language about a titanic global confrontation between the forces of evil and those of freedom. This has reignited the martial spirit of the liberal interventionists, who applauded the invasion of Iraq, later apologized (more or less) and now praise Obama’s supposed ‘realism’ in recognizing  that wars are sometimes necessary. Only ‘just wars’ of course. But, was there ever a war its combatants did not consider just? (Eric Foner, The Professional, The Nation, Feb 1, 2010: p 26)

অপর প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা হাওয়ার্ড জীন তার মূল্যায়নে বলেন- ওবামা পররাষ্ট্র বিষয়ে রিপাবলিকদের থেকে ভিন্নতর ন। তার মতে ওবামা Nationalist, expansionist, imperial and warlike। স্বভাবতঃই এক্ষেত্রে ওবামা থেকে তার আশাভঙ্গের কার ঘটেনি। ডেমোক্রেটিক অপরাপর প্রেসিডেন্টের মতো ওবামাও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার অগ্রাধিকার দেন। তবে তা সতর্কতার সাথেই তারা করেন। ওবামাও সেভাবেই সম্পন্ন করতে চান। স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের ক্ষেত্রে ওবামার এতদকালের দূর্বল ভূমিকা সম্পর্কে বলেন - In healthcare he starts out with a compromise, and when you start out with a compromise, you end up with a compromise, that’s where we are now (Howard Zinn: Obama at One, The Nation, Feb 1, 2010: p 21)

হাওয়ার্ড জীনের আশাভঙ্গ হয়েছে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে। হার্ভার্ড ল স্কুলের শাসনতান্ত্রিক অধিকার বিষয়ে শিক্ষিত এবং নিবেদিত ওবামার কাছ থেকে এক্ষেত্রে বুশ অনুসৃত পলিসি থেকে উল্লেকযোগ্য দূরত্ব তৈরী করতে পেরেছেন বলে তার মনে হয়না। ওবামা গুয়ানতোনামো বদ্ধ করার কথা বলেন- কিন্তু সেখানে আটক বন্দীদের সাথে এখনো তিনি সন্দেহজনক সন্ত্রাসীর আচর করেন। তাদের বিচার হয়নি। তারা দোষী সাব্যস্ত হয়নি। ওবামা যখন এসব বন্দীদের গুয়েনতোনামো থেকে বের করে অন্যত্র কোন কারাগারে প্রের করেন তখন সত্যিকার অর্থে তিনি শাসনতান্ত্রিক অধিকারের কাজটি খুব বেশী দূর এগিয়ে নেন বলে তিনি মনে করেন না। একদিকে ওবামা এদের বিধি-বহির্ভূত আটক রাখার বিরুদ্ধে আদালতে যান- অন্যদিকে তাদেরকে এমন সব দেশে রেন্ডিশন বা প্রের করেন যেখানে তাদের নির্যাতন করার দৃষ্টান্ত রয়েছে যথেষ্ট। সতর্কতার বাণী উচ্চার করে বলেন - Obama is going to be a mediocore president which means, in our times, a dangerous president unless there is some national movement to push him in a better direction (Howard Zinn: Obama at One, The Nation, Feb 1, 2010: p 21)

দি নেশন ম্যাগাজীনের সম্পাদক ক্যাট্রিনা ভ্যান্ডেন হিউভেল এবং তার জনৈক সহ-লেখক রবার্ট এল বরোসেজ বলেন - ওবামাকে যারা 'মেসিয়া' (messiah) বা ঈশ্বরপ্রদত্ত দূ ভেবেছেন- তারা আত্ম-প্রতারিতই হবেন। ওবামা এফডি আর অথবা রোনাল্ড রেগে-এর মত নতুন এক যুগের প্রবর্তক হবেন- এমন স্বপ্ন দেখেন। But he has never been a movement progressive the way Reagan was a movement conservative. He has surrendered himself with the brightest and the best of the Democratic establishment, drawn inevitably from those marinated in the Clinton years. Many of his leading advisors from Larry Summers to Timothy geithner to Robert Gates were directly implicated in the decisions that helped to drive us of the cliff. Those voices are not advocates of transformation (Katrina Van Heuvel and Robert L. Borosage: Change won’t come easy: The Nation, Feb 1, 2010: p 13)

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রস কে বেকার বলেন- ওবামা ক্লিন্টনের চেয়েও বাকপটু একজন ব্যক্তিত্ব। সমাজ- রাষ্ট্র বিষয়ক তাবৎ আদর্শ, র্শন ও যুক্তি কলায় প্রাজ্ঞ- কিন্তু কোনোটিতেই নিবেদিত নন। বিভিন্ন ধারণা নিয়ে খেলতে ভালবাসেন- পূজো করেন না। উপরন্তু, তিনি নন মুভমেন্ট প্রগ্রেসিভ। ফলে যা অবশ্যম্ভাবী তাই এক বছরে ঘটেছে। গত এক বছরে ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কথা ও কাজের, বিশেষ করে যুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দূশ্যমান অসামঞ্জস্য পর্যবেক্ষ লক্ষ্য করে তার ভক্ত-অনুরক্তদের অনেকেই যদি তার মধ্যে স্মার্টেষ্ট ডিকনষ্ট্রাকশনিষ্ট একজন প্রেসিডেন্ট অথবা একজন মোষ্ট পাওয়াফুল উইজার্ড অফ ওয়ার্ডস এর সম্ভাবনা দেখতে পান সেটা অপরি, অপ্রত্যাশিত দুঃখজনক একাট ঘটনা হলেও এ মুহুর্তের চরম বাস্তবতা। আর এটাও সত্য, এ মুহুর্তের বাস্তবতা যাতে ভবিষ্যত ইতিহাসের অন্যতম স্থায়ী বাস্তবতার রুপ পরিগ্রহ না করতে সক্ষম না হয় সে ক্ষমতা এককভাবে নিহিত প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডেমোক্রেটিক দলের ঐক্যবদ্ধ, একনিষ্ঠ প্রগতিবাদিতা এবং সে লক্ষ্যে অব্যাহত মুভমেন্টের মধ্যে।

 

নিউ জার্সী

ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১০

ই-মেইল : dsarefin@optonline.net

 

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.