Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সম্পাদকীয়  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
একুশের ভাবনা : বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি Download PDF version
 

সম্পাদকীয়

একুশের ভাবনা : বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি

     একুশে ফেব্রুয়ারী আজ আর কেবল আমাদের,বাংলাদেশীদের, জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিন নয়। জাতিসংঘের স্বীকৃতিতে একুশে ফেব্রুয়ারী এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে আপামর বাঙালির জীবনপণ লড়াই,জীবন বিসর্জন দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এসবই আজ বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির এই গৌরবের গাঁথা নতুন হলেও, আমাদের কাছে একুশের মর্যাদা এবং ঐতিহ্য নতুন কিছু নয়। একুশের চেতনা এবং ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বাঙালি জাতিসত্তাকে প্রভাবিত করেছে গত পঞ্চাশ বছর ধরে। একুশ আমাদের গৌরব, একুশ আমাদের অহংকার, একুশ আমাদের আজন্ম প্রেরণা।

     পঞ্জিকাতে দিন-সপ্তাহ-মাস ঘুরে আরো একটি একুশে ফেব্রুয়ারী সমাগত আমাদের দ্বারে। সেই একুশের উদযাপন যখন দেশে এবং প্রবাসে, তখন একটি ব্যাপার আমাদের উদ্বিগ্ন করছে ভীষণভাবে। ব্যাপারটি বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কিত।

     ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারীর ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল আমাদের ছাত্রসমাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়র ছাত্ররাই পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্যের (যে উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা) প্রতিবাদ করে বলেছিল, বাংলা কেন রাষ্ট্রভাষা হবে না। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর থেকেই গতি পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশের আপামর জনগণের মাঝে।

     আর শুধু ভাষা আন্দোলন কেন! ৫২ থেকে ৭১ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এই দুই দশকের সংগ্রামে বাংলার ছাত্রসমাজ যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে তা কারো অজানা নয়। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ের ছাত্ররাজনীতি আমাদের মানসে এক গৌরবময় ঐতিহ্যের স্থান দখল করে আছে।

     কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতি তার স্বীয় গৌরব হারিয়ে অধোগামি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় লেজুড়বৃত্তি, অস্ত্র এবং ক্যাডারের দৌরাত্ম, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বিস্তার এবং লালন এসবই ক্রমশঃ ছাত্ররাজনীতির মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর আজ ছাত্ররাজনীতি সাধারণের মানসে কোন গৌরবময় ব্যাপার নয়, বরং ভীতির এবং নাভিশ্বাসের ব্যাপার।

     বাংলাদেশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে অতি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ছাত্ররাজনীতিকে আবারো সংবাদপত্রের শিরোনামে তুলে এনেছে এবং আবারো প্রমাণ করেছে যে একুশের গৌরবময় ছাত্ররাজনীতি আজ জনমানসে কেবল নাভিশ্বাসেরই জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভর্তি নিয়ে। ভর্তি সমস্যা, বিশেষ করে ঢাকার কলেজগুলোতে ভর্তি সমস্যা বহুদিন ধরেই প্রকট ছাত্র যতো সে অনুপাতে যথেষ্ট কলেজ নেই। ফলে ভালো বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হতে হলে ধরাধরি না করে উপায় নেই। তবে এবারে ঢাকার তিনটি কলেজে, সংবাদপত্রের খবর অনুয়ায়ী, ভর্তি সমস্যা ছাত্ররাজনীতির মর্যাদা পেয়েছে। সরকারী দল আওয়ামী লীগ- তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। এবারে ছাত্রলীগই তিনটি কলেজের ভর্তি ব্যবস্থা নি্য়ন্ত্রণ করেছে তবে এমনি এমনি নয়, উপযুক্ত সম্মানীর বিনিময়ে। ভর্তিচ্ছু ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সে তালিকা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে পলিটিক্যাল কোটা হিসেবে। অনুমান করা হয় যে ছাত্রলীগ নেতারা কোটি টাকার ব্যবসা করেছে এই ছাত্রভর্তি প্রকল্পে। এই হলো ছাত্ররাজনীতির সর্বশেষ নমুনা।

     আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এসব খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও প্রধানমন্ত্রী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতা এযাবত কোন পদক্ষেপ নেননি বা এজাতীয় উদ্যোগ বন্ধের কোন চেষ্টা করেননি।

     একুশে ফেব্রুয়ারীর লগ্নে ছাত্ররাজনীতির এমন দৈন্যদশায় আমরা সবিশেষ উদ্বিগ্ন। আশা করব সরকার দেরীতে হলেও দলীয় তথা দেশের ছাত্ররাজনীতিকে বাগে আনতে সচেষ্ট হবেন।

- মাহমুদুল হাসান

স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া

১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

 

মন্তব্য:
জনারণ্য   March 9, 2010
সম্পাদকীয়টি সুন্দর। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার পক্ষে আমি নই। কিন্তু যে কোন নাগরিকদের মতই সকল রাজনীতিবিদদেরকেও, সেটা জাতীয় রাজনীতিবিদই হোক আর ছাত্র রাজনীতিবিদই হোক, সকল কর্মকন্ডের জন্য সাধারণ আইন মতেই বিচার করা উচিৎ। সকল ক্যাম্পাসের জন্য নিজস্ব শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা উচিৎ। আর সরকারী দলের নেত্রী এবং বিরোধী দলের নেত্রীর কাছে আমরা আরো ভালো এবং কড়া পদক্ষেপ আশা করি ছাত্র রাজনীতির খারাপ দিকগুলোকে বাগে আনার জন্য। এটা বুঝা উচিৎ যে এটা একজনের কিংবা একদলের সমস্যা নয় - এটি একটি জাতীয় সমস্যা যে দলই ক্ষমতায় আসুননা কেন। ধন্যবাদ।
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.