Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  সাম্প্রতিক  ||  ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৭ •  10th  year  1st  issue  Apr - May  2010 পুরনো সংখ্যা
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা : বাংলাদেশ দ্বিতীয় Download PDF version
 

সাম্প্রতিক

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা : বাংলাদেশ দ্বিতীয়

মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন

 

আন্তর্জাতিক সভরেন ক্র্রেডিট রেটিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ২য় স্থান অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর (এসএন্ডপি)র করা রেটিংয়ে বাংলাদেশ বিবি (মাইনাস) অর্জন করে এ স্থান অধিকার করেছে। এ রেটিংয়ের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। এ অঞ্চলে ৩টি বি (প্লাস) রেটিং অর্জন করে ভারত ১ম স্থানে রয়েছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় পাকিস্তান ও শ্রীলংকা বাংলাদেশের পেছনে। সর্বশেষ সভরেন রেটিংয়ে পাকিস্তান বি (মাইনাস) এবং শ্রীলংকা বি (প্লাস) অর্জন করে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে।

গত ৬ এপ্রিল বিশ্বের ১২৪টি দেশের ওপর করা আন্তর্জাতিক সভরেন রেটিং প্রকাশ করা হয়। এবারই প্রথম বাংলাদেশ এ রেটিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হলো। বাংলাদেশের রেটিং সম্পর্কে গতকাল আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মন্তব্য করতে গিয়ে এসএন্ডপির সভরেন রেটিং বিশ্লেষক অ্যাগস্ট ব্যানার্ড জানান,সীমিত রাজস্ব আয় এবং উচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ হওয়ার পরও বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থর্নৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দেশটিকে এ রেটিং অর্জনে সহায়তা করেছে।

রেটিং প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, প্রথমবারের মতো সভরেন রেটিংয়ে বাংলাদেশের এ অবস্থান তাদের কাছে সন্তোষজনক। এ রেটিংয়ের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের শোধ এবং আমদানি ব্যয় কমবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ রেটিং অনুযায়ী বাংলাদেশ ফিলিপাইন,ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সমকক্ষতা অর্জন করেছে। এতে বাংলাদেশ শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের উপরে এবং ভারতের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী। গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, এতদিন অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের কোন রেটিং না থাকায় দাতা সংস্থাগুলো এবং বিনিয়োগকারীরা দেশের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করতে পারতো না বলে ঋণ দেয়া ও এলসি নিষ্পন্ন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করত। কিন্তু এখনকার এ রেটিংয়ের ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক ঋণের শোধ কমবে তেমনি এলসি নিষ্পন্ন করার ক্ষেত্রে আর অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। এর ফলে আমদানি ব্যয় কমবে,আর আমদানি ব্যয় কমলে জিনিসপত্রের দামও কমবে যা মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করবে। এ রেটিংয়ের মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি পরিমাপ করতে পারবে বলে দেশে বিনিয়োগের নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলেও গভর্নর জানান।

১২৪টি দেশের ওপর করা এ রেটিংয়ে মোট ১৭টি শ্রেণী রয়েছে। রেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৩টি অর্জন করে উপরের দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, জাপান, হংকং, জার্মানি, কানাডা, বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো। এই গ্রপে মোট ৩৭টি দেশ রয়েছে। এর পরের শ্রেণীতে ডাবল এ (প্লাস) অর্জন করেছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো। ১২৪টি দেশের মধ্যে ৩টি সি (প্লাস) রেটিং পেয়ে ১২৪তম অর্থাৎ সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে ইকুয়েডর। বিবি (মাইনাস) গ্রপে বাংলাদেশের সঙ্গে ভেনিজুয়েলা, জর্জিয়া, ঘানা, কেনিয়া, লেবানন, প্যারাগুয়ে, সার্বিয়াসহ মোট ১২টি দেশ রয়েছে।

ক্রেডিট রেটিং দেয়া প্রতিষ্ঠান এসএন্ডপি জানায়,তারা বাংলাদেশের রেটিং তৈরির ক্ষেত্রে বিগত ১০ বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার,সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থান,বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ,চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, আমদানি-রপ্তানি অবস্থাসহ সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেছে।

বাংলাদেশের এ রেটিংয়ের পেছনে আগের সরকারগুলোর ভূমিকা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, আমরা বিগত যে সরকারের সমালোচনা করছি রেটিং তৈরির ক্ষেত্রে তাদেরও ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। কারণ রেটিংয়ে বিগত এক দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হিসেবে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা।

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.