Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাহিত্য  ||  ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৭ •  10th  year  1st  issue  Apr - May  2010 পুরনো সংখ্যা
জীবনের সমতা : প্রারম্ভিক ও প্রান্তিক Download PDF version
 

সাহিত্য

 

জীবনের সমতা : প্রারম্ভিক ও প্রান্তিক

রণজিৎ বিশ্বাস

 

মানুষের জন্মে থাকে এক ধরনের সমতা আরেক ধরনের সমতা থাকে তার জীবনপ্রান্তিকে। জন্মের সময় সে থাকে মানবশিশু, তার দেহে কোন কর্তনচিহ্ন থাকে না, গলায় কোন পৈতে থাকে না, মাথায় কোন টিকি থাকে না, ব্রহ্মতালুতে কেশের কোন ঢিবি থাকে না, মুখমণ্ডল শ্মশ্রূসমৃদ্ধ কিংবা  গুম্ফমণ্ডিতথাকে না এবং থাকে না সীমান্ত তার কোন সিঁদুররেখা, পেশল হাতে তার পড়ে না কোন লৌহকড়া অথবা সুগোল মণিবন্ধে কোন শঙ্খবলয়।

জন্মমুহূর্তে মানুষ  থাকে মানুষের সন্তান। বাঘের বাঘের বাচ্চা যেমন বাঘের বাচ্চা, বেড়ালের বাচ্চা যেমন বেড়ালের বাচ্চা, হস্তীর শাবক যেমন হস্তীশাবক তেমনি মানবের শিশু তেমন মানবসন্তান।

ক্রমেক্রমে এই মানবসন্তানদের চরিত্র পাল্টে যায়, অবয়ব পাল্টে যায়। কারও ‘সারকামসেশান’ হয়, কারও গায়ে ওঠে গেরুয়া  বসন, কারও কাঁধ থেকে কোনাকুনি নেমে যায় নয়গুণ সুতোর পুত পৈতে, সারা জীবনের জন্য।

মাঝখানের হারাহারি কাড়াকাড়ি মারামারি গুতোগুতি আর ফাটাফাটির জীবনের পর বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে ও পরিচয় ছুয়ে আবার যখন সমতায় নামে, তখন তার নি:শ্বাসে প্রশ্বাসে চিরদিনের যতি বসে। শিশুর মত মানুষের তখন বিশ্বাসনিরপেক্ষ, অবস্থান নিরপেক্ষ ও ধর্মনিরপেক্ষ এক পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। সে পরিচয়ের নাম মৃতদেহ, শব অথবা লাশ। মানুষ মরে গেলে কিংবা মানুষকে মেরে ফেললে মানুষ বলে- লাশ নামা লাশ সরা; কেউ বলে করিমকে তোল, সুরেশকে নামা, ডেভিডকে সরা।

প্রারম্ভ ও প্রান্তিকের সমতা জীবনের ভ্রমণপথে আমরা যত পথেই ঘুরি,যতই পোশাকই পরি, যত বিশ্বাসেই ধরি, আকাশের যত উঁচুতে উড়ি আর গোত্তা খেয়ে যত- নীচুতেই পড়ি, মাঝখানে পথটায় বারবার প্রমাণ করি- মানুষের যত মত তত পথ।

প্রমাণ করি- ধারা অজস্র ও পথ সহস্র, কিন্তু মানুষ চূড়ান্ত বিচারে অমিশ্র, তারা সবাই মিলে একই রকম আনন্দ বিস্ময় ক্ষুধা তৃষ্ণা এবং ঈর্ষা-অসূয়ায়, পরোপকারিতায় ও পরশ্রীকাতরতায় নাড়া খাওয়া একই ধরনের প্রানী।

এই প্রাণীরা চণ্ডীদাস’এর কথা শুনেছে। ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ কিন্তু সবাই একদিন, জীবনের শেষদিন, একই ঠিকানায় যাবে এবং দাহ-দাফনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই মৃত্তিকায় গিয়ে মিশবে জনার পরও সাম্যের ও সমতার এই বাণী মানতে- চায় না। তাদের কাউকে কাউকে কলতে হয়- সৃষ্টির সেরাদের মধ্যে আমরাই সেরা আমরাই উত্তম, আমাদের সৌন্দর্যই‘ফাটমফাটম’ আর যারা আছে চেহারায় স্বভাবে আমাদের মতন তাদের সবাই আমাদের বটম

মানুষের ভুবনে মানুষকে মানুষ থেকে আলাদা করার ঘোরবিরোধিতা যিনি করেছেন, তার নাম মনে পড়ে। যতদিন মানববিভক্তি মানব উন্নয়নের বাধা হয়ে দাঁড়াবে, ততদিন স্বশিক্ষিত ও সম্প্রদায়- পরিচয়ের  ঊর্ধ্বে থাকা এই মানুষটিকে প্রবলভাবে মনে পড়বে, মানবপ্রিয় সকল মানুষের কাছে তিনি অবিকল্পভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবেন। লালন ফকির।

তিনি বিপুল এক রহস্যের কথা বলেছেন। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়/ ধরতে পালে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়।’ এবং, তিনি বিশাল এক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন আমরা তার জবাব জানি ও মানি কিন্তু তাতে প্রাণিত হয়ে মানব পরিচয়ে মেশা মিথ্যের জঞ্জালকে মাটিতে টেনে এনে পদপ্রান্তের ধূলিতলে বিছিয়ে রাখি না। সমাজের সর্বমুখী কল্যাণের জন্য আমদের মনে ভাবনার এক উপদ্রব তৈরী করতে পারে  এই লালনবানী । ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে। ছুন্নৎ দিলে হয় মুসলমান/ নারীর বেলায় কী বিধান!/ বামন চিনি পৈতা প্রমাণ/ বামণী চিনি কী প্রকারে?!/ সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে!

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.