Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
চলছে প্রাণের মেলা, একুশে গ্রন্থমেলা Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

চলছে  প্রাণের মেলা, একুশে গ্রন্থমেলা

মোর্শেদা ডেইজি

সেই চেনাদৃশ্য ফিরে এসেছে নাগারিক জীবনে। বিকাল হলেই দলবেঁধে বইমেলায় যাত্রা। আলোচনা, গানের আসর, লেখক পাঠক প্রকাশকে দিলখোলা আড্ডা, বটতলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এসব নিয়ে সন্ধ্যাটি কেটে যাচ্ছে আলাদা আমেজে। চলছে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা।

এই মাসটির জন্য প্রতিক্ষা সারা বছরের। ফেব্রুয়ারি শুরু  হতেই আবার সেই অনেক দিনের চেনা দৃশ্য শাহবাগ থেকে দোয়েলচত্বর অবদি। নানা বয়সের নারীপুরুষ  শিশু উৎসাহে আনন্দে দলবেঁধে এগিয়ে চলেছেন বাংলা একাডেমীর দিকে, অমর একুশের গ্রন্থ মেলায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতের অপরাহ্নে ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন। একই সঙ্গে এবার তিনি বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসে ‘ভাষা-আন্দোল জাদুঘরেরও দ্বারোদ্ঘাটন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ ভাষণে দেশের প্রকাশকদের প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি নতুন লেখকদের বই প্রকাশ করে তাঁদের উৎসাহিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একুশের গ্রন্থমেলাকে লেখক, প্রকাশকের মিলনমেলা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, বই প্রকাশের পাশাপাশি এখানে আপনাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে। একটি ভালো মানের বই প্রকাশে লেখক ও প্রকাশকের যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, লেখককে উৎসাহিত না করলে যেমন একটি ভালো মানের বই পাওয়া যায় না, তেমনি প্রকাশকও বই প্রকাশ করে আর্থিকভাবে লাভবান না হলে নতুন বই প্রকাশে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বাংলা একাডেমীর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

     বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক জানিয়েছেন মোট ৫০৫ টি স্টল বরাদ্দ  দেওয়া হয়েছে। অংশ নিচ্ছে ৩৫৬ টি প্রতিষ্ঠান। গতবার মেলায় অংশ নিয়েছিল ৩২৬ টি প্রতিষ্ঠান। লিটলম্যাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এবার ২৬ টি স্টল। মেলার ব্যয় বরাদ্দ  হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা। 

প্রথম দিন থেকেই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলা একাডেমীর গ্রন্থমেলায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছিলো একই চিত্র। বিকাল থেকেই মাঠ উপচানো ভিড়। উভয় দিকের প্রবেশ পথেই লাইন পড়েছিল মেলার প্রথম শুক্রবারের ছুটির দিনেই। পথের মাঝখানে ঢোলঢাগড়া, বেলুন, রঙিন আলোজ্বলা ঘূর্ণীসহ হরেক রকমের জিনিসপত্র নিয়ে হাঁকডাক শুরু করেছিল ফেরিওয়ালারা। বাহুতে-চিবুকে শহীদ মিনার, পতাকার নক্সা এঁকে দিতে রঙতুলি নিয়ে আঁকিয়েরা প্রস্তুত মাঠে, বটতলায়। মেলার মাঠ নতুন ভবন নির্মাণে সংকুচিত। দুই সারি স্টলের মাঝখানে জনস্রোত। চলাচল করাই মুশকিল। ফলে অনেকই, বিশেষ করে যেসব দম্পতি ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে এনেছিলেন-উল্টোদিকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে খোলামেলা পরিবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। শিশুরা মনের আনন্দে ছুটে বেড়িয়েছে শুকনো পাতায় ভরা মাঠে।

ভাষা-আন্দলোন জাদুঘর :

বর্ধমান হাউসের দোতলার দক্ষিণ দিকের চারটি কক্ষ নিয়ে যাত্রাশুরু হলো ভাষা-আন্দোলন জাদুঘরের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান জানিয়েছেন পর্যায়ক্রমে পুরোভবনটিই জাদুঘরে পরিত করা হবে। আপাতত এই চারটি কক্ষ সাজানো হয়েছে বাংলা ভাষার উৎপত্তির ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস, প্রথম ভাষা বিষয়ক কবিতা, বাংলার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের পরিচিতি। এরপরে এসেছে উর্দুকে রাষ্টভাষা করার ষড়যন্ত্র, ভাষা আন্দোলনের নানা পর্যায়ের ছবি, সংবাদপত্রের কাটিং, পেস্টার এসবে। একটি কক্ষে  আছে ভাষা শহীদদের পরিচিতি। এবং শহীদ শফিউর রহমানের সেদিন ব্যবহৃত কোট, চশমা, ব্যাগ সহ বিভিন্ন নিদর্শন।

নেট বই বিক্রি নিষিদ্ধ :

অবশেষে নেট বইয়ের ব্যাপারে সতর্ক হয়েছে বাংলা একাডেমী। এবারের মেলায় কড়াকড়ি ভাবে নীতিমালা অনুসরণ  করা হচ্ছে জানিয়েছেন সংস্কৃতি সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘নতুন বইয়ের কপি বাংলা একাডেমীর তথ্য কেন্দ্রে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি মেলায় কোন রকম নেট বই বিক্রি করা যাবেনা। নেট বই বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে মেলায় টাস্কফোর্স টহল দিচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক  তার বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের কপিরাইট  রেজিস্টার ও টাস্কফোর্সের  সদস্য সচিব মনজুরুর  রহমানের এর নেতৃত্বে একটি দল তল্লাসি চালিয়ে নেটবই, অনুমোদনহীন অনুবাদ, বিদেশি বইসহ মেলার নীতিমালায় নিষিদ্ধ এমন বই পেয়েছেন বেশ কিছু স্টলে।

বিক্রি বেড়েছে:

মেলায় বই বিক্রি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বই বিক্রি হতে পারে। প্রতি বছর মেলায় যেভাবে বই বিক্রির হার বাড়ছে তাতে এ লক্ষ্যমাত্রা  অর্জন অমূলক নয়।

বাংলা একাডেমীর হিসাবে, গত বছর বই মেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়। এর মধ্যে বাংলা একাডেমীর নিজস্ব বিক্রি ছিল ৬৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বইয়ের  দাম  বাড়েনি :

প্রকাশকেরা বলেছেন, কাগজের দাম বাড়তির আশঙ্কা না থাকায় এবার বইয়ের দাম বাড়েনি।  আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে গতবারের দামেই এবার বই কেনা যাবে। গতবছর যেমন ছিল এবারেও তেমনি থাকবে বইয়ের দাম। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ওসমান গণি জানান, এবার তাঁরা প্রতি ফর্মা অর্থাৎ ১৬ পৃষ্ঠার জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা মূল্য ধরেছেন। গতবছরও এরকমই দাম ছিল। এবার মেলায় বাংলা একাডেমী নিজস্ব বইয়ের ক্ষেত্রে  ৩০ শতাংশ কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো ২৫ শতাংশ হারে কমিশন দিচ্ছে।

বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে ১৯৭২ সালে প্রথম গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়। ১৯৭৮ সালে মেলাকে গ্রন্থমেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে গ্রন্থমেলার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় এবং নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। অবশ্য ১৯৭০ সাল থেকে অমর একুশে উপলক্ষে একাডেমীর মূল ফটকের সামনে প্রকাশনা সংস্থা ‘মুক্তধারার কর্ণধার প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহা বই বিক্রির আয়োজন করতেন।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.