Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  মূল রচনাবলীঃ  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কি হচ্ছে – নাগরিক কর্তব্য ও সরকারি ভাবনা Download PDF version
 

গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও বাংলা বদ্বীপ

গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কি হচ্ছে – নাগরিক কর্তব্য ও সরকারি ভাবনা

আলবেলি হক

আজকাল গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে বেশ মাথাব্যথা আমার। ভাবনা হয় আমাদের উত্তরসূরীদের জন্য। আরও ভাবনা হয় বাংলাদেশের উপকলের তেত্রিশ মিলিয়ন মানুষের জন্য যারা এখন পর্যন্ত সাগরের লোনা জল ও নিচু জলাভমির মাঝখানে আর যাদের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হবে আমাদের সবার অদরদর্শিতা এবং লাগামহীন আচরণ। আজকে পঁচিশে মার্চ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে মনে পড়ে যায় আগামীকাল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

আজ সকালে ইন্টারনেটে ঘরে বসে অফিসের ইমেল খুলে দেখি কর্তারা সময় বরাদ্দ করেছেন স্বেচ্ছাসেব হয়ে ওরচেষ্টার কলেজের পাবলিক হেলথ বিভাগে পেপার পেশ করার আমন্ত্র রক্ষার জন্যে। বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর ড. দীপেন ভট্টাচার্যবং ড. নজরুল ইসলামের প্রেরণায় আর বসের অনুরোধে এই লেখা আর একটা প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছি। কলেজের ছেলেমেয়েদের সাথে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কথা বলবার এই তো সুন্দর সুযোগ। আবহাওয়া পরিবর্তন, জলদষণ আর জনস্বাস্থ্যের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নাগরিক কর্তব্য ও সরকারি ভাবনা কি হতে পারে – এই আমার বিষয়বস্তু। কাজেই বেশ খুশি হলাম। আরও খুশি হলাম পড়শীর অতিথি সম্পাদক ড. ভজেন্দ্র বর্মনের ইমেইলে বাংলায় লেখার অনুরোধ পেয়ে।

ম্যাসাচসেটসের পরিবেশ বিভাগে কাজ করছি প্রায় দুই দশকের মত। সৌভাগ্য হয়েছে জলদষণ নিয়ন্ত্র, এয়ার কোয়ালিটি বিভাগে, আর গত দশ বছর একনাগাড়ে ওয়াটারসে প্ল্যানিং প্রোগ্রামে নিরলস কাজ করবার। আশা রাখি প্ল্যান অনুসারে সাত এপ্রিলে ইউনিভার্সিটি অব এমহারষ্টের পানিসম্পদ গবেষণা কেন্দ্রের কনফারেন্সে যোগ দিতে ইলেইন, মাইকেল আর এক প্রবী সহকর্মীর সাথে কারপুল করে যেতে পারব। নতুন কিছু জানতে ও শিখতে পারব যা সবার কাজে লাগবে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব যেমন সরকারের তেমনি নাগরিকদেরও। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রেক্ষাপটে নাগরিক কর্তব্য ও সরকারি দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে বেন-এর দুই জানুয়ারির ঢাকায় আয়োজিত স্পেশাল কনফারেন্স- “এডাপ্টেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ, ডমেষ্টিক টাস্ক এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন” খুবই প্রশংসার দাবিদার।

গেল উনিশে মার্চ কানেক্টিকাটে যাবার সুযোগ হয় সরকারি কাজের সূত্রে। বিশেষ সুবিধ পেলাম আরও তিন জন সহকর্মী দানিয়েল, মীক আর জেইমির সাথে ভ্যানপুলের। ভোর সাড়ে ছয়টার সময় আমরা চার  জন যাত্রা শুরু করি, শুধু একদিনের জন্যে নিউ ইংল্যান্ড এসোসিয়েশন অফ এনভায়রমেন্টাল বায়োলজিষ্টদের (নিয়াব) সাতাশতম বার্ষিক কনফারেন্সে যোগ দেবার জন্য। সেদিন ছিল বৃহষ্পতিবার। দু-তিন দিন এক নাগাড়ে কম্প্যুটারের সামনে বসে চার্লস নদী সার্ভে করার জন্যে কাজ করে বড়ই ক্লান্ত ছিলাম। আবহাওয়া বাণীতে সামন্য বরফ বা বাদলা বর্ষার সম্ভাবনাও ছিল। রাতে প্রার্থনা করেছিলাম ভাল আবহাওয়ার কামনায়। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত যখন শুরু হল ততক্ষণে আমরা গন্তব্যে পোঁছে গেছি। সাগরের পারে ওয়াটার এজ হোটেলের নিচতলায় কনফারেন্স। ব্যবস্থাটা মন্দ লাগল না। কাজের চাপ আর সরকারি বাজেটের রিদ্র অবস্থার কারণে আমার প্রথমে প্ল্যান ছিল না এই নিয়াব মিটিং-এ যোগদান করার। আমার সহকর্মী ড. কিম্বারলি গ্রফ-এর অনুরোধে তার জায়গায় আমার  যাওয়া। মধ্যাহ্ন বিরতির পরে আলাপ হল আমেরিকা যুক্তরাষ্টের ইপিএ-র (আটলান্টিক ইকোলজি ডিভিসন, নারাগানসেট, রোড আইলান্ড) ড. ওয়াকারের সাথে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে। উনি মনে করেন গ্রীনহাউস গ্যাসের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমেরিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জড়িত। আমার ব্যক্তিগত যত চিন্তা তা জল ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে। এই দূষণ ত্বরান্বিত হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত অধিক বর্ষা এবং খরা- এই দুই কারণেই।


     কানেক্টিকাটের এসেক্সে সবুজ ছাদ (গ্রীন রুফ)।

ড. ওয়াকার কার্বন ক্যাপ এবং কার্বন ট্রেডের কথা উল্লেখ করলেন। এ ব্যাপারে বেন-এর প্রফেসর ফরিদা খানের (উইস্কনসিন বিশ্ববিদ্যা) উক্তির সাথে আমি একমত যে যাদের পয়সা আছে তারা পরিবেশ দূষণ করেই যাবে যতক্ষ পর্যন্ত মূল্য দিতে পারবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উচিত হবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোন সীমালংঘনের উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা ও জরিমানা আদায় করা। কিন্তু যদি কোন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ও বেসরকারি পরিবেশ দূষকারী স্বেচ্ছায় গণশিক্ষা প্রসারে বা প্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা করে তবে জরিমানা মওকুফ করে পারস্পরিক স্বার্থে একসাথে মিলেমিশে কাজ করাও সম্ভব। বন্দি রাখা ও জরিমানা আদায় করা উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে তাদের জন্যে, যারা মানুষের আর প্রকৃতির চাইতে নিজেদের মুনাফা বড় করে গণ্য করে এবং বারবার পরিবেশ আইন অমান্য করে। প্রগতির নামে পৃথিবীকে আমরা সচেতন নাগরিক হয়ে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে পারি কি? পরিবেশ অপরাধীদের জন্যে শক্ত সাজা দেবার ব্যবস্থা আইনে ও সংবিধানে থাকা চাই।

যত তাড়াতাড়ি আমরা ফসিল ফুয়েল বর্জন করে নবায়যোগ্য শক্তি যেমন সৌর, বায়ু, শৈবাল, জৈব জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষ হব ততই মঙ্গল সবার এবং প্রাচীন এই ধরণীর। আমেরিকার সরকার নতুন প্রযুক্তির জন্যে অনুদান দিচ্ছেন। আমরা আশাবাদী নিজেদের ও দশের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারও দেশের আপামর জনগণকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে ব্রত হবে। পরিবেশ দুর্যোগ আমাদের হাতছানি দেয় দুর্নীতি থেকে দরে সরে দেশ গড়ার আর পরিবেশ রক্ষার অঙ্গিকারে উদ্বুদ্ধ হতে। অনেক আশার কথা যে সুইডেনে কার্বন-নিউট্রাল গৃহনির্মা হচ্ছে। জার্মানিতে এখন পাওয়া যাচ্ছে স্বল্পমূল্যের সৌর শক্তি। কিউবাতে একশ ভাগ জৈবসার প্রয়োগে কৃষিকর্ম হচ্ছে। জাপানে অল্প জ্বালানি খরচে যানবাহন চলছে। নেদারল্যান্ডের উন্নত সমৃদ্ধশালী শহরগুলো ভরে গেছে দুই চাকার সাইকেলে। আমাদের বাংলাদেশকেও সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবারে নেতৃত্বের ভমিকা নিয়ে। আসতে হবে পানি, বিদ্যুত, নদী, পুকুর, বন, জলমি সংরক্ষণে। আসতে হবে অপচয় রোধের ব্যাপারে। এ বিষয়ে বেন ও বাপা (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন)-এর হাত মিলিয়ে কাজ করা আর নাগরিক সচেতনতা জাগিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা উদাহরণযোগ্য।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং ইদানিং সরকারি ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, নিউজ মিডিয়া, খবরের কাগজ এবং সাধারণ জনগণ সকলকেই উদ্বিগ্ন করে তোলে। আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। অভ্যেস পরিবর্তন এখন নাগরিক কর্তব্যের শামিল হয়ে পড়েছে যাতে করে আমাদের ভবিষ্যতের প্রজন্ম এবং ভ-প্রকৃতি জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের সমহ ক্ষয়ক্ষতির বিস্তার এড়িয়ে যেতে অথবা পুষিয়ে নিতে পারে। পৃথিবী আজ ভারাক্রান্ত। আমাদের উন্নয়নের আরেক নাম হতে পারে মানুষের অদরদর্শী ইচ্ছের কাছে বন-জঙ্গল, নদী, পাহাড়, সমুদ্র- সমস্ত প্রকৃতিকে বশে আনার জন্য এক দুরারোগ্য ব্যাধি। প্রকৃতি থেকে আমরা যত দরে সরে যাব আর নাগরিক কৃত্রিমতাকে স্বাভাবিক ভেবে আঁকড়ে ধরব, ততই দুর্বল আর ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আমাদের আধুনিক শহরগুলো। প্রকৃতির অনুকরণে আমাদের শহর, বন্দর আর ছায়া-সুনিবি শান্তির নী গ্রামগুলিকে নতন করে সুমভাবে এবং সম-অধিকারের ভিত্তিতে সাজিয়ে গড়ে নিতে সৃজনশীল মনন চাই। আমেরিকায় গ্রীন ছাদ (যেমন হলিক্রস কলেজ, ওরচেষ্টার এর ঘাস-লতায় আচ্ছাদিত ছাদ) জনপ্রিয় হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদে এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর নানা উপসর্গ থেকে নগরবাসীকে পরিত্রাণ এনে দেবার ইচ্ছায়। বাংলা প্রবাদে বলে, “ইচ্ছ থাকলে উপায় হয়”। পাখির বাসা আর পশুকলের জন্য বিরান, জলাভমি, বন-বাদারের জায়গা রেখে উন্নয়ন হবে বিধাতার বিধি মেনে চলার সুন্দর দৃষ্টান্ত। বিধাতার বিধিনিষেধ অবজ্ঞায় নিজেদেরই ক্ষতি।


বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য বাসস্থান-সংলগ্ন ব্যারেল পদ্ধতি।

আমরা কি বুঝতে শিখব না যে প্রকৃতির সীমালংঘন করা আমাদের জন্য গুরু পাপ? গ্লোবাল ওয়ার্মিং আর সাগরের স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কা থেকে মানুষের রোগ বালাই আর ঘরবাড়ি, ভমি – সব হারাবার সম্ভাবনা তো এই নিগু চিরন্তর সত্যকেই অনুধাবন করতে ইশারা করে মনুষ্য প্রজাতিকে। মানুষের সৃজিত এই সমস্যা পৃথিবীর ইতিহাসে যা প্রথম সমুদ্র-বায়ুমন্ডল-ভমি আন্তক্রিয়ায় ভারসাম্যহীনতার জন্ম দিয়েছে আর প্রকৃতিতে অসামঞ্জস্যতা তৈরী করেছে, তার সমাধানের আহবানে প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের সাথে, ভুক্তভোগীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, চিন্তায় চিন্তা মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে, মননে মনন মিলিয়ে নতন দিন গড়ার ব্রত নিয়ে নতন করে মুক্তির শপথ করব আমরা আজকের দিনে। কল্যাণের শপথ ও পরিমিত আচরণের প্রতিজ্ঞা, মা-ধরিত্রী, সুন্দর এই বসুন্ধরাকে সুন্দর ভবিষ্যত এনে দেবার পবিত্র বাসনার শিক্ষা জ্বলুক সকলের চেতনায় নরম মৃদু আলোয়। জগৎব্যাপী বন সংরক্ষ, বৃক্ষরোপ, জনসংখ্যা  নিয়ন্ত্র, পরিবেশ-পানিসম্পদের দিকে খেয়াল রেখে পরিমিত বৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রকল্প, বৃষ্টির জল সংরক্ষ ও ব্যবহার ইত্যাদি পদক্ষেপগুলো এবং বন্যার জন্যে অল্প খরচে পরিবেশ-বান্ধব সামাধান বিশ্বের সকল সরকারের জরুরী বিবেচনার অপেক্ষা রাখে না। এটা অবশ্য কর্তব্য। আমি মনে করি বাংলাদেশ, উত্তর আমেরিকা বা অন্য যে কোন দেশের জন্যে এই পদক্ষেপগুলো সমানভাবে প্রযোজ্য। সেইসাথে ভুক্তভোগীদের যথার্থ ক্ষতিপরণ দেয়ার উন্নত বিশ্বের মানবিক দায়িত্ব।

অনর্থক বন্যানিয়ন্ত্র বাঁধের খাতে সরকারি ব্যয় না বাড়িয়ে হ্রদ, পুকুর, বিল, জলাধার সংরক্ষ করা উচিত যা কিনা বর্ষাকালে বন্যার জল সঞ্চয় করে রাখবে আর খরার সময় তা ব্যবহৃত হবে। এটা একই সঙ্গে কার্বন সেকুয়েস্ট্রেসনের যুগল সমাধান বে। এসব কি বিজ্ঞতার পরিচয় দেবে না? দেশের সরকারি ও বেসরকারি কর্তাদের কাছে, এনজিওদের কাছে এই নিতান্ত সবিনয় নিবেদন – ভেবে দেখুন আমার এই কথাগুলো যা লিখছি সুদর বস্টনে বসে এপার-বাংলা ওপার-বাংলা সকলের মঙ্গলের ভাবনায়। উনিশ মার্চের নিয়াব কনভেননে ড. মিলদ্রেদ (ইপিএ-আটলান্টিক ইকোলজি ডিভিসন, নারাগানসেট, রোড আইলান্ড)-এর ভমি ও জল গবেষণা বিভাগের উদ্ভিদ বিশারদদের একই ধারণা – নিউ ইংল্যান্ডকে প্রকৃতির সীমার মাঝে ফিরিয়ে আনা উচিত। ওনারা সকলে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। সীমার মাঝে অসীমকে পাবার ধ্যান হোক আমাদের সবার গভীর অবচেতনের চেতন বাণী

গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল পরিবেশ দূষণ শুধু বাংলাদেশকে নয়, বরং সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। সময়ের স্বল্পতার কারণে অষ্ট্রেলিয়ার মুরে ডার্লিং বেসিনের খরাজনিত পানির স্বল্পতা এবং ক্ষীণ প্রবাহের জন্যে জলদূষণের আলোচনা আরেক দিন করব। মন বিষন্ন হয়ে পড়ে ভাবতে যে লাগামহীন শিল্পায়ন, অপরিমিত সেচ, আর জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে অষ্ট্রেলিয়ার মুরের লেগুন ইকোসিস্টেম, দি কুরং আর লেক আলেকজান্দ্রিনার তিন ভাগের দুই ভাগ আজ মৃত। ধান চাষের জমি আজ লবণাক্ত। মুরের লেগুনে লবণাক্ততার পরিমান জর্দান-ইরায়েলের ডেড সি বা মৃত সাগরের সমান এখন। অবশ্য মানুষের প্রয়োজন পূরণের পানির অভাব যেখানে, সেখানে কে ভাববে কুরং আর লেক আলেকজান্দ্রিনার মৃত প্রজাপতিদের কথা। কিন্তু হেনরি জোনস আর জুডি গুডস এই ভাষাহীনদের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন। বিশেষজ্ঞ হিসাবে আমি বলব জলদূষণ ও পরিবেশ দূষণের হাত থেকে মনুষ্যলকে বাঁচাতে ওই মৃত অনুজীবদের দান অপরিসীম। ঢাকার বুড়ীগঙ্গা আর সাভারের বংশী নদী দূষণহীন ও বহমান রাখা দরকার নগরকে গ্রীষ্মের দারুণ উত্তাপ থেকে মুক্তি দিতে। আমাদের বাঁচতে হলে ইকোলজিকে রক্ষা করতেই হবে। বাংলাদেশের সুন্দরবনের নদী আর অষ্ট্রেলিয়ার ম্যাকয়ার নিচু জলাভুমি রক্ষার খাতিরে বিশ্বের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা বিশ্বনাগরিকদের কর্তব্য বইকি। বাংলাদেশ এখন এক বিপুল ভমিকার সন্ধিক্ষণে। আগামী এক দশকের মধ্যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং রোধের জন্য উন্নত বিশ্বকে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহবানে এবং নিজেদের ভ্যন্তরী পানি ও পরিবেশ দূষণের সমাপ্তি করে পৃথিবীর মানচিত্রে বিশেষ মর্যাদার  স্থান অধিকার করে নিতে পারে বাংলাদেশ আর বাঙালিরা

______________________

আলবেলি হক ম্যাসাচসেটসের পরিবেশ বিভাগে কর্মরত।  লেখকের ই-মেইল: albelee_haque@yahoo.com

বস্টন, ম্যাসাচসেট

মার্চ ২৫, ২০০৯

 

মন্তব্য:
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.