Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৭ •  10th  year  1st  issue  Apr - May  2010 পুরনো সংখ্যা
পাঠক-লেখকদের মন্তব্য Download PDF version
  পড়শীর পাঠক 
সমাজ

 

 

পাঠক-লেখকদের মন্তব্য

 

পড়শীর পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অনলাইন পড়শীর এক বছরের মাথায় তাঁদের চিন্তাভাবনা ওবং আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা বেশ কিছু নাতিদীর্ঘ বক্তব্য পেয়েছি। পাঠকদের সুবিধার্থে সেগুলো এখানে নিবন্ধিত হলো।

 

১.  বিনিসূতোর মালা

মীজান রহমান

লেখক লেখে, পাঠক পড়ে। অলক্ষ্যে সেতু গড়া হয়। বিনিসূতোর বন্ধন সৃষ্টি হয় আড়ালে। কথার বন্ধন, ভাব ও ভালোবাসার বন্ধন। বিরোধ ও বিভেদের বন্ধন কখনো কখনো তাও সৃষ্টি হয়ে যায়। লেখকের কলমের খোঁচাতে পাঠকের কোমল প্রানে আঁচড় কাটে, রক্ত ক্ষরায় অজ্ঞাতে, অনভিপ্রায়ে। সেও একপ্রকার বন্ধন।

লেখক লেখে কারণ তাকে লিখতে হয়। সে তার কলমের আজ্ঞাবহ। তার আত্মসত্ত্বার কাছে দায়বদ্ধ। তার কিছু বলার আছে। শব্দ দিয়ে সে সাজাতে চায় তার স্বপ্নকে, রচনা করতে চায় এক অনুপম জগত। পাঠক তার বই হাতে নেয়। প্রথম পাতার পর তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় দ্বিতীয় পাতায় যাবে কি যাবে না। বই সুপাঠ্য হলে প্রথম পাতাটিই একটা জাল গেঁথে ফেলে, একটা সুদূর গানের মোহ সৃষ্টি করে। পাঠক আটকে যায় সেই মোহের জালে। সে তার আহারনিদ্রা ভুলে যায়। ওই বই তার বসার ঘরে, খাবার টেবিলে, শোয়ার ঘরে তার নিত্যসঙ্গী। তার বাসের সিটে, বাথরুমে, তার কাজের জায়গায়। বই তার চিন্তায়, নিদ্রায়, কল্পনায়, সে তার বিশ্রামের সহচর, তার প্রেমিক, তার ভালোলাগা অপরাহ্নের প্রাসখা। সে তার সোনালি রোদের আরামে থাকা ঘাসের শয্যায়।

সে বইয়ের লেখক ভাগ্যবান। অপরিসীম ভাগ্য নিয়ে তার জন্ম।

আমি সেই যাদুকরি লেখক নই। তবু জানিনা কেন, টানা বিশ বছর ধরে আমি লিখছি। কালের বিচারে আমি কোথাও দাঁড়াব না জানি, তবুও দুচারবার দুচারটে পাঠকের ভালোলাগার বার্তা পৌঁছেছে আমার কানে, স্পর্শ করেছে আমার প্রা। নিজের লেখাতে কখনোই পুরোপুরি তৃপ্তি পাইনি আমি। মাঝে মাঝে ভাবি কি হবে এসব আজেবাজে জিনিস লিখে। তবুও লিখছি। লেখার নেশাতে কখন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম বুঝিনি। জানি, এই অতৃপ্তিই আমাকে টানছে। জীবনের সেই আদি স্বপ্ন সেটাতো পূরণ হল না এখনও। সৃষ্টির স্বপ্ন। একটা  অসাধারণ শব্দ রচনা করবার স্বপ্ন। যে শব্দ বৃষ্টির ধ্বনির মত টিনের চালেতে নাচবে, ময়ূরের মত পেখম ছড়াবে। যে শব্দ নীল দীঘির শাপলার মত হাসবে, হাঁসের মত ডানা মেলে উড়বে। সে শব্দ আমি এখনও তৈরি করতে পারিনি। এ স্বপ্ন শুধু আমার নয়, প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন। প্রতিটি মানুষের আরাধ্য উত্তরাধিকার গুটিকয় শব্দ যার ধ্বণিতে সে অমরত্ব লাভ করবে। শব্দের কাছে আমরা বন্দী। তাই আমি লিখি। হেমন্তের শুকনো পাতার মত কালের জঞ্জালে আশ্রয় পাব জেনেও আমি লিখি। 

পড়শীর মাহমুদুল হাসান আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। দারুণ মেধাবি পুরুষ, সুহৃদ বন্ধু। আমার লেখালেখির গোড়াতে সে ছিল মাঠের পাশে দাঁড়ানো সশব্দ উত্সাহদাতা আমি ছিলাম এক কাঁচা খেলোয়াড়। ওর মাসিক বাংলাদেশ পত্রিকায় আমি নিয়মিত লিখতাম। সে সুবাদেই প্রবাসের পাঠককূলের হৃদয়মন্দিরে আমি আশ্রয় পেতে শুরু করি। তারপর ও চলে গেল ক্যালিফোর্নিয়াতে। একদিন টেলিফোনে বললাম, পত্রিকা বের করবে না? অবশ্যই করব, এইতো শুরু করছি বলে, লেখা তৈরি করুন, বলল সে। তখন থেকেই আমি পড়শীর লেখক। পড়শী আমার কাছে একটা খোলা জানালার মত। এই জানালা দিয়ে বাইরের পৃথিবীকে দেখতে পারি, পাঠকের মনের আনাচেকানাচে উঁকি দিতে পারি। তাকে ভাবাতে পারি, হাসাতে পারি, কাঁদাতে পারি, রাগাতে পারি, কখনোবা বিরক্তিতে ঝলসে দিতে পারে তার মন। পড়শী আমার কাছে লণ্ডনের সেই খোলা মাঠের মত যেখানে দাঁড়িয়ে পাগলরা পাগলামি করতে পারে পরম নিশ্চিন্তে, অবারিত স্বাধীনতায় তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। পড়শীর পাতায় আমি আবোলতাবোল যাচ্ছেতাই বলে যেতে পারি, কখনো দিশাহীন মাতালের মত, কখনো কাণ্ডজ্ঞানহীন বৃদ্ধের মত। পড়শী আমাকে সেটুকু স্বাধীনতা দিয়েছে। পড়শী এবং তার পাঠকরা আমাকে যা দিয়েছে তার একাংশ যদি শোধ করতে পারতাম কোনদিন, ভাবতাম, সার্থক হল এজীবন।

- অটোয়া, কানাডা

 

২.  ন্তর্জালে পড়শী

শামীম আজাদ

লালনের বাড়ির কাছে আরশি নগর, যেখানে এক পড়শী বসত করেঅথচ তার সঙ্গে কিছুতেই তাঁর সাক্ষাৎ হয়নাআর আমাদের এই পড়শী রোজ এক আকাশ তারা ডিঙিয়ে, সূর্যের অজগর গরম পেরিয়ে, মেঘের ময়ানে ময়ানে এসে দেখা দেয় যাদুর বাক্সেআঙ্গুলের টংকারে বাজাতে থাকে আমাদের অনাবাসী বাংলাদেশী প্রাণের বিগল

কিন্তু তা বাজাতে গেলে বাদ্যকারদের যে কী পরিশ্রম করতে হয় তা যে না একবার তাদের কাছে বসেছে তার বোঝার সাধ্য নেই তবে তারা নিশ্চই আঁচ করতে পারেনপড়শর এখনকার মজা হল এই যে এর পুরোটাই লেখা হয় আকাশের টেবিলেকোন সুভাগ্যে ইংল্যান্ড থেকে আমি সে টেবিলে অনেকবার বসেছি এমনকি দু দবার সম্পাদনার টেবিলে র্পযন্তআর আমার সঙ্গে আলাপচারিতার জন্য যুক্ত সম্পাদকরা এসেছিলেন নর্থ আমেরিকা থেকেআমাদের আকাশ টেবিলে সারা বিশ্বের নানান স্থানের লেখক আর সম্পাদকদের দরকষাকষি, যাচাই বাছাই, সম্পাদনা এবং তৎপরবর্তি বিড়ম্বনা সবই চলেআর এসময় আমরা আহার করি জলবায়ূ, চায়ের কাপে নিয়ে বসি দৈবী প্রণোদনার জলএক সময় সুরঙ্গ পথে আকাশের ফোকড় গলিয়ে ধরা পড়ি অর্ন্তজালে

- লন্ডন, যুক্তরাজ্য

 

৩.  ম্যাগাজিনের ভূমিকা কেবল অবসর বিনোদনের ব্যাপার নয় 

চঞ্চল কুমার ঘোষ

বিশ্ব বাঙালীর মুখপত্র হিসেবে পড়শী ম্যাগাজিন প্রথম কবে হাতে এসেছিলো আজ আর সেটা মনে নেইতবে সুদূর প্রবাসে বসে স্বদেশের নানা বিষয়ের আলোচনায় পূর্ণ এই রকম একটি বাংলা ম্যাগাজিন পড়তে পেরে মনে মনে এর উদ্যোক্তাদের সেদিন ধন্যবাদ জানাতে ভুলিনিপড়শীর স্বল্প পরিসরেও শিল্পসংস্কৃতি, রাজনীতি, সাহিত্য এবং প্রযুক্তির নানা দিকগুলো পাঠকদের বিভিন্ন রুচি আর মেজাজের কথা মনে রেখেই যে সংযোজন করা হয়েছিল সেটা মনে করেও ভালো লেগেছিলএই উদ্যোগে কেবল একটি সাময়িক পত্রিকার জন্ম হয়েছে তাই নয়, এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে মাতৃভাষার চর্চা যেমন অব্যাহত থাকবে তেমনি প্রবাসেও জন্ম হবে অনেক নতুন নতুন লেখক লেখিকারনিজের ভাষাকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দেবারও একটি ফলনশীল প্রয়াস এটিসময়াভাবে পড়শীর সবগুলো সংখ্যা পড়বার সুযোগ অবশ্য আমার হয়নিতাই বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে এখানে দু চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়েই কেবল বলতে চাই

প্রথমেই বলি এই ম্যাগাজিনের প্রিন্ট এবং অনলাইন এই দুটো ভার্শনের কভারপেজেই, মূল রচনাবলীর সঙ্গে একটা অর্থবহ সঙ্গতি রেখে প্রচ্ছদ তৈরী করবার সচেতন প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়এটা অবশ্যই এই ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে সফলতার দিকসাম্প্রতিককালের অথবা দীর্ঘকালীন যে কোনো বিষয়ের সংকট অথবা উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে বিভিন্ন দিক থেকে পড়শীর মূল লেখাগুলো রচনা করবার প্রচেষ্টাও বেশ গঠনমূলক মননশীলতাযেমন - বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন এনজিওর ভূমিকা নিয়ে তার ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা সমালোচনাকিংবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয়দিবস নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা এবং সে বিষয়ে যৌক্তিক বিচার বিশ্লেষণ

তবে পড়শী ম্যাগাজিনের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রিন্ট ভার্শন থেকে অনলাইন ভার্শন অনেক বেশী সফলকাম এই জন্যই যে, টেকনোলজির বৈপ্লবিক পরিবর্তন এখন সমস্ত বিশ্বেই এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেযাদের আলাদা করে বসে বই পড়বার সময় কিংবা অভ্যাস নেই, তারাও অনলাইনে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন লেখা পড়ে আনন্দ পানযারা গ্রাহক নন তারাও  ইচ্ছে মতো লেখা পড়ে অনায়াসে নিজেদের মন্তব্য সেখানে করতে পারেনতাছাড়া প্রিন্ট ভার্শনে বার বার বিভিন্ন ঠিকানা লিখে মেইলিং এর একটা বাড়তি ঝামেলা থাকেঅর্থের প্রসঙ্গটাও অবহেলার নয়সন্তোষজনক গ্রাহক না জুটলে বাড়তি খরচের বিষয়টা তাই এসেই যায়

তবে প্রিন্ট ভার্শন অবশ্যই সেই সব কদাচিৎ রোমান্টিক ব্যক্তিদের কাছে প্রিয়, যারা ছুটির দিনে সামান্য অবসর মুহূর্তে বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিজের মাতৃভাষায় রচিত একটি পত্রিকা পড়তে ভালোবাসেনঅথবা দূরের যাত্রায় গাড়ীতে পেছনের সিটে বসে অবসর বিনোদনের জন্য পড়ার মধ্যে তলিয়ে যেতে চানএই জাতীয় দু চারজন ব্যক্তির কথা বাদ দিলে প্রিন্ট থেকে অন লাইন ভার্শন অবশ্যই অনেক বেশী সময়োপযোগী

সব শেষে বলতে চাই, সব জিনিষেরই ক্রমান্বয়ে বৈচিত্র্য এবং মডিফিকেশনের প্রয়োজন আছে তার জনপ্রিয়তা রক্ষার জন্যযে কোনো পত্রিকার মান সর্বদাই ধরে রাখা চলে বিষয় নির্বাচনের মাধ্যমে এবং সেখানে যারাই অংশ নেবেন তাদের যে কোনো রচনার সাফল্যেপড়শীতে অবশ্যই অনেক ভালো ভালো বিষয়বস্তু রয়েছেসুশৃঙ্খল পরিবেশনও অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়তবে আরও বেশী সংখ্যক মানসম্মত লেখা  থাকলে সেটা অবশ্যই সবার জন্য আরও ভালো হয়কারণ, ম্যাগাজিনের ভূমিকা কেবল অবসর বিনোদনের ব্যাপার নয়, মানুষের চিন্তা চেতনার প্রসার ঘটানোও এর একটা প্রয়োজনীয় দিক 

- ওয়েষ্ট চেস্টার, ওহায়ো


৪.  হাতে একটি পত্রিকা নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখার মজাটা অনলাইনে সম্ভব নয়

প্রদোষ কান্তি সরকার

পড়শীর অনলাইন সংস্কর একবছর হতে চলল। আরও অনেকের মতই এই সাহিত্য পত্রিকার মুদ্রিত ও অনলাইন দুটো সংস্করই পড়বার সুযোগ হয়েছে আমার। উত্তর আমেরিকায় বাংলা সাহিত্য পত্রিকার সংখ্যা ঠিক কত আমার জানা নেই। তবে পড়শীর উদ্যোগ সাধুবাদার্হ অবশ্যই। কারনটা খুবই সহজবোধ্য। বই এবং পত্রিকা মানুষ এখন আর পড়ে না। অবশ্য একেবারে 'পড়ে না' না বলে, বলা ভাল আগের তুলনায় অনেক অনেক কম সংখ্যায় পড়ে। বইকে একসময় অভিজাত মানুষ জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি বিনোদনেরও অঙ্গ বলে মনে করত। সে ছিল সেই সময় যখন সিনেমারও এত রমরমা ছিল না। এল সিনেমা এবং ভাল ভাবেই এল। তারপর এল টিভি। টেকনোলজির প্রসার ও বিস্তারের ফলে সিনেমা থেকে শুরু করে বিনোদনের অন্যান্য রাস্তা অতি সহজলভ্য হয়ে গেল। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ সময় কাটাতে আর বইয়ের দ্বারস্থ হয় না। জ্ঞান লাভের জন্যও বই এখন প্রাথমিক পছন্দ নয়। ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট সমস্ত ছবিটাকে পালটে ফেলেছে। তাহলে কি মুদ্রিত বই ও পত্রিকা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে আজকাল? অতদূর ভাবাটা হয়তো ঠিক হবে না, কিন্তু এখনো একটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সেকথা বলা চলে।

এই চ্যালেঞ্জের সামনাসামনি এসে পড়শী অনলাইন হয়ে গেছে। বাহ্যিক কাঠামোতে পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু অন্দরমহলে রদবদল তেমন হয়নি। সেটা বাঞ্ছনীয়ও বটে। সাহিত্য পত্রিকার চরিত্র পড়শী বজায় রাখতে পেরেছে। আমি মন দিয়ে তিন চারটি সংখ্যা পড়েছিলাম-যার মূল রচনাবলীতে ছিল হাস্যরস, বাউল ও সুফিবাদ, মুক্তিযুদ্ধ এবং ওবামার শাসন কাল। এই সবকটি সংখ্যার প্রচ্ছদ আমার যথেষ্ট ভাল লেগেছে। মূল রচনাবলীতেও গভীরতার ছাপ আছে। প্রচ্ছদ কাহিনী নির্বাচনও সুচিন্তিত।

তুলনায় কাব্য বোধহয় পড়শী'র সাহিত্য অঙ্গনে কিছুটা হলেও উপেক্ষিত। কবিতাই কি কোন একটা সংখ্যার 'থিম' হতে পারে না? বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ও নাট্য শিল্পের সাম্প্রতিক রূপরেখা নিয়েও একটি বিশ্লেষর্মী সংখ্যা দেখতে পেলে মন্দ হত না। আমার মনে হয় সাহিত্য পত্রিকার মত নাট্যশিল্পও একই রকম সংকটের মুখে। দেশের শিল্পীরা এই সঙ্কটকে কিরকম ভাবে দেখছেন ও কিভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছেন জানার ইচ্ছে রইল।

পড়শীর কোন এক সংখ্যায় সেতার শিল্পী আলিফ লায়লার সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। রবীন্দ্র-নজরুল বাংলাদেশের মাটিতে পল্লবিত-পূজিত। বাংলাদেশের জনমানসে তথাকথিত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থান কি - এই নিয়ে আলোচনা পড়শীর পাতায় দেখতে মন্দ লাগবে না। রাজনীতি, মৌলবাদ পড়শীর পাতায় ঘুরে ফিরে আসছে। খুবই প্রাসঙ্গিক বিষয় সন্দেহ নেই। ভবিষ্যতে আরও এরকম আলোচনা নিশ্চয় থাকবে। মৌলবাদ নিয়ে সচেতনতা তৈরী করতে যে কোন দেশে, যে কোন সমাজেই পড়শী'র মত সাহিত্য পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এত কথা বলার পরেও একটা 'কিন্তু কিন্তু' ভাব মনে রয়েই যায়। সেটা মুদ্রিত সংস্করণের জন্য অভাববোধ। হাতে একটি পত্রিকা নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখার মজাটা অনলাইনে সম্ভব নয়। কিন্তু অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ছাড়া বোধহয় আর কোন উপায় নেই।

- ফ্রিমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়া

 

৫.  শুরু থেকে পড়শীতে

মনজুর চৌধুরী

পড়শীর সাথে আমার সম্পর্ক পত্রিকাটির জন্মলগ্ন থেকে আমি তখন এদেশে যাকে বলে ডীপ সাউথ (Deep South), সেই আলাবামার হান্সভিল (Huntsville) শহরে সিলিকন ভ্যালীর বন্ধুরা জানালো তাদের এক অসাধারণ উদ্যোগের কথা উত্তর আমেরিকা থেকে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে, আর তা হবে এখানকার বাংলা ভাষাভাষীর মুখপাত্র যদিও দেশে থাকাকালীন এরকম কোনো উদ্যোগের সাথে সামিল হবার এবং তা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ হনি তবুও সাহসে বুক বেধে রাজি হযে গেলাম বন্ধুদের জানালাম আমার কোনো অবদান যদি পত্রিকাটির কাজে লাগে তবে আমি প্রস্তুত আমি হয়ে গেলাম পড়শীর স্থানীয় সংবাদদাতা হান্সভিলে তখন বাংলাদেশের হাতেগোনা আট থেকে দশটি পরিবার, আর ওপর বাংলার আন্দাজ বিশ থেকে পচিটি আমরা বাংলাদেশীরা স্থানীয় মসজিদ-কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকান্ড (Sunday school , নিয়মিত school এসব) নিয়ে ব্যস্ত ওপার বাংলার পরিবারগুলোই মূলত বাংলা ভাষা ভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের আয়োজক পূজা-পার্বন, নববর্ষ এসব এলে তার দাওয়াত পাই কিন্তু মসজিদের নানা আচার নুষ্ঠান-এর ফাকে সময় করে অনেক সময়ই যাওয়া হয়নি এতসব কাহিনী বলছি এটা বুঝানোর জন্য যে তখন পড়শীর জন্য কিছু গ্রাহক যোগার করা ছাড়া বাংলা সাহিত্যচর্চা আর অন্য যারা একাজে নিয়োজিত তাদের সান্নিদ্ধে থেকে তাদের থেকে পড়শীর জন্য খবর বা লেখা যোগা করার কাজগুলো তেমন ভাবে করা হয়নি তবে প্রতিমাসে নিয়মিত মনোযোগ দিয়ে পড়শীর প্রতিটি কলাম উপভোগ করেছি

এক সময় জীবিকার অন্নেষণে চলে এলাম পূর্ব উপকলে এখানে এসেও নিয়মিত পড়শ পেয়েছি কিন্তু ক্রমে ক্রমে পড়শ খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে একটা শৈথিল্য এসে বাসা বেধেছে এর মাঝে পড়শ ছাপার অক্ষর থেকে চলে এলো অন লাইনে পড়শীর এই পরিবর্তনটি পত্রিকাটিকে নিয়মিত পড়ার বিয়ে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আগে মেইল বক্স থেকে পত্রিকাটি নিয়ে এসে পুরোটা না হোক মূল বিষয়গুলোতে চোখ বুলিয়ে নিতাম, আর কখনো কখনো পড়শ হত আমার বিশ্রামের সাথী অলস বেলায় সোফায় হেলান দিয়ে বা রাতে ঘুমোতে যাবার  আগে পড়শীর সব কলামই পড়া হয়ে যেত অন লাইনের পড়শী শুধু হেডলাইন পড়ার জন্য ভালো, কিন্তু পুরো কলাম এমাথা থেকে ওমাথা পড়া হয় ছাপা পত্রিকার তুলনায় অনেক কম

পড়শী অনেক নুতন লেখক তৈরী করেছে, সেজন্য পড়শীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ নুতন লেখকদের অনেকে আবার স্বল্প সময়ের মধ্যে হারিয়ে গেছে নতুনদের মধ্যে বন্ধুবর সাকিব-এর লেখা নিয়মিত কলামের আদলে শুরু হয়ে ক্ষণিক আনন্দ দিয়ে মিলিয়ে গেল যাদের নিয়মিত কলাম সবসময় পেয়েছি এবং ভালো লেগেছে তাদের মধ্যে মজান রহমান ও ওয়াহেদ হোসের কথা বলবো

পড়শীর পরিবেশনায় যদি উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালদের ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটাবে এমন সব বিষয় যেমন ইমিগ্রেশন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, অর্থ/সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিভন্ন রাজ্যে চাকুরী ও ব্যবসার খোজখবর আর প্রবাসী ও তাদের সন্তান-সন্ততিদের বিভন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের খবর আগের তুলনায় আরো বেশি প্রকাশিত হয় তবে তা পাঠকদের আকৃষ্ট করবে বলে আমার ধারণা

অন লাইনের পড়শীকে ছাপানো মাসিক পত্রিকার মত মাসে একবার প্রকাশ না করে প্রতিদিন নতুন নতুন লেখা ও অন্য ভালো অন লাইনে প্রকাশিত বাংলা লেখার সাথে লিঙ্ক দিয়ে আপডেটেড রাখলে তা পাঠকদেরকে নিয়মিত পড়শী সাইটে আসতে উত্সাহিত করবে

Facebook-এ পড়শী ফ্যান ক্লাব খোলা যেতে পারে সবার আগে পড়শীকে আর্থিকভাবে সচল রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ। বে এরিয়া কেন্দ্রিক (যেহেতু পড়শীর অভিভাবকরা বেশির ভাগই ওখানে) দর্শণীর বিনিময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফান্ড রেইজিং অকসান (দেশের আড়ং-এর সামগ্রী হতে পারে অকসান আইটেম) আয়োজন করা যেতে পারে

প্রবাসের হাজার ব্যস্ততার মাঝে, অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে, এতদিন ধরে নিয়মিত পত্রিকাটি প্রকাশ করা এবং তার মাধমে বাংলা ভাষাভাষীদের মনের খোরাক যোগান দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপক, সম্পাদক, লেখক সবাইকে আমার প্রাঢালা শুভেচ্ছা আগামী দিনে পড়শী হবে আরো আকর্ষণীয় এই কামনা করছি

-          গেইন্সভিল, ভার্জিনিয়া

 

৬.  কাগজের পাতা বনাম কম্পিউটারের পাতা

ফারহানা আফরোজ কান্তা

প্রবাস জীবন ত ব্যস্ততার। আটটা-পাঁচটা চাকুরী, সংসার, বাচ্চা, সামাজিকতা আতিথেয়তা সামলে অন্য কিছু করার আর সময় কই? তবুও এই শত ব্যস্ততার মাঝে আমি একটি বিলাসিতাই ধরে রেখেছি - বই পড়া রাতে রান্না-খাওয়ার পরে, বাচ্চা দুটোকে ঘুম পাড়িয়ে, বেডসাইড ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে আমি বিছানায় শুয়ে পড়ি। ব্যস্ পরবর্তী একটি ঘন্টা আমার, শুধুই আমার।

আজকের এই যান্ত্রিক যুগে রোজ বই পড়া 'বিলাসিতা'-ই বটে। কিন্তু দু'হাতে ধরে, কাগজের গন্ধ শুকতে শুকতে একটি বই পড়ার যে আনন্দ, তা পাঠক মাত্রই জানেন। যুগের দাবিতে হাতে ধরা অনেক বই এখন উঠে এসেছে কম্পিউটারের পাতায় (স্ক্রীনে)। অনেক বিখ্যাত ও বহুল প্রচারিত পত্রিকাগুলোও পাঠক online-এ পড়ছেন। আমার বাসায় প্রতি উইকেন্ডেই ফোন আসে San Francisco Chronicle থেকে। শুধু রবিবারের পত্রিকাটি কিনলে সারা সপ্তাহের পত্রিকা ঘরে আসবে বিনে পয়সায়। কি দুরাবস্থা! ভাবা যায়? তাই বছর খানেক আগে পড়শী যখন online version চালু করর প্রস্তাব এসেছিল, আমি তাকে স্বাগতই জানিয়েছিলাম। পড়শীর জন্ম ২০০১ সালে। বিদেশ-বিভুঁয়ে বসে একটি বাংলা পত্রিকাকে সচল রাখা যে কষ্টকর হলেও সম্ভবপর তা পড়শী পরিবার গত বছরে প্রমা করেছে। 'পড়শী' স্যান ফ্র্যানসিস্কো বে এরিয়ার বাংলা ভাষাভাষীদের একটি গর্ব। এর অস্তিত্বকে তো মুছে দেয়া যায়না। তাই ২০০৯-এর এপ্রিলে পড়শী যখন ঘুরে দাঁড়ালো, নতুন রূপে online-এ এলো, আমি তখন সত্যিই খুশি হয়েছি।

আমার বাবাকে দেখেছি অফিসে যাবার আগে সকালের চা খেতে খেতে পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছেন। আর আমি? অফিসে এসে কম্পিউটার অন করতে করতে কফির মগে চুমুক দেই, আর প্রিয় দৈনিকগুলোর পাতায় (website) চোখ বুলাই। আমার মা দুপুরের খাবারের পরে ভেজা চুল বালিশে মেলে সেদিনের পত্রিকা বা বই পড়তেন। আমি তার কন্যা প্রায় মধ্যরাতে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় যাই, প্রিয় সাইটগুলো ব্রাউজ করি। দিন বদলেছে বৈকি।

্যাঁ, বিছানায় শুয়ে দু'হাতে ধরে কাগুজে পড়শী পড়তে পারছি না বটে কিন্তু ল্যাপটপে পড়াটাই বা খারাপ কি? চুপিচুপি বলি, অফিসের কাজের ফাঁকেও আমি পড়শীর পাতাটা ঘুরে আসি। এটাই বা কম কি? অফিসে বসে তো আর কাগুজে পড়শী পড়া হতো না।

পড়শীর জানুয়ারী সংখ্যায় সৈয়দ আশরাফউদ্দীন আহমেদের একটি লেখা, 'হারামখোর' খুব ভাল লেগেছিল। অমনি লিংকটা পাঠিয়ে দিলাম আমার বন্ধুকে, নর্থ ক্যারোলিনায়। আগে তো এটা সম্ভব ছিলনা।

পড়শীর অনলাইন সংখ্যা বর্ষপূর্তিতে পড়শী পরিবারকে অনেক শুভেচ্ছা। পড়শী তুমি বেঁচে থাকো অনেক বছর কম্পিউটারের পাতায়।

- সিলিকন ভ্যালী, ক্যালিফোর্নিয়া

 

৭.  পড়শীর সাথে আমার সংস্পর্শ

এস, এস, নেওয়াজ

বিদেশে ১০ বছর যাবৎ একটি বাংলা পত্রিকা চালানো যে কোনো মাপকাঠিতেই সাফল্যের দাবিদার। পড়শী শুধুমাত্র এই দশ বছর অস্তিত্বই রাখেনি, সে তার পাঠকদের দিয়েছে অনির্বান আনন্দ। এ জন্য পড়শীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন তি নিয়মিত পাঠক ছিলাম না, বা লেখা পাঠানোর মত নিয়মানুবর্তিতাও ছিল না আমার মধ্যে, তবুও পড়শীর সাথে সংস্পর্শ ছিল নানা ভাবে। সেই সুবাদে বলিঃ পড়শীর লেখাগুলোর ধারাবিন্যাস, আলোচনামূলক প্রবন্ধ, অথবা নিয়মিত বিষয়গুলোতে এই পত্রিকার মূল মুক্তচিন্তার ভিত্তি খুবই সুস্পস্ট হয়ে ওঠে। তাই শুধুমাত্র কালের পরিমাপে পড়শীর সাফল্য নয়, এর মূল্যায়ন এর মুল্যবোধে। আর তার জন্য পড়শী এক অনন্য অভিনন্দনের দাবিদার।

বিশ্লেষ করে যদি দেখতে চাই, তাহলে বলতে হয় প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে আঙ্গিকের মনোনয়ন, বা কাঠামো তৈরী করার পেছনে প্রচুর মনযোগ দিয়েছেন সম্পাদক ও পরিচালকেরা। একটি সুষ্ঠ মানসিকতার ভাবধারা বজায় রেখে আর তার সাথে সাথে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অনুশীলন করে পড়শী এ মিশ্রন কে পেশাদারভাবে সফল করতে সক্ষম হয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে রাস্ট্র, সমাজ ও ধর্ম বিষয়ক লেখাগুলো পড়তে উৎসাহ বোধ করেছি। বাংলাদেশের শত সমস্যা ও প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও পড়শী একটি আশান্বিত ভাবধারাকে প্রতিফলিত করতে পেরেছে প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে। পরিবেশ, মানবাধিকার ও সমাজ-চেতনা মলক লেখা গুলোর পাশাপাশি সাহিত্য চচ্র্চা এবং স্থানয় সংবাদগুলো নিয়ে প্রতি মাসে পড়শী তার পাঠক পাঠিকাদেরকে অপার আনন্দ জুগিয়েছে ও সাবলিল চিন্তাধারাকে জোরদার করেছে। সেজন্য পড়শীকে জানাতে হয় অকুন্ঠ অভিবাদন।

নিজেদের পেশাগত জীবনের অজস্র ব্যস্ততার মধ্যে এমন একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করবার জন্য যে ত্যাগস্বীকার, ধৈর্য্য ও দৃ প্রত্যয়ের প্রয়োজন, পড়শীর কর্মকর্ত্তারা সেটা দেখিয়েছেন বারংবার। যে কোনো প্রয়াই কোনো সময় অবিরাম সাফল্য লাভ করতে পারে না; পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে তাই খাপ খাওয়াতে হয় সবাইকে। এমনই একটি উত্তর হচ্ছে পড়শীর অনলাইনে বদলে যাওয়া। এই পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু ফিচার ও সাহিত্য-মুলক পরিবর্তন আনলে পড়শী ভবিষ্যতে আরো সুন্দর হবে বলেই আমার ধারণা। এ ব্যাপারে সম্পাদকমন্ডল পাঠকদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নির্দ্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন ক্রম বিবর্তনেরই অংশ। সব শেষে পড়শীকে আবারো জানাই অজস্র শুভকামনা ও সহায়তার অঙ্গীকার।

- হিউস্টন, টেক্সাস

 

৮.  অনলাইন পড়শীর মানগত উন্নতির সুযোগ অনেক বেশী

তানিয়া হক

পড়শীর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং দুঃস্বাহসী যে এরকম অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও বিনামল্যে বাঙালি সমাজকে উন্নতমানের প্রকাশনা সরবরাহ করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে নানান প্রতিকুলতার মাঝেও। বিনামুল্যের জিনিষের মুল্যায়ন করা কঠিন ব্যাপার। ভালো যে পাঠকের মতামতের জরীপ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা বিশ্লেষ করে পরিমাপ করা যাবে যে সত্যিকার নিয়মিত পাঠকের পরিমাণ কত।

প্রথাগতভাবে ছাপানো পত্রিকার আকর্ষ এড়ানো কঠিন তবে যেহেতু আজকাল ইন্টারনেট ঘরে ঘরে এবং মানুষ এতে অভ্যস্ত, এটা সুবিধাজনক যে মাউসে ক্লিক করেই পাঠকেরা তাদের পত্রিকা পেয়ে যাচ্ছেন। ছাপানো এবং ইন্টারনেট, উভয় মাধ্যমেই পড়শী তার গঠন আকর্ষণীয় রাখতে পেরেছে, সহজেই এক লেখা থেকে অন্য লেখাতে চলে যাওয়া যায়।

ছাপানো পড়শীতে মাঝে মাঝে কিডস্ কর্ণার বলে একটা দুটা পাতা দেখা যেত। সেটা অনলাইনেও আরো ইন্টারেকটিভ করা যায় ভিডিও বা পডকাস্ট যোগ করে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের ভিডিও অথবা বিশেষ ব্যক্তিত্বের ইন্টারভিউ তুলে ধরা।

অনলাইন পড়শীর দঃস্বাহসী এবং উদারমনা পদক্ষেপ হচ্ছে কোনোরকম নিয়ন্ত্রন ছাড়াই পাঠকের তাৎক্ষণিক মন্তব্য গ্রহনের ব্যবস্থা রাখা। পক্ষে অথবা বিপক্ষে মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক আরো এগিয়ে নিতে চাইলে টুইটার যোগ করে দেয়া যায়। সেটা আকর্ষনীয় হবে যেহেতু আমরা বাঙালিরা বেশ তর্ক চালিয়ে যেতে পারি; মাঝে মাঝে কোনো উপসংহার ছাড়াই। ছাপানো পড়শীতে সে সুযোগ কোথায়!

সব শেষে, কোন রচনা কতবার পড়া হয়েছে, সেই সংখ্যা দেখে সহজেই বুঝা যায় পাঠকেরা কোন বিষয়ে জানতে বেশী আগ্রহী যা ছাপানো পত্রিকায় জানা অনেক লম্বা সময়ের ব্যাপার। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে অনলাইন পড়শীর মানগত উন্নতির সুযোগ অনেক বেশী এসব নানারকম অবাধ টেকনিক্যাল সুবিধা প্রয়োগ করে। তাছাড়া পরিবেশ নিয়ে বর্তমান বিশ্বে যে উদ্বেগ, অনলাইন প্রকাশনা তার সাথে সমসাময়িক।

- স্যান হোজে, ক্যালিফোর্নিয়া

৯.  পড়শীর অনলাইন প্রকাশনার এক বছর পূর্তী এবং আমরা পাঠকরা

নাজনীন খানম

পরিবর্তন মানেই উন্নয়ন এবং এগিয়ে যাওয়া তারপরও কিছু কিছু পরিবর্তনে আমাদের আত্মস্থ হতে কিংবা সহজে মেনে নিতে একটু হলেও কষ্ট হয়অনেকটা এমনই ছিল পড়শীর অনলাইনের পরিবর্তন সম্পর্কে বে-এরিয়ার একজন প্রবীন কিন্তু অসম্ভব একনিষ্ঠ একজন পাঠকের অনুভূতিসম্পর্কে উনি আমার নানী হলেও মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের জেনারেশন এমন কি পরের জেনারেশন থেকেও তিনি এখনও অনেক আধুনিক চিন্তা এবং মননশীলতার সাথে নিজেকে সুন্দর মানিয়ে নেওয়া কিংবা নিজে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে উনার আশেপাশের চেনা পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে উৎসাহ দিয়ে সামনে দিকে আগানোর একজন প্রতিকী বা মেন্টরএই বে-এড়িয়ার অনেকেই উনাকে খুব ভাল চেনেন এবং জানেন, উনার নাম মিসেস্ শামস্ হক বা সোমার মা আর আমার মনি নানী

পড়শীর অনলাইনের একবছর র্তী সম্পর্কে আমি উনাকেই যোগ্য পাঠক হিসেবে এবং এই পরিবর্তনে তাঁর মূল্যায়নকে এখানে তুলে ধরতে চাইআগেও তিনি অন্যান্য বিষয়ের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে উনার মতামত এবং অনুভুতি প্রকাশ করতেনআমার প্রথম প্রশ্ন ছিল এই পরিবর্তনকে তিনি কিভাবে দেখছেন? সহজ সাবলীল উত্তর আমাদের জন্য আকাশ আর পাতালআসলেই, আধুনিক স্যাটেলাইটের যুগে যেখানে অনেক কিছুকেই আমরা নানাভাবে মেনে নিয়েছি বা নিচ্ছি আর যেখানে পারছিনা সেখানেই কম্প্রোমাইজ বা ছাড় দিয়ে যাচ্ছিআমরা যারা মূলত পেশাগত এবং সহজ যোগাযোগের উদ্দেশ্যে কম্পিউটার, ইন্টারনেট কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির অনেক কিছুকেই আয়ত্ব করতে বাধ্য হয়েছি বা হচ্ছি তাদের কাছে হয়তো পড়শীর এই পরিবর্তন তেমন একটা চোখে পড়ার মত নাকিন্তু যারা সত্যিকারের পাঠক সে পত্রিকা, ম্যাগাজিন, গল্প বা উপন্যাস যাই হোক না কেন, পড়া যাদের কাছে নেশা তাদের জন্য এই পরিবর্তন সত্যিই আকাশ আর পাতালেরমনি নানী দুঃখ করেই বলে ফেল্লেন, এ যেন অনেকটা মেন্টাল টর্চার, না পড়ার শখটা ছাড়তে পারছি আর এই বয়সে এসে না কম্পিউটার ইন্টারনেট এইসব শিখতে পারছি

আমি প্রথম যখন উনাদের বাসায় যেতাম তখন পড়শীর নতুন সংখ্যা প্রকাশনা এবং তা মেইলবক্স এ আসার সম্ভাব্য সময়কে মনে করে সবার মধ্যেই যেন একধরনের অপেক্ষা এবং পড়ার তাগিদ দেখতে পেতামকিন্তু এই এক বছরে কোনদিক দিয়ে এটি প্রকাশ হচ্ছে কিংবা কিইবা তার বিষয়বস্তু, অথবা কোন রচনাটি আকর্ষণীয় তার ছিটেফোটা আগ্রহ বা পড়ার তাগিদ কোনকিছুর লক্ষণই যেন এখন এই বাড়ীর কারোর মধ্যে আর নেইপ্রথমদিকে তবুও অনলাইনে উনাকে সূচীপত্র থেকে কেউ একজন একটা বিষয় খুলে দিলে তারপরের বিষয়টাতে যাওয়ার জন্যও উনাকে আবারও অন্য কারোর উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হতোএতে করে দিনে দিনে উনার পড়ার আগ্রহ এবং ইচ্ছেটাও কমে যাচ্ছে এবং আমার বিশ্বাস এই অবস্থা মোট পাঠকের অর্ধেকেরও বেশীউনি বলছিলেন, সবদিক বিবেচনা এবং চিন্তা করেই হয়তো পড়শীর প্রকাশকগণ এই টেকনোলজী বেছে নিয়েছেন কিন্তু তাতে আমাদের মত পাঠকদের তারা হারাচ্ছেতাছাড়া সাধারণ একটা প্রিন্টেট ম্যাটিরিয়াল এর সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্যই অন্যরকম; এর সাথে অন্য কোন টেকনোলজিরই তুলনা চলে না

পড়শী এই সংখ্যা (বৈশাখ ১৪১৭) থেকে ১০ম বর্ষে পদার্পন করতে যাচ্ছে এই স্বল্প সময়ে এর যে জনপ্রিয়তা তা সত্যি প্রশংসার দাবী রাখেপড়শীর সাথে আমি গত ৩ বছর ধরে পরোক্ষভাবে জড়িত, এর বিষয়বস্তু মূলত সমসাময়িক এবং আকর্ষণীএই স্বল্প সময়ে এর পাঠকসংখ্যাও কম না তবে প্রবাসে বসে যারা এমন একটি আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ম্যাগাজিন প্রকাশ করে যাচ্ছেন তাদের অবদান এবং একাগ্রতাকে আমি এবং পড়শীর সকল পাঠকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে শুধু এইটুকু আবেদন করতে চাই একে এভাবে হারিয়ে যেতে দেবেন নাসবশ্রেনীর পাঠকদের কথা ভেবে ভবিষ্যতে এর সহজলভ্যতার দিকে আর একটু দৃষ্টি আকর্ষন করছিতবে তাদের সাথে পাশাপাশি আমাদের মানে পাঠক সমাজেরও কিছু দায়িত্ব থেকে যায় সেই দায়িত্বটা যেন আমরাও ভুলে না যাইপড়শীর দীর্ঘায়ূ কামনা করছি

-          নেয়ার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া

 

১০.  পড়শী পড়ছি

স্বপন দাশগুপ্ত

পড়শীর সাথে পরিচয় প্রায় দুবছর আগে। তারপর থেকেই নিয়মিত পড়শী পড়ছি। আগে ছাপার অক্ষরে সুন্দর মলাটের পড়শী পেতাম ডাকযোগে- অপেক্ষায় থাকতাম নতুন সংখ্যার জন্য। এখন 'অন লাইন' হবার সুবাদে পড়শী এখন সত্যিকার প্রতিবেশী। ইচ্ছেমত পৌঁছে যাই পড়শীর অন্দরে। এই সাধু উদ্যোগের পেছনে কর্মরত সকলকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

প্রায় দুবছর ধরে পড়শী পড়ছি। প্রতিটি সংখ্যই বিষয় নির্বাচনে এবং উপস্থাপনায় অভিনবত্বের দাবী রাখে। তবে যে দুটি 'অন লাইন' সংখ্যা বিশেষ ভাবে আমার নজর কেড়েছে তার উপর ভিত্তি করেই আমার এই লেখা।

পড়শীর পৌষ ১৪১৬ সংখ্যাটির প্রধান বিষয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিজয় দিবস। ন'মাসের এই মুক্তিযুদ্ধে প্রা দিয়েছেন হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী মানুষ। অগুণতি মানুষ সহ্য করেছেন অসহনীয় অত্যাচার। ইতিহাস সাক্ষী, স্বাধীনতা যুদ্ধ সবদেশে সবকালে এক অতীব বেদনাদায়ক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। তবু পরম কাঙ্খিত স্বাধীনতা লাভের জন্য মানুষ বারবার এই সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বেদনাবিধর হলেও এর সাফল্যে বাংলাদেশীদের মত আমিও গর্বিত। জম্মসূত্রে আমি বাংলাদেশী না হলেও আমার পিতা-মাতা দেশবিভাগের কিছু আগে পূর্ববঙ্গ থেকে ভারতে আসেন। তাই বাংলাদেশের প্রতি একটা টান বরাবরই অনুভব করে এসেছি। এই সংখ্যার লেখাগুলো পড়তে পড়তে মন যেমন ভারাক্রান্ত হয়েছে তেমনি গর্ববোধও করেছি। বাঙাল যে বীর, মরার আগে মরে না, বাঙালী যে তার কাঙ্খিতধন আদায় করে নিতে জানে গর্ব তার জন্যেই।

বাংলাদেশ এখন স্বাধীন। কিন্তু স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, এ এক গুরুদায়িত্ব একটি সুশিক্ষিত জাতিই পারে এক সুশৃঙ্খল, বিভেদহীন, ধর্মনিরপেক্ষ, সৎ রাষ্ট্র গঠন করতে। প্রতিটি বালাদেশীকে শিক্ষিত করে তোলা যেমন প্রধান রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী হওয়া উচিত তেমনি প্রতিটি শিক্ষিত বাংলাদেশীকে এগিয়ে এসে এই কর্মসূচীকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এই ব্যাপারে আমি শ্রদ্ধেয় বেলাল চৌধুরীর সাথে একমত পোষ করি। বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছে, তোমাদের যার যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়, তেমনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশীদের জন্য আমাদের শ্লোগান হোক তোমাদের যার যতটুকু দেবার আছে সব উজার করে প্রতিটি বাংলাদেশীকে সুশিক্ষিত করে তোল। এক মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে শ্রদ্ধেয় ভজেন্দ্র বর্মনের আক্ষেপ মনকে সিক্ত করে, কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বর্বর বা পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছিল তাদের নাক্ত করে শাস্তি দেওয়ার যে দাবী উনি জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে বলি বড় দেরী হয়ে গেছে, ওদের ক্ষমা করে দিন। আমি নিশ্চিত, কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্য ওরা এই জীবনেই করবে।

অগ্রহায়ন ১৪১৬ সংখ্যাটিতে "প্রবাসে মন্দির মসজিদ" সংকলনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা। অনেক অজানা তথ্য সামনে এসেছে। আমেরিকার প্রথম মসজিদটি যে লেবানীজ মুসলমানদের দ্বারা নর্থ ড্যাকোটাতে স্থাপিত হয়েছিল তা জানতে পারি "আমেরিকার প্রথম মসজিদ" প্রবন্ধটিতে। 'উত্তর আমেরিকার মসজিদ স্থাপত্য - একটি সমীক্ষা' একটি মনোগ্রাহী গবেষণাধর্মী রচনা। উত্তর আমেরিকার মসজিদে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহ যে এখনও সম্ভবপর হয়নি তা লেখকের মত আমার কাছেও আক্ষেপের। এটা মনে রাখতে হবে যে কেউ জায়গা দেয় না, করে নিতে হয়। মুসলমান নারীদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবং পুরুদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে।

"উত্তর আমেরিকায় হিন্দুদের আগমন ও তাদের মন্দির নির্মান" একটি গবেষণামূলক বিশ্লেষনাত্বক রচনা। পরিসংখ্যান এবং প্রভূত তথ্যের মাধ্যমে পরিবেশিত এই নিবন্ধটি পাঠককে নিঃন্দেহে সমৃদ্ধ করবে। 'আমেরিকাতে সংস্থা সংগঠন ও তার পরিচালনা' একটি বিদগ্ধ রচনা। যারা মন্দির-মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বা যুক্ত হতে চান তারা এই লেখাটির মাধ্যমে উপকৃত হবেন সন্দেহ নেই। দীপিকা ঘোষের নিবন্ধ 'মন্দিরে নারীর স্থান'-এ উত্তর আমেরিকার আলোচনা নেই, তাই কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। সবশেষে বলি পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়ে বিশ্ববাঙালীর মুখপাত্র হবার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে না। পশ্চিমবঙ্গ এসেছে কখনো সখনো, তবে পশ্চিমবঙ্গকে আরও নিয়মিত ভাবে রচনায় স্থান দিতে হবে। তবেই পড়শী সর্বজনীন বাংলা পত্রিকা হয়ে উঠবে।

পড়শী দীর্ঘজীবী হোক এই কামনা করি।


- হিউস্টন, টেক্সাস

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.