Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  ক্রীড়া  ||  ১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৪১৭ •  10th  year  1st  issue  Apr - May  2010 পুরনো সংখ্যা
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কবে পরিণত হবে! Download PDF version
 

ক্রীড়া

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কবে পরিণত হবে!

জহিরুল ইসলাম নাদিম

 

এই লেখা যখন লিখছি তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঢাকার মিরপুরস্থ শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সফরকারী ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে লড়ছে। এই লড়াই শব্দটি শুধু লেখার অলঙ্কার হিসেবেই বাছাইকৃত। আসলে এতদিন বাংলাদেশ দল ধুঁকেছে। অন্তত: সব কটি প্রস্তুতি ম্যচে, ওডিআই সিরিজে এবং অবশ্যই প্রথম টেস্টে। এর মধ্যে মাঝে মধ্যে আলোর ঝলকানি যে ছিল না তা স্বীকার না করলে অন্যায় হবে। যেমন প্রথম ইনিংসে চট্টলার সন্তান তামিম ইকবালের চমৎকার ঝড়ো ব্যাটিং শৈলী যা তাকে এনে দেয় চমৎকার আরেকটি শত রানের গৌরব। দ্বিতীয় ইনিংসে জুনায়েদ সিদ্দিকের ব্যাট থেকে বেরোয় আরেকটি সেঞ্চুরি। ব্যাটসম্যান-উইকেট কীপার মুশফিকের ফর্ম এখন বেশ ভাল। ব্যাট হাতে মাঠে নামলেই রান পাচ্ছেন তিনি। সহজেই চার ছয় মারতে পারছেন বিলেতি বোলারদের। এই খর্বাকৃতির ব্যাটসম্যান ব্যাটিংটা শিখেছেন বেশ ভালই-বিকেএসপির প্রাক্ত ছাত্রটি যে ক্লাশে থেকে ব্যাটিংয়ের কায়দা কানুন শিখেছেন বেশ মন দিয়ে তা বোঝা যায়। তবে যে কারণে তার দলে ভক্তি অর্থাৎ কীপিং সেটা তিনি কতটা শিখেছেন? বাংলাদেশ যখন হেজিপেঁজি দল ছিল একটা-কখোনো কারো বিরুদ্ধে জয় পেত না, ১০০/১৫০ রানেই বইয়ের ভেতর মানে বুকড হতে যেত তখন উইকেটের পেছনে তা রক্ষা করতেন খালেদ মাসুদ পাইলট। বাংলাদেশ দল কেমন-কেমন হলেও পাইলটের কীপিং যে ছিল বিশ্বমানের তা ক্রিকেট বোদ্ধা মাত্রই বুঝতেন। তাকে এক সময় এশিয়ার সেরা উইকেট কীপার বলা  হত। সেই দলের কীপিং এর দায়িত্ব পাওয়া মুশফিক কীপার হিসেবে একদম যাচেছ তাই। তাই পূর্বসরী যদি হয়ে থাকেন এশিয়ার সেরা কীপার তবে তিনি এশিয়ার খারাপের মধ্যে সেরা। কথাটায় বেশ আবেগ হয়তো আছে তবে অসত্য নেই। উইকেটের পেছনে কী কী উপায়ে নিশ্চিত ক্যাচ আর স্টাম্পিংগুলো মিস করতে হয় তা জানতে হলে মুশফিকের ছাত্র হতে হবে। এতো টালমাটাল উইকেট কীপিং দুনিয়ায় বিরল। কর্তৃপক্ষ তবু কেন মুশফিককেই উইকেটের পেছনে রাখেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আসলে তা আমাদের বোঝার কথাও নয়। আমরাই যদি বুঝতাম তো তারা বোদ্ধা হতেন কী করে!

আসলে গলদটা মুশফিকের নয় তাকে যারা এই কাজে ক্রমাগত নিয়োগ দেন তাদের। যাকে আমরা থিংক ট্যাঙ্ক বলি তাদের। আচ্ছা থিংক ট্যাঙ্কের কাজটা কী? সারাক্ষণ চিন্তা করা এবং কিছুই না করা বা আরো সঠিক ভাবে বললে ভুল কাজ করা! যেমন দল নির্বাচনের কথাই ধরুন। বাংলাদেশ দল নিয়ে যে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে তার শুরু কবে হয়তো বলা যাবে তবে শেষ কিছুতেই বলা যাবে না। তাই টেস্ট তকমা পেয়ে যাওয়ার এক দশক পরেও কোনো পরিপূর্ণ দল হিসেবে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ দল। সেই যে কৈশর শুরু হয়েছিল তার এখনো সেখানেই রয়েছে সে। যৌবনের দুরন্ত সময়ে তার ঢোকা হয়নি। হবে কী করে-কৈশর থেকেই যেই কোনো খেলোয়াড় যৌবনে পা রাখেন অমনি সিলেক্টরদের চোখের বালি হয়ে যান তারা। তাদের জবাই করে দলে কচি কিশোরদের নিয়ে আসেন তারা। বলা বাহুল্য এই কচিদের অবস্থাও শীঘ্রই তাদের পূর্বসূরীদের মতই হয়। সে কারণেই জাতীয় দল থেকে সবার অজান্তে একে একে ঝড়ে গেছেন যারা সিনিয়র তারা। দলের নেতৃত্ব বারে বারেই কিশোরদের হাতে দিতে চান কর্তারা। তাই তাদের পছন্দ আশরাফুল বা মুশফিকুর বা সাকিব। একটু লায়েক হওয়ার অপরাধে আগেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে হাবিবুল বাশারকে-এখন ছাঁটা হচ্ছে মাশরাফিকে। আশরাফুলেরও বয়স হচেছ অতএব তাকেও দল থেকে সরিয়ে দাও। এরকমই চলছে এখানে। কোনো একটি কোহেসিভ ইউনিট হিসেবে মাঠে দাঁড়াতে পারছে না বাংলাদেশ দল। সিনিয়র হলেও যদি খারাপ হত তাহলে শচীন ৩৭ বছরে এসেও ওয়ানডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারতেন না। আইপিএলে যত সেরা নৈপূণ্য তা সবই বুড়ো ভামদের। টসে জিতে কী করতে হয় তা বুঝতে খুব বেশী এক্সপার্ট হতে হয় না। শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ক্রিকেট খেলা যায় না। এখানে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেমন নিতেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ইমরান খান,ভারতের আজহারউদ্দিন বা সৌরভরা। সে রকম সিদ্ধান্ত নিতে যেমন কুশলী ক্রিকেটার হতে হবে তেমনি একটু সিনিয়রও হতে হবে। বাচ্চাদের দিয়ে আর যা হোক নেতৃত্বের কাজ চলে না। আমাদের কোচ ও নির্বাচকরা সব সময়ই ছোট বাচ্চা ছেলেদের ক্যাপ্টেন করতে চান। কারণ তাহলে তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে মনের সুখে খাওয়া যায়! সিনিয়ররা আর যাই হোক তা হতে দেবেন না। টেস্টে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত যে সব মাথা থেকে আসে বা সেট ব্যাটসম্যান থাকতে থাকতেই ব্যাটিং পাওয়ার প্লে না নেয়ার যারা সিদ্ধান্ত করেন তাদের মাথা ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান হতে হয় বৈকি! প্রতিটি ওডিআইতে বাংলাদেশ দল ব্যাটিং পাওয়ার প্লে ঠিক সময়ে নিতে পারেনি। বা নেয়নি। সন্দেহ হয় তারা ব্যাপারটি কী তা জানে কিনা? জানলে প্রতিটি খেলায় এমন ভুল করত কি?

আর এক বছরও নেই যে বাংলাদেশ সহ ভারত ও শ্রীলংকায় বসবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। তার জন্য দল গড়ছে বাংলাদেশ। কবে এই দল গড়া শেষ হবে তা একমাত্র ভবিতব্যই জানেন। কবে তারা একটি একক ইউনিট হিসেবে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারবে তাই এখন কল্পনার বিষয়। বাংলাদেশ দলে অমিত প্রতিভার কোনো ঘাটতি ছিল না। এখনো নেই। কিন্তু তারা অথর্ব র্কতৃপক্ষের পাল্লায় পড়ে কীভাবে ধ্বংস হয় তা তো চক্ষেই দেখছেন। এখন দোয়া করুণ যে কর্তৃপক্ষের টনক যেন যথাসময়েই নড়ে এবং একটি পরিণত যুবক দলকে আমরা বিশ্বকাপের মাঠে পাই।

বিঃদ্রঃ এই লেখার সময়ে বাংলাদেশ দল তাদের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংস খেলে ফেলেছে। বেশ ভাল ৪১৯ রান তোলে তারা। যদিও কেউই দীর্ঘ ইনিংস খেলতে পারেননি। টেস্ট হল বল ছেড়ে সময় পার করার খেলা। সেখানে কম বলে বেশি রান করে বাহবা পাওয়া গেলেও দলের জন্য কোনো কাজে আসেনা। আমাদের ব্যাটসম্যানরা এই সত্য যখন বুঝবেন তখনই ভাল কিছু ফলাফল নিয়মিত ভাবে পাব আমরা, তা না হলে ভাল নৈপুণ্যকে সবাই ভাববে ফ্লুক হিসেবেই।

ঢাকা

 

মন্তব্য:
mamtazur rahman   April 25, 2010
When nobody will played cricket in the world except BANGLADESH.
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.