Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ৯ম বর্ষ ১১তম সংখ্যা ফাল্গুন ১৪১৬ •  9th  year  11th  issue  Feb - Mar  2010 পুরনো সংখ্যা
রম্যকথন: নাসা নিয়ে খাসা কথা Download PDF version
 

সাহিত্য

 

রম্যকথন: 

নাসা নিয়ে খাসা কথা

 

রণজিৎ  বিশ্বাস

 

মানব জীবনে নাকের ভূমিকা ও উপকারিতা গবেষণাভুবনে রীতিমত এক অবহেলিত দিক মানুষ বিষয়টি নিয়ে খুব ভাবেনি নাকে মুলো ঝুলোবার বিষয়টি নিয়ে যত কথা হয়েছে, নাকের সঙ্গে মুলোর দূরত্ব সবসময় সমান রাখার ব্যাপারে মানুষ যত মনযোগ ঢেলেছে, অন্য কোন ব্যাপারে ততটা মনও দেয়নি, মাথাও দেয়নি মানুষ তার নাকের কাছে কেন ঋণী, সে ব্যাপারে আজ আমরা সামান্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করবো

প্রথমত: নাক আছে বলেই মানুষ নাকি কান্না কাঁদতে পারে  নাক আছে বলেই মানুষ কেঁদে কেঁদে নাকের মলে চোখের জল মিশিয়ে অদ্ভুত এক ল্যাতল্যাতে পদার্থ তৈরি করতে পারে নাক আছে বলেই পিঠাপ্রিয় বাঙালি নাসারন্ধ্রের ভেতর থেকে বহু কোশিসে কসরতে অর্ধশুকনোও প্রায়শুকনো নাশামল বার করে এনে বাঁ  হাতের তর্জনী ও বুড়ো আঙুলের পেটের মাঝখানে ফেলে গভীর অভিনিবেশে ও সতর্কতায় চুষিপিঠা বানাতে পারে

নাক নামের প্রত্যঙ্গটি মুখমণ্ডলে স্থাপিত না থাকলে রাবনভাগিনী সূর্পনখা তার অধিকারে যত তনুময়তা আর বিভ্রান্তিরকর রূপময়তাই  থাকুক না কেন, আমাদের কাছে অত পরিচিত হতে পারতো না যতই ষড়ন্ত্র তার মনে থাকুক লক্ষ্মনের উচিত হয়নি নিবেদনে ঢলঢলে হয়ে ওঠা তরুনীটির  বাঞ্ছাপূরণ করেই তার লম্বা নাকটি কেটে ফেলা সংসারে মানুষ যত কাজ করেছে বেরসিকের মত, এটি তার মধ্যে একটি

এর বাইরেও নাকের আরও পাঁচশ সাঁইত্রিশ রকম ব্যবহার আছে কেউকেউ বলেন- তেরোশত পঞ্চাশটি কারও কারও মতে- অত হবে না, হলে বড় জোর তিনশ পঞ্চান্নটি হতে পারে

যতই হোক, সবগুলো বলে কাউকে ক্লান্ত করার ইচ্ছে নেই, নিজে ক্লান্ত হওয়ারও দম নেই বিরানব্বুই বছরের শরীর সব ধকল এখন সইতেও পারে না দেহের ভেতরে বসে তারুন্যের হাটে বন্ধুত্ব খোঁজার জন্য আগ্রহী ও লুব্ধপ্রলুব্ধ মনটিতে যতই উষ্ণতা থাক কুসুমকুসুম, অথবা যতই ভাবতে ইচ্ছে করুক  যে বয়স একটি সংখ্যামাত্র বাস্তবছবি হচ্ছে মনের ভার দেহ এখন আর নিতে পারছে না নিতে চাইলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ছে তাই, নাকের সব উপকারিতা আজ ধরা যাবে না দেখা যাক, গোটা আটদশ অন্তত: আজকের ফর্দ-তালিকায় আঁটানো যায় কিনা সময়ের ব্যাপারটিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে

নাক আছে বলেই নাকের ছ্যাঁদা আছে, নাকের ছ্যাঁদা আছে বলেই মানুষ নাক সিঁটকোতে পারে ও নাক কুঁচকোতে পারে এবং কাজ দু’টি করার মাধ্যমে মানুষ তার প্রয়োজনমত ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করতে পারে

মানুষ নাকের দু’পাশের মোটা দেয়াল ফুটো করে নাকফুলতো পরতে পারেই, নাসারন্ধ্রের দু’কম্পর্টমেন্টের মাঝ বরাবর তরুনাস্থির যে দেয়াল আছে, তা এফোঁড়-ওফোঁড় করে তাতে পোড়ামাটি, লোহা, পেতল, তামা কিংবা অন্য কোন পদার্থে তৈরী আঙটাও ঢুকিয়ে দিতে পারে

কান ও গলার সঙ্গে নাক যুক্ত করা হয়েছিল বলেই মেডিকেল সায়েন্সে-এ ইএনটি নামের একটি স্পেশালাইজড ডিসিপ্লিন চালু হয়েছিল নইলে নাক-কান-গলা’র ডাক্তার তৈরী হতে পারতো না

নাক আছে বলেই মানুষ উন্নতনাসা হতে পারে নাক যদি না থাকতো বাঁশরির মত নাকের প্রশংসা হতো না, ঘুষির চোটে মানুষ অন্যের নাক চ্যাপ্টে দিতে পারতো না

নাক আছে বলেই আমাদের ভাষায় চমৎকার কিছু ধারণা তৈরী হয়েছে যেমন, নাকের বাঁশিতে কাঁচা দুধের গন্ধ; যেমন, নাকের বদলে নরুন  পেলাম; যেমন, নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ; যেমন, আমার স্বাধীনতার সীমা তোমার নাকের ডগা পর্যন্ত

সৃষ্টিকর্তার অপার অনুগ্রহে মানুষের অধিকারে একটি নাক ছিল বলেই সর্দির সময় মানুষ পার পেয়েছে নইলে ঐ সময় নোনাজলের গড়গড়ানো ধারা মনের আনন্দে ও স্বাধীনতায় গড়াতে পারতো না

নাকের কারণেই মানুষ তার ছিদ্রপথে কোন কুটো, কাগজ, দেশলাইকাঠি কিংবা টুতপিক ঢুকিয়ে হাচি দেয়ার আনন্দ লুটতে পারে

নাকের কারণেই মানুষ ঘ্রাণ নিতে পারে এবং কোন কিছু হাতে না ধরে, দাতে না চিবিয়ে এবং চোখে না দেখে একেবারে নিখর্চায়, শুধু ঘ্রাণের ক্ষমতায় সংসারের সবচেয়ে দামী ভোজটিও পুরোপুরি সাবড়ে দিতে পারে পণ্ডিতজনেরা কহেন ও মান্যজনেরা মানেন- ‌‘ঘ্রাণং অর্ধভোজনম’ (অর্থাৎ, ঘ্রাণেই সারা হয় ভোজনের আধাআধি) তাই যদি হয়, কাজটি দু'বার করে নিতে পারলেই একবারের ভোজন সারা হয়ে যায়

নাক আছে বলেই শিশুদের নাক টিপে আদর করা যায় এবং দুশমনের নাক ফাটিয়ে রক্ত বা’র করার সংকল্প করা যায়

অনেক কথা বলা হলো, কিন্তু এতকিছু বলার পরও নাকের সবচেয়ে বড় উপকারিতার কথাটি রয়েই গেলো নাকের সর্বধন্বম্তরী উপকারিতা হচ্ছে- প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে এবং সময়ে ও অসময়ে অন্যের বিষয়ে নাক গলানো যায়, মানুষকে বিরক্ত করার আনন্দ উপভোগ করা যায় এবং এক্সপার্ট না হয়েও সর্ববিষয়ে অভিজ্ঞজনার মত ‘এক্সপার্ট অপিনিয়ন’ দেয়া যায়

বয়:বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের নাসারন্ধ্রের ভেতরে, দু‘পাশের  দু‘সুড়ংগ প্রান্তে কেশোদয় হয় সেগুলো টেনেটেনে ছিড়ে ‘হাইচ্ছো’ দেয়ার নামে যে কী অপরিমেয় আনন্দ ও পরিতৃপ্তি, যে কাজটি করে সেই জানে অন্যকে তা বলে বা লিখে বোঝাবার শক্তি ভাষায় নেই

রণজিৎ বিশ্বাস শ্রমজীবী কথাসাহিত্যিক

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.