Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৭ •  10th  year  1st  issue  Apr - May  2010 পুরনো সংখ্যা
এক কাপ চা! Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

 

ওয়াশিংটনের জানালা

 

এক কাপ চা!

 

ওয়াহেদ হোসেনী

 

  আজ পহেলা এপ্রিল, এপ্রিল ফুলের দিন। কে কাকে বোকা বানাতে পারে তারই প্রতিযোগিতা আজ। বসে বসে ভাবছিলাম আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাংগ প্রেসিডেন্টের বাহাদুরী। কাট ছাট করেও শেষ পর্য্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা সংস্কার বীলটা পাস করিয়েই ছাড়লেন। একটিও রিপাবলিকান ভোট পড়েনি তাঁর পক্ষে। আর বেশ কয়েকজন ডেমোক্রাটও দলের বাইরে থেকে না ভোটারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। না ভোটদানকারী ডেমোক্রাটরা চুপ করে আছেন, আর আদা জল খেয়ে লেগেছেন তোরে টাইন্না নামামু প্রতিজ্ঞা করে পাঁড় রিপাবলিকানরা। সঙ্গে আছেন চা না সেবন কারী টি পার্টি ওয়ালারা, তাদের নব্য পাওয়া রক্তগরমকারী বক্তৃতাকারী স্যারা পেলিন দেবী। দেবী পদবী দিলাম এই কারণে যে যেখানেই তিনি যান, তাঁর সমর্থনকারীরা গড় হোয়ে প্রণাম করতেই বাকী রাখেন। তাঁদের সেই এক কথা। নভেম্বরে দেখে নেব তোমাদের কজন কংগ্রেসম্যান, কংগ্রেসওম্যান হয়ে ফিরে আসতে পার।

     স্বাস্থ্য সেবা বীল পাস হওয়ার পর থেকে যে ধরনের কান্ড কারখানা ঘটতে থাকে তা এযুগে আশা করা না গেলেও সত্যে পরিণত হোল। স্যারা পেলিন ডাক দিলেন বন্দুক রিলোড করতে।  সম্ভবত তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই বৈষম্যবাদীদের কেউ কেউ থুতু থুতু ছুড়লেন নেতাদের বিশেষ করে কৃষাংগ নেতাদের তাক করে, নিগার বলে ডাকলেন। কেউ কেউ আবার সত্যিকারের গুলি ছুড়লেন প্রতি পক্ষের  অপিস লক্ষ্য করে। স্যারা দেবীতো বিশ জনের একটা টার্গেট লিষ্টি তৈরী করে ফেলেছেন। এদের ডুবাতেই হবে। ভারসাম্য দেখানোর জন্য, এই ফাকে ভার্জিনিয়ার উঁচু দরের এক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বলে উঠলেন আমি ইহুদী বলে আমার প্রাণনাশ করার জন্য আমার অপিসে গুলি ছুড়েছে। অনেকেই অবস্থা দেখে মন্তব্য করতে লাগলেন, এটাই হোল তাদের আসল রূপ। হেরে গিয়ে মুখোশ খসে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব দেখে, হয়তো শেষ পর্য্যন্ত দোষ তার ঘাড়ে আসতে পারে মনে করে স্যারা দেবী বললেন, আমিতো সন্ত্রাষের জন্য রিলোড শব্দ ব্যবহার করিনি। হাযার হাযার চা সেবন না কারী টি পার্টি ওয়ালাদের টেনে আনলেন সেনেটে ডেমোক্রাট নেতা হ্যারী রিডের শহরে। শহরের বাসিন্দারা চোখ কপালে তুলে চেয়ে রইলন ওদের দিকে। বললেন, এরা কারা, এরাতো আমাদের মানুষ না। তবু তাদের গগন বিদারী কন্ঠস্বর শোনা গেল আমেরিকার পূব থেকে পশ্চিমে, উত্তর থেকে দক্ষিণে। সবাইকে তারা বুঝিয়ে ছাড়লেন ডেমোক্রাটদের কড়া মূল্য দিতে হবে নভেম্বর মাসে। পাগল হোয়ে উঠলেন সংবাদ বিশ্লেষকরা। ডেমোক্রাট প্রতিনিধীদের মুখ শুকিয়ে আমষি। মুখে কিছু না বললেও বোঝা গেল এরা চিন্তিত।  ভার্জিনিয়ার এক প্রতিনিধি, জেরী কনালীকে সাহস দিতে তাঁর এলাকার কইয়েকটি প্রতিষ্ঠান টেলিভিশনে দিল, তুমি সৎসাহসের পরিচয় দিয়েছ। জনগণ তোমার প্রশংসা করছে, সব সময় ওরা তোমার পাশে থাকবে। ভয় তবু যায় না। কাঁপছে ওরা সবাই। মিড টার্ম ইলেকশন আর বাকী মাত্র কমাস।

    

নভেম্বরের সাত মাস আগে এপ্রিল মাসের প্রথম দিনে, এপ্রিল ফুলের দিনে,  এক খবরে সবার চক্ষু চড়ক গাছ। নির্বাচনী আইনানুযায়ী, প্রতি তিন মাস শেষে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের আয় ব্যায়ের হিসাব দিতে হয়। চলতি প্রথানুযায়ী যখন জনগণ যে দলের দিকে ঝোকে, তাদের তহবিল হয় তত ভারী।  রিপাবলিকানদের ও তাদের লেজুড় হোয়ে ওঠা টি পার্টি দলের  চিৎকারে মনে হচ্ছিল, সারা দেশটাই বুঝি রিপাবলিকান হোয়ে গেছে। কিন্তু টাকা পয়সার হিসাব দেখে মনে হচ্ছে। রিপাবলিকানদের জন্য ওৎ পেতে বসেছিল এপ্রিল ফুল।

 

     রিপাবলিকানদের কোনদিন কৃষ্ণাংগ প্রীতি ছিল, একথা তাদের চরম মিত্রও বলবে না। এবার কৃষ্ণাংগ এক ডেমোক্রাট প্রেসিডেন্ট দেখে তারাও এক কৃষ্ণাংগকে রিপাবলিকান দলের চেয়ারম্যান বানিয়ে দিল। হাযার হোলেও রক্তের দোষ একদিনে যায় না। সেই প্রথম দিন থেকেই তার পেছনে পড়ে গেল ছোট বড় সবাই। মেরীল্যন্ডের প্রাক্তন লেফনেণ্ট গভর্নর, ষ্টীল সাহেবও কোন ধোয়া তুলষী পাতা নন। সবার অভিযোগ, দলের কাজের বদলে তিনি তাঁর নিজের খাতে বেসুমার খরচ করে যাচ্ছেন। তাঁর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নাকি বড় বড় রিপাবলিকান ডোনাররা মুখ ঘুরিয়ে বসেছেন। তারা দলের প্রধান তহবিলের বদলে সরাসরি দলের আগামী প্রতিদ্বন্দীদের তহবিলে দান করছেন। তার বেহিসাবী খরচের কথা কে বা কারা মিডিয়ার কাছে ফাঁস করে দেয়। অর্থাৎ তাঁর শত্রু রয়েছে ঘরেই। আবার সেদিন মাইকেল ষ্টীল নবীন রিপাবলিকানদের এক মিলন সভায় হলিউডের এক নাইট ক্লাবে শুধু মদেরই জন্য বিল দিলেন দুহাজার ডলার, তাঁর নিজের পকেট থেকে নয়, দলীয় তহবিল থেকে। রিপাবলিকানদের খরচের বহর প্রচার হওয়ায়, টেক ব্যক ইওর কান্ট্রী বলে মেদিনী কাপানো সোচ্চার ওয়ালাদের সাদা মুখ লাল হোয়ে গেল। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সেবা সংস্কার বীল পাস হয়ার পর থেকে, টেক ব্যক ইওর কান্ট্রী বলে চা না সেবনকারী টি পার্টি ওয়ালাদের মেদীনী কাপানো হুংকারে, ডেমোক্রাটদের ছোট, মেজ, আধা বড়, বড় সব ধাতের নেতারা বসে গেলেন কম্পু্টার স্ক্রীনের সামনে। ইমেল ছাড়তে লাগলেন।প্রিয় আমুক, শুনেছ তো ওদের হুমকী। তোমাদের এত দিনের প্রচেষ্টার ফলকে ওরা সহ্য করতে পারছে না। প্রাণপণ করে তারা যুদ্ধে নেমেছে। ওদের সঙ্গে আছে টাকার থলির সব মালিক। কিন্তু আমারা দাড়িয়েছি আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্য। ওদের মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। জয়ী আমাদের হতেই হবে। আমরা লড়বো। প্রাণপণ করে লড়বো। তবে লড়ার জন্য চাই টাকা। তাই আজই, এখুনি দান কর। হাজার দুহাজার যা পার দান কর। নিদেনপক্ষে পাঁচ ডলার পাঠাও। মনে রেখ, আমাদের হার হলে, হার হবে কার

     মনে হয় তাদের সে আবেদন ঠসা কানে পড়েনি। কে যে কত ডলার পাঠিয়েছে এখনও তা জানা না গেলেও এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, টেক ব্যক ইওর কান্ট্রী হুংকারের সময় যারা দূরে চুপ করে বসে শুনছিল, টুক করে তারা পাঁচ ডলার পাঠিয়ে দিয়েছে। মিড টার্ম নির্বাচন এখনো সাত মাস দূরে। তবু নীরব সধারণ মানুষ, হাউস আর সেনেট, দুতহবিলেই এত বেশী পাঁচ ডলার পাঠিয়েছে যে এবার রিপাবলিকানদের মুখ চুপসানোর পালা। এপ্রিল ফুলের দিন বোকা বনার পালা।

     তবে এপ্রিল ফুল তো এপ্রিল ফুল। ওটা কি কখনো সত্যি হয়? যদিও মিষ্টার মাইকেল ষ্টীল চাটার্ড প্লেনে ঘুরে বেড়ান, মদের জন্য যতই বীল দেননা কেন, শেষ পর্য্যন্ত টাকার থলিওয়ালারা বসে থাকবেন না, থলির মুখ খুলবেনই। একলাখ লোকের পাঁচ ডলার করে দেওয়ার সমান তারা একজনেই চেক লিখে দেবেন। তখন এপ্রিল ফুল হওয়ার পালা কার?

     সম্ভাব্য উত্তর কি হতে পারে ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল। এক কাপ চা বানাতে উঠে গেলাম। মুখে এক চুমুক চা দিতেই বুদ্ধিটা খুলে গেল। পাঁচ ডলার দেয় যে, আর পাঁচ লাখ ডলার দেয় যে, তাদের দুজনারই তো ভোট এক। আহ, চায়ের মত বুদ্ধিদায়ক, শান্তিদায়ক কি কিছু আছে?  

ওয়াশিংটন ডিসি

এপ্রিল ১, ২০১০

ElderHossaini@gmail.com

            

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.