Home | About Us | Porshi Team | Porshi Patrons | Event Announcement | Contact Us
হোমপেজ পুরনো সংখ্যা: সূচীপত্র  নিয়মিত কলাম  ||  ৯ম বর্ষ ২য় সংখ্যা জ্যৈষ্ঠ ১৪১৬ •  9th  year  2nd  issue  May-June  2009 পুরনো সংখ্যা
পাকিস্তান: জন্মই যার আজন্ম পাপ Download PDF version
 

নিয়মিত কলাম

দূরের জানালা, কাছের মানুষ

পাকিস্তান: জন্মই যার আজন্ম পাপ

অনিরুদ্ধ আহমেদ

এক.

কবি দাউদ হায়দারের কাছে বিনীত ক্ষমা চেয়েই তাঁর একটি বহুল আলোচিত কবিতার বিখ্যাত শিরোনামটি ঈষৎ পরিবর্তন করে আমার এই নিয়মিত নিবন্ধের সূচনা। এখানে কোন বড় দার্শনিক তত্ব বা তথ্যের কাব্যিক উপস্থাপন নয়, একটি সত্যের প্রতি নিতান্তই সাদামাটা গদ্যে আলোকপাতের প্রয়াস পাচ্ছি। সাতচল্লিশ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিধ্বস্ত ভারত বিভক্তির মাধ্যমে যে পাকিস্তান সৃষ্টি হলো তা যে ক্রমশই আপন পাপের বোঝায় এমন নুব্জ হয়ে পড়বে তেমনটি অনুমান করেননি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কিংবা তাঁর অনুসারি অনুগামিরাও। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম বৃত্তান্ত যাঁদের জানা আছে, তাঁরা তো জানেনই যে আপাত অর্থে সংখ্যালঘু ভারতীয় মুসলমানদের সামগ্রিক অধিকার সংরক্ষণের দাবি নিয়েই এই পাকিস্তান আন্দোলনের সূত্রপাত। ধর্মীয় ভিত্তিতে জাতিগত এই বিভাজন যে আধুনিক গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আদৌ গ্রহণযোগ্য ছিল না সে কথা ঐ বিলেত পাশ ব্যারিস্টার জানতেন নিশ্চয়ই, কিন্তু মানতেন না। ভারতে ব্রিটিশদের আসার আগে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিন্দুদের শাসন করেছে বহু বছর ধরেই সংখ্যালঘু মুসলমানরাই। সেই শাসন ব্যবস্থাও যে গণতান্ত্রিক ছিল না সেটা বলাই বাহুল্য কিন্তু তখনও পর্যন্ত ভারতীয়দের আধুনিক গণতন্ত্র সম্পর্কে ধারণাটা স্পষ্ট ছিল না। তাই তারা মেনে নিয়েছিল যুদ্ধে বিজয়ীদের নিরংকুশ শাসন ব্যবস্থা। অবশ্য মুঘল আমলে, বিশেষত আকবরের সময়ে আমরা লক্ষ্য করি যে এই শাসন ব্যবস্থায় ভারতীয় হিন্দুরাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। মোটামুটি ভাবে মুসলমান ও হিন্দু কিংবা শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্ক ছিল মসৃণ। ব্রিটিশ যখন তার সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা চালায় তখনও আমরা লক্ষ্য করেছি উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমান অনেক ক্ষেত্রেই একত্রিত হয়ে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে, কখনও প্রত্যক্ষ সংগ্রামে, কখনও বা পরোক্ষ আন্দোলনে। ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের এই মিলিত প্রয়াস ব্রিটিশদের জন্যে সমূহ বিপদ ডেকে নিয়ে আসতে পারে, সে আশঙ্কায় তারা “বিভাজন কর ও শাসন কর” এই নীতি প্রয়োগ করা শুরু করে। বস্তুতপক্ষে সেই বিভাজন রেখা বরাবরই, ভারত ও পাকিস্তানের পৃথকিকরণ। নজরুল যাদেরকে একই বৃন্তে দুটি কুসুম বলেছেন সেই হিন্দু ও মুসলমান যে ক্রমশই বৃন্তচ্যুত হয়ে পড়ছিল এবং পরস্পরের প্রতি সহিংস বৈরিতা পোষণ করছিল সেটি ইতিহাসের একটি বিয়োগান্তক ও বেদনাময় ঘটনা।

দুই.

হিন্দু-মুসলমানের এই বাহ্যিক বৈরিতাকে, মুসলিম লীগের এক শ্রেণীর রাজনীতিক পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে যুক্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আবার অন্যদিকে তাদের সেই প্রচারণা প্রচেষ্টার ফলে এই বৈরিতা বৃদ্ধি পেয়েছে আরও বেশি। তার মানে হচ্ছে এই বিভাজনটি একধারে কারণ ও  ফলাফল হিসেবে সক্রিয় থেকেছে পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে। উপমহাদেশের এই বিভাজনের পেছনে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষকদের বঞ্চনা যে কারণ হিসেবে কাজ করেনি তা নয় বরঞ্চ সেই অর্থনৈতিক কারণটিই ছিল মূখ্য বিষয় যে জন্যে পূর্ববঙ্গবাসি পাকিস্তানের পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে যে অর্থনৈতিক সাম্য এবং রাজনৈতিক অধিকার দুটোই “স্বাধীন” পাকিস্তানে যে ভাবে লংঘিত হয়েছে, তেমন লংঘন আমরা স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে লক্ষ্য করিনা। বরঞ্চ ভারতে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে শনৈ শনৈ এবং অর্থনৈতিক সমস্যা কিংবা বহুজাতিগোষ্ঠির মধ্যে নানান দ্বন্দ্ব সত্বেও ভারতে গণতন্ত্র ক্রমশই শক্তিশালি হয়েছে। পাকিস্তানে গণতন্ত্র যে শক্তিশালি হয়নি তার প্রধান কারণ পাকিস্তানের স্রষ্টাদের মধ্যে অনেকেই গণতন্ত্র চাননি। বস্তুত গণতন্ত্রই ছিল তাদের জন্যে সব চেয়ে ভয়ের কারণ। ব্রিটিশ আমলেই যখন ভারতবর্ষের মানুষ পশ্চিমি গণতন্ত্র সম্পর্কে প্রথম অবগত হলো এবং জানতে পারলো যে গণতন্ত্রের প্রথম পাঠটিই হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন, তখনই এক শ্রেণীর মুসলমান নেতার টনক নড়লো যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের শাসনাধীনে চলে যাচ্ছেন। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে বিশ্লষণ করতে গিয়ে তারা এই সরলরৈখিক সিদ্ধান্তে পৌছান। অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ ধর্ম নিরপেক্ষ হওয়া সত্বেও, তাঁরাও পরিস্কারভাবে সংখ্যালঘু মুসলমানদের অধিকার সংরক্ষণের কোন বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাস দিতে পারেননি। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে নিশ্চিত করেন পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক নেতারা। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী, এডউইনা মাউন্টব্যাটেন, পন্ডিত জওহারলাল নেহরুর সঙ্গে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা বিধ্বস্ত কয়েকটি শরনার্থি শিবির পরিদর্শন করে, বোধ হয় তাঁর স্বামী লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে এ কথা বোঝাতে সক্ষম হন যে মানুষের জীবন রক্ষার জন্যে, পাকিস্তান সৃষ্টি বিকল্প আর নেই। তবে পরিহাসের বিষয় এই যে গণতন্ত্র থেকে পালিয়ে আসার জন্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি, সেই গণতন্ত্র আবারও তাড়া করেছে পাকিস্তানকে এমন ভাবে যে দ্বিতীয় বার গণতন্ত্রের অস্বীকৃতিতে অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম মৃত্যু ঘটলো ১৯৭১ সালে। এবারও ১৯৪৭ সালে মতোই, পাকিস্তানপন্থিদর অবস্থান ছিল গণতন্ত্রের বিপক্ষে। পার্থক্য কেবল এই যে সাতচল্লিশে তাদের ঐ অবস্থানের কারণে পাকিস্তান সৃষ্টি আর একাত্তরে একই রকমের অবস্থানের কারণে পাকিস্তানের বিলুপ্তির সূচনা।

তিন.

পাকিস্তান নিয়ে এই পুরোনো কাসুন্দিটা ঘাঁটতে হলো, সম্প্রতি রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের এ রকম সব বিচার বিশ্লেষণে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির আর মাস ছয়েকের মধ্যে বিলুপ্তি হয়ে যেতে পারে বিশ্বমানচিত্র থেকে। আবারও নির্মম পরিহাস পাকিস্তানের জন্যে এই যে এবারও এই বিলুপ্তির কারণ ভারত নয়, নয় বাংলাদেশও, বিলুপ্তির কারণ সেই মৌলিক আদর্শ যাকে পূঁজি করে সাতচল্লিশ সালে পাকিস্তানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ কথা সত্যিই যে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা নিজেও তেমন ভাবে ইসলামের ধার ধারতেন না বরঞ্চ মৌলবাদি মুসলমান সম্পর্কে তার মনে কোন অনুকুল ভাবও ছিল না। জিন্নাহ যে ইসলাম ধর্মের আচার আচরণ মেনে চলতেন সে কথাও কেউ বলবে না বরঞ্চ সে সময়কার জামায়াত ইসলামি দল জিন্নাহকে “ কায়েদে আজম” এর পরিবর্তে “কাফেরে আজম” বলতে ও দ্বিধান্বিত হয়নি। পরবর্তী গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছে যে জিন্নাহ বস্তুত একজন সেক্যুলার মানুষই ছিলেন। তবু যে তিনি ধর্মের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্রগঠনে ব্রতী হলেন, তার পেছনে বোধকরি তাঁর নেতৃত্বের আকাঙ্খাটাই মূখ্য ভুমিকা পালন করেছে। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর স্থান যে শীর্ষে পোঁছুতো না সে ব্যাপারে জিন্নাহ নিঃসন্দিগ্ধ ছিলেন। তবে জিন্নাহর এই বহুল আলোচিত ধর্মনিরপেক্ষতা সত্বেএ আমাদের এ কথা ভুললে চলবে না যে জিন্নাহই কিন্তু মুসলমানদের একটি পৃথক জাতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, বলেছেন সংস্কৃতির সকল পরিমাপে মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। সম্ভবত জিন্নাহর এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণেই তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এমনই রক্ষণশীল ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন যার প্রভাব আমরা লক্ষ্য করি ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় বাংলা ভাষাকে, পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে তাঁর পরিস্কার অস্বীকৃতি। সমাজ ভাষাত্বত্ত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এতই স্বল্প ছিল যে তিনি ভীনদেশি ভাষাকে প্রোথিত করতে চেয়েছিলেন, পূর্ব বাংলার সোঁদা মাটিতে। এখানেও বোধ করি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাই আবারও পাকিস্তানের বিলুপ্তির প্রথম বীজটি বপণ করে গিয়েছিলেন। তবে জিন্নাহর মধ্যে স্ববিরোধিতা ছিল নানান ধরণের। পাকিস্তান সৃষ্টির পর, পাকিস্তানের আইন পরিষদেই তিনি বলেন যে এখন থেকে মুসলমানরা আর মুসলমান থাকবে না, হিন্দুরা হিন্দুও থাকবে না, ধর্মীয় অর্থে নয়, রাজনৈতিক অর্থে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে জিন্নাহ আসলে পাকিস্তানবাদের সুত্রপাত করতে চেয়েছিলেন, হয়ত উপলব্ধিও করেছিলেন যে ধর্ম আর রাজনীতির সহাবস্থান সম্ভব নয়। সে জন্যেই ভারত বিভক্তির মাধ্যমে তাঁর নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধির পর, তিনি এক ভিন্ন সত্য উপলব্ধি করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তিনি একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের যে ক্ষতি করে ফেলেছেন তা পূরণ করা অসাধ্য হয়ে পড়ে।

চার.

ইসলাম ধর্মের ভিত্তিতে জন্ম যে রাষ্ট্রটির, সেই রাষ্ট্রেরই মৃত্যু ঘটবে ইসলাম ধর্মেরই ধ্বজাধারী তালিবান-আল কায়দাদের আধিপত্যে সেকথা পাকিস্তানের স্রষ্টারা ভাবেননি কোনদিনই। তাঁরা মনে করেছেন যে “ইসলাম খৎরা মে হ্যায়” বলে পাকিস্তান বাঁচানো সম্ভব হবে চিরকাল এবং ইসলামের এমন উত্থানের কারণে যে “পাকিস্তান খৎরা মে হ্যায়” বলতে হবে সেটা বিশ্বাসযোগ্য কোন কথাই নয়। অথচ সেই রকম আপাতঃ অবিশ্বাস্য এক ঘটনার পূর্বাভাষ পাচ্ছি আমরা আজ। তালিবান পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করে নিলে পাকিস্তানের বিলুপ্তি ঘটবে কেন ও কিভাবে, সে বিষয়টিও আলোচনার দাবি রাখে। প্রথমত পাকিস্তান সাংবিধানিকভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বলে আখ্যায়িত হওয়া সত্বেও সে দেশে শারিয়া আইন প্রচলিত নয়, বরঞ্চ পাকিস্তানে নানান প্রতিকুলতা সত্বেও শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি যে কোন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতোই এখনও চর্চা করা হয়। পাকিস্তানের নাগরিক সমাজ এবং নাগরিক নারী সমাজও অত্যন্ত সক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন এবং নারীদের সম-অধিকারের বিষয়ে তারা অত্যন্ত সচেতন। নাগরিক পাকিস্তানী সমাজে পশ্চিমি প্রভাব স্পষ্টত লক্ষণীয়। রাজনৈতিকভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি সে দেশে গণতন্ত্র ও সামরিক স্বৈরতন্ত্রের চর্চা চলেছে পালাক্রমে। পাকিস্তানের সুশীল সমাজ ভারত বিরোধী নন বরঞ্চ তারা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানী সৈন্যরা ও তাদের সহযোগিরা যে নৃশংস হত্যাকান্ড চালিয়েছিল সে জন্যে পাকিস্তানের সুশীল সমাজ লজ্জিত বোধ করেন এবং একাধিকবার ব্যক্তিগত পর্যায়ে এ জন্যে দুঃখ ও ক্ষমা প্রকাশ করেছেন। অতএব এখনও যে পাকিস্তানে সুশীলতাবোধ রয়েছে, রয়েছে মানবাধিকারের প্রতি সন্মানবোধ, নারীদের মর্যাদা রক্ষা করার একটা বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি, সেই পাকিস্তান শারিয়া আইনের প্রচলনে নিঃসন্দেহেই বিলুপ্ত হবে। আমরা এখনই লক্ষ্য করেছি যে পাকিস্তানের সোয়াত অঞ্চরে শারিয়া আইন চালু করার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার সম্মত হবার পর সেখানে কার্যত মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেন না এবং তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের মতো সেখানেও এক অন্ধকার যুগ নেমে আসছে। আবারও পরিহাসের বিষয় এই যে ইসলামের নবীর জন্মের আগে আরবদেশের যে সময়কে বলা হতো “জাহেলিয়ার যুগ”, সেই নবীর প্রচারিত ধর্মানুসারিরা ১৪০০ বছরের পরে আবারও কি সেই কুপমন্ডুকতা এবং মূর্খতার মুহূর্তে নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে যার থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যেই ইসলামের নবী এসেছিলেন সে সময়ে। পাকিস্তানের ওপর সেই জাহেলিয়া নেমে আসলে, পাকিস্তানের অপমৃত্যু অবশ্যম্ভাবি ঘটনা। অতএব পাকিস্তানের অবলুপ্তি যে নামের অবলুপ্তি হবে তা নয় বোধ হয়, কিন্তু আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পাকিস্তান স্পষ্টতই একটি দুর্বত্ত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।

তবে এই সব তাত্বিক কারণ ছাড়াও যে প্রায়োগিক কারণে পাকিস্তান রাষ্ট্রটির অবসান ঘটবে সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমি বিশ্ব এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের যবনিকাপাত। সেই অঞ্চলে যে লড়াইয়ের সুত্রপাত ঘটবে তাতে ঐ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আপনা থেকেই বিলুপ্ত হবে। মনে রাখা দরকার যে পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার দুর্বৃত্তদের হাতে পড়ার আগেই, উপমহাদেশ এবং বিশ্ব নিরাপত্তার কারণে সেই রাষ্ট্রটির অবসান কাঙ্খিত সকলের কাছেই। পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার সম্পন্ন একটি তালিবান রাষ্ট্র বিশ্বে যে কী ধরণের ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে, সেটি সম্ভবত কল্পনাতীত। বিশ্বকে এ ধরণের কোন দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অবলুপ্তি অতি অবশ্যিই কাম্য হয়ে দাঁড়াবে এমনকী আধুনিক সুশীল পাকিস্তানিদের কাছেও। তালিবান নিয়ন্ত্রিত পাকিস্তান যে কবি ইকবালের কল্পনা কিংবা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পরিকল্পনার অনুবর্তী হবে না সে কথা বলাই বাহুল্য। সে রকম পাকিস্তানের দ্রুত অবসান তখন তাঁদের কাছেও কাম্য হবে, যারা পাকিস্তানকে একটি আধুনিক ইহলৌকিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছেন।

পাকিস্তানের স্রষ্টারা বোধ করি ভেবে দেখেননি কখনই যে ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে যে অনাবশ্যক সমীকরণ সাধন করার এক প্রয়াস চালিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা, কালের অগ্রযাত্রায় (পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বোধকরি হবে পশ্চাৎ যাত্রায়) সেই সমীকরণের ফলে তাদের জন্যে রয়ে গেছে কেবল এক বিশাল শুন্য এবং শূন্যতাও। পাকিস্তানের জন্মে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে পাপাচার ঘটেছিল, সেই পাপস্খলন হয়নি আজ অব্দি বরঞ্চ আজন্ম সেই ভুল তত্বটিই হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের জন্যে এক অশুভ সত্য।

অনিরুদ্ধ আহমেদ:  যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও নিবন্ধকার
aauniruddho@gmail.com
 

মন্তব্য:
erewre   May 27, 2016
It's time to explore the exciting world of Ralph Lauren Polo . Here, you'll find a stunning display of quality and craftsmanship, for both men's and women's shoes. Whether it's seductive strappy sandals or classic men's loafers, each piece represents Ralph Lauren's commitment to individuality and elegance. You can go from day to night, Ralph Lauren Dresses or casual to desirably dressed, with the Ralph Lauren Collection. Ladies, start your day off with gladiator sandals and end with the exciting elegance of gold studded heels Ralph Lauren Short Sleeved Polos . Redefine your style with classic equestrian boots and uniquely coveted sneakers. Let's not forget the men. Whether you're styled in smooth suede loafers Ralph Lauren Shirts , or want to kick back in terrifically tasseled boat shoes, the Ralph Lauren Collection has the versatility you desire. Ralph Lauren has always stood for providing quality products Ralph Lauren Sweaters , and the Ralph Lauren Collection invites you to take part in their wonderful world of glamorous excitement, classic designs, and pieces you'll covet forever!
মিনহাজ আহমদ   May 23, 2009
মানুষকে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতি, দেশ, জাতীয়তা, লিঙ্গ, ভাষা ইত্যাদি অনেক কিছু দিয়ে বিভাজিত করা যায়। ধুর্ত কিছু মানুষ এই বিভাজন থেকে সবসময়ই ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। সময়-সুযোগে পুরুষ-নারী, জমিদার-প্রজা,আসামি-বাঙালি, ইরাকি-কুর্দি সব ধর্মের-দেশের-লিঙ্গের-জাতির-গো্ত্রের-ভাষার একদল মানুষ অপর একদল মানুষের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে বা নির্যাতন করছে। এভাবে মানুষকে যতদিন না স্বার্থের কারণে বিভাজন বন্ধ হচ্ছে,যতদিন না আইনে-শাসনে-রাজনীতিতে-অর্থনীতিতে-সামাজিকতায় মানবিক পরিচয়টি প্রাথমিক বিবেচ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এ ধরনের হানাহানি বন্ধ করা যাবে না। অপর এক মন্তব্যকারীর উদ্দেশ্যে বলছি- অবিভক্ত ভারতের মুসলমানদের অবস্থানকে ভিত্তি করে মানুষকে বিভাজন করার প্রচেষ্টা সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিলো না। বাংলাদেশের জন্ম তার এক বাস্তব প্রমাণ। মানুষকে এসব বিভাজক দিয়ে যে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যাবে না, কলাম লেখক অনিরুদ্ধের লেখায় সে আশাবাদ জোরালোভাবেই প্রকাশ করেছেন। অনিরুদ্ধ আহমদের লেখায় প্রকাশিত দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। একমত নই জিন্নাহ প্রসঙ্গে 'তার' না লিখে ‍'তাঁর' লিখায়।
probashi maxx   May 23, 2009
you need to re-educate yourself more, about the atmosphere in India, before 1947. Looking at the present condition of Indian muslims, what is your guess..how much Bdeshi muslims would have benefitted, as an Indian citizen in 2009? If you reeducate yourself a bit more, you will re-discover that It was not Jinaah's dream ONLY to create Pakistan. Majority of muslims in India, were in a bad shape that time. Creation of Pakistan was just a reflection of the dreams of Indian muslims.
মিয়া সাহেব   May 20, 2009
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'-এর লেখক দাউদ হায়দারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে স্থান নেই কেন ? শুধু পাকিস্তানকে সমালোচনা করলে চলবে না। তসলিমা, দাউদ যতদিন বাংলাদেশে না ফিরতে পারছেন ততদিন বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হবে না।
Shamim Chowdhury   May 15, 2009
Fall of Pakistan and breaking into pieces is sad but expected. Writer very correctly titled his article, which reflects the making of Pakistan with an artificial presupposition of Islamic brotherhood. Thanks to writer for revisiting the history that is still in making and will shape the south Asia in the years to come. Shamim Chowdhury Rockville, Maryland
এ সপ্তাহের জরীপ

প্রেসিডেন্ট ওবামা ঠিকমত দেশ চালা্চ্ছেন।

 
Code of Conduct | Advertisement Policy | Press Release | Hard Copy Archive
© Copyright 2001 Porshi. All rights reserved.